শুধু অম্বেদকর-ভগৎ সিংহের ছবিই থাকবে সরকারি দফতরে,ঘোষণা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আজ ঘোষণা করেছেন,কোনো সরকারি দফতরে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর ছবিও ঝোলানো যাবে না,পরিবর্তে থাকবে ড: বি.আর.আম্বেদকর ও বিপ্লবী ভগৎ সিং এর ছবি।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল

দিল্লির সরকারি দফতরগুলিতে শুধুমাত্র বাবাসাহেব অম্বেডকর এবং ভগৎ সিংহের ছবি ঝোলানোর নির্দেশ দিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল । প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গেলবার দিল্লি সরকারের বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল। সেখানেই কেজরিওয়াল ঘোষণা করেন, সরকারি দফতরে ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীর ছবিও ঝোলানো যাবে না।

এ দিন বক্তৃতা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল নিজেকে অম্বেডকরের আদর্শে অনুপ্রাণিত বলে দাবি করে জানান, দলিত পরিবারে জন্মানো অম্বেডকর দেশের সংবিধানের রচনা করেছিলেন। ভগৎ সিংহ ছিলেন বিপ্লবী, স্বাধীনতা সংগ্রামী। কিন্তু ভিন্ন ক্ষেত্র থেকে উঠে এলেও তাঁদের লক্ষ্য ছিল একই। 

আম্বেদকর এবং ভগৎ সিং

দিল্লির সরকারি দফতরে ছবি ঝোলানোর নয়া নীতি ঘোষণা করতে গিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘‘আজ আমি ঘোষণা করছি যে, দিল্লি সরকারের প্রত্যেক দফতরে  বাবাসাহেব অম্বেডকর এবং শহিদ-ই-আজম ভগৎ সিংহের ছবিই ঝোলানো থাকবে। তাঁদের নীতি এবং আদর্শ মেনেই কাজ করবে আমাদের সরকার। কোনও রাজনীতিকের ছবি থাকবে না সরকারি দফতরে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর ছবিও সেখানে স্থান পাবে না।’’

বাবাসাহেব অম্বেডকরের কথা বলতে গিয়ে কেজরিওয়াল জানান, আজ থেকে ১০০ বছর আগে কোনো ইন্টারনেট ছিল না। সেই সময় অম্বেডকর কী ভাবে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করলেন, লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিকস-এই বা কী ভাবে তিনি যাওয়ার সুযোগ পেলেন, তা ভেবে আশ্চর্য হন তিনি।  কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, দেশের সংবিধান রচনায় অতিগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অম্বেডকর। তিনি ছিলেন দেশের প্রথম আইনমন্ত্রীও। শিশুদের উচ্চমানের শিক্ষাপ্রদানের স্বপ্ন দেখেছিলেন বাবাসাহেব।কিন্তু স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

কিছুদিনের মধ্যেই পাঞ্জাব-সহ একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। বিভিন্ন সমীক্ষায় পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির ভালো ফলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।ক্ষমতায় এলে পাঞ্জাবেও উচ্চমানের শিক্ষায় জোর দেওয়ার কথা বলেন কেজরিওয়াল। তার সরকারের আমলে দিল্লির সরকারি বিদ্যালয় গুলিরও যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রত্যেক শিশু উন্নত মানের শিক্ষা পেলে তবেই ভারত শীর্ষে উঠে আসবে। নির্বাচনে যতই লম্বা-চওড়া প্রতিশ্রুতি দেওয়া হোক না কেন, শিক্ষার কোনও শর্টকাট হয় না। আমাদের পরিশ্রম করতে হবে এবং  প্রত্যেক শিশুকে শিক্ষার আলোর আলোকিত করতে হবে।’’

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান