বাস্তবের বাঘিনী অসমের মহিলা ফরেস্ট অফিসার কে এম অভর্ণা

আসাম-মেঘালয় ক্যাডারের এই মহিলা ফরেস্ট অফিসার বন বিভাগের পৌরুষ জমিদারি ভেঙে বারবার মুখোমুখি হয়েছেন তীব্র বিপদের । তাকে নিয়েই তৈরি হয়েছে বলিউডি সিনেমা ‘শেরনি’।

কাশিপালায়াম মহেশ্বরী অভর্ণা

স্থান কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ( Kaziranga National park )এর কোহরা রেঞ্জ । আড়িমোড়া ওয়াচ টাওয়ারের কাছে হঠাৎই জ্বলে উঠলো সার্চলাইটের তীব্র আলো। কারণ সেখানে তখন ওত পেতে রয়েছে তিন তিনটে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সামনে অসহায় এক গন্ডার শাবক । দলের নেতৃত্বে মা বাঘিনী, বাকি দুটো তার সন্তান।

প্রথম বাক্তির ৩০ মিটার এর মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছেন জিপসি চালক। অ্যাসিস্ট্যান্ট কনজারভেটর অফ ফরেস্ট ম্যাডাম যখন চাপা গলায় চেঁচিয়ে উঠলেন , তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠার জন্য, তখন বিপদ বুঝতে পারলেন জিপসি চালক। বিদ্যুৎ গতিতে গাড়িতে উঠে দরজা জানালা বন্ধ করে রিভার্স গিয়ারে গাড়ি চালালেন চালক । গাড়ি ছুটলো পেছনদিকে। ইতিমধ্যেই একটা বাঘ তাড়া করেছে গাড়িটিকে ।তীব্র রাগে গাড়ি লক্ষ্য করে ঝাঁপ দিল বাঘটি। তার থাবা দুটো এসে পড়ল জিপসির বনেটের উপর । তবে শেষ পর্যন্ত ধীরে সুস্থেই বাচ্চা দুটো কে সঙ্গে নিয়ে বাহিনী জঙ্গলের ভেতরে চলে গেল।

এই ঘটনা সেদিনের সেই অ্যাসিস্ট্যান্ট কনজারভেটর অফ ফরেস্ট ম্যাডাম অর্থাৎ কাশিপালায়াম মহেশ্বরী অভর্ণা র মনে বাঘের প্রতি অপত্য স্নেহের জন্ম দেয় । সেই থেকে শুরু করে তিনি অনেকবার জঙ্গলে বাঘের সঙ্গে মোলাকাত করেছেন।

বন বিভাগে পুরুষ কর্মীদেরই রমরমা। কিন্তু কে এম অভর্ণা সেই ধারণা বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর মতে , আসল সাহস পেশিতে নয় থাকে কলজেতে।

কাশি পালায়াম মহেশ্বরী অভর্ণা ( kashipalayam Maheshwari Avarna ) তামিলনাড়ুর মেয়ে। তামিলনাড়ুর ইরোডের গোবিচেটটিপালায়ামের মেয়ে অভর্ণা পরিবারের প্রথম আইএফএস। ছোট থেকে জঙ্গল আর প্রকৃতিকে বড় ভালোবাসতেন তিনি আর সেইতা নেই জঙ্গল জীবনের পুরুষ শাসিত চাকরি জীবনে প্রবেশ করে সকল কে ভুল প্রমাণিত করে আদর্শ ফিল্ড অফিসার হয়ে উঠেছিলেন অভর্ণা।

তাই সত্য কাজে যোগ দেওয়া মেয়েটা অবলীলায় কাঁধে তুলে নেয় .৩১৫ বোরের ভারী রাইফেলটি। আসাম-মেঘালয় ক্যাডারে ২০১৩ ব্যাচের আইএফএস ( Indian forest service )কে এম অভর্ণার পোস্টিং হয় কাজিরাঙার কেন্দ্রীয় রেঞ্জ কোহরায়। তার আগে অভর্ণা ছিলেন গোলাঘাট ফরেস্ট ডিভিশনে। প্রথম থেকে অত্যন্ত ডাকাবুকো অপর্ণা কোন সময়ই অফিসে বসে মনিটরের চোখ আর কি বোর্ডে আঙ্গুল ছোয়ানোর কাজ করতে পছন্দ করতেন না। দূরবীনে চোখ আর রাইফেল এর ট্রিগারে আঙ্গুল এই ছিল এই ফরেস্ট অফিসারের কাজিরাঙার দিন ।চোরা শিকারিদের হাত থেকে জঙ্গলের পশুদের রক্ষা করতে বনরক্ষীদের নিয়ে সারারাত তিনি বসে থাকতেন জঙ্গলে। তিনি যে কয় মাস কোহরায় ছিলেন , সেখানে চোরাশিকার এর একটি ঘটনাও ঘটেনি।এমনকি তিনি কোহরায় একশ্রেণীর বনকর্মীদের মধ্যে চলা গ্রামবাসীদের অবৈধ ভাবে মাছ শিকারও বন্ধ করেন। তার উদ্যোগেই জঙ্গলের আসে পাশে নিষিদ্ধ হয় প্লাস্টিকের ব্যবহার। তার উৎসাহেই মহিলা বনকর্মীরা রাইফেল হাতে বন টহলে নিযুক্ত হয়।

বহুবার হাতির মুখে পড়া বাঘের মুখে পড়া মানুষের সামনে পড়া চোরাশিকারির বুলেটের সামনে পড়া গাড়ি দুর্ঘটনার মত অনেক ঘটনা ঘটেছে কাজে দেবে কিন্তু প্রত্যেকটা ঘটনায় বন্যপ্রাণীর জন্য প্রাণ সঁপে দেওয়ার জেদ বাড়িয়ে দিয়েছে অভর্ণার।

রিয়েল এবং রিল

একবার অসমের গোলাঘাট জেলায় মেঘলা চিতা বাঘ শিকারের খবর পেয়ে তিনি পৌছলেন ঘটনাস্থলে মহিলা অফিসার কে দেখে গ্রামের মানুষ পাত্তা দেয়নি। কিন্তু গ্রামবাসীদের বিক্ষোভকে তুচ্ছ করে সেই মহিলা যখন অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি পরিয়ে গ্রেফতার করেন তখন গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ বিদ্রোহের চেহারা নেয়। গ্রামবাসীদের দাবি ছিল গ্রামের কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু সেইসব বিক্ষোভকে থোড়াই কেয়ার করে পরদিন ৬ জনকেই আদালতে তোলেন অকুতোভয় অভর্ণা।

কয়েক বছর আগে মহারাষ্ট্রের ইয়াভাতমাল জঙ্গল – গ্রামে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল অবনী নামে একটি বাঘ । বনকর্মীদের কাছে যার পরিচয় ছিল টি-১ । টি – ১ কে ধরার দায়িত্ব পড়ে অভর্ণা র উপর। অভর্ণা দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অবনী পাঁচজন মানুষ মেরেছিল । তবে শেষ পর্যন্ত বহু চেষ্টা সত্ত্বেও বনদপ্তর, আমলাতন্ত্র, রাজনৈতিক অসহযোগিতা ইত্যাদি কারণে অবনীকে জীবিত অবস্থায় ধরতে পারেননি কে এম অভর্ণা। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে বন দপ্তরের নিযুক্ত শিকারি নবাব শতাফ আলী খানের ছেলে আসগর আলী খানের গুলিতে অবনী মারা যায়। যেটা একেবারেই মেনে নিতে পারেননি অভর্ণা। মুখ্য বনপালকে পাঠানো তার রিপোর্টে তিনি জানিয়েছিলেন , অবনীকে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে ঘুম পাড়ানো গুলিতে কাবু করার চেষ্টা হাতছাড়া করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বনদপ্তর এর কাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা পর অভর্ণার রিপোর্টের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে অবনী হত্যার ফাইল নতুন করে খোলা হয়েছে ।তৈরি করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। বর্তমানে কে এম অভর্ণা মহারাষ্ট্রের ব্যাম্বু রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের অধিকর্তা পদে নিযুক্ত। মন জঙ্গলে পড়ে থাকলেও বর্তমানে বাঁশের বেড়ায় বাধা তার জীবন । কারণ তিনি আমলাতন্ত্রের পোষ মানেন নি।

মহারাষ্ট্রের অবনী এবং ডেপুটি কমিশনার অফ ফরেস্ট অভর্ণা কে নিয়ে সম্প্রতি ও টি টি প্লাটফর্মে মুক্তি পায় বিদ্যা বালান অভিনীত ‘শেরনী’ ছবিটি। জঙ্গল জীবন কে কেন্দ্র করে এটিই প্রথম বলিউড সিনেমা।

নতুন মুদ্রা বাজারে আনছে ফেসবুক ‘Libra’

ফেসবুকের নতুন মুদ্রা ‘ লিব্রা ’ ( Facebook Libra )


আমাজন (amazon ) গুগল (google) বা হোয়াটসআপ (whatsapp )এর আগেই পা রেখেছিল অনলাইন লেনদেনের বাজারে। এবার ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমও আর্থিক ক্ষেত্রে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ।

ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি  প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন ডিজিটাল কারেন্সি( Digital currency) বাজারে আনার কথা ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি । সম্প্রতি মেটা (meta) র প্রধান  মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg) নিজের ফেসবুক পেজে  এ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেছেন। ডিজিটাল কারেন্সি বিটকয়েন (Bitcoin) এর মতো ফেসবুকের এই কারেন্সির নাম হচ্ছে ‘ লিব্রা ‘ ( Libra )।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে অনলাইনে এই মুদ্রা  চালু করবে ফেসবুক । মূলত ই – কমার্স ও বিজ্ঞাপন ভিত্তিক বাজারকে মাথায় রেখে ডিজিটাল মুদ্রা ‘ লিব্রা ‘ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করছেন ডিজিটাল প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

ডিজিটাল কারেন্সি নিয়ে গবেষণা করেন এমন একাধিক গবেষক জানিয়েছেন , ফেসবুকের নতুন এ কারেন্সি যতটা না ক্রিপ্টোকারেন্সি  (Crypto currency ) তার চেয়ে বেশি ফিয়াট কারেন্সির (Fiat currency) মতো । পিয়েট কারেন্সি হলো এক ধরনের ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস যার সাহায্যে প্রথাগত কারেন্সি কেনাবেচা বা রুপান্তর করা যায়।

ফেসবুকের নতুন কারেন্সি লিব্রা প্রথাগত মুদ্রা দিয়ে একটা নির্দিষ্ট বিনিময় হারে কেনা যাবে । যা পরবর্তীতে অন্যান্য সার্ভিসের জন্য বা অন্য কাউকে পাঠিয়েও দেয়া যাবে । এ ক্ষেত্রে মাধ্যম হবে ফেসবুক ।

Facebook’s new currency ‘Libra’ facebook libra


Amazon entered the online transaction market before Google or WhatsApp. This time, social media like Facebook is going to start working in the financial field.

The company has already announced to bring new digital currency to the market in association with several organizations. Recently, the head of Meta (meta) Mark Zuckerberg (Mark Zuckerberg) has presented this information on his Facebook page. Like the digital currency Bitcoin (Bitcoin), the name of this currency of Facebook is ‘Libra’ (Libra).

According to the latest information, Facebook will launch this currency online within the next 6 to 12 months. Digital technology experts believe that digital currency ‘Libra’ has been launched keeping in mind the e-commerce and advertisement based market.

Several researchers who research digital currency said that Facebook’s new currency is more like fiat currency than cryptocurrency. Peet currency is a type of value added service that can be used to buy or convert traditional currencies.

Facebook’s new currency Libra can be bought with traditional currencies at a fixed exchange rate. Which can be sent later for other services or to someone else. In this case, the medium will be Facebook.

মিড ডে মিল প্রকল্পে লোক নিয়োগ

উপযুক্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মনের মতো চাকরি জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে যুবক যুবতী দের । এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার মিড মিল( Mid Day Mill )প্রকল্পে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর (Data entry operator )পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই নিয়োগ হবে জলপাইগুড়ি তে (Jalpaiguri)। এই মর্মে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা (Educational qualification) :

যে কোনও স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (Graduate), সঙ্গে কম্পিউটারে ১ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স থাকা বাধ্যতামূলক।

বয়স ( age limit ):

আবেদনকারীদের বয়স ১ জানুয়ারি ২০২২ এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে হতে হবে।

বেতন- 

১১ হাজার / মাস

আবেদন পদ্ধতি:

কেবলমাত্র অফলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনপত্র পূরণ করে যাবতীয় নথিপত্র দিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে হবে।

আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানা:

The Block Development Officer, Kranti Development Block, Uttar Saripakuri, Jalpaiguri- 735318

বিস্তারিত জানতে নিচের ডাউনলোড বাটন ক্লিক করুন।

বুলেট ট্রেনে পৃথিবী থেকে চাঁদে পাড়ি!

এক আশ্চর্য খবর সামনে এনেছে জাপান তারা নাকি পৃথিবী থেকে বুলেট ট্রেন চালাবে সোজা চাঁদ ও মঙ্গলের উদ্দেশ্য। আর এই ঘোষণায় চমকে উঠেছে বিশ্ব।

বুলেট ট্রেনে করে চাঁদে ! হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন। এমনি পরিকল্পনা করেছে জাপান।

আমেরিকা রাশিয়া কিংবা চীনের মত মহাকাশ গবেষণায় অগ্রণী  দেশকে  পিছনে ফেলে পৃথিবী থেকে বুলেট ট্রেনে চেঁপে সোজা চাঁদে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে জাপান। এমনকি এই প্রকল্পে সাফল্য পেলে পৃথিবী থেকে মঙ্গলেও বুলেট ট্রেন চালাবে তারা এমনটাই জানা গিয়েছে।  পৃথিবীর জনসংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে আর মানুষ বহুদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্য গ্রহের প্রানের সন্ধান এবং বসবাসযোগ্য অন্য একটি গ্রহের সন্ধানে। জাপানের এই পরিকল্পনা সফল হলে পৃথিবীর সামনে একটি নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।

জানা গিয়েছে জাপান মঙ্গলে একটি গ্লাস হ্যাবিট্যাট তৈরির পরিকল্পনাও করছে। গ্লাস হ্যাবিট্যাট হল , কাচের বাসস্থান অর্থাৎ মানুষ একটি কৃত্রিম জায়গায় বাস করবে, যার বায়ুমণ্ডল তৈরি করা হবে কৃত্রিম ভাবে । এই বায়ুমণ্ডল হবে পৃথিবীরই মতো । যেসব জায়গায় মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কম সেখানে মানুষের বেশি ও হার দুর্বল হয়ে যায়। অতএব, কৃত্রিম বায়ুমণ্ডলে বাসস্থান এমনভাবে প্রস্তুত করা হবে যাতে এত মাধ্যাকর্ষণ এবং এমন বায়ুমণ্ডল থাকে যাতে মানুষের পেশী এবং হাড় দুর্বল না হয়। যদিও এই গ্লাস হ্যাবিটাটের এর বাইরে যেতেও মানুষকে স্পেসসুট পরতে হবে।

এই বুলেট স্পেস ট্রেন চলবে ‘হেক্সাগন স্পেস ট্র্যাক সিস্টেম’ (Hexagon Space Track System) নামে বিশেষ একটি পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে। গবেষকরা বলছেন,এই আন্তঃগ্রহীয় মহাকাশ ট্রেন, পৃথিবী, চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহের মধ্যে ভ্রমণ করার সময় এটি নিজস্ব মাধ্যাকর্ষণ তৈরি করবে। শুধু তাই নয় ‘দ্য গ্লাস'(The Glass) নামে একটি বিশাল স্থাপত্য নির্মাণের পরিকল্পনা তারা প্রস্তুত করেছেন। এর লক্ষ্য হল চাঁদের মাটিতে একটি ‘কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ বাসস্থান’ তৈরি করা। যা পৃথিবীর জীববৈচিত্র এবং প্রাকৃতিক অবস্থার অনুকরণ করেই বানানো হবে। জানা গেছে, এই বিশাল ১,৩০০ ফুট কাঠামোটি ‘স্বাভাবিক মাধ্যাকর্ষণ’ অর্জনের জন্য প্রতি ২০ সেকেন্ডে ঘুরবে এবং পৃথিবীর মত একিরকম পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, একুশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মানুষ চাঁদ ও মঙ্গলে বসবাস করতে পারবে। এর প্রোটোটাইপ ২০৫০ সাল নাগাদ প্রস্তুত হবে এবং চূড়ান্ত সংস্করণ তৈরি করতে প্রায় এক শতাব্দী সময় লাগতে পারে।

কিয়োটো ইউনিভার্সিটি ( Kyoto University ) এবং কাজিমা কনস্ট্রাকশন ( kajima construction ) মিলে স্পেস এক্সপ্রেস নামে একটি বুলেট ট্রেনের বিষয় একসঙ্গে কাজ করবে। পৃথিবী থেকে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে চলবে এই ট্রেন। এটি হবে একটি ইন্টারপ্ল্যানেটারি ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম, যা হেক্সাট্র্যাক ( Hextra Track ) নামে পরিচিত হবে।

জাপান যদি এই পরিকল্পনায় সফল হয় তবে মানুষের জন্য অন্য গ্রহে বসবাসের পথ খুলে যাবে। অন্য গ্রহে বসবাসের জন্য গত শতক থেকেই চেষ্টা চালাচ্ছে মানুষ যদিও এই গ্লাস হ্যাবিটাটের এর বাইরে যেতেও মানুষকে স্পেসসুট পরতে হবে।

Huge recruitment at Kolkata Airport

New career jobs offer before you. We encourage you to start your next career opportunity in kolkata Airport

KOLKATA AIRPORT JOB

Desired Candidate Profile

Customer Focus & Relationship building, Process Orientation, Analytical Skills, Execution Skills, Effective Team Building, Innovation, Planning & coordination skills, excellent communication skills.

JOB DETAILS

Airlines New Jobs Sarkari Job Crack SpiceJet | IndiGo | GoAIR invited eligible candidates for various new posts. Apply Now. Eligible candidates can apply from today. Apply online through the official website. for more detailed information read our article carefully.

Male and female both require. Golden chance for you experience and Fresher Candidate Must be Apply More Information

Skills Required:

Candidate (both fresher and experienced) with good communication skills required. Good Communication & pleasing Personality. Must be known English & Hindi Language.

ROLLS OF JOB

  • Greeting and welcoming passengers, and responding to questions.
  • Checking in baggage.
  • Making reservations.
  • Selling airline tickets.
  • Stocking aircraft with refreshments.
  • Cleaning aircraft after flights.
  • Assisting disabled passengers and those with small children.
  • Providing information to passengers.
  • Call center,
  • sales,
  • Tourism,
  • fresher,
  • Reservation,
  • Ticketing,
  • Hospitality,
  • Air hostess activities,
  • Hotel,
  • Air Ticketing,
  • Resort,
  • BPO,
  • Cabin crew,
  • Airport ground staff,
  • Airport, Travel,
  • IATA,
  • Front office

Role:

Passenger Service Associate, Cabin Attendant

Salary scale

Rs. 35,000 to 82,000/ Per Month

Industry Type:

Aviation / Airlines

Duration of job :

Full Time

Role Category:

Flight & Airport Operation

Apply Mode:

Online

Apply Now!!

https://www.kolkatainternationalairport.com/

ভিনগ্রহীর সন্ধান পেল বিশ্বের বৃহত্তম স্কাই আই টেলিস্কোপ

অন্য গ্রহে প্রানের সন্ধানে অনেকদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এবার ৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে আসা রেডিও সিগন্যাল ধরা পরল বিশ্বের বৃহত্তম টেলিস্কোপ স্কাই আই তে

চিনের দক্ষিণ-পশ্চিমের গুইঝো প্রদেশে বসানো রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপ ৫০০ মিটার ব্যাসের স্কাই আই (Sky Eye)। ২০২০-র মাঝামাঝি থেকে বহির্জগতে প্রাণের সন্ধান করছে স্কাই আই । এবার এই টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বহির্জগতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার ইঙ্গিত মিলেছে বলে সম্প্রতি দাবি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা । অতি সংবেদনশীল ওই টেলিস্কোপ অতি দুর্বল রেডিও সোর্সও ধরতে সক্ষম।

সম্প্রতি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় দৈনিক সংবাদপত্রে বিষয়টি আলোচিত হওয়ার পর ব্রিটেনের নেচার (Nature) জার্নালেও এ ব্যাপারে  রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব জুড়ে আলোচনা শুরু হওয়ায়, চিনা সংবাদপত্র তাদের ওয়েবসাইট থেকে রিপোর্টটি তুলে নেয়।

জ্যাক মা প্রতিষ্ঠিত চিনা সংস্থা আলিবাবা (Alibaba) র মালিকানাধীন হংকংয়ের ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ ( south chaina morning post ) জানিয়েছে, পৃথিবীর বাইরে থেকে রহস্যজনক আলোর ঝলকানি ধরা পড়েছে ‘Sky Eye’ টেলিস্কোপে। পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৩০০ কোটি আলোকবর্ষ । চিনা বিজ্ঞানীদের অনুমান, বহু দূরের কোনও ছায়াপথে অবস্থানরত কম্প্যাক্ট রেডিও সোর্স ( compect radio source ) থেকেই ওই আলোর ঝলকতানি উৎসারিত হয়েছে। এরপরেই আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ এবং নিউ মেক্সিকোর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মিলিত ভাবে রেডিও সিগন্যালের শনাক্ত করনে নেমে পড়েন চিনা বিজ্ঞানীরা।

জ্যোতির্বিজ্ঞানে  টেলিস্কোপে ধরা পড়া এই ধরনের আলোর ঝলকানিকে ফাস্ট রেডিও বার্স্টস ( First Radio Bursts বা FRB) বলা হয়। মাত্র কয়েক সেকেন্ড  এই ধরনের ঝলকানি স্থায়ী হয়। ক্রমান্বয়ে ঘটতে থাকা  ঝলকানিকে একত্রিত করে সূত্র খোঁজার চেষ্টা করেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু চিনের টেলিস্কোপে ধরা পড়া ওই আলোর ঝলকানি প্রতি ঘণ্টায় বেশ কয়েক বার ধরা পড়েছে, তাতেই এর উৎস অনুমান করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিনের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল ( National astronomical abservatory) অবজারভেটোরিজের মুখ্য বিজ্ঞানী লি দি। বিগত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের টেলিস্কোপে প্রায়শই এই ধরনের ইঙ্গিত ধরা পড়া বহির্জগতে প্রাণের অস্তিত্বের দাবিই জোরাল হয়ে উঠছে।

অগ্নিপথ এ পরিবর্তিত হলো বহু নিয়ম

অগ্নিপথ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আঁচ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে । ইতিমধ্যেই বিক্ষোভের বলি হয়েছে ২ জন। প্রচুর সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে । ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নিয়ম পরিবর্তিত হয়েছে এই প্রকল্পে । যে প্রকল্পটিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়েছে , সেই প্রকল্পে কি রয়েছে দেখা যাক  –

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা গত ১৪ ই জুন ভারতীয় যুবকদের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদান করার জন্য একটি নিয়োগ প্রকল্প অনুমোদন করে।  এই প্রকল্পের নাম ‘অগ্নিপথ’ (Agnipath) এবং এই প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত যুবকরা অগ্নিবীর (Agniveer) নামে পরিচিত হবে।

অগ্নিপথ (Agnipath) প্রকল্পে ভারতীয় যুবকদের চার বছরের জন্য সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।

⭐ কি এই অগ্নিপথ :-

সরকারের মতে, অগ্নিপথ প্রকল্পটি সশস্ত্র বাহিনীতে নিযুক্ত হতে চাওয়া সক্ষম তরুণদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।  এই প্রকল্পের অধীনে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে নিযুক্ত যুবকরা সমাজের তরুণ প্রতিভাকে আকৃষ্ট করতে পারবে।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য সশস্ত্র বাহিনীতে তরুণদের যোগদান বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রযুক্তি জ্ঞান এর মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে একটি বিবর্তনমূলক পরিবর্তন সাধন। এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর গড় বয়সের প্রায় ৪ – ৫ বছর কমে যাবে বলে ধারণা করা হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় সেনার গড় বয়স ৩০ বছর। কেন্দ্রে র দাবি এই নিয়োগের ফলে সেনার গড় বয়স কমে ২৫ – ২৬ হবে। সরকারের মতে, অনুশাসন , অধ্যবসায় এবং লক্ষ্যের প্রতি দৃঢ় যুবকদের মাধ্যমে জাতি উপকৃত হবে।

⭐ অগ্নিবীর কারা : –

অগ্নিপথ (Agnipath) প্রকল্পের অধীনে সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানকারী যুবকরা অগ্নিবীর (Agniveer) নামে পরিচিত হবেন ।

⭐ বেতন কাঠামো : –

👉 প্রথম বছরে ‘ অগ্নিবীর’(Agniveer) দের মাসে বেতন হবে মাসে ৩০ হাজার টাকা । তবে হাতে পাবেন ২১ হাজার টাকা ।

👉 দ্বিতীয় বছরে মাসিক বেতন হবে ৩৩ হাজার টাকা । হাতে পাবেন ২৩,১০০ টাকা ।

👉 তৃতীয় বছরে মাসিক বেতন বেড়ে হবে ৩৬,৫০০ টাকা । হাতে পাওয়া যাবে ২৫,৫৮০ টাকা।

👉 শেষ বছরে ওই বেতন গিয়ে দাঁড়াবে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় । সে সময়ে জওয়ানেরা হাতে পাবেন ২৮ হাজার টাকা ।

⭐ চার বছর পর : –

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে , চার বছরের কাজের শেষে সেবা নিধি প্যাকেজের আওতায় মোট আয়করমুক্ত ১১.৭১ লক্ষ টাকা পাবেন ‘ অগ্নিবীর’রা । যদিও পেনশন বা গ্র্যাচুইটি তারা পাবেন  না । নিয়মিত সেনাদের মতো স্বাস্থ্য বা ক্যান্টিন সুবিধাও পাবেন না । চাকরি জীবনে কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবার প্রায় ১ কোটি টাকা ও কর্তব্যরত অবস্থায় একশো শতাংশ বিকলাঙ্গ হয়ে পড়লে তাঁরা সর্ব্বোচ্চ ৪৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন ।

‘অগ্নিবীর’(Agnipath) দের যাতে চার বছর পরে চাকরি পেতে অসুবিধা না হয় , তার জন্য সরকারি ভাবে হাতে – কলমে বিভিন্ন ধরনের ( ITI আইটিআই ) প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে । চার বছর পর ওই সেনারা যাতে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় চাকরি পান , তাও দেখার কথা বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (University Grant Commission) জানিয়েছে , ‘অগ্নিবীর’রা প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে যে সব বিষয়ে দক্ষতা লাভ করবেন , সেই বিষয়গুলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ভাবছে ইউজিসি । যাতে ওই শংসাপত্র তাঁদের স্নাতক পড়াশোনার ক্ষেত্রে কাজে লাগে।

এছাড়াও  আরো বলা হয়েছে চার বছর পর আনুমানিক ১১.৭১ লক্ষ টাকার যে’সেবা নিধি’ একজন অগ্নিবীর পাবেন , তাতে তিনি সেই টাকা ব্যবহার করে ভবিষ্যতে স্বনির্ভর হতে পারবেন।

⭐ একনজরে অগ্নিবীর : –


🇮🇳 ১৭.৫ – ২১ বছর (পরে ২০২২ সালের জন্য বয়সসীমা বাড়িয়ে ২৩ করা হয়েছে) পর্যন্ত বয়সি ৪৫ হাজার জনকে চার বছরের জন্য বাহিনীতে নিয়োগ করা হবে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে । ২০২৩ সালের জুলাইয়ের মধ্যে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ পর্ব সমাপ্ত হবে ।

🇮🇳 অনলাইনে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন হবে । বাহিনীর যে পদের জন্য যে যোগ্যতা প্রয়োজন , সেই যোগ্যতা প্রযোজ্য মেনেই নিয়োগ হবে।

🇮🇳 অগ্নিপথে মহিলাদেরও নিয়োগ করা হবে ।  অগ্নিবীররা সশস্ত্র বাহিনীর অঙ্গ হিসেবেই কাজ করবেন। প্রথম  ছ’মাস প্রশিক্ষণ চলবে । মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাবেন । থাকবে অন্য ভাতাও ।

🇮🇳 চার বছর পরে ওই সেনাদের ২৫ শতাংশকে  বাহিনীতে রাখা হবে ।  বাকি ৭৫ শতাংশ ‘অগ্নিবীর’-দের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। অফিসারের নীচের স্তরের ক্যাডারে যোগদান করে তাঁরা পুরো ১৫ বছর কাজ করবেন । বাকিরা বাহিনী ছেড়ে যাওয়ার সময়ে ১১-১২ লক্ষ টাকার এককালীন প্যাকেজ পাবেন। তবে কোনো পেনশনের ব্যবস্থা থাকবে না । তবে কাজ করার সময়ে কেউ মারা গেলে বা কারও অঙ্গহানি হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

🇮🇳 চার বছরের পরিষেবা শেষে যে অগ্নিবীররা উদ্যোগপতি হতে চায়, তাদের একটি আর্থিক প্যাকেজ এবং ব্যাঙ্ক ঋণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি যারা আরও পড়াশোনা করতে চায়, তাদের দ্বাদশ শ্রেণির সমমানের সার্টিফিকেট এবং ব্রিজ কোর্স করার সুযোগ দেওয়া হবে।

⭐ নিয়োগ প্রক্রিয়া : –

অগ্নিবীর প্রকল্পে সকল নিয়োগ ‘অল ইন্ডিয়া অল ক্লাস’ (all India all class )ভিত্তিতে হবে এবং বয়সসীমা হবে ১৭.৫ থেকে ২১ বছরের মধ্যে । তবে দেশজোড়া বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে এবং কোভিডের এর কারণে গত দু’বছর কেন্দ্রীয় বাহিনীতে কোন নিয়োগ না হওয়ায় ২০২২ সালের জন্য বয়সসীমায় দুই বছরের ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র । অগ্নিবীরদের সশস্ত্র বাহিনীতে তালিকাভুক্তির জন্য নির্ধারিত সকল মেডিকেল যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।

⭐ শিক্ষাগত যোগ্যতা : –

অগ্নিবীরদের শিক্ষাগত যোগ্যতা( educational qualification) বিভিন্ন বিভাগের জন্য বিভিন্নরকম। সর্বনিম্ম যোগ্যতা দশম বা দ্বাদশ শ্রেণী উত্তীর্ণ। উদাহরণস্বরূপ: জেনারেল ডিউটি (general duty বা জিডি) সৈনিক পদে প্রবেশের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হল দশম শ্রেণি ।

⭐ সংরক্ষণ : –

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রথমে দেওয়া নিয়ম বদল করে জানিয়েছে , কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CRPF) এবং অসম রাইফেলসে (Assam Rifles )অগ্নিবীরদের  জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে । কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং অসম রাইফেলসে অগ্নিবীরদের নিয়োগের জন্য বয়সের নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমায় ৩ বছর ছাড় দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (home ministry of India)। এছাড়াও, অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচের জন্য বয়সের নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছরের জন্য শিথিল করা হয়েছে।

⭐ ভবিষ্যত পরিকল্পনা : –

কেন্দ্রের তরফে আরও জানানো হয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে ‘অগ্নিবীর’দের (Agniveers) ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ এর পাশাপাশি তাঁদের আরও ৬টি মন্ত্রকে নিয়োগ করা হবে। অসামরিক বিমান পরিবহন ক্ষেত্র, অসামরিক প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র , উপকূলরক্ষী বাহিনী-সহ মোট ১৬টি প্রতিরক্ষা সংস্থাতেও তাঁদের নিয়োগ করা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বাদে অন্যত্র সংরক্ষণ হবে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ।


চার বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ‘অগ্নিবীর’দের (Agniveers) নিয়োগ করা হবে ১৬টি ডিফেন্স পাবলিক সেক্টরে।

এই তালিকায় রয়েছে – হিন্দুস্থান এরোনটিক্স লিমিটেড (HAL), ভারত ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) , ভারত আর্থ মুভারস লিমিটেড (BEML), ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (BDL) , গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জেনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE) , গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড (GSL), হিন্দুস্থান শিপইয়ার্ড লিমিটেড (HSL), মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স (MDL), মিশ্রা ধাতু নিগম লিমিটেড , আর্মউড ভেহিকেল নিগম লিমিটেড (AVNL) ,অ্যাডভান্স ওয়েপন অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ইন্ডিয়া লিমিটেড (AW&EIL), মিউনিশনস ইন্ডিয়া লিমিটেড (MIL), ইয়াত্রা ইন্ডিয়া লিমিটেড (YIL),গিল্ডার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (GIL), ইন্ডিয়া অপটেল লিমিটেড (IOL) এবং ট্রুপ কমফোর্ট লিমিটেড (TCL) এর মতো সংস্থা গুলি।

বিশ্রামের পথে কোরিয়ান ব্যান্ড বিটিএস (BTS)

দীর্ঘ ৯ বছর একসঙ্গে সাতজন কাজ করার পর এবার প্রত্যেকেই হাঁটতে চলেছেন একক সঙ্গীতের দিকে।

২০১০ সালে তৈরি হওয়ার পর দক্ষিণ কোরীয় পপ ব্যান্ড বিটিএস ( “ব্যাংটন বয়েজ” বা “বুলেটপ্রুফ বয় স্কাউটস” ) আন্তর্জাতিক সংগীত জগতে বিশেষ ছাপ ফেলেছে ।

এমটিভি , বিলবোর্ড … সর্বত্রই তাদের দাপট । ন’বছর ধরে একত্রে কাজ করছেন এই ব্যান্ডের সাত সদস্য । তারা হলেন – জিন (কণ্ঠশিল্পী) , সুগা (র‌্যাপার) , জে-হোপ (র‌্যাপার) ,আরএম (র‌্যাপার) , জিমিন (কণ্ঠশিল্পী) , ভি (কণ্ঠশিল্পী) ,
জংকুক – (কণ্ঠশিল্পী)

তবে এই বার তাঁরা বিরতি নিতে চলেছেন । নিজেদের ফেস্টা ডিনারে সেই কথাই ঘোষণা করলেন বিটিএস – এর সদস্যরা ।

২০১৩ সালে BTS তাদের প্রথম একক অ্যালবাম – টু কুল ফোর স্কুল ( 2 Cool 4 Skool ) এর মাধ্যমে পপ সঙ্গীত জগতে আত্মপ্রকাশ করে। তার পরের বছরই অর্থাৎ ২০১৪ সালে  BTS তাদের প্রথম কোরিয়ান-ভাষার স্টুডিও অ্যালবাম – ডার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ড (Dark and Wild) এবং জাপানি-ভাষার স্টুডিও অ্যালবাম – ওয়েক আপ (Wake Up)  প্রকাশ করে।

২০১৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর BTS গ্রুপের দ্বিতীয় কোরিয়ান স্টুডিও অ্যালবাম – উইংস (Wings) দক্ষিণ কোরিয়ায় এক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল।

২০১৭ সালের মধ্যে, BTS বিশ্বব্যাপী সঙ্গীত বাজারে প্রবেশ করার মাধ্যমে কোরিয়ান সঙ্গীতকে আমেরিকায় নিয়ে যায় এবং সঙ্গীত অ্যালবাম বিক্রির অসংখ্য রেকর্ড ভেঙে দেয়। BTS ই প্রথম কোরিয়ান গোষ্ঠী  যারা তাদের একক ” মাইক ড্রপ ” এর জন্য রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা (Recording Industry Association of America ) থেকে শংসাপত্র আদায় করে নেয় ।

এর পাশাপাশি  BTS প্রথম কোরিয়ান অ্যাক্ট হিসেবে স্টুডিও অ্যালবাম লাভ ইয়োরসেলফ: টিয়ার (Love Yourself : Tear) এর মাধ্যমে মার্কিন বিলবোর্ড ২০০ এর  শীর্ষস্থান দখল করে। বিটলসের পর থেকে BTS ই এমন একটি অন্যতম ব্যান্ড হয়ে উঠেছে যেখানে দুই বছরেরও কম সময়ে তাঁদের চারটি মার্কিন অ্যালবাম রয়েছে।

BTS গ্রুপের অসংখ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে নয়টি আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড (American Music Award ), বারোটি বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড (Billboard Music Award), চব্বিশটি গোল্ডেন ডিস্ক অ্যাওয়ার্ড (Golden disc award) । এছাড়াও রয়েছে দুটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড (Grammy award) এবং দুটি ব্রিট অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন ।

সঙ্গীতের বাইরে, তারা অ্যান্টি-ভায়োলেন্স ক্যাম্পেইন –  লাভ মাইসেলফ (Love Myself ) এর জন্য ইউনিসেফের (UNICEF) এর সঙ্গে কাজ করেছে, রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের তিনটি অধিবেশনে তাদের বক্তব্য পেশ করেছে। বিশ্বে কোরিয়ান সংস্কৃতি ও ভাষার প্রসারে উল্লেখযোগ্য অবদানের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে অর্ডার অফ কালচারাল মেরিট (Order of Cultural Merit )লাভ করেছেন।

সারা বিশ্বে তাদের অসংখ্য ভক্ত । বিরতি প্রসঙ্গে তাদের আশ্বস্ত করে BTS সদস্যরা বলেছেন , এই বিরতি সাময়িক , তাঁরা ফের ফিরে আসবেন। তারা আরো জানিয়েছেন , দল তারা ভাঙছেন না। আপাতত দলের প্রত্যেকেই সোলো পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন । যে যাঁর মতো একক সঙ্গীতের পথে হাঁটবেন । তবে এই সাময়িক বিরতি কবে শেষ হয় এবং বিটিএস কবে আবার স্বমহিমায় ফিরে আসে তার অপেক্ষায় থাকবেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য BTS প্রেমিক।

আমাজনের জঙ্গলে সুপ্রাচীন নগর সভ্যতার খোঁজ

প্রকৃতির খেয়ালে গহন গভীর জঙ্গলের আড়ালে ঢাকা পড়ে ছিল সুপ্রাচীন নগর সভ্যতা । নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে তা আজ উন্মুক্ত হয়েছে।

আমাজন (River Amazon )নদী উপত্যকার ঘন জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে ছিল সুপ্রাচীন এক শহর। কিন্তু এত দিন পর্যন্ত তার খোঁজ পায়নি সভ্য দুনিয়া । বলিভিয়ার ল্যানোস ডি মোজোস সাভানা (Llanos de mojos savana) এই শহরগুলির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। বহু বছর ধরে গহন অরণ্যে এর বৃক্ষরাজির ঘনায়মান অন্ধকারের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এই শহরগুলি।

তবে সম্প্রতি এই শহরের সন্ধান পাওয়া গেল অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে এই হারানো শহরগুলির খোঁজ মিলেছে। নতুন আবিষ্কৃত এই প্রযুক্তির নাম ‘লেজার ইন দ্য স্কাই’ (laser in the sky) । নিরক্ষীয় অঞ্চলের গহন অরণ্যে এর গভীরে কী আছে, তা জানতেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

এই প্রযুক্তিতে হেলিকপ্টার, ছোট বিমান বা ড্রোনের সঙ্গে যুক্ত একটি লেজার স্ক্যানার (laser scanner) দিয়ে আকাশ থেকেই নিচের ভূমি জরিপ করে দেখা হয়। এই লেসারের স্ক্যানিংয়ের ফলে ওই ভূখণ্ডের একটি ত্রিমাত্রিক মডেল (3D graphics ) কম্পিউটারের পর্দায় ফুটে ওঠে।

গবেষকদের মতে , বলিভিয়া (Bolivia ) র ল্যানোস ডি মোজোস সাভানা জঙ্গলে সদ্য আবিষ্কৃত এই শহরগুলি আনুমানিক ৫০০ থেকে ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তৈরি। জঙ্গলের কাসারাবে (kasarabe) এই শহরগুলি তৈরি করেছিল বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

লেজার ইন দ্য স্কাই’ ( laser in the sky )প্রযুক্তিতে শহরের যে ছবি ধরা পড়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, ঘন জঙ্গলের ভেতরে বিস্তৃত এবং জটিল কিছু কাঠামো। পাশাপাশি ৫৪ একর অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত এই কাঠামোতে ১৬ ফুট উঁচু ছাদও রয়েছে। ৩০টি ফুটবল মাঠের সমান এই কাঠামোর পাশে ৬৯ ফুট লম্বা এক পিরামিডের খোঁজও মিলেছে।

আমেরিকা (America) এবং জার্মানির (Germani) যৌথ গবেষক দল এই শহরের কয়েক মাইলের মধ্যে বিস্তৃত জলাধার এবং একাধিক ছোট ছোট কাঠামোও খুঁজে পেয়েছেন।

আমাজনের গবেষণার কাজে যুক্ত ইউনিভার্সিটি অফ এক্সেটারের জোসে ইরিয়ার্তের কথায় , আমাজনের বলিভিয়ার এই অংশের পুরো অববাহিকা জুড়ে সবচেয়ে জটিল প্রাক-কলম্বিয়ান সমাজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার অনুমান দীর্ঘ দিনের।  কিন্তু ঘন জঙ্গলের বড়ো বড়ো গাছের ছাউনির নিচে প্রমাণগুলো ঢাকা থাকায় সেগুলি এতদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। অবশেষে লেসার ইন দা স্কাই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।

এতদিন মানব চক্ষুর অন্তরালে থাকা শহরগুলির খোঁজ আমাজনে বসবাসকারী নানান প্রাচীন সম্প্রদায় সম্পর্কে পুরনো ধারণা বদলের পাশাপাশি নতুন তথ্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমাজনের জঙ্গলে এই নয়া আবিষ্কৃত এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি নগর-সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বলেই গবেষকরা মনে করছেন।

এই শহরের মানুষেরা স্থাপত্য নির্মাণ কার্যেও যথেষ্ট দক্ষ ছিল বলেই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে  এখানে পাওয়া শহরগুলির প্রাথমিক গঠনকার্য দেখে । শহর নির্মাণকার্যে যথেষ্ট পরিকল্পনা ছিল বলেও গবেষকরা দাবি করেছেন।

বিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত মনে করা হত, আমাজন অঞ্চলের বাসিন্দারা মূলত শিকারি উপজাতির। তাদের জীবন ধারণের মূল উপজীব্য হলো শিকার । আমাজন অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে থাকা মোজোস সমভূমিতে বছরে কয়েক মাস বন্যা হওয়ার কারণে এই এলাকার বাসিন্দারা স্থায়ী বসতি তৈরি করতে পারে নি।

তবে সাম্প্রতিক কালে সাভানা বনাঞ্চল জুড়ে হওয়া আবিষ্কৃত হওয়া এই নতুন শহর সেই বদ্ধমূল ধারণা অনেকটাই মিথ্যে প্রমাণিত করেছে। এই লুকনো শহরগুলির চারপাশ একটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল , বলেও গবেষকরা মনে করছেন।

গহন জঙ্গল এবং একাধিক উঁচু মাটির ঢিপির কারণে এই শহরগুলির বেশ কিছু এলাকা এখনও গবেষকদের চোখে ধরা পড়েনি ।

আমাজন জঙ্গল নিয়ে মানুষের কৌতূহল বহুদিনের । এবার সেই কৌতূহল মেটাতে গবেষকরা প্রথমবার বায়ুবাহিত লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। আর তখনই লেজার চিত্রে এই শহরের ছবি ধরা পড়ে।

তবে ঘন জঙ্গলের মধ্যে আবিষ্কৃত এই শহুরে এলাকাগুলির জনসংখ্যা কেমন ছিল বা তাদের জীবনযাত্রা কেমন ছিল ? তা এখনই অনুমান করা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা। তবে প্রাথমিক ভাবে এই এলাকা মোটামুটি ঘনবসতিপূর্ণ ছিল বলেও তাঁরা মনে করছেন। এই শহরগুলি কেন পরিত্যক্ত হয়েছিল তা-ও গবেষণা সাপেক্ষ । তবে কারণ যাই হোক না কেন এই আবিষ্কার আমাজন সম্পর্কে নতুন গবেষণার দিগন্ত খুলে দিয়েছে , যা ভবিষ্যতে সমৃদ্ধ করবে বিশ্বের ইতিহাসকে।

আজ সকাল ১১.৩৫ এ ছায়াহীন কায়া , আজ নো শ্যাডো ডে

আজ কলকাতায় জিরো শ্যাডো ডে। আপনি জেনে নিন আপনার এলাকার জিরো শ্যাডো ডে কোনটি ?

এই মহাজাগতিক বিশ্বে অনেক কিছুই ঘটে । তার যেমন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে, আবার কোনো কোনোটি রহস্য হিসেবেই থেকে যায়। তেমনি আজকের একটি ঘটনা । কেমন হবে বলুন দেখি আপনি থাকলেন কিন্তু থাকল না আপনার ছায়া ? অনেকটা সেই ছোটবেলায় পড়া ভূতুড়ে গল্প গুলোর মতন। হ্যাঁ এটাই হবে আজ। কারণ আজ ছায়াহীন দিবস বা নো শ্যাডো ডে।

কি এই জিরো শ্যাডো ডে

বছরে মাত্র দুটি দিন হয় নো শ্যাডো ডে। উত্তর গোলার্ধের ২৩.৫ ডিগ্রি কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধের ২৩.৫ ডিগ্রি মকর ক্রান্তি রেখার মধ্যে অবস্থিত স্থানগুলিতে বছরের যে দুটি নির্দিষ্ট দিনে সূর্য সম্পূর্ণভাবে আড়াআড়ি অবস্থান করে সেই দুটি স্থানে কোন ব্যক্তি বা বস্তুর ছায়া পড়ে না। এই বিশেষ অঞ্চলটি ছাড়া আর কোথাও এমন ঘটনা ঘটে না । বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দিনে এই ঘটনাটি ঘটে থাকে ।তেমনি আজ ঘটছে আমাদের রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় সকাল ১১.৩৫ এ।

সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিনায়ন এর ফলে বছরের দুটি দিন ছায়াহীন দিবস এই দিনে সূর্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুর মাথার উপরে সম্পূর্ণ আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই অবস্থানকে বলা হয় ল্যাটিচ্যুড ডিক্লাইনেশন। আজ রবিবার সকাল ১১.৩৫ মিনিটে কয়েক সেকেন্ডের জন্য কোন ছায়া থাকবে না কলকাতায়।

যেহেতু পৃথিবী তার কক্ষ তলের সঙ্গে ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে রয়েছে সেহেতু বছরে মাত্র দুটি দিনে সূর্য সম্পূর্ণভাবে আমাদের মাথার উপরে আসে। অন্যান্য দিন গুলিতে সূর্য সামান্য হলেও ডানদিকে না বাঁদিকে হেলে থাকে। এই একই ঘটনা আবার ঘটবে ৭ জুলাই।

কর্কটক্রান্তি থেকে মকরক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের মাথার উপরে বছরের মাত্র দুটি দিন সূর্য আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে । একটি উত্তরায়ন এর সময় অন্যটি দক্ষিণায়নের সময়। এই দুটি দিন সূর্য দুপুরের দিকে একটি নির্দিষ্ট সময় কয়েক সেকেন্ডের জন্য মাথার সম্পূর্ণ উপরে সমকোনে অবস্থান করায় কোন ছায়া পড়েনা।

আজকে ১১.৩৫ এর চিত্র

নিচের লিংকে ক্লিক করে আপনি জেনে নিতে পারেন আপনার এলাকার জিরো শ্যাডো ডে কোনটি?

https://alokm.com/zsd.html

বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত ভারতীয় শিক্ষা ক্ষেত্রে,তৈরি হবে পিএম শ্রী স্কুল

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ন্যাশনাল এডুকেশন মিনিস্টার কনফারেন্সে জানিয়েছেন দেশজুড়ে তৈরি হবে পিএম শ্রী স্কুল।

ভারতের শিক্ষা ক্ষেত্রে কি বড়োসড়ো পরিবর্তন ঘটেছে করতে চলেছে খুব শীঘ্রই নাহলে এমন একটি সম্ভাবনার কথা উস্কে দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। তিনি বললেন কেন্দ্রীয় সরকার নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির রূপায়ণে পি এম শ্রী স্কুল (PM Sri School ) তৈরি করবে ,যা শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

ন্যাশনাল এডুকেশন মিনিস্টার কনফারেন্স (national education ministers conference) এর আয়োজন হয়েছিল এবার গুজরাটে। দুদিন ধরে চলা এই কনফারেন্সে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানসহ যোগ দিয়েছিলেন বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীরা। তবে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তামিলনাড়ু সরকার এই সম্মেলনে যোগদান করেনি।

এই সম্মেলনে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন , শিশুদের শিক্ষার ভিত তৈরি করে বিদ্যালয় । ভবিষ্যতে জ্ঞান নির্ভর অর্থনীতিই হয়ে উঠবে প্রধান ভবিতব্য। তাই শিশুদের শিক্ষার ভিত তৈরি করতে সাহায্য করবে এই পি এম শ্রী স্কুল গুলি।

শিক্ষা মন্ত্রী আরো বলেন এই ধরনের স্কুলগুলি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এর গবেষণাগার হিসেবে কাজ করবে। একুশ শতকে দাঁড়িয়ে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে গেলে জ্ঞানের পাশাপাশি দক্ষতার যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং সেই দক্ষতা শিশুদের কাছে পৌছে দিতে সাহায্য করবে পি এম শ্রী স্কুল । এই স্কুলগুলিকে মডেল স্কুল হিসেবে তুলে ধরতে তিনি বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলির থেকে পরামর্শও চান তিনি।

নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ (new education policy 2020) প্রি স্কুল থেকে মাধ্যমিক স্তরের ক্ষেত্রে যে ৫+৩+৩+৪ ব্যবস্থা অনুসরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে , সেখানে একদম কম বয়স থেকে শিক্ষা , শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা প্রত্যেকটি দিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । একইসঙ্গে মাতৃভাষাকে শিক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষা মন্ত্রী।

২০৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতার শত বর্ষে পদার্পণ করবে । সেদিকে লক্ষ্য রেখে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আগামী ২৫ বছর আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এই সময়ের মধ্যেই ভারতকে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে বলিয়ান হতে হবে। আর সেই লক্ষ্যে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রকাশিত আগামী বছরের মাধ্যমিকের পরীক্ষা সূচী

২০২২ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা র পাশাপাশি আগামী বছর ২০২৩ সালের মাধ্যমিকের পরীক্ষা সূচী।

2023 সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হবে ৪ মার্চ।

পরীক্ষা সূচি

  • 23 ফেব্রুয়ারি – প্রথম ভাষা
  • 24 ফেব্রুয়ারি – দ্বিতীয় ভাষা
  • 25 ফেব্রুয়ারি – ভূগোল
  • 27 ফেব্রুয়ারি – ইতিহাস
  • 28 ফেব্রুয়ারি – জীবন বিজ্ঞান
  • 2 মার্চ – অঙ্ক
  • 3 মার্চ – ভৌতবিজ্ঞান
  • 4 মার্চ – ঐচ্ছিক বিষয়

আজ মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় আগামী বছরের পরীক্ষার সূচিও ঘোষণা করেন।

WB Madhyamik 22 Result:মাধ্যমিকের ফলাফল জানতে ক্লিক করো এই ওয়েবসাইটে

২০২২ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতে চলেছে আজ । ফলাফল জানার জন্য নিম্নলিখিত ওয়েবসাইটগুলিতে ক্লিক করো।

বিদ্যালয় জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিক (wb madhyamik 2022) প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীই মাধ্যমিক পরীক্ষাই কিছুটা চিন্তিত থাকে। আর ফল প্রকাশের দিন তো সেই চিন্তায় অনেকগুণ বেড়ে যায় ভালো কিংবা মাঝারি সব ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। অবশেষে মাধ্যমিকের ফলাফল জানার অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে।

২০২২ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ( wb madhyamik result 22) প্রকাশিত হতে চলেছে আজ ৩ জুন । সকাল ন’টায় পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে ফল প্রকাশ করা হবে। একইসঙ্গে জানানো হবে প্রথম ১০ জনের মেধা তালিকা। সকাল ১০ টা থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল জানা যাবে । এদিনই ছাত্রছাত্রীদের হাতে তাদের মার্কশিট (marksheet) তুলে দেওয়া হবে। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ৭ মার্চ এবং শেষ হয় ১৬ মার্চ। পরীক্ষা শেষ হবার ৭৮ দিনের মাথায় এবার ফলাফল প্রকাশিত হচ্ছে ।

কোন কোন ওয়েবসাইটে ফল দেখা যাবে :

ফলাফল জানা যাবে নিম্নলিখিত ওয়েবসাইটগুলোতে। ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের রোল নম্বর ও জন্মতারিখ টাইপ করতে হবে । তাহলেই ফলাফল জানা যাবে।

  1. www.wbbse.wb.gov.in
  2. http://wbresults.nic.in
  3. www.exametc.com
  4. www.indiaresults.com
  5. www.schools9.com
  6. www.fastresult.in
  7. https://www.results.shiksha/west-bengal/wbbse
  8. http://wbresults.nic.in

ফলাফল জানা যাবে এসএমএসের মাধ্যমেও :

এছাড়াও ফলাফল জানা যাবে এসএমএসের মাধ্যমে । এসএমএস এর মাধ্যমে মাধ্যমিকের ফল জানার জন্য WB10  লিখে স্পেস দিয়ের রোল নম্বর টাইপ পাঠিয়ে দিতে হবে 5676750 নম্বরে।

করোনার কারণে ২০২১ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়নি। নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা এবং দশম শ্রেণীর অন্ত: মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফলাফল নির্ধারিত হয়েছিল । ২০২২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পায়। এ বছর পরীক্ষায় বসেছিল মোট ১১ লক্ষ ২৬ হাজার ৫৬৩ জন। যার মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ৮০৪ জন এবং ছাত্রের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৫৯ জন।

ব্ল্যাকহোলের গহবরে অত্যাশ্চর্য ঘটনা

একটি আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে আকাশগঙ্গা ছায়াপথ থেকে মাত্র এক আলোকবর্ষ দূরে একটি গ্যালাক্সিতে থাকা ব্ল্যাক হোলে।

একটি ব্ল্যাক হোলকে ব্ল্যাক হোল বলা হয় এর রঙের কারণে, বিশেষ করে যেহেতু এখানে কোনো আলো থাকে না । যদিও আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তা হল ব্ল্যাক হোলের প্রভাব। একটি ব্ল্যাক হোলের আশেপাশের এলাকা বিশ্লেষণ করে, আমরা পরিবেশের উপর এর প্রভাব বুঝতে পারি। ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি কোন নক্ষত্রই অক্ষত থাকতে পারে না প্রত্যেকটি ব্ল্যাকহোলের গভীরে নিক্ষিপ্ত হয় । জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর ছায়াপথ আকাশগঙ্গা পা মিল্কিওয়ের মধ্যে যে প্রধান ব্ল্যাক হোলটি খুঁজে পেয়েছেন সেটি পৃথিবী থেকে এক আলোকবর্ষ দূরে ।

ব্ল্যাকহোল বিভিন্ন রকমের হয় , যেমন :

  • ১) আদি ব্ল্যাক হোল (Primordial black hole ) – এই ধরনের ব্ল্যাক হোল গুলি সবচেয়ে ছোট আকারের ব্ল্যাকহোল এবং এর পরিসীমা হয় একটা পরমাণুর আকার থেকে একটা পর্বতের সমান ভর বিশিষ্ট ।
  • ২ ) স্টেলার ব্ল্যাক হোল ( Stellar black hole) – এগুলি সবচেয়ে সাধারণ ব্ল্যাক হোল এবং এগুলি আকার সূর্যের চেয়ে ২০ গুণ বড় হতে পারে। আকাশগঙ্গা বা মিল্কিওয়ে ছায়াপথ জুড়ে এর বিভিন্ন প্রকার রয়েছে।
  • ৩ ) সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল (Super massive black hole )- এ এই ব্ল্যাক হোলগুলি সবচেয়ে বড় আকারের ব্ল্যাক হোল । এর একএকটির আকার সূর্যের থেকে দশ লক্ষ এক মিলিয়ন গুণ বড়ো। এমনই একটি ব্ল্যাকহোল হলো সিগনাস এক্স – 1 ( signus – X1)। এটি ১৯৬০ এর দশকে আবিষ্কৃত প্রথম ব্ল্যাক হোল যা আকারে সূর্যের চেয়ে দশ গুণ বেশি বড়।এই ব্ল্যাক হোলটি পৃথিবী থেকে প্রায় কুড়ি হাজার আলোকবর্ষ (light year ) দূরে অবস্থিত।
প্রাইমোরডিয়াল ব্ল্যাক হোল

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে পৃথিবীর নিজস্ব ছায়াপথ সহ প্রায় প্রতিটি গ্যালাক্সি (Galaxy) র কেন্দ্রে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল রয়েছে। এই ব্ল্যাক হোলগুলিই আসলে গ্যালাক্সিগুলিকে মহাকাশে একসঙ্গে ধরে রাখে।

মিল্কিওয়ে (Milky Way) বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ একাই এক কোটি থেকে একশ কোটি নাক্ষত্রিক-ভরের ব্ল্যাক হোল এবং এর মাঝখানে রয়েছে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল Sgr A * ।

স্টেলার ব্ল্যাক হোল

প্রতিটি ছায়াপথে লক্ষ লক্ষ নাক্ষত্রিক-ভর (stellar mass) এর ব্ল্যাক হোল এবং একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল রয়েছে। তবে বাস্তবে এর গণনা করা অনেকটা বালির দানা গণনা করার মতো। ব্ল্যাকহোল গণনা করতে বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা মহাকাশে বিদ্যমান শব্দ তরঙ্গের প্রকৃত পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে ব্ল্যাকহোল গণনা করেন। এই প্রযুক্তিটি ২০০৩ সালের ফলাফলগুলি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে ।

২০০৩ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পার্সিয়াস ক্লাস্টার (Perseus cluster) এ একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের খোঁজ পান এবং আশেপাশের গ্যাসের মাধ্যমে প্রবাহিত শব্দ তরঙ্গ সনাক্ত করেন। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা তাদের কৌতূহল মেটানোর জন্য শুধুমাত্র এই শব্দগুলিতেই থেমে থাকেননি। তারা মহাকাশে তাপ এবং শব্দ তরঙ্গের চলাচলের মধ্যে একটি সম্পর্ক নির্ণয় করেন। তারা মনে করেন যে ইন্ট্রাক্লাস্টার মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলাচল করা শব্দ তরঙ্গ হল এমন একটি প্রক্রিয়া যা প্লাজমার মাধ্যমে শক্তি পরিবহন করার সময় ইন্ট্রাক্লাস্টার মাধ্যমকে উত্তপ্ত করে।

২০১৫ সালে তৃতীয়বার LIGO (laser interferometer gravitational wave observatory ) বা লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি নামক একটি যন্ত্রের মাধ্যমে এই ধরনের তাপ ও শব্দ তরঙ্গের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিরূপণ করা যায়। LIGO যন্ত্রটিতে একজোড়া ডিটেক্টর ছিল। যার মধ্যে একটি ডিরেক্টর বসানো হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির হ্যানফোর্ডে এবং অন্যটি লিভিংস্টন, লুইসিয়ানাতে । প্রতিটি LIGO দূরবর্তী মহাজাগতিক ঘটনা থেকে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পরিমাপের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি বা LIGO

LIGO এর মাধ্যমে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথমবার ,আমেরিকার হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (Harvard SmitSonian Centre for astrophysics) এর গবেষকরা মহাকাশে চলমান একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলে চলা ঘটনা রেকর্ড করেছেন। এই ধরনের ব্ল্যাক হোলগুলি পর্যবেক্ষণ করা সহজ কারণ এতে যে প্রবাহমান জল থাকে তা একটি রেডিও আলোর রশ্মি তৈরি করে যা ব্ল্যাক হোলের মধ্যে হওয়া যেকোনো পরিবর্তনকে বোঝা সহজ করে তোলে। এটির দ্বারা ব্ল্যাক হোলের গতি পরিমাপ করাও সম্ভব। বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১১০,০০০ মাইল বেগে ছুটে চলছে। কিন্তু গবেষকদের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। যেমন এ ধরনের দ্রুতগতির ব্ল্যাকহোল গুলি দুটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের একত্রীকরণ হতে পারে বা বস্তুটি একটি বাইনারি সিস্টেম (Binary System) এর অংশও হতে পারে।

সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল

ব্ল্যাক হোলগুলোতে যে আলো দেখা যায় তা সরাসরি ব্ল্যাকহোল থেকে নির্গত হয় না । এটি নির্গত হয় ব্ল্যাকহোল কে ঘিরে থাকা অতি উত্তপ্ত পদার্থকনা থেকে। যেহেতু ব্ল্যাকহোলের কাছাকাছি থাকা যে কোন উপাদান তীব্র আকর্ষণের কারণে ব্ল্যাক হোলের মধ্যে চলে আসে , ফলে এটি প্রবল চাপ ও তাপ এর কারনে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে । এরই ফলস্বরুপ এটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বর্ণালী জুড়ে আলো নির্গত করে।

গত 23 ফেব্রুয়ারী দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স ( The astrophysical journal letters) -এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, ব্ল্যাক হোলগুলি, যার নাম PKS 2131-021, সেগুলি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ বিলিয়ন আলোক-বর্ষ দূরে রয়েছে৷ ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস এজেন্সি (National Aeronautics and space agency) বা NASA এর বিবৃতি অনুসারে দুটি বস্তু প্রায় ১০০ মিলিয়ন বছর ধরে একে অপরের দিকে অবিচলিতভাবে এগিয়ে এসেছে । বর্তমানে দুটি ব্ল্যাক হোলই একটি বাইনারি কক্ষপথে প্রতি দুই বছর বা তারও বেশি সময় পর পর একে অপরকে প্রদক্ষিণ করে। যদি এই অনুসন্ধানগুলি সত্য বলে প্রমাণিত হয় তাহলে PKS 2131-021 হবে এপর্যন্ত আবিষ্কৃত বাইনারি ব্ল্যাক হোলের দ্বিতীয় জোড়। বিজ্ঞানীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে একটি গ্যালাক্সিতে ২০২০ সালে মহাবিশ্বের প্রথম পরিচিত বাইনারি ব্ল্যাক হোল আবিষ্কার করেছিলেন। যাইহোক, এই ব্ল্যাক হোলগুলি প্রতি নয় বছর পর পর পরস্পরকে প্রদক্ষিণ করে । এর থেকে এটা স্পষ্ট যে PKS 2131-021-এর দুই সদস্যের মধ্যে যতটা দূরত্ব রয়েছে তার থেকে তাদের মধ্যে অনেক বেশি দূরত্ব রয়েছে।

রহস্যময় অতল সুড়ঙ্গের খোঁজ বাঁকুড়ায়, চাঞ্চল্য এলাকায়।

ব্রিটিশ আমলে বিপ্লবীদের অথবা ডাকাতদলের আত্মগোপনের স্থান বলে দাবি স্থানীয় মানুষজন এর।

এই সেই সুরঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদন : Bankura tunnel : একটি সুড়ঙ্গের খোঁজ পাওয়া গেল বাঁকুড়ার গন্ধেশ্বরী নদীর পাড়ে অবস্থিত রাজারবাগান এলাকায় কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গন্ধেশ্বরী নদী পাহাড় ধসে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষই প্রথম সুড়ঙ্গ টি দেখতে পান। এই সুড়ঙ্গকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বৃষ্টির কারণে বাঁকুড়ার গন্ধেশ্বরী নদীর পাড়ে রাজার বাগান এলাকায় মাটি ধ্বসে যেতেই এই সুড়ঙ্গের মুখ কথা গেছে এবং এই সুড়ঙ্গের মুখ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায় । এই ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার রাজার বাগান এলাকায় ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি , এলাকাটিতে খুব একটা কেউ যায়না। কিন্তু কয়েকদিন আগে কৌতূহলবশত পাঁচ ছয় জন যুবক ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে যায় । সেই সময়ই তারা সুরঙ্গটির মুখ দেখতে পায় । স্থানটি বাঁকুড়ার সতীঘাট থেকে দুই কিলোমিটার দূরে রাজার বাগান এলাকায় । এখানে গন্ধেশ্বরী নদী বাঁক নিয়েছে । সেই বাকের মুখে ক্রমশ গন্ধেশ্বরীর দক্ষিণপাড় ভাঙছে । নদীর পাড়ের একটা অংশ ধ্বসে যেতেই সুড়ঙ্গটি একটা নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের । কিভাবে এখানে সুরঙ্গ এলো সেটা নিয়ে কিন্তু ইতিমধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ।

জানা যাচ্ছে বহু আগে এই জায়গায় তেমন একটা জনবসতি ছিল না। ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল ওই এলাকা । ব্রিটিশ আমলে এখানে ডাকাত দলের আনাগোনা ছিল। এমনকি কুড়ি পঁচিশ বছর আগেও এখানে ডাকাতের উপদ্রব ছিল । এলাকাটি খোড়া ডাকাতের এলাকা বলে পরিচিত ছিল স্থানীয় মানুষের মধ্যে । এখানকার ঘন জঙ্গলে ডাকাতদল আত্মগোপন করে থাকত। সামান্য দূরে ডাকাত কালীর মন্দিরও রয়েছে । আবার গ্রামবাসীদের অন্য একটি পক্ষের মত এই স্থানে একসময় স্বাধীনতা সংগ্রামীরা লুকিয়ে থাকতেন, তারাই হয়তো ঐ সুরঙ্গ ব্যবহার করতেন । যে স্থানে সুরঙ্গ পাওয়া গেছে সেই স্থানটি বাঁকুড়ার সতীঘাট এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে রাজারবাগান এলাকায় ।

চার পাঁচ দিন আগে খোঁজ পাওয়ার পর স্থানীয় মানুষই তারা নিজেরাই কোদাল , শাবল , গাঁইতি দিয়ে সেই জায়গা খুঁড়তে শুরু করেন। প্রায় কুড়ি পঁচিশ ফুট খোঁড়ার পর সুড়ঙ্গের মুখ স্পষ্ট হয় । কুড়ি ফুট খনন করার পরেও সুড়ঙ্গের শেষ পাওয়া যায়নি । উচ্চতায় সুড়ঙ্গটি প্রায় সাড়ে তিন ফুট এবং প্রস্থে আড়াই ফুট । মাথাটি গোল আকারের সুরঙ্গটির দুই পাশের দেওয়াল ইট-চুন-সুরকি দিয়ে গাঁথা। মেঝেটিও চুন সুরকি দিয়েই বাঁধানো। সুড়ঙ্গের ভেতরে একজন মানুষ অনায়াসে যাতায়াত করতে পারে। বিষ্ণুপুর মিউজিয়ামের কিউরেটর তুষার সরকার বলেছেন , সুড়ঙ্গের ছবি দেখে প্রাথমিক ভাবে যা মনে হচ্ছে তা হল এই ধরনের নির্মাণ ব্রিটিশ আমলেই বেশি হতো । কারণ ইটের আকার বা নির্মাণ রীতি সেই যুগের বলেই মনে হচ্ছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকতে পারলে তবে এর রহস্য ভেদ করা সম্ভব হবে ।

সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন

কাল বিকেলে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছলে আজ সকালে বেশ কয়েকবার প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এখানে আসেন এবং তারা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন । প্রশাসন স্থানীয় মানুষকে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করতে নিষেধ করে গেছে। সুড়ঙ্গের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আপাতত বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ পাঁচিল গেঁথে সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে । গ্রামবাসীদের দাবি , প্রশাসনের তরফ থেকে জায়গাটিতে খনন করে সুড়ঙ্গের রহস্য ভেদ করা হোক । জায়গাটি ডাকাতদলের হোক বা বিপ্লবী দলের , যাই হোক না কেন প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এমনটাই দাবি স্থানীয় মানুষের।

বৈদ্যুতিক গাড়ির হাত ধরে সম্ভবত খুলতে চলেছে উত্তরপাড়ার হিন্দ মোটর কারখানা

ফিরবে কি অ্যাম্বাসেডর ২.০ ? লক্ষ্যমাত্রা ২০২৪ সাল । হিন্দমোটর এর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছে একটি ফরাসি সংস্থা।

নিজস্ব প্রতিবেদন : দ্বিতীয় এবং ভারতের প্রথম বৃহত্তম মোটর গাড়ি নির্মাতা হিন্দুস্তান মোটরস। তাদের হাত ধরেই হয়তো পুনরায় ফিরতে চলেছে অ্যাম্বাসেডর। উত্তরপাড়ার হিন্দ মোটরে অ্যাম্বাসেডর গাড়ি তৈরীর পুরনো কারখানাটি সম্ভবত চালু হতে চলেছে সি কে বিড়লা ( CK Birla ) গোষ্ঠীর অধীনস্থ হিন্দুস্থান মোটরস (Hindustan Motors) বাএইচ এম এর হাত ধরে । সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সে কথাই উসকে দিয়েছে।

এক ঝলকে হিন্দুস্থান মোটরস 🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓

  • ১৯৪২ সালে গুজরাটে প্রধানত যাত্রীবাহী গাড়ি তৈরির উদ্দেশ্যে পত্তন হয় হিন্দুস্থান মোটরস (Hindustan Motors )এর।
  • ১৯৪৮ সালে সংস্থাটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর পাড়ায় স্থানান্তরিত হয় , প্রধানত বাণিজ্যিক গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে।
  • এরপর জাপানি কোম্পানি মিৎসুবিসির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে হিন্দুস্থান মোটরস।
  • গত শতকে বিপুল চাহিদা থাকলেও পরবর্তী সময়ে অন্যান্য গাড়ি কোম্পানি ভারতের বাজার দখল করলে অ্যাম্বাসেডর (Ambassador) গাড়ির চাহিদা ও জনপ্রিয়তা দুইই কমতে থাকে।
  • ২০১৪ সালে উত্তরপাড়া কারখানার ৩১৪ একর জমি শ্রীরাম গোষ্ঠীকে বিক্রি করে দেয় সংস্থা।
  • প্রতিযোগিতায় পেরে না উঠে ২০১৪ সালে বন্ধ হয়ে যায় উত্তরপাড়া হিন্দ মোটর কারখানা। সেইসঙ্গে বন্ধ হয় অ্যাম্বাসেডর গাড়ি তৈরি।
  • ২০১৪ সালে অ্যাম্বাসেডর ব্র্যান্ড ৮০ কোটি টাকায় পিএসএ গোষ্ঠীকে বিক্রি করে দেয় সংস্থাটি।
  • 2021 সালে হিরানান্দনি গোষ্ঠীকে আরো ১০০ একর জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়।
  • বর্তমানে হিন্দুস্থান মোটরস এর হাতে রয়েছে ২৭৬ একর জমি এবং ৯৬ একর জুড়ে তৈরি কারখানা পরিকাঠামো।
  • এবারে পূর্বতন পরিকাঠামো কে কাজে লাগিয়ে ফরাসি সংস্থা peugeot এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির ভাবনা। ২০২৪ সালকে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

গত অর্থবছরের আর্থিক ফল প্রকাশ করে শেয়ারবাজারকে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ এর প্রস্তাবের কথা জানিয়েছে হিন্দুস্তান মোটর । এক সময় দেশীয় বাজারে অ্যাম্বাসেডর গাড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং বিপুল ধারের কারনে হিন্দ মোটর কারখানাটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় সংস্থা । সংস্থার ডিরেক্টর উত্তম বসু জানিয়েছেন, “বর্তমানে সংস্থার ঋনের বোঝা প্রায় শূন্য। বৈদ্যুতিক গাড়ি এখন ভবিষ্যৎ । ২০১৮ সাল থেকেই উত্তরপাড়ার কারখানায় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ এর ভাবনাচিন্তা চলছিল কিন্তু করোনা সহ নানান কারণে সে বিষয়ে আর এগোনো হয়নি।”

ফ্রান্সের Peugeot সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে প্রথমে দুই চাকার গাড়ি তৈরীর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তা সফল হলে ভবিষ্যতে উত্তর পাড়াতেই চারচাকা গাড়িও তৈরি হবে বলে সংস্থা সূত্রে খবর।

উত্তর পাড়ার হিন্দ মোটরের কারখানাটির ভবিষ্যৎ বরাবর কুয়াশাচ্ছন্ন । গত শতকের পঞ্চাশের দশকে ব্রিটিশ সংস্থা ‘মরিস অক্সফোর্ড’ সিরিজ থ্রি (Moris Oxford series 3 ) এর আদলে অ্যাম্বাসেডর গাড়ি নির্মাণ শুরু করে এইচ এম। একসময় প্রবল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে অ্যাম্বাসেডর গাড়ি । এখনো দেশের বেশ কিছু শহরের রাস্তায় পুরনো এম্বাসেডর গাড়ির দেখা মেলে । কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের দিকে নজর না দেওয়ায় এবং মারুতি সুজুকি, হিরো হোন্ডার সহ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা বাজারে চলে আসায় অ্যাম্বাসেডর গাড়ির চাহিদা ধীরে ধীরে কমতে থাকে । আশির দশকে বছরে ২৪ হাজার গাড়ি বিক্রি হলেও ২০১৩-১৪ সালে তা গিয়ে দাঁড়ায় ২৫০০ তে। এক সময় যেখানে মাসে ১৫০০ গাড়ি তৈরি করত উত্তরপাড়ার কারখানা, সেখানে ২০১৪ সালে কারখানা বন্ধের সময় মাত্র ১৫০ টি গাড়ি তৈরি হয়।

সংস্থার মতে বেশ কয়েকটি কারণে ইউরোপীয় সংস্থাটির কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে হিন্দুস্তান মোটরস এর প্রস্তাব । কেননা স্টাম্পিং , ফোর্জিং এর মতো একাধিক কেন্দ্র এক ছাদের তলায় রয়েছে। কারখানার হাতে এখনো প্রচুর জমি রয়েছে , প্রয়োজনে সেখানেই ইঞ্জিনিয়ারিং ও গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে ।এইচ এম এর হাতে এক সময় যে ডিলাররা ছিল তাদের মাধ্যমে সহজেই দেশজুড়ে পুনরায় নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলা সম্ভব । আবার পুরোনো এম্বাসেডর গাড়ি তৈরি কারখানার পরিকাঠামো কে ব্যবহার করলে এক্ষেত্রে মূলধনী খরচ কম হবে বলেই আশা সংস্থাটির।

কারখানা পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনায় খুশির হাওয়া উত্তরপাড়ার হিন্দ মোটর কারখানা সংলগ্ন এলাকায় । বিদেশী সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বৈদ্যুতিক গাড়ির হাত ধরে আবার কি ফিরতে চলেছে হিন্দি মোটরের কর্মব্যস্ততা? সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কারখানা চালু হলে পুরনো যোগ্য কর্মীরাই অগ্রাধিকার পাবেন তাদের কাছে।

SUPPORT MYBENGAL24


ভেঙে পড়তে পারে বিদ্যুৎ পরিষেবা – আশঙ্কা প্রকাশ কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের

৫ লক্ষ কোটি টাকা লোকসান বিদ্যুৎ শিল্পে। হাত গুটিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকও। ভর্তুকি দেওয়ার মত টাকা সরকারি কোষাগারে নেই, জানিয়েছে অর্থমন্ত্রক।

দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি জ্বালানি এ পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি এবার চরম সঙ্কটে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা । একদিকে কয়লার বিপুল ঘাটতি অথবা উৎপাদনের অভাবে দেশের নানা প্রান্তে ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত । অন্যদিকে ৫ লক্ষ কোটি টাকা লোকসান । সমস্যার এখানেই শেষ নয়। বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থাগুলি চরম লোকসানের মুখে দাঁড়িয়ে এইমুহূর্তে । কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী অঙ্কটা সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার উপরে ।

ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশই তাপবিদ্যুৎ । দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে কয়লার সংকট চলছে। যুদ্ধের কারণে রাশিয়া থেকে কয়লা আমদানি অনেক কম । ইতিমধ্যেই কয়লার রেক চালানোর জন্য বাতিল করতে হয়েছে বহু যাত্রীবাহী ট্রেন। তারপরেও অবস্থা সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। একদিকে টাকার অভাব এবং অন্যদিকে বিদ্যুৎ মাশুল বাড়াতে না পেরে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থাগুলির আর্থিক মেরুদণ্ড প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে । তাদের ঋণের বোঝা , বকেয়ার পরিমাণ এবং সারচার্জ সবই ব্যাপক হারে বাড়ছে ।

পরিস্থিতি যে জায়গায় পৌঁছেছে , তাতে গোটা বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিকাঠামোই যে কোনও সময় থমকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক । এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া হয়ে বিশেষ প্যাকেজ ও সহায়তা প্রকল্প আনতে চাইছে বিদ্যুৎ মন্ত্রক । সেই পরিকল্পনা লিখিতভাবে অর্থমন্ত্রকে জমা দেওয়া হয়েছে । প্রস্তাব গিয়েছে রাজ্যগুলিতেও । কিন্তু এই প্যাকেজ দিতে যে পরিমাণ অর্থের লোকসান হবে সরকারি কোষাগারের , তার দায়ভার কে নেবে ? এই প্রশ্ন উঠছে । তাই এব্যাপারে ঘোরতর আপত্তি অর্থমন্ত্রকের ।

বিদ্যুৎ মন্ত্রকের প্রস্তাব , সরবরাহ সংস্থাগুলির যাবতীয় বকেয়া সম্পূর্ণ মকুব না হলেও আপাতত স্থগিত করা হোক । আর সঙ্গে বেশ কয়েক বছরের কিস্তিতে তা শোধের সুযোগ দেওয়া হোক। এরকম কোনও মধ্যপস্থা না নেওয়া হলে অচিরেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা ।

সুনির্দিষ্টভাবে প্রিন্সিপাল এবং লেট পেমেন্ট সারচার্জ আপাতত স্থগিতের প্রস্তাব রেখেছে বিদ্যুৎ মন্ত্রক । আর তাতে অর্থমন্ত্রক রীতিমতো ক্ষুব্ধ । কারণ , কেন্দ্রীয় সরকার তো বটেই , রাজ্যগুলিতে পর্যন্ত আর্থিক সঙ্কট চরমে । এই অবস্থায় বেসরকারি সংস্থাকে ছাড় দেওয়া হলে অর্থের সংস্থান আরও কমবে । আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন । বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ সংস্থার কেউই নিজেদের বকেয়া মেটাতে পারছে না । সরকারি সংস্থা কোল ইন্ডিয়ার হাজার হাজার কোটি টাকাও অনাদায়ী রয়ে যাচ্ছে । এর মধ্যে নতুন করে ছাড় দিলে বড়সড় ধাক্কা খাবে সরকারের আদায় । এই নিয়ে অর্থ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রকের মধ্যে মতান্তর চরমে । উৎপাদন সংস্থার থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করে তা জোগান দেয় সরবরাহ সংস্থা । বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলি আবার চলে সরকারি সংস্থা থেকে কয়লা ক্রয় অথবা আমদানি করে । এই ব্যবস্থায় একটি পেমেন্ট বন্ধ হয়ে গেলেই ধাক্কা খায় গোটা চক্র । বর্তমানে ঠিক সেটাই হয়েছে । সকলে ভুগছে চরম অর্থসঙ্কটে । সুতরাং , যে কোনও সময় বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে আতঙ্কে বিদ্যুৎ মন্ত্রক ।

সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় সুরক্ষিত কন্যার ভবিষ্যত

সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা ভারত সরকার দ্বারা প্রস্তাবিত এক প্রকল্প। কন্যা সন্তানের ভবিষ্যত শিক্ষা এবং বিবাহের খরচের জন্য একটি পুঁজি নির্মাণ করাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা চালু হয় ২২ জানুয়ারি ২০১৫ ।

২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও প্রকল্পের প্রচার-অভিযানের অংশ হিসাবে এই প্রকল্পের সূত্রপাত করেন। এই প্রকল্পে বর্তমান ৮.৪% সুদের হার (২০১৯ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর) এবং লাভের সুবিধা আছে। যেকোনো ভারতীয় ডাকঘর বা অনুমোদিত ব্যাঙ্কের শাখায় এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।

২০১৬ সালের সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্ট এর নিয়মসমূহ ১২.১২.২০১৯-তে বাতিল করে নতুন “সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্ট প্রকল্প, ২০১৯” আরম্ভ করা হয়েছে।  যেকোনো ভারতীয় ডাকঘর বা অনুমোদিত ব্যাঙ্কের শাখায় এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।শুরুতে সুদের হার ৯.১% ছিল কিন্তু পরে ২০১৫-১৬ অর্থনৈতিক বর্ষের জন্য ২০১৫ সালের মার্চে ৯.২% করা হয়েছিল।পরে ২০১৬-১৭ অর্থনৈতিক বর্ষের জন্য এই হার ৮.৬% ধার্য করা হয়।

কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার পর থেকে ১০ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত মা-বাবা এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। একটি সন্তানের জন্য একটি অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। সর্বোচ্চ দুটি সন্তানের প্রতিটির জন্য একটিকরে মোট দুটি অ্যাকাউন্ট খোলা যায় (যমজ বা একসাথে জন্মানো তিন সন্তান ব্যতিক্রম)। ভারতের যেকোনো স্থানে এই অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর করা যায়।শুরুতে নূন্যতম ২৫০ টাকা অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হয়। এরপর ১০০ টাকার গুনিতকে যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা করা যায়। তবে এক বছরে সর্বোচ্চ  ₹১,৫০,০০০ টাকাই জমা করা যাবে । আবার একবছরে নূন্যতম ২৫০ টাকা জমা না করলে ৫০ টাকা জরিমানা হিসাবে কাটা হয়।

মেয়ের ১০ বছর হওয়ার পরে সে এই অ্যাকাউন্ট দেখাশুনা করতে পারে। ১৮ বছর হলে উচ্চ শিক্ষার জন্য অ্যাকাউন্টের ৫০% নেওয়া যায়। অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে ২১ বছর হলে অ্যাকাউন্ট পূরণ হয়। অ্যাকাউন্ট খোলার থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত এখানে ধনরাশি জমা করা যায়। এরপর অ্যাকাউন্টে কেবল সুদের পরিমাণ জমা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের পরে অ্যাকাউন্ট বন্ধ না করলে সুদ লাভ হয় না।

মেয়ের ১৮ বছর হলে এবং বিয়ে হলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা যায়।ঘোষণা করার দুমাসের মধ্যে ২০১৫ সালের মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১,৮০,০০০ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। কর্ণাটক, তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশে সর্বোচ্চ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৯৮,১৯,৬৬৮।

সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার শর্তাবলী :

  1. ডাক ঘর মানে ভারতের কোনো পোস্ট অফিস যা ব্যাংক হিসেবে কাজ করে এবং এই নিয়মের অধীনে একটি SSY অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য অনুমোদিত
  2. ব্যাংক মানে এই নিয়মের অধীনে একটি SSY অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দ্বারা অনুমোদিত যে কোনও ব্যাঙ্ক।
  3. আমানতকারী একজন ব্যক্তি যিনি, কন্যা সন্তানের পক্ষে, নিয়মের অধীনে একটি অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করেন।
  4. অভিভাবক একজন ব্যক্তি যিনি হয় কন্যা সন্তানের পিতামাতা বা আইনের অধীনে একজন ব্যক্তি যিনি ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত কন্যা সন্তানের সম্পত্তির আইনি অবিভাবক।

আ্যকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়জনীয় নথিপত্র

  • কন্যা শিশুর জন্ম প্রমাণপত্র।
  • অভিভাবকের ঠিকানা এবং ছবিসহ প্রমাণ পরিচয়পত্র (প্যান্ কার্ড, ভোটার আই.ডি, আধার কার্ড)।
  • যদি কন্যা সন্তানের জন্ম প্রমাণ পত্র না থাকে তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট যেখানে কন্যা সন্তানের জন্ম তারিখ উল্লেখ করা থাকবে।

আকাউন্ট স্থানান্তর নিয়ম : –

  1. ভারতের মধ্যে যেকোনো স্থানে বা ডাকঘর থেকে ব্যাঙ্কে এবং ব্যাঙ্ক থেকে ডাকঘরে এই অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর করা যায়।
  2. নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের CBS সুবিধা থাকলে অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর বৈদ্যুতিকভাবে করা যায়

অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ বন্ধের নিয়ম :-

  1. অ্যাকাউন্ট খোলার সময় থেকে ২১ বছর হলে এটি পূর্ণ হয় এবং ধনরাশি তোলা যায়। কোনো ক্ষেত্রে আগেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ অনুমোদন করা হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট মহিলা নিজের ১৮ বছর হচ্ছে বলে প্রমাণপত্র দেখিয়েই বিবাহর জন্য অ্যাকাউন্ট বন্ধের আবেদন করতে পারে। বিবাহের সময় একমাসের আগে বা তিনমাসের পরে অ্যাকাউন্ট বন্ধের অনুমতি দেওয়া হয় না।
  2. পূর্ণ হলে অ্যাকাউন্টে জমা টাকা সুদের সাথে অ্যাকাউন্টের জনকে প্রদান করা হয়। এর জন্য নিজের পরিচয়, বাসস্থান এবং নাগরিকত্বর প্রমাণ জমা করতে হয়।
  3. খোলার ২১ বছর হওয়ার পরে জমা টাকাতে কোনো সুদ দেওয়া হয় না।

দেশের স্বাধীনতায় বিনামূল্যে ১ লক্ষ বোরোলিন বিতরণ

আট থেকে আশি , প্রত্যেক বাঙালির জীবন যাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে সবুজ টিউবের বোরোলিন।

” নিয়তির কাছে এটুকুই প্রার্থনা / সব ক্ষত যেন বোরোলীন দিয়ে সারে ” , লিখেছিলেন শ্রীজাত (srijato)। “বঙ্গ জীবনের অঙ্গ – বোরোলিন “মিশে আছে বাঙালির জীবন চর্যায় – অন্দরে বাহিরে ।

ত্বক যদি কেটে যায়, ফেটে যায়,খসখসে যদি হয় / রোদ্দুরে ঝলসায় , সারা অঙ্গে মেখে নিন / সুরভিত অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন’ ।   কিছু কি মনে পড়ছে ? তাহলে পিছিয়ে যাওয়া যাক বেশ কয়েক দশক।

সময়টা আটের দশক। ইন্টারনেট বিহীন শান্ত বঙ্গ জীবনে ঢেউ তুলেছিল ‘বোরোলিনের সংসার’। রবিবারের দুপুর মানেই বেতারে শ্রাবন্তী মজুমদার ও তাঁর গলায় বোরোলিনের সেই বিখ্যাত জিঙ্গল “সুরভিত অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন”। বোরোলিন (Boroline) আমাদের বাঙালির ‘বঙ্গ জীবনের অঙ্গ’ হয়ে গেছে সেই কবে থেকে। আসলে বাঙালি আর বোরোলিন হল অবিচ্ছেদ্য এক বন্ধন। ‘বোরোলিন– বঙ্গ জীবনের অঙ্গ’, সত্যিই সার্থক ক্যাচলাইন দিয়েছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ (Writuparno Ghosh)।

বাংলায় বোরোলিনের আবির্ভাব স্বদেশী আন্দোলন (Swadeshi movement)এর প্রেক্ষাপটে। তখন দিকে দিকে বিদেশি পণ্য বয়কট ও স্বদেশী পণ্য গ্রহণের হিড়িক।

সালটা ছিল ১৯২৯ । তখনও পুড়ে গেলে বা কোনও রকমের ক্ষত হলে ভরসা ছিল ভেষজ উপাদান ব্যবহার । কারণ বিদেশি ক্রিম সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল । ঠিক সেই সময় বাজারে এলো বাঙালির নিজস্ব অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন । নিয়ে এলেন এক বাঙালি গৌর মোহন দত্ত (Gour Mohon Dutta)।

বোরোলিন নাম ও সেই হাতির ছবি দেওয়া লোগোর পেছনেও রয়েছে ইতিহাস । বোরোলীন নামটি তার উপাদান থেকে উদ্ভূত, বরিক পাউডার থেকে “বোরো” এবং “অলিন” ল্যাটিন (Latin) শব্দ ওলেমের একটি রূপ যার অর্থ তেল। বোরোলীনের লোগো (logo) হাতি বোঝায় স্থিরতা এবং শক্তি। গ্রামীণ এলাকায় বোরোলীন এখনও “হাতিওয়ালা ক্রিম” হিসাবে পরিচিত। সত্যিই তো যার স্থিরতা আজও অবিচল , তার লোগোতে তো হাতি ই থাকবে।

সেই জয়যাত্রা আজও সমান তালে বহমান । বোরোলিনের প্রাণপুরুষ ছিলেন জি ডি ফার্মেসির ( GD farmecy) প্রতিষ্ঠাতা গৌরমোহন দত্ত । ব্রিটিশ সময়কাল থেকে শুরু করে ৯৩ বছর ধরে এখনও সকল বাঙালির অতি প্রিয় ‘ সুরভিত অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন ‘ ।

জওহরলাল নেহরুও নাকি ব্যবহার করতেন বোরোলিন । দেশের ক্রিম বলে কথা ! শীত – গ্রীষ্ম – বর্ষা বাঙালির ঘরে বোরোলিনের উপস্থিতি চিরকালীন । এককথায় , বোরোলিন হল ঋতুপর্ণ ঘোষের কথায় বঙ্গ জীবনের অঙ্গ ‘ । শুধু বাংলা নয় গোটা দেশেই আজ বোরোলিন এর জনপ্রিয়তা।

ব্রিটিশ রাজত্বকালে দেশি দ্রব্য তৈরি করা এবং টিকিয়ে রাখা যথেষ্ট কঠিন কাজ ছিল । এ এক অন্য ধরনের লড়াই । কারণ গৌরমোহন দত্তের জি ডি ফার্মেসির বোরোলিন বিদেশি দ্রব্য বর্জন ও দেশি দ্রব্য গ্রহণের ডাক দিয়ে আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল । এছাড়া তিনি ছিলেন সেই সময়ের কলকাতা ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য । তিনি মনে করতেন , বিপ্লব ছাড়াও দেশ স্বাধীন করার জন্য দেশে স্বাধীন ব্যবসায়ী সংগঠন হওয়া প্রয়োজন , যারা দেশি উপাদান প্রস্তুত ও বিক্রি করে দেশের আর্থিক উন্নতি ঘটাবে । এই উদ্দেশ্যেই ১৯২৯ সাল থেকে সবুজ রঙের টিউবে হাতিমার্কা ক্রিম বোরোলিন আসে বাজারে ।

আজ জি ডি ফার্মেসির কারখানা আছে কলকাতার নিউ আলিপুরে( New Alipur)ও গাজিয়াবাদে(Gajiyabad) । বর্তমানে এই কোম্পানির প্রধান কর্ণধার গৌরমোহন দত্তের নাতি দেবাশিস দত্ত । পরিবেশের প্রতিও এই কোম্পানি যথেষ্ট সজাগ। তাঁরা পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য রিসাইক্যাল করে পুরনো টিউব বা কোট দিয়েই নতুন টিউব তৈরি করে ।

একলক্ষ বোরোলিন বিতরণের বিজ্ঞাপন যুগান্তর পত্রিকা ১৫ আগস্ট ১৯৪৭

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশ যেদিন স্বাধীন হয় সেইদিন দেশবাসীকে বিনামূল্যে ১ লক্ষ বোরোলিন বিতরণ করে জি ডি ফার্মেসী । গৌরমোহন দত্ত কলকাতার আলিপুরে নিজের যে বাড়িতে বোরোলীন বানানো শুরু করেছিলেন সেটি এখন বোরোলীন হাউস নামে পরিচিত। 

এই ক্রিম দেশের ক্রিম , এই ক্রিম প্রকৃতই Make In India স্বার্থক বিজ্ঞাপন । তাই বহিরঙ্গ বদল হয়ে টিউব থেকে প্লাস্টিকের কৌট এলেও , বোরোলিন ১৯২৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ৯৩ বছরেও স্বমহিমায় বিরাজিত প্রতিটি বাঙালি ঘরে।

বোরোলিনের বিজ্ঞাপন গুলি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত।

তথ্য সহায়তা : ইন্টারনেট

‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্যারোডি করে সজনীকান্ত দাস লিখলেন ‘ব্যাঙ’ কবিতা

বিদ্রোহী কবিতাকে বিদ্রুপ করে রচিত হয়েছে অসংখ্য প্যারোডি। নজরুল জয়ন্তীতে কবিকে স্মরণ করে সাজিয়ে দেওয়া হল সেইসব প্যারোডি এবং বিদ্রোহী কবিতা।

⚔️বিদ্রোহী⚔️

কাজী নজরুল ইসলাম

বল বীর –
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রীর!
বল বীর –
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া,
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর!
মম ললাটে রুদ্র-ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর –
আমি চির-উন্নত শির!

আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!
আমি দুর্ব্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃংখল!
আমি মানি নাকো কোনো আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম,
ভাসমান মাইন!
আমি ধূর্জ্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর!
আমি বিদ্রোহী আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাত্রীর!
বল বীর –
চির উন্নত মম শির!

আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণী,
আমি পথ-সম্মুখে যাহা পাই যাই চূর্ণী!
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি চল-চঞ্চল, ঠুমকি’ ছমকি’
পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’
ফিং দিয়া দিই তিন দোল্!
আমি চপলা-চপল হিন্দোল!

আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা’,
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
আমি উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা!
আমি মহামারী, আমি ভীতি এ ধরিত্রীর।
আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ণ চির-অধীর।
বল বীর –
আমি চির-উন্নত শির!

আমি চির-দুরন্ত-দুর্ম্মদ,
আমি দুর্দ্দম, মম প্রাণের পেয়ালা হর্দ্দম্ হ্যায়্ হর্দ্দম্
ভরপুর মদ।
আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক, জমদগ্নি,
আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি!
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান।
আমি ইন্দ্রাণি-সূত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য্য,
মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।
আমি কৃষ্ণ-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা বারিধির।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।
বল বীর –
চির উন্নত মম শির।

আমি সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক!
আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনা ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
আমি বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার,
আমি ইস্ত্রাফিলের শিঙ্গার মহা-হুঙ্কার,
আমি পিনাক-পাণির ডমরু-ত্রিশূল, ধর্ম্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র ও মহাশঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ-প্রচন্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা-বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব!
আমি প্রাণ-খোলা-হাসি উল্লাস, – আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,
আমি মহা-প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু-গ্রাস!
আমি কভু প্রশান্ত, – কভু অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,
আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্প-হারী!
আমি প্রভঞ্জনের উচ্ছাস, আমি বারিধির মহাকল্লোল,
আমি উজ্জ্বল আমি প্রোজ্জ্বল,
আমি উচ্ছল জল-ছল-ছল, চল-ঊর্মির হিন্দোল্ দোল!

আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী-নয়নে বহ্নি,
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম-উদ্দাম, আমি ধন্যি।
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর!
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত
বুকে গতি ফের!
আমি অভিমানী চির-ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়,
চিত- চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর!
আমি গোপন প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল ক’রে দেখা অনুখন,
আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র কাঁকন-চুড়ির কন্-কন্।
আমি চির-শিশু, চির-কিশোর,
আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচর কাঁচলি নিচোর!
আমি উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল, উদাসী পূরবী হাওয়া,
আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীনে গান গাওয়া!
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র রবি,
আমি মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি! –
আমি তুরিয়ানন্দে ছুটে চলি এ কি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে
সব বাঁধ!

আমি উত্থান, আমি পতন, আমি অচেতন-চিতে চেতন,
আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী, মানব বিজয় কেতন!
ছুটি ঝড়ের মতন করতালি দিয়া
স্বর্গ-মর্ত্ত্য করতলে,
তাজি বোরবাক্ আর উচ্চৈস্রবা বাহন আমার
হিম্মত-হ্রেস্বা হেঁকে চলে!
আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নেয়াদ্রি, বাড়ব-বহ্নি, কালানল,
আমি পাতালে মাতাল অগ্নি-পাথর-কলরোল-কল-কোলাহল!
আমি তড়িতে চড়িয়া উড়ে চলি জোর তুড়ি দিয়া, দিয়া লম্ফ,
আণি ত্রাস সঞ্চারি ভুবনে সহসা, সঞ্চরি’ ভূমি-কম্প!
ধরি বাসুকির ফনা জাপটি’, –
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি’!
আমি দেব-শিশু, আমি চঞ্চল,
আমি ধৃষ্ট আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব-মায়ের অঞ্চল!

আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা- সিন্ধু উতলা ঘুম্-ঘুম্
ঘুম্ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্ঝুম্
মম বাঁশরী তানে পাশরি’
আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি রুষে উঠে’ যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হারিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!
আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া!

আমি আমি শ্রাবণ প্লাবন- বন্যা,
কভু ধরণীরে করি বরণিয়া, কভু বিপুল ধ্বংস-ধন্যা –
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু-বক্ষ হইতে যুগল কন্যা!
আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি ধূমকেতু-জ্বালা, বিষধর কাল-ফণি!
আমি ছিন্নমস্তা চন্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!

আমি মৃণ্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়!
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,
বিশ্বের আমি চির দুর্জ্জয়,
জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,
আমি তাথিয়া তাথিয়া মথিয়া ফিরি এ স্বর্গ-পাতাল-মর্ত্ত্য
আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!!
আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে
সব বাঁধ!!
আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার,
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম স্কন্ধে,আমি উপাড়ি’ ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।

মহা- বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না –
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ-হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব-ভিন্ন!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!

আমি চির-বিদ্রোহী বীর –
আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!

১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি বিদ্রোহী (bidrohi poem)কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় বিজলী পত্রিকায় । বিজলী পত্রিকায় প্রকাশের পর পত্রিকাটির চাহিদা এত বেড়ে গিয়েছিল যে সেটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশ করতে হয় ।পরে এটি অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত হয়।

১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকের এক রাত । প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ (first world war)ফেরত ২২ বছরের যুবক তখন নজরুল (kaji najrul islam)। কলকাতার তারাতলা লেনের বাড়িতে বসে রাতেই তিনি লিখেছিলেন ১৩৯ পংক্তির কবিতাটি । পরদিন সকালে কবিতাটি শোনান তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মোজাফফর আহমেদ কে। কমিউনিস্ট (communist)মোজাফফর আহমেদ (mujaffor ahmed)ছিলেন বিদ্রোহী কবিতার প্রথম শ্রোতা।

সার্ধদ্বিশতবর্ষেও সাগর পাড়ের আইকন তিনিই

‘কাজী নজরুল ইসলাম : স্মৃতিকথা’ বইতে মুজাফফর আহমেদ লিখেছেন, ” তখন নজরুল আর আমি নিচের তলার পূর্বদিকের অর্থাৎ বাড়ির নিচের দিককার দক্ষিণ-পূর্ব কোণের ঘরটি নিয়ে থাকি। এই ঘরেই কাজী নজরুল ইসলাম তার বিদ্রোহী কবিতাটি লিখেছিলেন। সে কবিতাটা লিখেছিল রাত্রে। তবে রাত্রের কোন সময় তা আমি জানিনে। রাত ১০ টার পর আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে এসে বসেছি , এমন সময় নজরুল বলল, সে একটি কবিতা লিখেছে । এরপর পুরো কবিতাটি পাঠ করে আমাকে শোনাল। সেই হিসেবে বিদ্রোহী কবিতার প্রথম শ্রোতা আমি।”

মুজাফফর আহমেদ আরো লিখেছেন , “আমার মনে হয়, নজরুল শেষ রাত্রে কবিতাটি লিখেছিল, তা না হলে এত সকালে সে আমায় কবিতা পড়ে শোনাতে পারত না।….এখন থেকে চুয়াল্লিশ বছর আগে নজরুলের কিংবা আমার ফাউন্টেন পেন ছিল না। দোয়াতে বারে বারে কলম ডোবাতে গিয়ে তার মাথার সঙ্গে তাল রাখতে পারবে না, এই ভেবেই সম্ভবত সে কবিতাটি প্রথমে পেন্সিলে লিখেছিল।”

বিদ্রোহী কবিতার ব্যাঙ্গ করে সজনীকান্ত দাস (sajanikanta das)’ব্যাঙ’ নামে একটি কবিতাও লিখেছিলে, যা শনিবারের চিঠি পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। সেখানে তিনি প্যারোডি করে লিখেছিলেন ব্যাঙ কবিতাটি । তার কয়েকটি লাইন ছিল এইরকম-

‘আমি ব্যাঙ লম্বা আমার ঠ্যাং ভৈরব রসে বর্ষা আসিলে ডাকি যে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ আমি পথ হতে পথে দিয়ে চলি লাফ শ্রাবণ নিশায় পরশে আমার সাহসিকা অভিসারিকা ডেকে ওঠে ‘ বাপ বাপ ‘ । আমি ডোবায় খানায় কাদায় ধুলায় খাটিয়ার তলে কিংবা ব্যবহার হীন চুলায় কদলী বৃক্ষের খোলেও কখনো রহি ব্যাঙাচি রুপেতে বাঁদরের মতো লেজুরেও আমি সরি ৷ আমি ব্যাঙ। আমি সাপ, আমি ব্যাঙেরে গিলিয়া খাই আমি বুক দিয়ে হাঁটি ইঁদুর ছুঁচোর গর্তে ঢুকিয়া যাই।”

ছদ্মনামে প্রকাশিত হওয়ায় নজরুল ধারণা করেছিলেন ‘ব্যাং’ মোহিতলাল মজুমদারের (mohitlal majumder) লেখা। ফলে একসময়ের ঘনিষ্ঠজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মোহিতলালকে মাথায় রেখে নজরুল রচনা করলেন ‘সর্ব্বনাশের ঘণ্টা’ কবিতা। সেখানে তিনি লিখলেন , “মিত্র সাজিয়া শত্রু তোমারে ফেলেছে নরকে টানি, ঘৃণার তিলক পরাল তোমারে স্তাবকের শয়তানী!’

এই কবিতা তাকে উদ্দেশ্য করে নজরুল লিখেছেন এ কথা জানতে পেরে মোহিতলাল ‘দ্রোণগুরু’ কবিতাটি লেখেন। কবিতাটি শনিবারের চিঠি (shonibarer chithi)পত্রিকার ‘বিশেষ বিদ্রোহ সংখ্যা’ য় ছাপা হয়। সেখানে তিনি নিজের ব্রাহ্মণত্বে গর্ব প্রকাশ করে নজরুলকে মূলত অভিসম্পাতই করেছেন। মোহিতলাল মজুমদার লিখলেন ,

“আমি ব্রাহ্মণ, দিব্যচক্ষে দুর্গতি দেখি তোর। অধঃপাতের দেরি নাই আর,ওরে হীন জাতি- চোর।”

এখানেই শেষ নয় । বিদ্রোহী কবিতা কে কেন্দ্র করে গোঁড়া হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ও নজরুল এর উপর খড়গহস্ত হয়ে ওঠে। বিদ্রোহী কবিতার একটি পঙক্তি তে লেখা হয়েছিল, ” আমি বিদ্রোহী ভৃগু ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন।” আবার অন্য একটি পঙক্তিতে ছিল, “খোদার আসন আরশ ছেদিয়া/ উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর” এরপরই নজরুলের ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকে গোঁড়া হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়।

কবিতাটি প্রকাশের মাসখানেক পরে কবি গোলাম মোস্তফা ‘সওগাত’ (saogat)পত্রিকায় ‘নিয়ন্ত্রিত’ নামে একটি কবিতায় লেখেন , “ওগো বীর/ সংযত করো, সংহত করো উন্নত তব শির” ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল হাকিম একটি প্যারোডি (parody) তে নজরুলকে বেল্লিক বেইমান, নমরুদ ,ফেরাউন, ভাতৃদ্রোহী বিভীষণ নামে আখ্যায়িত করেন। এই পত্রিকাতেই নজরুল কে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়, “লোকটা মুসলমান না শয়তান”

এসবের বিপরীতে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (robindronath tagore) তাঁর স্নেহধন্য নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা শুনে তাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন । ১৯২৬ সালে সজনীকান্ত দাস নজরুলের বিরুদ্ধে চিঠি লেখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। সে চিঠির প্রত্যুত্তরে রবীন্দ্রনাথ লিখেন, “আধুনিক সাহিত্য আমার চোখে পড়ে না। দৈবাৎ কখনো যেটুকু দেখি, দেখতে পাই, হঠাৎ কলমের আব্রু ঘুচে গেছে। আমি সেটাকে সুশ্রী বলি এমন ভুল করো না।…আলোচনা করতে হলে সাহিত্য ও আর্টের মূলতত্ত্ব নিয়ে পড়তে হবে।”

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত তাঁর ‘কল্লোল যুগ ‘বইয়ে জানাচ্ছেন, “নিজের মুখে কারণে-অকারণে সে [নজরুল] স্নো ঘষত খুব, কিন্তু তার কবিতার এতটুকু প্রসাধন করতে চাইত না। বলত, অনেক ফুলের মধ্যে থাক না কিছু কাঁটা, কণ্টকিত পুষ্পই তো নজরুল ইসলাম। কিন্তু মোহিতলাল তা মানতে চাইতেন না। নজরুলের গুরু ছিলেন এই মোহিতলাল।”

১৩৩৪ সালের বিচিত্রা পত্রিকার শ্রাবণ সংখ্যায়  রবীন্দ্রনাথ ‘সাহিত্যধর্ম’ প্রবন্ধে লিখেছেন, “মত্ততার আত্মবিস্মৃতিতে একরকম উল্লাস হয়; কণ্ঠের অক্লান্ত উত্তেজনায় খুব একটা জোরও আছে, মাধুর্যহীন সেই রূঢ়তাকেই যদি শক্তির লক্ষণ ব’লে মানতে হয় তবে এই পালোয়ানির মাতামাতিকে বাহাদুরি দিতে হবে সে কথা স্বীকার করি।”

এত সমালোচনা উপেক্ষা করেও বিদ্রোহী কবিতাটি শতবর্ষ পরে আজও সমানভাবে জনপ্রিয়। এক সময়ে কবিতাটি হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম সেরা অস্ত্র। তৎকালীন সাহিত্যিকরা যতই বিদ্রোহী কবিতার সমালোচনা করুন না কেন, নজরুল কিন্তু সফল তার ব্রিটিশ বিরোধিতায়। ‘অসির চেয়ে মসি অনেক বেশি শক্তিশালী’ এই প্রবাদটির সার্থকতা তখনই প্রতিপন্ন হয় যখন ব্রিটিশ সরকার বিদ্রোহী কবিতাটি কে ভয় পায়। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেছেন , “আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা না করলেও যেখানেই এসব পত্রিকা পেতো, সেগুলো জব্দ করতো। আনুষ্ঠানিকভাবে না হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে একপ্রকার নিষিদ্ধ ছিল”।

শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তিনি সত্য কথা সহজ সরল ভাবে তুলে ধরতে পারেন তিনি তো ‘বিদ্রোহী’ । তৎকালীন সময়ে নজরুল ইসলাম ছাড়া অন্য কোন সাহিত্যিকের রচনা এত পরিমাণে বাজেয়াপ্ত হয়নি ব্রিটিশ সরকারের দ্বারা।

প্রশ্নকর্তা শিক্ষককেই পরীক্ষার অংক কষতে দিলেন উপাচার্য

ছাত্রদের অংক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন অংকের শিক্ষক। তারপর তা দেখাতে নিয়ে এসেছেন উপাচার্যের কাছে । উপাচার্য সেই প্রশ্ন দেখে সেই প্রশ্নকর্তা শিক্ষককেই আড়াই ঘন্টার মধ্যে সমস্ত অংক কষে দিতে বললেন। আজ সেই প্রবাদপ্রতিম উপাচার্যের জন্মদিন।

ঘটনাটিতে উপাচার্য হলেন ‘বাংলার বাঘ ‘ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (ashutosh mukhopadhyay) এবং প্রশ্নকর্তা অংক শিক্ষক হলেন অধ্যাপক গৌরীশংকর দে (gourishangkar dey)।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (calcutta university ) এর উপাচার্য হওয়ার পর পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায় । তিনি সকল বিষয়ের শিক্ষকদের নির্দেশ দেন প্রশ্নপত্র এমনভাবে তৈরী করতে হবে যাতে মধ্যমেধার পড়ুয়াদের পরীক্ষায় কোন সমস্যা না হয়, তারা আনন্দের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে পারে। তার মতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র শিক্ষকের পাণ্ডিত্য জাহির করার জায়গা নয়। তাঁর নির্দেশ ছিল সকল প্রশ্নপত্র তিনি আগে দেখবেন এবং তারপর তা ছাপানো হবে ।

একবার অঙ্কের অধ্যাপক গৌরীশংকর দে অঙ্কের প্রশ্নপত্র তৈরি করে নিয়ে এসেছেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এর বাড়ি। আশুতোষ বাবুকে তিনি বললেন, “প্রশ্নপত্র তৈরি হয়ে গেছে, আপনি একটু দেখে দিন স্যার।” আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তার হাত থেকে প্রশ্নপত্র নিলেন। ভালোভাবে সেটি পড়লেন । তারপর কিছুটা গম্ভীর ভাবে গৌরীশংকর বাবুকে বললেন, “আপনার হাতে আড়াই ঘন্টা সময় আছে?”

গৌরীশংকর বাবু কিছু না ভেবেই বলে দিলেন, “হ্যাঁ , সময় আছে”। তখন আশুতোষ বাবু গৌরীশংকর বাবু কে কাগজ-কলমের ব্যবস্থা করে দিয়ে বললেন , ” বুঝলেন গৌরী বাবু , অনেক বেলা হয়েছে , আমার স্নানেরও সময় হয়ে গেছে , আমি স্নান সেরে আসি । আপনি ততক্ষণে এই প্রশ্নপত্রের সমস্ত অঙ্কগুলো এই কাগজে কষে ফেলুন । মনে রাখবেন আপনার হাতে সময় কিন্তু আড়াই ঘন্টা।” অংকের অধ্যাপক গৌরী বাবুর কাছে এ আর এমন কি কঠিন কাজ। তিনি বসে গেলেন অংকের সমাধান করতে।

পুরো আড়াই ঘন্টা পরে আশুতোষ বাবু এসে হাজির । এসেই তিনি গৌরী বাবুকে প্রশ্ন করলেন,” আড়াই ঘন্টা কিন্তু হয়ে গেছে গৌরী বাবু । আপনার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর কষা হয়ে গেছে তো?” গৌরী বাবু বললেন , “না স্যার এখনো তিনটে অংক বাকি”।

আশুতোষ মুখোপাধ্যায় হেসে বললেন , “তাহলেই বুঝুন , আপনার তৈরি করা প্রশ্নের উত্তর আপনি নিজেই আড়াই ঘন্টার মধ্যে শেষ করতে পারছেন না । তাহলে মধ্যমেধার ছাত্রছাত্রীরা কিভাবে তা পারবে ? আপনি এখন বাড়ি যান বাড়ি গিয়ে মাথা ঠান্ডা করে নতুন একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করুন যাতে সকলমেধার ছাত্র-ছাত্রীরা আনন্দের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে পারে”

ভরসার অপর নাম ” YOUTH OF BENGAL”

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ যখন থাবা বসায় ভারতে ঠিক সেই সময় একদল তরুণ তরণী সৃষ্টি করল একটি ফেসবুক গ্রুপ “কোভিড মুক্ত হোক নবদ্বীপ” পরবর্তী কালে এই গ্রুপ একটি সরকারি স্বীকৃতী প্রাপ্ত সংস্থা ” YOUTH OF BENGAL” নামে পরিচিতি পায়। তাদের কাজের মাধ্যমে নবদ্বীপ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বেশ আলোড়ণ সৃষ্টি করেছে।

সংগঠনটি সৃষ্টির প্রথম বর্ষপূর্তিতে তারা সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে ।এখনও পর্যন্ত সংস্থাটি ৪টি বিনামূল্যে স্বাস্থ্যশিবির ও দুটি ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প আয়োজন করেছে। প্রতক্ষ বা পরোক্ষভাবে আরও অনেক মানুষ সংগঠনটি থেকে সাহায্য পেয়েছে। নবদ্বীপ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কোনো মানুষের আপদকালীন রক্ত বা স্বাস্থ্য বিষয়ক যে কোনো প্রয়োজনে সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সমাজের তরুণ প্রজন্মের এই সংগঠন ” YOUTH OF BENGAL”

বিগত ৩রা এপ্রিল ” YOUTH OF BENGAL ” পূর্বস্থলি থানার অন্তর্গত মিনাপুর গ্রামে তাদের আয়োজিত স্বাস্থশিবিরে প্রায় ৪০০এর কাছাকাছি মানুষ কে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা, রোগীর প্রয়োজনীয় ঔষধ , ১৫০০টি পুরোনো জামাকাপড় বিতরণ এবং গ্রামের ৪১২ জন মা বোনেদের হাতে ৭৫৩ প্যাকেট স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২৫০০০/- টাকা

আগামী ২৮শে মে “WORLD MENSTRUAL & HYGIENE DAY” উপলক্ষে তারা মিনাপুর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি এবং মিনাপুর নিম্নবুনিয়াদী বিদ্যালয় এর সহযোগিতায় মিনাপুর গ্রামে মা বোনেদের নিয়ে আরও একটি স্বাস্থ্য সচেতন শিবির আয়োজন করতে চলেছে।

*ঋতুচক্রের ফলে মেয়েদের যে সমস্ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সেগুলি সম্বন্ধে সচেতন করা হবে।

*এই শিবিরের কর্মসূচি নিয়ে সংস্থার সম্পাদক শ্রী জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী আমাদের জানান যে :

*ঋতুচক্রের সময় স্যানিটারি নাপকিন ব্যাবহারের সুফল বোঝানো হবে।

*অনিয়মিত ঋতুচক্রের কুফল ।

* পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার উপায় শেখানো এবং

*গ্রামের মা বোনেদের হাতে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন তুলে দেওয়া হবে।

সার্ধদ্বিশতবর্ষেও সাগর পাড়ের আইকন তিনিই

এদেশের প্রথম আধুনিক মানুষ তিনি, নবজাগরণের প্রাণপুরুষও তিনি । নারীদের সতীপ্রথার কবল থেকে তিনি মুক্ত করেছেন । আবার তিনিই সাগর পেরিয়ে ইংল্যান্ডে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। এই মানুষটি রাজারামমোহন রায়। এ বছর তার জন্মের আড়াইশো বছর পূর্ণ হল।

১৮৩৩ সালে ওয়াশিংটনে দাস প্রথা বিলোপের ইশতেহারে বলা হয় , আমরা একজনের নাম করতে চাই যিনি এ যুগের সবচেয়ে আলোচিত ও হিতৈষী ব্যক্তিত্ব … তিনি রামমোহন রায়।

উনিশ শতকের প্রথম দিকে রামমোহন রায় (Rammohon Ray) এর খ্যাতি ভারত ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। শুধু ইংল্যান্ড নয় আমেরিকাতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ব্যক্তি। উনিশ শতকে যেখানে যোগাযোগব্যবস্থার এত বাহুলতা ছিল না, সেখানে ভারত থেকে সুদূর ইউরোপ-আমেরিকায় কিভাবে তার নাম ছড়িয়ে পড়লো , তা গবেষণার বিষয় । ওবার্লিন কলেজের শিক্ষক মাইকেল ফিশার ( Micle Fishar) গবেষণায় দেখিয়েছেন , ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের কাছ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়ার পর আমেরিকা নিজ উদ্যোগে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যের প্রস্তুতি নেয়। তখন থেকেই আমেরিকান জাহাজ বাণিজ্য করতে কলকাতায় যাওয়া আসা করত। বাণিজ্য করে ফেরার পথে তারা রামমোহন রায়ের লেখার ইংরেজি অনুবাদ সঙ্গে করে নিয়ে যেত। সুতরাং মার্কিন অধিবাসীদের কাছে রামমোহন পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। রামমোহন রায় যখন ইংল্যান্ডের ছিলেন তখন প্রখ্যাত আমেরিকান শিল্পী রেমব্রান্ট পিল (Rembrandt Pill) নিজে আমেরিকা থেকে সাগর পেরিয়ে ইংল্যান্ডে আসেন রামমোহন রায়ের প্রতিকৃতি আঁকার জন্য।

রামমোহন প্রথমবার ইংল্যান্ড (England) এ গেলেন ১৮৩০ সালে। ম্যানচেস্টার ( Manchester ) এ তিনি জাহাজ থেকে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গে এক বিশাল জনতা তাকে স্বাগত জানায় । ওই বছরই বিখ্যাত লন্ডন ব্রিজ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি বসার আসন পেয়েছিলেন। রামমোহন ইংল্যান্ডে পৌঁছানোর পর সংবাদপত্রগুলোর নজর ছিল তার উপরেই। রামমোহনের সই করা ছবির বিশাল কদর তখন ইংল্যান্ডে। জনে জনে মানুষ এগুলো সংগ্রহ করতে তৎপর । ডিউক অফ সাসেক্স (Duke of sussex) রামমোহনের জলরঙে আঁকা একটি ছবি তার স্বাক্ষরসহ লাইব্রেরীতে সংরক্ষণ করেন। জেমস সাদারল্যান্ড (james saderland )বলছেন ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে রামমোহন যখন লিভারপুল (Liverpool) তখন তার স্বাক্ষরিত ছবি প্রতিটি ছাপার দোকানে ঝোলানো থাকতো। সাগর পাড়ে এতটাই ছিল রামমোহনের জনপ্রিয়তা।

ইংল্যান্ডে রামমোহনের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় লিন জাস্টউপিল (Lin Zastoupil ) তার লেখা ‘রামমোহন রায় এন্ড দা মেকিং অফ ভিক্টোরিয়ান ব্রিটেন’ (Rammohon Ray and the making of Victorian Britain)গ্রন্থটি। যেখানে লিন বলেছেন: “রামমোহন ব্রিটেনে এবং ইউরোপ মহাদেশে আন্তঃজাতিক খ্যাতি উপভোগ করেছিলেন, সেইসাথে নতুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। তার জীবনের শেষ দুই বছর ব্রিটেনে অতিবাহিত হয়েছিল, যেখানে তাকে একটি সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল যা পূর্বে কোন প্রাচ্য ব্যক্তিত্বকে দেওয়া হয়নি।”

ব্রিস্টলে স্থাপিত রাজা রামমোহন রায়ের মূর্তি ছবি – সংগৃহিত

ইংল্যান্ডে রাজকীয় আভিজাত্যে আয়োজিত নৈশভোজের আমন্ত্রণ এবং অভ্যর্থনা কক্ষে তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় , তিনি যেখানেই যান সেখানেই ভিড় জমান । ব্রিটিশ সংবাদপত্রগুলি এমনভাবে তার অবস্থান সম্পর্কে রিপোর্ট করে যা আজকের চলচ্চিত্র বা রক তারকাদের সঙ্গে করে থাকে – রামমোহন ছিলেন ‘সিংহের সিংহ।লিন যোগ করেছেন , রামমোহন লিভারপুলে আসার মুহূর্ত থেকে, দর্শক এবং আমন্ত্রকদের দ্বারা পথগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

ম্যানচেস্টার (Manchester) এ যাওয়ার জন্য একটি ট্রেনে যাত্রার খবর স্থানীয় সংবাদপত্রে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে লেখা হয় রামমোহন রায়ের কারণে বিপুল জনসমাগম হওয়ায় প্রচুর পরিমাণে পুলিশের প্রয়োজন পড়েছিল।

ভারতে সতীদাহ প্রথা (custom of Sati )বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি জড়িয়ে পড়েছিলেন পাশ্চাত্যের দাস প্রথা (custom of slave) বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে। লিন এর মতে ভারতের সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে পাশ্চাত্যের দাস প্রথা বিরোধী আন্দোলনের অনেক মিল রয়েছে । রামমোহনের নেতৃত্বে সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলন ব্রিটিশ নারীদের মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল । ব্রিটিশ মহিলারা সতীদাহের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন ইংল্যান্ডে । সতীদাহ প্রথা বিরোধী এবং দাস প্রথা বিরোধী আন্দোলনের দুটি প্রায় সমসাময়িক। তবে ভারতের সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলনের কথা ইংল্যান্ডে পৌঁছেছিল দুজন ইউরোপীয়ের হাত ধরে ।তারা হলেন জেমস সিল্ক বাকিংহাম( james Silk Buckingham ) যিনি কলকাতায় এসেছিলেন সাংবাদিকতার কাজে এবং সেখানেই রামমোহনের সঙ্গে তার পরিচয় , আর অন্যজন হলেন জেমস পেগ (James pegs)।

১৮৩৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি(East India Company) ভারতে যখন বিল পাশ করিয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়, তখন তার তীব্র প্রতিবাদ করেন রামমোহন রায় । বিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে শুধু আবেদনময় ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলে (Privy Council ) তিনি আবেদন জানান। এমনকি এই বিলের প্রতিবাদে ফারসি ভাষায় প্রকাশিত তার সংবাদপত্র ”মিরাত উল আখবার“(Morar ul Akhbar) বন্ধ করে দেন।

রাজা রামমোহন রায়ের আড়াইশো তম জন্মবর্ষ পূর্তিতে এবার তার জন্মস্থান হুগলী জেলার খানাকুল এর রাধানগর গ্রামের বাড়ি এবং পাশের রঘুনাথপুরের বসতবাড়িটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

যুগপ্রবর্তক শব্দটির যদি কোন অর্থ থাকে তাহলে তা রামমোহন রায়ের ক্ষেত্রেই সুপ্রযুক্ত। তার জন্মের সাৰ্ধদ্বিশতবর্ষে বাঙালি সমাজ তাকে যেভাবেই স্মরণ করুক না কেন , বাঙালি সমাজের প্রতি তাঁর অবদানের তুলনায় তা কিছুই নয়।

Human computer শকুন্তলা দেবীর অন্য দিক : ‘The World of Homosexuality’

#Human computer Shakuntala Devi : মানব কম্পিউটার শকুন্তলা দেবী যেমন নিমেষের মধ্যে বড় বড় অঙ্কের নির্ভুল সমাধান করেছেন , তেমনি ৪৫ বছর আগে ভারতে সমকামিতা নিয়ে প্রথম বই লিখে আলোড়নও ফেলে দিয়েছিলেন। মাত্র দু’বছর আগে তিনি পেলেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে মরণোত্তর শংসাপত্র । ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে লোকসভা নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শকুন্তলা দেবী।

৭৬৮৬৩৬৯৭৭৪৮৭০×২৪৫৬০৯৮৭৬৫৪৩২৫৬৭ = কত ? এই গুনটির উত্তর বের করতে আপনার কতক্ষণ সময় লাগতে পারে ?এই সময় ও শ্রম বাঁচাতে আপনি হয়তো ক্যালকুলেটরের সাহায্য নেবেন। কিন্তু মাত্র ২৮ সেকেন্ডে এর উত্তর নির্ণয় করেছিলেন মানব কম্পিউটার শকুন্তলা দেবী (Shakuntala Devi)

মাত্র 28 সেকেন্ড সম্পূর্ণ করেন এই গগনা

হ্যাঁ, মাত্র ২৮ সেকেন্ড সময়ের মধ্যেই খাতা পেন অথবা কোনো ক্যালকুলেটর এর সাহায্য ছাড়াই সঠিক উত্তর দিয়ে ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ‘(Guinness Book of World Record) এ নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে দিয়েছিলেন এই ভারতীয় নারী। তবে ১৮ জুন ১৯৮০  ইম্পেরিয়াল কলেজ, লন্ডন  (Imperial college, London) এ শকুন্তলা দেবী তার বিশ্ব রেকর্ড অর্জন করলেও, রেকর্ডের শংসাপত্রটি দেওয়া হয়েছে মাত্র দুই বছর আগে, ৩০ জুলাই ২০২০ তারিখে শকুন্তলা দেবীর মৃত্যুর  সাত বছর পরে।

শকুন্তলা দেবীর গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এর শংসাপত্র

১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ৪ ঠা নভেম্বর বর্তমান ব্যাঙ্গালোরের (Bengaluru )এক কন্নড় ব্রাহ্মণ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন । তার বাবা সিভি সুন্দর রাজন (C V Sundar Rajan Rao) ছিলেন সার্কাসের ট্রাপিজ শিল্পী ।মাত্র তিন বছর বয়সেই বাবা সুন্দর রাজন রাও এর কাছে শকুন্তলা দেবীর অদ্ভুত গণনায় শক্তির প্রকাশ। মাত্র ৬ বছর বয়সে ইউনিভার্সিটি অফ মাইসোর (University of Mysore) এ শকুন্তলা দেবী তাঁর আশ্চর্য গণনা ক্ষমতার নিদর্শন দেন । খুব শীঘ্রই এই খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে ।

১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাবার সাথে পাড়ি দেন লণ্ডন( London)। তখন থেকেই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ঘুরে চলতে থাকে তাঁর এই অসামান্য গণনা ক্ষমতার প্রদর্শন । বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া (University Of California)য় কর্মরত এডুকেশানাল সাইকোলজি (educational psychology) র প্রফেসর আর্থার জেনসন (Arthur Jensen ) আগ্রহী হন এবং শকুন্তলা দেবীকে আমন্ত্রণ জানান ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর এই বিশেষ প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য । তার ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে শকুন্তলা দেবী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রওনা দেন ।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে ৬১৬২৯৮৭৫ -এর ঘনমূল এবং ১৭০৮৫৯৩৭৫ – এর ৭ ম মূল বের করতে দেওয়া হয় এবং বিস্ময়করভাবেই দুটি অঙ্ক জেনসন কাগজ-কলমে শেষ করার আগেই শকুন্তলা দেবী সঠিক উত্তর জানিয়ে দেন । ইন্টেলিজেন্স জার্নালে ১৯৯০ সালে জেনসন শকুন্তলা দেবীর এই বিস্ময়কর প্রতিভার কথা তুলে ধরেন ।

আরো দেখুন সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ সরে আসছে হাওড়ার দিকে , আশঙ্কিত বিজ্ঞানীরা

১৯৭৭ সালে টেক্সাস এর সাউদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটি (Southern Methodist University) -তে শকুন্তলা দেবীকে একটা ২০১ অঙ্কের একটি সংখ্যার ২৩ – তম বর্গমূল ( Root) নির্ণয় করতে দেওয়া হয় । এই সমগ্র বিষয়টি পরিচালনা করার জন্য US Bureau of Standard -এ তখনকার সেরা কম্পিউটারে একটি বিশেষ প্রোগ্রামিং তৈরি করা হয় , যার মাধ্যমে একই সমস্যা সমাধান করে জানিয়ে দেওয়া যাবে । কিন্তু বিস্ময়করভাবে কম্পিউটারের থেকেও কম সময়ে শকুন্তলা দেবী তার গণনা শক্তির সাহায্যে জানিয়ে দেন সঠিক উত্তর।

১৮ জুন ১৯৮০ তারিখে তিনি দুটি ১৩ অঙ্কের সংখ্যার গুন প্রদর্শন করেছিলেন যেটি বিশ্বরেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৩ অঙ্কের সংখ্যা দুটি ছিল ৭,৬৮৬,৩৬৯,৭৭৪,৮৭০ × ২,৪৬৫,০৯৯,৭৪৫,৭৭৯ ; মাত্র ২৮ সেকেন্ড সময়ে তিনি এর নির্ভুল উত্তর নির্ণয় করেন। যেটি ছিল ১৮,৯৪৭,৬৬৮,১৭৭,৯৯৫,৪২৬,৪৬২,৭৭৩,৭৩০ ;  এই ঘটনাটি ১৯৮২ সালের গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ( Guinness Book of World Record) এ স্থান পায়। তাকে ভূষিত করা হয় ‘মানব কম্পিউটার’ (Human Computer) অভিধায়। যদিও শকুন্তলা দেবীর এই নামটি একেবারেই অপছন্দের । তাঁর মতে , যেকোনো মানুষের মন অসীম ক্ষমতার অধিকারী । শুধুমাত্র মনের শক্তিতেই একজন মানুষ সব অসম্ভবকেই সম্ভব করতে পারে । তাই একজন মানুষের ক্ষমতাকে একটি মেশিনের সাথে তুলনা করা একেবারেই অর্থহীন ।

আরো দেখুন দূরসম্পর্কের বোন বিজয়া হয়ে উঠেছিলেন সত্যজিৎ জায়া

অবশ্য এই যে human computer বা মানব গণক হওয়ার পাশাপাশি শকুন্তলা দেবী ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অত্যন্ত আধুনিক এক নারী। তৎকালীন সমাজের বেড়াজাল ভেঙে ফেলে একজন স্বাধীনচেতা নারীর জীবন বেছে নেওয়া , সর্বোপরি স্বাধীন ভাবনা ভাবতে পারা এবং সেই ভাবনা মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া ছিল তাঁর আরও একটি উল্লেখযোগ্য গুণ ।

শকুন্তলা দেবী লিখিত সমকামিতা বিষয়ক বই

লেখিকা শকুন্তলা দেবী একেবারেই অন্যরকম মানুষ । ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত হয় সমকামিতা বিষয়ক তাঁর প্রথম একাডেমিক স্টাডি ‘ The World of Homosexuality ‘ । ভারতবর্ষে সেই সময় সমকামিতা নিয়ে প্রায় কোনোরকম ধারণা ছিল না বললেই চলে । শকুন্তলা দেবী এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে যান । তবে এজন্য তিনি যথেষ্ট সমালোচিতও হয়েছিলেন । এই বিষয়ে কাজের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাব উল্লেখযোগ্য । ১৯৬০ সালে তিনি বিবাহ করেছিলেন পরিতোষ ব্যানার্জিকে । যদিও ১৯৭৯ সালে সেই বিয়ে ভেঙে যায় , বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণে । শোনা যায় সমকামী পুরুষের সাথে সংসার করতে গিয়ে এই বিষয়ে তাঁর ভাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গির বিশেষ উত্তরণ ঘটে।

শকুন্তলা দেবী ১৯৮০ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লোকসভা নির্বাচন (Loksobha election) এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhara pradesh) এর মেদাক থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) র বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন । ৬৫১৪ ভোট পেয়ে তিনি নবম স্থানে ছিলেন।

মানব কম্পিউটার হিসেবে কাজ করা ছাড়াও তিনি পেশাগতভাবে একজন জ্যোতিষীও ছিলেন এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের উপরে বেশ কয়েকটি বইও তিনি রচনা করেন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘Astrology for You ‘।এছাড়া তাঁর লেখা অন্যান্য বই গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য  ‘ The joy of Numbers’ , ‘In the Wonderland of Numbers ‘ , ‘More Puzzles to Puzzle You‘ , ‘Super Memory: It Can Be Yours

শকুন্তলা দেবী লিখিত বিভিন্ন বইয়ের প্রচ্ছদ

২০১৩ সালে ব্যাঙ্গালোর হাসপাতালে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা নিয়ে তিনি ভর্তি হন এবং ২১ এপ্রিল হার্ট ও কিডনি সমস্যার কারণে ৮৩ বছর বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেন এই মহান ভারতীয় প্রতিভাময়ী নারী ।

২০১৩ সালে তাঁর ৮৪ তম জন্মদিবসে গুগল ডুডলস তৈরীর মাধ্যমে তাঁকে সম্মান জ্ঞাপন করে। ২০১৯ সালে শকুন্তলা দেবীর জীবনের উপর আধারিত একটি হিন্দি সিনেমাও মুক্তি পেয়েছিল।

চিত্র – সংগৃহিত

পড়তে থাকুন “Human computer শকুন্তলা দেবীর অন্য দিক : ‘The World of Homosexuality’”

নিখাত সোনার মেয়ে জারিন

যার দক্ষতা নিয়ে একসময় প্রশ্ন তুলেছিলেন আরেক ভারতীয় বিশ্বজয়ী মহিলা বক্সার মেরি কম, এমনকি কোন ট্রায়াল ছাড়াই ২০১৯ সালে বিশ্ব বক্সিংয়ে যখন মেরিকম কে বেছে নেওয়া হয়েছিল তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন নিখাত জারিন।

নিজস্ব প্রতিবেদন : কে জারিন? স্বয়ং মেরিকম একসময় প্রশ্ন তুলেছিলেন। এবার সেই নিখাত জারিন ই ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত পঞ্চম মহিলা বিশ্ব বক্সিং চাম্পিয়নশিপে পঞ্চম ভারতীয় মহিলা হিসেবে সোনা জয় করে ইতিহাস গড়লেন । গত বছর টোকিয়ো অলিম্পিক্সের ট্রায়ালে মেরি কমের বিরুদ্ধে হেরে অলিম্পিক্সের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল জারিনের। কিন্তু এবার তিনি ফিরলেন বিশ্ব জয় করে। বৃহস্পতিবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে তেলেঙ্গানার নিজামাবাদের মেয়ে জারিন ফাইনালে ৫-০ হারালেন তাইল্যান্ডের ফ্লাইওয়েট জিতপং জুতামাসকে ।৫২ কেজি বিভাগে শুরু থেকেই তাঁর বিখ্যাত আপার হ্যান্ড বিপক্ষকে কোণঠাসা করে দেয় ।

সোনা জয়ের পর জারিন ছবি- ভারতীয় বক্সিং ফেডারেশন

নিখাতের আগে মহিলাদের বক্সিং বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ থেকে সোনা জিতে ফিরেছেন ছ’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মেরি কম , সরিতা দেবী , জেনি আর এল এবং লেখা সি । নিখাদ পঞ্চম ভারতীয় হিসেবে এই খেতাব জিতলেন । নিখাতকে গণমাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন বহু ক্রীড়াব্যক্তিত্ব তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিংহ, সচিন তেন্দুলকার, বীরেন্দ্র সহবাগ, ভারতীয় মহিলা হকি দলের সদস্য রানি রামপাল , বেজিং অলিম্পিক্সে পদক প্রাপ্ত বিজেন্দ্র সিংহ প্রমূখ । বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ।

তীব্র প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নিখাত জারিন উঠে এসেছেন। এখাতের পরিবার এমন একটা জায়গায় বসবাস করত যেখানে মেয়েদের ছোট জামা কাপড় পরা কে বাঁকা চোখে দেখা হয় কিন্তু বক্সিং করতে গেলে শর্টস পড়তেই হবে । বহু মানুষের বহু সমালোচনাকে উপেক্ষা করে আজকে জারিন প্রমান করে দিয়েছেন তার দক্ষতা কে। জারিনের বড় দুই বোন ডাক্তার আর ছোট বোন ব্যাডমিন্টন খেলেন। প্রথমে জারিন ছিলেন অ্যাথলেটিক্সে, পরে কাকার উৎসাহে তিনি সরে আসেন বক্সিং এ।

চলতি বছরে তার স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন নিখাত।গত ফেব্রুয়ারিতেই স্লান্দজা মেমোরিয়াল বক্সিং প্রতিযোগিতায় প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে জোড়া সোনা জিতেছিলেন । ইউরোপের সর্বপ্রাচীনএই বক্সিং প্রতিযোগিতায় তিনি হারান টোকিয়ো অলিম্পিক্সে রুপো প্রাপ্ত বুস নাজ কাকিরারোগ্লু ও তিন বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন তাতিয়ানা ববকে । অতীতে জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন । এ বার ফ্লাইওয়েটে সিনিয়র বিভাগেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে নজির গড়লেন ২০১৯ সালে এশীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জপ্রাপ্ত এই বক্সার ।

এ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে একমাত্র ভারতীয় হিসেবে ফাইনালে গিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সি এই বক্সার । ২০১১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তিনি । ১১ বছর বাদে নিখাত জিতে নিলেন সিনিয়র বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের সোনাও ।

পরিবারের তৃতীয় সন্তান নিখাত অ্যাথলিট হোক চেয়েছিলেন বাবা মহম্মদ জামিল । কিন্তু নিখাতের কাকা শামসুদ্দিনের আগ্রহেই নিখাতকে অ্যাথলেটিক্স থেকে সরিয়ে বক্সিংয়ে পাঠানো হয় । ইস্তানবুলে এ বারের প্রতিযোগিতায় নিখাতের দাপট ছিল দুরন্ত। প্রথম তিন বাউটেই তিনি জিতেছিলেন ৫-০ ফলাফলে। ফাইনালেও জিতেছেন ৫-০ ফলে । যার অর্থ প্রত্যেক বিচারকই মান্যতা দিয়েছেন তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে । অতীতে তিনি রক্ষণাত্মক বলে সমালোচিত হতেন ।

নিখাতের জয়ে খুশি ভারতীয় দলের প্রধান কোচ ভাস্কর ভাট বলেছেন , “ নিখাত আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী মেজাজে খেলছে । ” ভারতীয় মহিলা বক্সিং দলের আর এক কোচ আলি কামারও নিখাতের আগ্রাসী মেজাজে খেলা ফাইনাল দেখে অবাক । তিনিও বলেছেন , “ নিখাতকে কখনও এর আগে এত আগ্রাসী মেজাজে খেলতে দেখিনি । ফাইনালে তো শুরু থেকেই আক্রমণে বিপক্ষকে জেরবার করে দিয়েছিল । ”

তবে কমনওয়েলথ এবং এশিয়ান গেমসের পরেই নিজের বিভাগ বদলাবেন জারিন। ৫২ কেজির বদলে ৫৪ কেজি বিভাগে লড়বেন তিনি। তার জন্য শারীরিক শক্তি যেমন বাড়াতে হবে, তেমনই টেকনিকেও বদল আনতে হবে। জারিনের লড়াই তাই শেষ হয়ে যায়নি। বরং নতুন করে শুরু হল।

মুম্বাইয়ের ফুল বিক্রেতা থেকে গবেষণার কাজে মার্কিন মুলুক পাড়ি সরিতার

মুম্বাইয়ে বাবার দোকানে ফুল,মালা বিক্রি করতেন । এবার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করতে যাচ্ছেন জে.এন.ইউ ছাত্রী সরিতা মালি।

“নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন নাহি দিবে অধিকার” – কবি কবেই বলেছিলেন একথা। একথার বাস্তবায়ন করে দেখালেন এক ভারতীয় কন্যা। কঠোর দারিদ্র্যকে সঙ্গী করে যার বেড়ে ওঠা সেই মুম্বাই নিবাসী ফুল বিক্রেতা মেয়ের নাম সারিতা মালি। সেই মেয়েই এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে গবেষণার কাজের সুযোগ পেয়েছেন।

বর্তমানে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি (জে.এন.ইউ) – এর ভারতীয় ভাষা কেন্দ্রে হিন্দি সাহিত্যে পি. এইচ. ডি গবেষণারত সারিতা।তিনি জেএনইউ থেকে এমএ এবং এমফিল ডিগ্রি নিয়েছেন ।খুব শীঘ্রই মার্কিন মুলুকের উদ্দেশ্যে উড়ে যাবেন ২৮ বছরের এই তরুণী। পড়ুয়ার এই সাফল্যে জে. এন. ইউ জুড়ে এখন খুশির হাওয়া।

মুম্বাই ফুল বিক্রেতা, 28, পিএইচডি করার জন্য শীর্ষ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন
জে.এন.ইউ উপাচার্য শান্তিশ্রী পন্ডিতের সঙ্গে সারিতা ছবি – টুইটার

সারিতা বলেছেন, “আমি অনুভব করি যে প্রত্যেকের জীবনেই উত্থান-পতন আছে। প্রত্যেকেরই তার সুদিনের গল্প এবং কষ্ট রয়েছে। এটি নির্ধারণ করা হয় কোন সমাজে আপনি জন্মগ্রহণ করেন এবং আপনি কী জীবন পান। দুর্ভাগ্যবশত বা সৌভাগ্যবশত কোন অর্থে, আমি জন্মগ্রহণ করেছি এমন একটি সমাজে যেখানে সমস্যা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ।”

উৎসবের সময়, তিনি তার বাবার সাথে ফুল বিক্রি করতেন, বিশেষ করে গণেশ চতুর্থী, দীপাবলি এবং দশেরার মতো বড় উৎসবে। স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকেই বাবাকে সাথে কাজে সাহায্য করছেন তিনি। জে.এন.ইউ তে ভর্তির পর তিনি যখনই ছুটিতে বাড়ি যেতেন, ফুলের মালা তৈরি করতেন। গত দুই বছর ধরে, মহামারীর আঘাতে তার বাবার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে তারা সবাই এই কাজ করতেন। চোখ খোলার পর থেকে সে শুধু ফুল দেখেছে। তাই ফুলের মালা তৈরিই তার ভরসা, যেখানে একদিকে ছিল সংগ্রাম, অন্যদিকে ছিল আশা। সমস্যা ছিল এবং কঠোর পরিশ্রম করার আবেগও ছিল। 

দারিদ্র্য কে হেলায় হারিয়ে সরিতার এই সাফল্যের কাহিনী এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। সহপাঠী ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণা।

জাদুঘরের জাদু ইতিহাসে নজর

আজ ১৮ মে, বিশ্ব সংগ্রহশালা দিবস। আজকের দিনে একটু ঘুরে দেখা যাক এশিয়া ও ভারতের প্রথম বৃহত্তম সংগ্রহশালা কলকাতায় অবস্থিত ভারতীয় জাদুঘরে।

কলকাতায় অবস্থিত ভারতীয় জাদুঘর

কলকাতায় অবস্থিত ভারতীয় জাদুঘর আধুনিক ভারতের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম জাদুঘর ।এছাড়াও গোটা এশিয়া – প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেরই প্রথম জাদুঘর এটি। জাদুঘর যেমন ইতিহাস সংরক্ষণ করে রাখে , তেমনই জাদুঘরেরও তো একটা ইতিহাস থাকে ।

ভারতীয় জাদুঘরের ইতিহাস সেই উইলিয়াম জোন্সের আমলে শুরু । প্রাচ্য ইতিহাস চর্চার উদ্দেশ্যে উইলিয়াম জোন্স তৈরি করলেন এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল ১৭৮৪ সালে। তখন এশিয়াটিক সোসাইটির দপ্তর ছিল ফোর্ট উইলিয়ামে । সোসাইটির সদস্যরা একটা সময়ে বুঝতে পারলেন , তাঁদের গবেষণার প্রয়োজনেই পুরোনো দিনের মানুষের ব্যবহার করা জিনিসপত্রকে সংরক্ষণ করা দরকার । তার সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক জগৎ নিয়ে পড়াশোনা চালাতে গেলে নানা ধরনের জীব ও জড় পদার্থের নমুনাও রাখা উচিত সংগ্রহে । সেখান থেকেই ১৭৯৬ সালে একটি জাদুঘর বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল ।

১৮০৮ সালে ব্রিটিশ সরকার চৌরঙ্গী অঞ্চলে এশিয়াটিক সোসাইটিকে জমি দেয় মিউজিয়াম তৈরির জন্য । সে বছরই পার্ক স্ট্রিটের একটা বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এশিয়াটিক সোসাইটিকে । ১৮৯৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে যাত্রা শুরু ওরিয়েন্টাল মিউজিয়াম অফ এশিয়াটিক সোসাইটির । পরবর্তীকালে নাম পাল্টে হয় ইম্পিরিয়াল মিউজিয়াম ।

হাতির দাঁতের নির্মিত দুর্গা মূর্তি

ভারতীয় জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে প্রখ্যাত বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ ইন্ডিয়ান মিউজিয়ম ‘ শীর্ষক প্রবন্ধে লেখেন , “বিগত 3 রা ৪ ঠা মাঘ কলিকাতা মিউজিয়ামের শতবার্ষিক উৎসব শেষ হইয়া গিয়াছে । এক শত বৎসর পূর্বে — ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে এই মিউজিয়াম স্থাপিত হইয়াছিল । ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে স্যর উইলিয়াম জোন্স ‘ এশিয়াটিক সোসাইটি ‘ নামক সভা স্থাপন করিয়াছিলেন , এবং তাহার ত্রিশ বৎসর পরে এশিয়াটিক সোসাইটির চেষ্টায় সভাগৃহে ভারতবর্ষের , এমন কি সমগ্র এশিয়া খণ্ডের , প্রথম মিউজিয়াম স্থাপিত হইয়াছিল । এশিয়াটিক সোসাইটি স্থাপনের পর হইতে উক্ত সভার সদস্যগণ সময়ে সময়ে যথাসম্ভব জীব – জন্তুর মৃতদেহ , ভূগর্ভে প্রাপ্ত জীবাশ্ম এবং প্রত্নতত্ত্ব – সংক্রান্ত দ্রব্যাদি উপহার প্রদান করিতেন । সর্ব প্রথমে প্রাচীন সুপ্রিমকোর্টের গৃহে এশিয়াটিক সোসাইটির অধিবেশন হইত এবং উপহারপ্রাপ্ত দ্রব্যাদি সেই গৃহেই রক্ষিত হইত । স্যর উইলিয়াম জোন্স যতদিন ভারতবর্ষে ছিলেন , ততদিন এশিয়াটিক সোসাইটির জন্য স্বতন্ত্র গৃহ নির্মাণের কোন চেষ্টাই হয় নাই । কিন্তু , ১৭৯৬ সালে সুপ্রিমকোর্টের গৃহে সভার অধিবেশন অসম্ভব হওয়ায় , নূতন গৃহনির্মাণের চেষ্টা আরম্ভ হয় । সদস্যগণের অর্থ – সাহায্যে ‘ চৌরঙ্গী ও পা র্কস্ট্রিটের ‘ সংযোগস্থলে নূতন – গৃহ নির্মিত হয় , এবং এশিয়াটিক সোসাইটির দ্রব্যাদি ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে সুপ্রিমকোর্ট ভবন হইতে নূতন – গৃহে আনয়ন করা হয় । সুপ্রিমকোর্ট – ভবনই বর্তমান সময়ে কলিকাতা মিউজিয়ামের সুপারিন্টেন্ডেন্টের বাস – গৃহে পরিণত হইয়াছে।”

ভিক্টোরিয়ান রীতিতে নির্মিত প্রাচীন ভবন
গান্ধার রীতিতে নির্মিত বুদ্ধমূর্তি

এদিকে শ্রীরামপুর যুদ্ধের সময়ে বন্দি করা হয়েছিল ডেনমার্কের উদ্ভিদবিদ ড . নাথানিয়েল ওয়ালিচকে । বন্দী দশায় তিনি স্বপ্ন দেখতেন একটি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার । পরে তার বৈজ্ঞানিক মেধার কথা বিবেচনা করে তাকে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিল সরকার । সুযোগ পেয়ে তার মনোবাসনা জানিয়ে তিনি একটি চিঠি লিখলেন এশিয়াটিক সোসাইটির কর্তৃপক্ষের কাছে একটি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানিয়ে । জানালেন , তিনি মিউজিয়ামের সেবা করবেন অবৈতনিক কিউরেটর হিসেবে এবং তার সঙ্গে দান করে দেবেন তাঁর সংগ্রহে থাকা দুষ্প্রাপ্য গাছগাছড়াগুলো । তার অনুরোধের যথার্থতা অনুধাবন করে তখন প্রাচ্য জাদুঘরের প্রথম সাম্মানিক কিউরেটর নিযুক্ত করা হলো তাকেই ।

তখন এশিয়াটিক সোসাইটির দোতলায় ছিল লাইব্রেরি আর মিউজিয়াম গড়ে উঠেছিল একতলাতে । ১৮৬৬ সালে প্রথম ভারতীয় জাদুঘর আইন পাশ হয় এ দেশে। এখন যে ভিক্টোরিয়ান প্রাসাদটিতে ভারতীয় জাদুঘর অবস্থিত তার ভিত্তি স্থাপন করা হয় ১৮৬৭ সালে আর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৮৭৫ সালে । স্থপতি ছিলেন ডব্লিউ.এল গ্ল্যানভিল এবং পরামর্শদাতা ছিলেন স্যার টমাস হল্যান্ড । চৌরঙ্গী রোডের উপর সবুজ মাঠের পাশে এই প্রাসাদ ১৮৭৮ সালে ১ লা এপ্রিল উন্মুক্ত করা হয় সাধারণ দর্শকদের জন্য । ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এই জাদুঘর এখন রয়েছে ভারত সরকারের সংস্কৃতি দপ্তরের অধীনে ।

১৮৭৫ সালে ১,৪০,০০০ টাকা খরচ করে এই নতুন বাড়ি তৈরি হয় । ১৮৭৯ সালে সাউথ কেনসিংটনের ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের সংগ্রহের একাংশ এই জাদুঘরে আসে । ১৯১৬ সালে জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অনুদানে জাদুঘরে প্রাণীতত্ব এবং ১৯৪৫ সালে অ্যানথ্রোপোজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অনুদানে নৃতাত্ত্বিক বিভাগ চালু হয় ।

প্রায় আট হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ জাদুঘরে শিল্পকলা ও প্রকৃতির বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য সংগ্রহ শিল্পকলা , প্রত্নতত্ত্ব , নৃতত্ত্ব , ভূতত্ত্ব , প্রাণীবিদ্যা , উদ্ভিদ বিদ্যা এ ছয়টি ভাগে বিভিন্ন গ্যালারিতে সুসজ্জিত রয়েছে । শুধু প্রাকৃতিক ইতিহাসের জন্যই রয়েছে চারটি গ্যালারি যেখানে রয়েছে বন্য উদ্ভিদ পোকামাকড় স্তন্যপায়ী এবং পাখি । এই জাদুঘরে প্রায় দশ লক্ষ সামগ্রী সংরক্ষিত আছে।

বোধিসত্ত্ব

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে প্রাক ও আদি ঐতিহাসিক নিদর্শন , মৌর্য, শুঙ্গ , সাতবাহন , গান্ধার , কুষাণ , গুপ্ত , পাল – সেন , চান্দেল , হোয়সল ও চোল যুগীয় শিল্পের গ্যালারিগুলির পাশাপাশি অন্যান্য বহুযুগের প্রাচীন নিদর্শনের সংগ্রহও রয়েছে । মধ্যপ্রদেশের ভারত থেকে প্রাপ্ত সাঁচি স্তুপ ও তার তোরণ এবং রেলিংয়ের রেপ্লিকা, একটি অশোকস্তম্ভ , বেশ কয়েকটি যক্ষের মূর্তি হাতির দাঁতের তৈরি নানান ধরনের মূর্তি একটি বিশেষ প্যালারিতে রয়েছে মিশরীয় প্রাচীন নিদর্শনের একটি সংগ্রহ , যেখানে প্রধান আকর্ষণ হল চার হাজার বছরের মিশর থেকে আনা প্রাচীন একটি মমি । এছাড়াও রয়েছে মিশর থেকে নিয়ে আসা একটি স্ফীঙস মূর্তি । এ ছাড়াও রয়েছে সংস্কৃত , প্রাকৃত , আরবি , ফার্সি , উর্দু ও বাংলা ভাষায় প্রচুর শিলালিপি , পাণ্ডুলিপি ও সিলমোহর ।

রাজপুত অস্ত্র

ভারতীয় প্রাচীন , মধ্যযুগীয় ও আধুনিককালের মুদ্রার সংগ্রহ কয়েকটি গ্যালারিতে প্রদর্শনমান । শিল্পকলা বিভাগে ভারতীয় চিত্রকলা , বস্ত্রশিল্প ও অলংকরণ সামগ্রীর পাশাপাশি নেপাল , তিববত , চীন , জাপান , থাইল্যান্ড , কম্বোডিয়া , ইন্দোনেশিয়া , মায়ানমার , শ্রীলংকা এবং ইরানের শিল্পসামগ্রীও প্রদর্শিত হচ্ছে । মুঘল যুগের চিত্রকলা বস্ত্র সহ নানা নিদর্শন রয়েছে এখানে ।

দুর্গা মূর্তি

নৃবিজ্ঞান শাখায় প্রত্ন – নৃতত্ত্ব ও সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্বের বিভাগ এবং সাথেই রয়েছে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে সজ্জিত একটি গ্যালারি , অসংখ্য ভূতাত্ত্বিক জীবাশ্ম । জুওলোজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া , জিওলোজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া ও বোটনিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া কর্তৃক পরিচালিত বিজ্ঞান শাখার অনেকগুলি গ্যালারি রয়েছে ।

প্রাগৈতিহাসিক সুবৃহৎ হাতির দাঁত

এই সংগ্রহালয় প্রসঙ্গে আচার্য্য যদুনাথ সরকার একবার ভাষণে বলেছিলেন , কলকাতায় অবস্থিত ভারতীয় সংগ্রহালয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পত্তি । ভারত সরকার তা একদিনের নোটিশে দিল্লীতে স্থানান্তরিত করতে পারে । কিন্তু ” বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ” ও ” বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর ” বাংলার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান । এদের কেউ বাংলা থেকে স্থানান্তরিত করতে পারবে না । তাই বঙ্গবাসীরা যেন এর সংগ্রহের জন্য প্রত্ন ও শিল্প দ্রব্যাদি দান করেন । আচার্য্যের এই কথা আংশিক ভাবে সত্য । কারণ দিল্লীতে জাতীয় সংগ্ৰহালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ভারতীয় সংগ্রহালয় থেকে সিন্ধু সভ্যতার মূল্যবান নিদর্শনসমূহ সেখানে স্থানান্তরিত করা হয় ।ভারতীয় মিউজিয়ামে বর্তমানে রয়েছে সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন স্বরূপ দুটি মানুষের কঙ্কালের মাথা ( একটি চার ও অন্যটি সাড়ে চার হাজার বছরের পুরনো ) । যদিও এক সময় এখানে সিন্ধু সভ্যতার অনেক নিদর্শন ছিল । এখন আর নেই । তবুও ভারতীয় সংগ্রহালয় নিজের অবস্থানেই রয়েছে । একে স্থানান্তরের কোনো সম্ভাবনা নেই । এখনো এই সংগ্রহালয়ের সংগ্রহে যা আছে , তা ভারতের আর কোনো সংগ্রহালয়ে নেই । ভারতের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বাঙালী শিল্পী সুরজিৎ দাসের হাতে গড়া ডাইনোসরের মডেল , বিখ্যাত ভারহুত স্তূপের অবশেষ , প্রাচীন মুদ্রার মূল্যবান সংগ্রহ , বৌদ্ধ মূর্তির বিবর্তন , অশোক স্তম্ভের স্তম্ভশীর্ষ , অসংখ্য খোদিত শিলালিপি , গান্ধার ও মথুরা শিল্পের অনন্য কিছু নিদর্শন , আর সেই বিখ্যাত মিশরীয় মমি ।

প্রাণিবিদ্যার গ্যালারিগুলিতে কীটপতঙ্গ , মাছ , উভচর প্রাণী , সরীসৃপ প্রাণী , পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণী প্রদর্শিত হচ্ছে । রয়েছে একটি ঘূর্ণায়মান ডিএনএ এর রেপ্লিকা ।উদ্ভিদ শাখায় ভেষজ গাছগাছড়া , উদ্ভিজ্জ তন্ত্র , রাক উদ্ভিদ , আঠা ও রেসিন , দারু , তেল ও তৈলবীজের সংগ্রহ রয়েছে । বিভিন্ন আঞ্চলিক জলবায়ুতে বেড়ে ওঠা উদ্ভিদ ও প্রাণীর সংগ্রহ। প্রাগৈতিহাসিক হাতির সুবৃহৎ দাঁত ,ডাইনোসর ,হরিণ, বাইসনের কঙ্কাল।

বিষ্ণু মূর্তি

ভূতত্ত্ব বিভাগের সংগ্রহ পাঁচ ভাগে বিভক্ত : সিওয়ালিক জীবাশ্ম , ভূপৃষ্ঠ ও উল্কাপিন্ড , প্রস্তর ও খনিজ , অমেরুদন্ডী ও মেরুদন্ডী প্রাণীর জীবাশ্ম । বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবাশ্ম, একটি উল্কাপিণ্ড এখানে রয়েছে ।

বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ

সময়ের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট বিভাপগুলিতে প্রাচীন ও পুষ্প্রাপ্য সংগ্রহের তালিকা দীর্ঘতর হয়েছে যা ভারতীয় জাদুঘরকে পৃথিবী বিখ্যাত করে তুলেছে । যদিও এক সময় এখানে সিন্ধু সভ্যতার অনেক নিদর্শন ছিল । এখন আর নেই।তবুও ভারতীয় সংগ্রহালয় নিজের অবস্থানেই রয়েছে । এখনো এই সংগ্রহালয়ের সংগ্রহে যা আছে , তা ভারতের আর কোনো সংগ্রহালয়ে নেই । ভারতের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বাঙালী শিল্পী সুরজিৎ দাসের হাতে গড়া ডাইনোসরের মডেল , বিখ্যাত ভারহুত স্তূপের অবশেষ , প্রাচীন মুদ্রার মূল্যবান সংগ্রহ , বৌদ্ধ মূর্তির বিবর্তন , অশোক স্তম্ভের স্তম্ভশীর্ষ , অসংখ্য খোদিত শিলালিপি , গান্ধার ও মথুরা শিল্পের অনন্য কিছু নিদর্শন , আর সেই বিখ্যাত মিশরীয় মমি নিয়ে সুপ্রাচীন ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যের বিশাল বাড়িতে তার নিজস্ব ঐতিহ্য অবিচল রয়েছে ভারতের বৃহত্তম প্রাচীনতম জাদুঘর।

সাঁওতালি কন্যার দাদা সাহেব ফালকে

বয়স মাত্র ২২। ‌পরিচয় অভিনেত্রী এবং গায়িকা। সাঁওতালি এই শিল্পীকে ঘিরেই বর্তমানে নানা কৌতূহল নেটপাড়ার বাসিন্দাদের। তিনি ডগর টুডু।

রায়গঞ্জের দক্ষিণ সোহারই গ্রামের পরিবেশ ও জাতীয় সড়কের পাশে থাকা একটি অনাথ আশ্রমের প্রেক্ষাপটে তৈরি করা হয়েছিল সাঁওতালি চলচ্চিত্র ‘আশা’।

সেই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ডগর। যে অভিনয় নজর কাড়ে গুণীজনের। দ্বাদশ দাদাসাহেব ফালকে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২২-এ শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কারও পেয়েছেন ডগর টুডু। যদিও এই পুরস্কারের সঙ্গে কেন্দ্রের দেওয়া ‘দাদা সাহেব ফালকে’ পুরস্কারের সম্পর্ক নেই।

আশা’-র প্রেক্ষাপট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক আদিবাসী কন্যার জীবনযুদ্ধের লড়াই। সেই চরিত্রটিকে আপন দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন ডগর। ছবিটির শুটিং হয়েছিল সোহারই গ্রামে।

ডগরের জন্ম ১৮ মে ১৯৯৮। পুরুলিয়ার মানবাজার-১ ব্লকের বাসিন্দা ডগরের আসল নাম ডগরমুনি টুডু।

গত ২৯ এপ্রিল ২৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল ‘আশা’। সেখানে ডগরের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হন অনেকে।শুধু চলচ্চিত্রে অভিনয়ই নয়, সাঁওতালি গানও করেন ডগর। তাঁর বহু মিউজিক ভিডিয়ো জনপ্রিয় হয়েছে।

বর্তমানে সাঁওতালি ভাষার বহু ছবি এবং গানের ভিডিয়োয় কাজ করছেন ডগর।

বিনোদন জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠার পাশে পড়াশোনা অবহেলা করেননি ডগর। বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাঁওতালি ভাষায় স্নাতকোত্তর সম্পূর্ণ করেছেন।

জাদুঘরের জাদু ইতিহাসে নজর

সব ধরনের পোশাকে স্বচ্ছন্দ হলেও ডগরের সব চেয়ে প্রিয় ঐতিহ্যবাহী সাঁওতালি পোশাক।


পোশাক নিয়ে নিজেই বলেছেন, ‘‘আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক যে কোনও ধরনের পরিস্থিতিতেই পরা যায়। নিজে এই পোশাকেই সব চেয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করি। মনোবল বেড়ে যায়।’’

শুধু এ দেশের সাঁওতালি সমাজেই নয়, কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশেও তাঁর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি বারকোনা গ্রামের বাহা উৎসবেও সঙ্গীত পরিবেশন করে এসেছেন ডগর।

শুধু সিনেমা বা গান করাই নয়, ডগর এক জন ইউটিউবারও। সেখানেও তাঁর লক্ষ্য সাঁওতালি সমাজ। সমাজসেবামূলক বহু প্রকল্পে কাজ করেছেন তিনি। লকডাউন পর্বে দরিদ্র সাঁওতাল পরিবারকে দু’বেলা, দু’মুঠো তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করেছেন।

শুধু সিনেমা বা গান করাই নয়, ডগর এক জন ইউটিউবারও। সেখানেও তাঁর লক্ষ্য সাঁওতালি সমাজ। সমাজসেবামূলক বহু প্রকল্পে কাজ করেছেন তিনি। লকডাউন পর্বে দরিদ্র সাঁওতাল পরিবারকে দু’বেলা, দু’মুঠো তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করেছেন।

Childhood education of nobel laureate

This year, 161 years birth anniversary of first Nobel laureate in South East Asia Rabindranath Tagore . Let us know about today’s episode of Robi even early childhood education and became a teacher. Ten-year-old teacher who was a student of Ravi?

Rabindranath Tagore is quite interesting introduction to go to school. One day, his grandfather and his barabhagne true to go to school, he would go to school with them Adds tears. But that was not the age to go to his school. However, studies mohei only wanted his school journey, not that. Before that, he was never out of the house or in the car careni. And this is his nephew, a boy going to school on the road, traveling Robi tell the story was an exaggeration. After school Robi cry flights.

But the school is home to the containment of severe iccheke capetaghate teacher. The teacher told him, “Now do not you weep, to go to school, such as it will be much more than the bunch” However, autobiographical memoir in the book of Rabindranath could not remember the teacher’s identity.

Last Birthday celebration in 1941

Once upon a time Robbie was admitted to Oriental Seminary. There was a surprising punishment for not being able to read again. The illiterate boy was made to stand on a bench and many slates of the class were pressed together on his two outstretched arms.

In their childhood, there was no arrangement for luxury. They were all under the control of servants. There was also an obstacle during the meeting with the parents. Their attire was so modest that it may be a cause of disgrace in modern times.

Rabindranath never wore socks before he was 10 years old. In winter, a white coat and a white coat were enough. Nomat Khalifa was the tailor of their house. He did not usually make pockets for children’s clothes. The boy Robi was very sad because all the property of the children was in his shirt pocket. So Robi used to go to Noamat Khalifa to pocket his clothes.

There was a servant named Shyam to take care of Robi in Thakurbari. He would place Robi in a certain place in the house, cut the boundary with chalk around him, and raise his index finger in a frightening voice, warning Robbie that there would be great danger if he went beyond that boundary. Earlier in the Ramayana, Ravi had read about the danger that Sita faced due to crossing the boundaries. As a result, Ravi could not blow away the boundaries drawn by Shyam like a mere unbeliever.

Father of Rabindranath, Debendranath Tagore often went on trips to different places. . In that gap, the boy Robi would open the blinds and open the door by pulling the latch with his hand. Another attraction of that house was that the town had just had a water tap. He also entered the bath room of that tetala. In the absence of his father, the boy Robi would open the door of the closet, bathe happily, wipe his body with the bed sheet and sit quietly on the sofa. He called himself a child livingstone after discovering the museum as an oasis in the scorching sun on the roof of the Thakurbari.

Tagore family of Jorasanko were maghotsaba. Wooden pillars planted in the four corners of the courtyard were hanging over the jharalanthana thama hole that was stuck. Robi was the special attraction of these pits in the ground. Because she felt, no one under the ground to see tunnel match any prince.

But one man was equal Excavated her imagination would have been disappointed to not see anything resembling the full .

In his autobiography ‘jibanasmrti’ on one of the man as he mentioned the name of Rabindranath Tagore.Before came at jorasanko he was a Guru of a Village school. He was very serious and well-mannered man. He was quite funny swim method. The pool swim three to four hands at the bottom of the pot to collect water and then the water dhalato head. Sometimes the surface of the water from a pond with two hands would suddenly dive at a time.

Balcony on the second floor of a house in the ponds cestathakura evading the balcony railing and into the corner of Tagore arranged for his students opened the school. Ravi took a stick parata the railing. Which of these good and bad, he had the right. Relina so bad that they would continue to stick home. The railings are made of any kind of punishment to be heard, it would have been thought up .

There was a incident at the Narmal school . At the end of the school year, when the annual test, Rabindra nath got the highest score in Bengali Language than all other students of his class. Madhusudan Vachaspati was the teacher , who is extremely affectionate to Rabi. . But other teachers of school had complained to the authorities that the examiner or bias towards Robi said. As a result, the test is taken. The superintendent himself seated next to Robi. But this time Rabindra nath first again.

Normal school teacher Mr. Nilkamal Ghoshal used to come to Thakurbari to teach Robi and his other brothers. Education was conducted from 8 am to 9.30 am. Robi’s elder brother Jotyirindra nath had a special interest in teaching various subjects to Robi and his other brothers. When it was dark in the morning, he had to wake up, fall down and wrestle with a blind wrestler. Then one had to take a taste of physics, geometry, mathematics, history, geography, Meghnadabadh poetry by wearing clothes on that mud-covered body. As soon as he returned home from school, the master of drawing and gymnastics would come and appear. Aghor Babu used to come in the evening to teach English. In this way, after studying all day, Robi would have a holiday at night, like that day.

🔆 Refarence : the autobiography of Rabindra nath Tagore ‘ Jibansmriti’.

In the way of Satyajit Ray

“Talent is rare in all countries” . This year marks the 100th anniversary of his birth, whose place in the world film world is forever beyond the borders of the country. He is great Bengalee flim maker and writer SATYAJIT RAY.

The creator dies, the creation does not die. Through His creation the Creator lives forever . Satyajit Ray once said, “Talent is rare in all countries.”

Possessing that rare talent himself. This proverbial creator is an institution in itself. In addition to the film, he was an unforgettable celebrity in a multifaceted subject. It can be said that ‘Satyajit Ray’ is a bright chapter and proud name in Indian cultural history.

Satyajit Ray, 22 years old

In Bengali, a talented producer like Satyajit Ray has never come before, and there are doubts whether he will come in the future or not. People who love and cherish the film with all their heart can be seen in Kalevedra. Not only is he a filmmaker, he is also known as a screenwriter, art director, music director and writer. He is one of the few people who have made Bengali film famous in the world. Today, Steven Spielberg, James Cameron, Martin Scorsese, Quentin Tarantino, Woody Allen, George Lucas, Francis Ford Capola will be at the top of the list. But even in the last century, if one were asked the names of a few famous filmmakers in the film industry, the name of a Bengali filmmaker would undoubtedly be mentioned in the mouths of many. He is such a shining star who has taken Bengali film and even the film of the entire subcontinent to a different level.

In 2004, he was ranked 13th on the BBC’s list of the greatest Bengalis of all time. The legendary man is Satyajit Ray.

Satyajit Roy was born on 2 May ,1921 in Calcutta (now in kolkata , india) to a renowned Roy family in the literary and art society. His father Sukumar Roy and grandfather Upendrakishore Roy Chowdhury were both shining stars of Bengali literature. Their ancestral home was in Masua village of Katiadi police station in Kishoreganj district of present day Bangladesh. Despite being born into such a rich family, Satyajit Ray’s childhood was not a happy one. He lost his father when he was only three years old. Mother Supravha Devi raised him with great difficulty.

Ray grew up studying economics at Presidency College, Calcutta. Although he always had a weakness for fine arts. In 1940, under the direction of his mother, he was admitted to the Visva-Bharati University established by Rabindranath Tagore at Santiniketan. According to the rules, he was supposed to study Visva-Bharati for five years, but before that he left Santiniketan and moved to Calcutta in 1943,

In this year he joined the British advertising agency DJ Kimer as a “junior visualizer” for only 60 rupees. Painting or visual design was one of Ray’s favorite subjects and he was quite respected in the company. However, there were tensions between the company’s English and Indian employees due to a number of discriminatory reasons. In 1946, Ray, along with Chidananda Dasgupta and others, founded the Calcutta Film Society. Being a member of the society, he got the opportunity to watch some foreign films. During World War II, he befriended US troops stationed in Calcutta. He would take news of new American films coming to town from them. During this time he came in contact with Norman Claire, a Royal Air Force employee who, like him, loved movies, chess, and Western classical music.

In 1949, Ray married his distant sister and longtime girlfriend Vijaya Das. The son of the Ray couple, Sandeep Roy was born, who himself is now a renowned film director. In 1950, DJ Kimer sent Ray to work at their headquarters in London. During his three months in London, Ray watched about 99 films. Among them was the Italian neo-realist painting Ladri Di Biciclette (Italian: Ladri Di Biciclette, “Bicycle Thief”). Ray later said that after watching the film, he decided to become a filmmaker as soon as he left the cinema hall.

In 1952, he started making famous film Pather Panchali. Due to lack of funds, the production of this film was progressing slowly at that time. The film was completed in 1955 and was released that year. Shortly after its release, the film was critically acclaimed by the audience and won many awards. The film became very popular all over India and even outside India. Pather Panchali won a total of 11 international awards, including the Best Human Document at the Cannes Film Festival. His next two films ‘Aparajit’, ‘Apur Sansar’ and ‘Pather Panchali’ – these three films together are known as ‘Apu Trilogy’. The success of ‘Aparajit’ made Satyajit Ray more known in the international arena. The film also won the Golden Lion Award in Venice. Ray made two more films before finishing the Apu trilogy. The first of these was a humorous film called ‘Parashpathar’. The next was the ‘Jalsaghar’ built on the decline of the zamindari system. Apart from this, Satyajit Ray’s films on various social issues are ‘Devi’ (1960), ‘Tin Kanya’ (1981) and ‘Abhiyan’ (1982).

Oscar and Satyajit Ray

In 1972, Ray made the first original color film based on the original screenplay, Kanchenjunga. He made this complex and musical film based on the story of an afternoon spent with an affluent family in a hilly area of Darjeeling.

In 1974, Ray created ‘Charulata’. Which was a successful picture of his career. The film is based on Rabindranath Tagore’s short story ‘Nastaneer’ and tells the story of his feelings towards a lonely 19th century Bengali bride Charu and Thakurpo Amal in real life. His notable works include Nayak (1976), Pratidwandbi (1960), Seemadbaddha (1971) and Jan Aranya (1985).

Apart from Bengali films, Satyajit Ray made a Hindi film in 1986 called ‘Shataranj Ki Khiladi’ based on Hindi and Urdu dialogues. This was Satyajit Ray’s first film made in a language other than Bengali. Not only that, ‘Shataranj Ki Khiladi’ is the most expensive and star-studded film made by Satyajit Ray. The film stars Sanjeev Kumar, Saeed Jafri, Amjad Khan, Shabana Azmi, Victor Banerjee and Richard Attenborough. Later, Satyajit made a one-hour film in Hindi called ‘Sadagati’ based on Premchand’s story.

Satyajit Ray suffered a heart attack in 1983 while working on a film. Then the speed of his work slowed down. Due to the deteriorating health of his son Sandeep Roy, Satyajit Ray completed the production of the film ‘Ghare Baire’ in 1974. In 1967, Ray made a documentary about his father Sukumar Roy. His last three films relied on much more dialogue than the earlier films. The films are ‘Ganashatru’ (1989), ‘Shakhaprashakha’ (1990) and ‘Agantuk’ (1991).

Japanese film director Akira Kurosawa once said while evaluating filmmaker Ray – ‘It is the same thing not to see Sri raya’s picture and to survive without seeing the moon and sun on earth. The breadth and depth of Ray’s 37 films (29 full-length films, 5 documentaries and 2 short films) as a director in his thirty-seven-year career undoubtedly demands a separate and thorough analytical discussion. Whether in need of photography or as an independent artist – his free and skillful movement in various fields of fine arts like decoration, costume and graphic designing, screenwriting and literary composition, editing or composition, his unique and successful identity as a worthy successor of the Roy Chowdhury / Roy family, Even on the day of his birth centenary, his presence has made Ray equally relevant and equally modern. Robin Wood, an English film critic, thinks that any scene in Ray’s film can be written as a whole article with a small moment. Although it is not possible to adequately analyze all the pictures of Ray in the long run, the main theme of his creation from the very beginning is that it echoes the ‘vastness and serenity of flowing river’ in the tune of ‘keen observation of human life, calm yet deep sense of life and human love’ (first picture ‘Pather Panchali’). Kurosawa in the context), his resh match in the statement of Oscar honors received at the end of life.

The narrative of Satyajit’s film is more interested in bringing to the screen the unseen, neglected emotions-aspirations-consciousness instincts behind the events instead of the sequence of events. Perhaps that is why the main characters of Satyajit’s films, despite being Bengali, and the language of all the other films except two, being Bengali, are not limited to cultural, linguistic, historical regionalism.

He has one place not only in the minds of Bengalis but also in the minds of the whole world. His name will come first among the popular film directors of the world. The journey from ‘Pather Panchali’ to ‘Gupi Gain Bagha Bain’ to ‘Aguntuk’ was no less difficult. Not only is he a filmmaker, he is also known as a screenwriter, art director, music director and writer. He is one of the few people who have made Bengali film famous in the world.

He is known as a film director, producer, screenwriter, writer, music director and lyricist. Besides, there is no need to tell the Bengalis about the book written by him. His literary value was no less than that of any of his contemporaries. On the contrary, in some cases, Ray has surpassed his contemporaries. Ray’s immortal creation ‘Feluda’ has been carrying the signature of his creativity from age to age. He has won many national and international awards in his colorful career. He is the second film personality to be awarded an honorary doctorate by Oxford University authorities.

Satyajit Roy,Bijaya Ray and their son Sandip Roy

In 1987, the French government awarded Ray the Legion of Honor. In 1975, he was awarded the Dadasaheb Phalke, India’s highest film award. Shortly before his death in 1992, he was awarded the Lifetime Achievement Award by the Academy of Motion Picture Arts and Sciences.In 1992, Shortly before his death, the Government of India awarded him the Bharat Ratna. After his death, he was posthumously awarded the Akira Kurosawa Prize. He got padma shri in 1958 and padma Bhushan in 1965 by indian government.

Death is a very natural thing. Death is inevitable if born. Yet some deaths are painful, hard to accept. People cry at the death of legends. One such legend is Satyajit Ray. The whole city and the whole country became speechless due to his great love. At his funeral, thousands of people sang: ‘Maharaja, salutations to you! Legendary filmmaker Satyajit Ray left for the land of no return on April 23, 1992. And leave his outstanding creations for the rest of the world. His films, literature, paintings – Bengali literature and culture are forever indebted to him for everything. Through his death, an infinite void has been created in both the field of film and literature. Today, even after so many years, that void has not been completely filled. He lives in His creation. Before his death, the director received the biggest award in the film world. However, no matter how new the world of Bengali film is, it is not possible to walk one step ignoring Satyajit Ray. His birthday always carries a different meaning for Bengalis.

★ References: – Anandabazar Patrika, Bengali News18.com, Jugantar, NTVBD.com and other sources.

বঙ্গদেশের রঙ্গমঞ্চ

তারপর হঠাৎ শুনলাম , ছবি কথা কইছে । টকিতে গেলুম। কিন্তু মানুষ কয় বলে তো মনে হলো না, এই যেমন আমরা কথা কই।

ভারতের প্রথম সিনেমা প্রদর্শিত হয় লুমিমের ব্রাদার্স এর দ্বারা ফ্রান্সে প্রথম সিনেমা প্রদর্শনের মাত্র ছয় মাস পরে ১৮৯৬ সালের ডিসেম্বর মাসে। সেই সময়ই কলকাতাতেও চলে গেল সিনেমা । প্রথমদিকে বিদেশি কোম্পানির হাত ধরে বাংলায় এল বায়োস্কোপ’ । তবে সিনেমার জন্ম লগ্ন থেকেই বাঙালি যুক্ত হয়েছে এর সঙ্গে।

প্রথম মুভি ক্যামেরা

জাদুঘরের জাদু ইতিহাসে নজর

হীরালাল সেন

১৮৯৮ সালে হীরালাল সেন এবং তার ভাই মতিলাল সেন তৈরি করলেন রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানি । ১৯০২ সালে কলকাতায় প্রথম মুভি ক্যামেরা এল । সেই সময়কার বিভিন্ন জনপ্রিয় নাটক যেমন আলিবাবা, সরলা, সীতারাম, ভ্রমর থেকে বিভিন্ন ছোট ছোট দৃশ্য নিয়ে তারা ছায়াছবি তৈরি করলেন। কিন্তু ১৯১৩ সাল নাগাদ দুই ভাইয়ের মধ্যে বিবাদের জেরে রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়।

জে এফ ম্যাডান

সেই অর্থে বাণিজ্যিকভাবে বাংলা সিনেমা দেখানো শুরু হয় জে এফ ম্যাডান নামে এক ব্যবসায়ীর উদ্যোগে । ১৯০৪ সালে তিনি তৈরি করলেন ম্যাডান থিয়েটার লিমিটেড । প্রথমে তারা ইংরেজি ছবি দেখালেও ১৯১৩ সাল থেকে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় সিনেমা দেখানো শুরু করে। এভাবেই ১৯১৯ সালে ম্যাডান কোম্পানির প্রযোজনায় প্রথম বাংলা কাহিনীচিত্র ‘বিল্বমঙ্গল’ তৈরি হয় । এরপর একে একে বিষবৃক্ষ, প্রফুল্ল ,শিবরাত্রি ,জনা, নল দময়ন্তী ,মহাভারত, নৌকাডুবি, ইন্দিরা সহ মোট ৬২ টি ছবি ম্যাডান প্রযোজনা করে।

ম্যাডান থিয়েটার , কলকাতা

প্রথম বাংলা সবাক সিনেমার জন্মও ম্যাডানে র হাত ধরে। ১৯৩১ সালের ১১ ই এপ্রিল প্রথম বাংলা সবাক সিনেমা ‘জামাই ষষ্ঠী’ মুক্তি পায়। তবে সিনেমার চরিত্র গুলোর কথা বলা বিষয়টি সাধারণ মানুষের চোখে যথেষ্ট আশ্চর্যের ছিল। এ বিষয়ে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন , “—পর্দার উপর ছবি নড়তে-চড়তে লাগলো, আশ্চর্য। সিনেমা আমি দেখেছি ,অনেকদিন ধরে দেখেছি । … সিনেমায় গিয়ে বসে থাকতুম– তাদের নড়াচড়া দেখে ভাব বুঝতুম। যেমন রাস্তায় কত লোক চলে যায় , কেউ হাত দুলিয়ে যায় , কেউ পা নাড়িয়ে যায় , কারোর সঙ্গে কথা নেই, মনের যোগ নেই , তবু তাদের হাত-পা নাড়া দেখে তাদের মনের ভাব বুঝি। হঠাৎ শুনলাম ছবি কথা কইছে । … টকি তে গেলুম। কিন্তু মানুষ কয় বলে তো মনে হলো না, এই যেমন আমরা কথা কই । মনে হল, যেন তাদের হয়ে আর কেউ কথা কইছে ,গ্রামাফোন বা অন্য কিছু।”

সবাক সিনেমা সম্পর্কে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ ধরনের উক্তি থেকে বোঝা যায় সিনেমায় ছবি ও শব্দের সামঞ্জস্য তখনও যথেষ্ঠ স্বাভাবিক হয়নি। সিনেমাকে আরো স্বাভাবিক প্রাণবন্ত এবং জীবনের কাছাকাছি আনার কাজটা শুরু করেছিলেন বিদেশ থেকে লেখাপড়া শিখে আসা ইঞ্জিনিয়ার বীরেন্দ্রনাথ সরকার ও তার নিউ থিয়েটার্স কোম্পানি । আমেরিকা থেকে দক্ষ কারিগর এনে এবং বিদেশের জ্ঞান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তার কোম্পানির কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেন। এই সময়ে ম্যাডান কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় । যার জায়গা দখল করে নিউ থিয়েটার্স কোম্পানি। বাংলা সিনেমার পরবর্তী কয়েক দশকে নিউ থিয়েটার্স এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এই কোম্পানির মূলমন্ত্র ছিল- জীবতাং জ্যোতিরেতু ছায়াম (জীবনের সাথে আলোকিত ছায়া)।

নিউ থিয়েটার্স এর লোগো

নিউ থিয়েটার্স এর প্রথম থেকেই ধীরেন্দ্রনাথ সরকার বিভিন্ন জ্ঞানীগুণী মানুষ কে নিয়ে এসেছিলেন ।পরিচালক ছিলেন দেবী কুমার বসু এবং প্রমথেশ বড়ুয়া মত মানুষ। ক্যামেরা ও শব্দ প্রকৌশলী ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের দুই কাকা নীতিন বসু ও মুকুল বসু। এছাড়াও নিউ থিয়েটার্স এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রখ্যাত সঙ্গীতকার যেমন রাইচাঁদ বড়াল , কৃষ্ণচন্দ্র দে, পঙ্কজ মল্লিক, শচীন দেব বর্মন ,কমল দাশগুপ্ত, অজয় ভট্টাচার্য প্রমুখ । নিউ থিয়েটার্সই প্রথম বাংলা ও হিন্দিতে দ্বিভাষীক সিনেমা বানানো শুরু করে।

বি এন সরকার

নিউ থিয়েটার্স এর হাত ধরে মুক্তি পায় চন্ডীদাস, পুরান ভগৎ, বিদ্যাপতি ,দেনাপাওনা, কপালকুণ্ডলা, দেবদাস, মুক্তি ,নটীর পূজা, পুনর্জন্ম, চিরকুমার সভা, মাস্তুতো ভাই, সীতা, নর্তকী, জীবন মরণ ,সাপুড়ে ,বড়দিদি, দুশমন, অধিকার ,সাথী ,অচিন প্রিয়া প্রভৃতি

সাগরেই দুর্বল হবে অশনি, ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে

অশনির অশনি সংকেত থেকে রেহাই পেতে চলছে বঙ্গ। সাগরের শক্তিক্ষয় হবে ঝড়ের।

ঘূর্ণিঝড়ের ‘ অশনি সঙ্কেতে প্রমাদ গুনছিল বাংলা । সেই বিপদের আশঙ্কা আর নেই । বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অশনি শক্তি বাড়িয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে । ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে , অন্ধ্রপ্রদেশ বা ওড়িশা কোনো রাজ্যের ওপর দিয়েই ঘূর্ণিঝড় অশনি স্থলভাগে প্রবেশ করবে না । কিন্তু আজ তা ওড়িশা উপকূলের আরো কাছাকাছি চলে আসায় অন্ধ্রপ্রদেশ , ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে । অশনির মোকাবিলায় ওড়িশা সরকার গঞ্জাম , পুরী , জগতসিংহপুর এবং কেন্দ্রাপাড়া এই চার উপকূলবর্তী জেলার কমপক্ষে ১৫ টি ব্লকের নিচু এলাকার মাটির বাড়িগুলি খালি করে দিয়েছে । বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে । তৈরি রয়েছে কেন্দ্ৰ ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল । ৬ হাজারের বেশী মাছ ধরার নৌকা সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে ।

বঙ্গোপসাগরের উৎপন্ন হাওয়া অশনি র ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে শ্রীলঙ্কা। সিংহলি ভাষায় যার অর্থ ‘ক্রোধ’

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘ অশনি ‘ স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আগেই শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে । বৃহস্পতিবার নাগাদ ওড়িশা উপকূল থেকে কিছুটা দূরে বঙ্গোপসাগরে ‘ অশনি ‘ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে । তারপরও এর শক্তি ক্ষয় অব্যাহত থাকবে । সাধারণ নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হয়ে এটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে । অথবা সমুদ্রেই তা পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে ।

ঠিক কী পরিণতি হতে চলেছে , সোমবার পর্যন্ত তা নিয়ে আবহাওয়াবিদরা নিশ্চিত হতে পারেননি । ঝড়ের ভয় কাটলেও এর প্রভাবে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকছে। রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হবে । বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে কলকাতা , উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা , পূর্ব মেদিনীপুর , হাওড়া ও নদীয়া জেলায় ।

সোমবার কলকাতা সহ উপকূলবর্তী কয়েকটি জেলায় যে বৃষ্টি হয়েছে , তাও ‘ অশনি’র কারণে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস । এদিন বিকেল পর্যন্ত কলকাতায় ৫৮ মিমি ( মিলিমিটার ) , সল্টলেকে ৬১ মিমি , দমদমে ২৩ মিমি , হলদিয়ায় ৪৪ মিমি , ডায়মন্ডহারবারে ১১ মিমি বৃষ্টি হয়েছে । আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা গণেশ দাস জানিয়েছেন , এদিন রাজ্যের উপকূল থেকে অনেকটা দুরে পশ্চিম – মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান ছিল ‘ অশনি’র । পাশাপাশি দক্ষিণ – পূর্ব বাতাস বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় রয়েছে ।

আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতির কারণেই গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি হবে । বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি পরিমাণে জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে ঢোকায় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি হবে । ‘ অশনি’র জেরে রাজ্যের উপকূলতী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বা জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও আর খুব একটা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর । তবে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে এখনও ।

কৃষিজমি থেকে জমা জল বের করার আগাম ব্যবস্থা রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে । রাজ্য অবশ্য আগাম সতর্কতামূলক একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে । পূর্ব মেদিনীপুরে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে । তৈরি রাখা হয়েছে ত্রাণ শিবিরগুলিও । দীঘা , মন্দারমণি সহ বিভিন্ন উপকূলবর্তী পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে স্থানীয় পুলিস – প্রশাসন । জেলা ও ব্লক পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে ।

স্কুলে যাওয়ার বায়না করে শিক্ষকের চপেটাঘাত

আজ ২৫ শে বৈশাখ। কবিগুরু এবছর পা দিলেন ১৬১ বছরে। আজকের পর্বে জেনে নেওয়া যাক রবির ছোটবেলার লেখাপড়া সম্পর্কে এমনকি ছোটবেলাতেই শিক্ষকও হয়ে উঠেছিল। দশ বছর বয়সী শিক্ষক রবির ছাত্র ছিল কারা?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্কুলে যাওয়ার সূচনাপর্ব বেশ মজার । একদিন তার দাদা এবং তার বড়ভাগ্নে সত্য স্কুলে যাওয়ার সময় তিনি তাদের সঙ্গে স্কুলে যাবেন বলে কান্না জুড়লেন । কিন্তু সেই সময় তাঁর বিদ্যালয় যাওয়ার বয়স হয়নি। তবে কেবলমাত্র পড়াশোনার মোহেই তার বিদ্যালয় যাত্রার ইচ্ছে, এমন নয় । এর আগে সে কোনদিন গাড়ি চড়েনি কিংবা বাড়ির বাইরেও বের হয় নি। আর ইতিমধ্যে তার ভাগ্নে সত্য , স্কুল যাওয়ার পথের ভ্রমণ বৃত্তান্ত অতিরঞ্জন করে বালক রবিকে শুনিয়ে ছিল। তারপরই স্কুল এ যাওয়ার জন্য রবির কান্নাকাটি।

মৃত্যুর পূর্বে শেষ রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন

কিন্তু তার সেই বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছেকে সংবরণ করতে হয় বাড়ির শিক্ষকের চপেটাঘাতে। সেই শিক্ষক তাকে বলেছিলেন, “এখন স্কুলে যাওয়ার জন্য যেমন কাঁদিতেছ না যাওয়ার জন্য ইহার চেয়ে অনেক বেশি কাঁদিতে হইবে” ।তবে ‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ সেই শিক্ষকের পরিচয় মনে করতে পারেননি।

এরপর একসময় রবিকে ওরিয়েন্টাল সেমিনারি তে ভর্তি করা হল। সেখানে আবার পড়া না বলতে পারলে এক আশ্চর্য শাস্তির ব্যবস্থা ছিল। পড়া না পারা ছেলেটিকে বেঞ্চে দাঁড় করিয়ে তার দুই প্রসারিত হাতের উপরে ক্লাসের অনেকগুলি স্লেট একসঙ্গে করে চাপিয়ে দেওয়া হতো।ঠাকুরবাড়ির সকল ছেলে মেয়ে শিশুকালে কঠোর নিয়ম নীতির মধ্যে বড় হতো । তাদের ছোটোবেলায় ভোগ-বিলাসের তেমন কোনো আয়োজন ছিল না । তারা প্রত্যেকেই থাকত চাকরদের অধীনে । পিতা-মাতার সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও ছিল বাধা । তাদের পোশাক এতটাই যৎসামান্য ছিল , যে বর্তমান দিনে তা হয়তো অসম্মানের কারণ হতে পারে ।

রবীন্দ্রনাথ ১০ বছর বয়স পার হওয়ার আগে কোনদিন মোজা পড়ে নি। শীতকালে একটা সাদা জামার ওপরে আর একটা সাদা জামাই যথেষ্ট ছিল। তাদের বাড়ির দর্জি ছিলেন নোয়ামত খলিফা। তিনি ছোটদের জামার সাধারণত পকেট তৈরি করতেন না । তাতে বালক রবি যথেষ্ট দুঃখ হত কারণ ছোটদের যা কিছু সম্পত্তি তার সবকিছুই জামার পকেটে থাকত। তাই নোয়ামত খলিফার কাছে জামায় পকেট করে দেওয়ার জন্য আবদার জুড়ত রবি।

ঠাকুরবাড়িতে রবির দেখাশোনার জন্য শ্যাম নামের এক চাকর ছিল । সে রবিকে ঘরের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে তার চারদিকে খড়ি দিয়ে গণ্ডি কেটে দিত এবং ভীতিজনক কন্ঠে তর্জনী তুলে রবি কে সাবধান করত এই বলে যে, সেই গণ্ডির বাইরে গেলেই ভীষণ বিপদ। এর আগে রবি রামায়ণে গণ্ডি পার হওয়ার কারণে সীতার কি বিপদ হয়েছিল তা পাঠ করেছিল ।ফলে শ্যামের আঁকা গন্ডিটিকে নিছক অবিশ্বাসীর মত উড়িয়ে দিতে পারত না রবি।

পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রায়ই নানা স্থানে ভ্রমণে চলে যেতেন ।বাড়িতে বিশেষ থাকতেন না।তখন তার তিন তলার ঘর বন্ধই থাকত। সেই ফাঁকে বালক রবি খড়খড়ি খুলে হাত দিয়ে ছিটকিনি টেনে দরজা খুলে ফেলত । সেই ঘরের আরো একটা আকর্ষণ ছিলো , তখন শহরে সবেমাত্র জলের কল হয়েছে । সেই তেতালার স্নানের ঘরেও তার প্রবেশ হয়েছিল । পিতার অবর্তমানে বালক রবি কলঘরের ঝাজরি খুলে মনের সুখে স্নান করে বিছানার চাদর দিয়ে গা মুছে শান্ত হয়ে সোফায় বসে থাকত। আবার ঠাকুরবাড়ির সেই ছাদে তীব্র রোদের আঁচে ফুটতে থাকা পরিবেশে সেই কলঘরটিকে ওয়েসিস হিসেবে আবিষ্কার করে নিজেকে শিশু লিভিংস্টোন বলেছিলেন তিনি।

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে মাঘোৎসব হত । এইজন্য উঠোনের চারদিক কাঠের থাম পুঁতে তার ওপরে ঝাড়লন্ঠন টাঙানো হত ।থাম পোঁতার জন্য যে গর্ত করা হতো । মাটিতে করা এইসব গর্তের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ ছিল রবির । কারন সে মনে করত , মাটির নিচে কোন এক সুরঙ্গপথে কোন রাজপুত্রের দেখা মিলবে । কিন্তু এক মানুষ সমান মাটিকাটা হলেও সেখানে তার কল্পনা শক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য পুর্ণ কিছুই দেখতে না পেয়ে হতাশ হত রবি।

‘জীবনস্মৃতি’ তে শাসনকর্তার রূপে ঈশ্বর নামে একজনের কথা উল্লেখ করেছেন রবীন্দ্রনাথ। ঈশ্বর ঠাকুরবাড়িতে আসার আগে গ্রামে গুরুমশাইগিরি করত । সে ছিল অত্যন্ত শুচিগ্রস্ত ও আচারনিষ্ঠ গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ । তার স্নানের পদ্ধতি ছিল বেশ মজার । স্নানের সময় সে পুকুরের তিন থেকে চার হাত নিচের জল ঘটিতে সংগ্রহ করে তারপর সেই জল মাথায় ঢালতো। আবার অনেক সময় সে দুই হাত দিয়ে পুকুরের উপরিতলের জল কাটিয়ে হঠাৎ করে এক সময় ডুব দিত। যেন পুকুরকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা।

ঠাকুর বাড়ির দোতলার বারান্দার একটা বিশেষ কোনে রবীন্দ্রনাথ বারান্দার রেলিং গুলোকে তার ছাত্র সাজিয়ে স্কুল খুলেছিলেন । একটা লাঠি হাতে নিয়ে রেলিং গুলো পড়াত রবি। এগুলোর মধ্যে কোনটা ভাল আর কোনটা মন্দ তা তিনি নিজেই ঠিক করে নিয়েছিলেন। তাই যেগুলো মন্দ রেলিঙ তাদের উপর অনবরত লাঠির বাড়ি পড়ত। কোন ধরনের শাস্তি দিলে সেই রেলিং গুলো তার কথা শুনে চলবে, সেটা ভেবে রবির ঘুম হত না।

নর্মাল স্কুলের একটি ঘটনা ঘটেছিল । স্কুলে বছর শেষে যখন বাৎসরিক পরীক্ষা হল তখন রবি বাংলায় সকলের থেকে বেশি নম্বর পেলেন। বাংলার শিক্ষক ছিলেন মধুসূদন বাচস্পতি। তিনি রবি কে অত্যন্ত স্নেহ করতেন । বাংলা পরীক্ষায় সকলের থেকে বেশি নম্বর পেল রবি।কিন্তু ক্লাসের শিক্ষক স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করলেন যে , পরীক্ষক নাকি রবির প্রতি পক্ষপাত করেছেন। ফলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হলো । এবারে স্বয়ং সুপারিনটেনডেন্ট রবির পাশে বসে থাকলেন। কিন্তু এবারেও রবি প্রথম হল।

নর্মাল স্কুলের শিক্ষক শ্রীযুক্ত নীলকমল ঘোষাল ঠাকুরবাড়িতে রবি এবং তার অন্যান্য ভাই দের পড়াতে আসতেন। সকাল ৬ টা থেকে সাড়ে নটা পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ চলত। রবি এবং তাঁর অন্যান্য ভাই দের নানান বিচিত্র বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ায় বিশেষ উৎসাহ ছিল রবির সেজ দাদার ।সেইজন্য স্কুলের যতটুকু পড়া ছিল তার থেকেও অনেক বেশি পড়তে হতো। ভোরবেলা অন্ধকার থাকতে ঘুম থেকে উঠে একটি লেংটি পড়ে প্রথমে এক কানা পালোয়ান এর সঙ্গে কুস্তি করতে হত। তারপর সেই মাটি-মাখা শরীরের ওপর জামা পড়ে পদার্থবিদ্যা, জ্যামিতি , গণিত, ইতিহাস , ভূগোল , মেঘনাদবধ কাব্য এর স্বাদ গ্রহণ করতে হত। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলেই ড্রইং এবং জিমন্যাস্টিকসের মাস্টার এসে হাজির হতেন। সন্ধ্যার সময় ইংরেজি পড়াতে আসতেন আঘোর বাবু। এভাবে সারাদিন পড়াশোনার পরে রাত্রি নটার সময় রবির ছুটি হত সেই দিনটির মত।

তথ্য ঋণ – জীবন স্মৃতি , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ; জীবনের ঝরাপাতা, সরলা দেবী চৌধুরানী

কেন পালিত হয় মাতৃ দিবস?

মাতৃ দিবসের উৎপত্তি কোথায় ? কবে থেকে এইমাত্র দিবসের সূচনা? ৮ মে ছাড়াও মাতৃ দিবস পালিত হয় কোন কোন দেশে?

আজ আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবস । সম্পূর্ণ মায়েদের জন্য নির্ধারিত এই দিনটি বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পালিত হয় ৮ মে। ‘মা’ শব্দটির সঙ্গে জুড়ে রয়েছে অনেকখানি দায়িত্ব-কর্তব্য স্নেহ মমতা ভালবাসা। প্রাচীন ভারতীয় ঋষি মনু মাতৃ শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে – “উপাধ্যায়ান্ দশাচার্য্য আচায্যাণাং শতং পিতা। সহস্রন্তু পিতৃন্মাতাগৌরবেণাতিরিচ্যতে” । অর্থাৎ “দশজন উপাধ্যায় (ব্রাহ্মণ) অপেক্ষা একজন আচার্য্যরে গৌরব অধিক, একশত আচার্য্যরে গৌরব অপেক্ষা পিতার গৌরব অধিকতর; সর্বোপরি, সহস্য পিতা অপেক্ষা মাতা সম্মানার্হ ” । (মনু ২/১৪৫)

বিংশ শতকের শুরুর দিকে আমেরিকার আনা জার্ভিস এর উদ্যোগে শুরু হয়েছিল প্রথম মা দিবস উদযাপন। ১৯০৭ সালে তিনি প্রথম মা দিবসের  আয়োজন করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া প্রদেশের অ্যান্ড্রুস মেথডিস্ট এপিস্কোপাল চার্চে

অ্যান্ড্রুস মেথডিস্ট এপিস্কোপাল চার্চ, ভার্জিনিয়া , আমেরিকা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৮ মে দিনটি ছুটির দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মা দিবসকে একটি স্বীকৃত ছুটিতে পরিণত করার জন্য তার প্রচারণা শুরু হয়েছিল 1905 সালে, যে বছর তার মা এন্ড সরিফ জার্ভিস মারা যান জার্ভিস একজন শান্তি করেছিলেন আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় তিনি দুই পক্ষের আহত সেনাদের সেবা শুশ্রূষা করে তাদের সুস্থ করে তোলেন এবং জনসংখ্যা সম্পর্কিত সমস্যার সমাধানের জন্য মাদার্স ওয়ার্ক ক্লাব তৈরি করেন।

আনা জার্ভিসের প্রচেষ্টার কারণে, 1911 সাল নাগাদ সমস্ত মার্কিন রাজ্য ছুটি পালন করে। 1914 সালে, মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার কে মা দিবস হিসেবে পালনের ডাক দেওয়া হয়।

তবে বিশ্বের বেশ কিছু দেশ ৮ মে মাতৃদিবস পালন করে না । যেমন –

জর্জিয়া( 3 মার্চ),

নরওয়ে (ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রবিবার) ,

পূর্বতন সোভিয়েত রাশিয়ার দেশগুলি অর্থাৎ আলবেনিয়া, লিথুয়ানিয়া, বুদাপেস্ট , ইউক্রেন, বেলারুশ, তাজিকিস্তান ,উজবেকিস্থান (4 মার্চ),

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অর্থাৎ লিবিয়া , মিশর, কুয়েত , কাতার , সৌদি আরব, ইরান, সোমালিয়া, সুদানে , লেবানন , জিবুতি , জর্ডান ( 21 শে মার্চ),

প্যারাগুয়ে (15 মে) ,

কিরঘিজস্থান (19 মে) ,

রাশিয়ায় নভেম্বরের শেষ রবিবার মাতৃ দিবস পালিত হয়।

বাঙালির ব্যবসা

ইংরেজ আমলে ইউরোপীয়দের হাত ধরে কলকাতা কেন্দ্রিক যে বিপুল ব্যবসা ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল তাতে বাঙালির অংশগ্রহণ ছিল নগণ্য ।তবে আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারের বেশ খানিকটা অংশ বাঙালি শেয়ারহোল্ডারদের হাতে।

বাঙালি সম্পর্কে একটা কথা অত্যন্ত প্রচলিত যে বাঙালি ঝুঁকি নিতে ভয় পায়। অন্যান্য ক্ষেত্রে এই কথাটি প্রযোজ্য না হলেও ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কথাটির যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে । ইংরেজ আমলে বাংলাতেই তৈরি হয়েছিল ভারতের প্রথম বণিকসভা – “বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স”(bengal chembar of commarce)। তবে বাংলাতে বণিক সভা গঠিত হলেও তাতে বাঙালি শামিল হয় নি। মধ্যবিত্ত বাঙালি ইংরেজ কোম্পানির অধীনে একটি চাকরি জুটিয়ে সুখের জীবন যাপন করাটাই লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিল।

বাঙালি একদম যে ব্যবসার দিকে পা মাড়ায়নি এমন নয় । তবে তার তালিকা অন্যান্য জাতির তুলনায় অনেক ছোট। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর , আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় , গৌড় মোহন দত্ত , স্যার বীরেন্দ্র নাথ মুখোপাধ্যায় এর মত সামান্য কয়েকজন বাঙালি ইংরেজ আমলে নিজেদের সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন। প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ‘বেঙ্গল কেমিক্যালস’ (Bengal Chemicals and farmacutical ) এর হাত ধরে অনেক ভারতীয় তাদের কর্ম জীবন অতিবাহিত করেছেন বা করছেন । কিন্তু ব্যবসা বিমুখ বাঙালি ব্যবসার তুলনায় সরকারী বা বেসরকারী চাকরীতেই অধিক গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।

ব্যবসার মতো বিনিয়োগের দুনিয়াতেও বাঙালি কখনো এগিয়ে এসে খেলেনি। কিন্তু কলকাতা কে কেন্দ্র করে প্রথম প্রজন্মের ব্যবসা স্থাপনের সুবাদে , ব্রিটিশ শাসিত ভারতে কলকাতাতেই স্থাপিত হয় ভারতের এমনকি এশিয়ার প্রথম শেয়ারবাজার । ১৮৬৩ সালে “দ্য ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ” কাজ শুরু করে ।প্রথমদিকে ব্যবসার প্রতি নেতিবাচক মানসিকতার কারণে বাঙালি এ নিয়ে খুব একটা আগ্রহ না দেখানোয় প্রথম থেকেই শেয়ার বাজারের দখল চলে গিয়েছিল ভিন রাজ্যের মানুষজনের কাছে।

উনিশ শতকে সাহেব কোম্পানির সঙ্গে কাজের সুবাদে অনেক সময় কোম্পানির বাঙালি কর্মচারীরা কিছু শেয়ার কিনতে পারত । তবে অন্যান্য রাজ্যের মানুষজনের তুলনায় তা নিতান্তই কম । বিভিন্ন বাংলা সাহিত্যে ‘কোম্পানির কাগজ’ কথাটি বহুবার আলোচিত হয়েছে । এই কোম্পানির কাগজ যে আসলে শেয়ার সার্টিফিকেট তাতে কোন সন্দেহ নেই।

ব্রিটিশ কোম্পানিগুলির ব্যবসার আকার যত বাড়ছিল , ততো বড়ো আকারের পুঁজির দরকার পড়ছিল। একজন ব্যক্তির পক্ষে এই পুঁজি জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না । এ কারণেই যৌথ পুঁজির ভাবনা আসে। আর এই ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছিল জয়েন্ট স্টক কোম্পানি। কোম্পানির আমলে কলকাতায ছিল ইউরোপীয় সাহেবদের প্রধান কর্মক্ষেত্র । কিন্তু সেই সময়ে ভারতে কোন কোম্পানি আইন ছিল না বলে স্টক কোম্পানিগুলির নথিভুক্তিকরণ হত ইংল্যান্ডে।

ভারতের প্রথম কোম্পানি আইন আসে ১৯১৩ সালে । তবে এর অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন কোম্পানি তৈরি হয়েছিল । দ্য বিশনওথ টি কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি চা কোম্পানি ইংল্যান্ডে নথিভুক্ত হয় 1863 সালে। সি ই এস সি (CESC) কোম্পানিটি তৈরি হয় উনিশ শতকের শেষভাগে। এ ছাড়াও সমকালীন সময়ে তৈরি অন্যান্য ভারতীয় কোম্পানী গুলির মধ্যে ছিল শালিমার পেইন্টস , আইটিসি , বিড়লা কর্পস প্রভৃতি।

বর্তমান ভারতীয় স্টেট ব্যাংক এর জন্ম ১৯২১ সালে। তখন এর নাম ছিল ইম্পেরিয়াল ব্যাংক। ফিলিপস ইন্ডিয়া , বাটা ইন্ডিয়া , ইউনিয়ন কার্বাইড সহ বহু কোম্পানি ভারতের স্বাধীনতার বহু আগেই তৈরি হয়েছিল বাংলায়, নির্দিষ্ট ভাবে বলতে গেলে কলকাতায়।

ব্যবসা কিংবা বিনিয়োগ ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভাল সুযোগ বাংলায় তৈরি হয়েছিল । তবে বাঙালি সেই সুযোগ সর্বতোভাবে গ্রহণ করেনি বা করার চেষ্টা করেনি । এর পেছনে ঝুঁকি অবশ্যই একটা কারণ , কিন্তু আরো কয়েকটি কারণ ছিল । এই সময় বাংলার বেশিরভাগ মানুষ যুক্ত ছিল কৃষি কাজের সঙ্গে কিংবা স্থানীয় ভাবে ছোট ব্যবসা , মহাজনী কারবার এর সঙ্গে। বৃহৎ ব্যবসার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল না।

উনিশ শতকের শুরু থেকেই বাংলা জুড়ে শুরু হয়েছিল সমাজ সংস্কার আন্দোলন । স্বামী বিবেকানন্দ , ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর , রামমোহন রায় , হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও , দ্বারকানাথ ঠাকুর , উয়িলিয়াম কেরি , রানী রাসমণি প্রমূখ মানুষদের আদর্শে সাধারণ মানুষ যথেষ্ট প্রভাবিত হয়েছিল । এছাড়াও বাঙালি ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিল , ফলে বাঙালি মননে সেই ব্রিটিশ কোম্পানির সঙ্গেই ব্যবসা কিংবা বিনিয়োগ বিশেষভাবে স্থান পায়নি।

তবে বর্তমানে ক্রমশই অবস্থা বদলাচ্ছে। বাঙালি সন্তানেরা আজ চাকরির পাশাপাশি ব্যবসাতেও যথেষ্ট আগ্রহী হয়ে উঠেছে । এখন অনেক বেশি সংখ্যায় বাঙালি শেয়ার বাজারে লগ্নি করছে। মুম্বাই শেয়ার বাজারে বর্তমানে প্রায় ১০.৩৮ কোটি লগ্নিকারীর মধ্যে ৫৫ লক্ষ এ রাজ্যের বাঙালি । গত এক বছরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে লগ্নিকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ এই পরিসংখ্যান বলছে , আজ বাঙালি আর ঝুঁকি নিতে ভয় পায় না । সব বাধা অতিক্রম করে বাঙালি আজ অন্যান্যদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যবসাক্ষেত্রে ছুটে চলেছে।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : আনন্দবাজার পত্রিকা

মানব ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া আবিষ্কার তুরস্কে

গোবেকলি তেপের আবিষ্কার মানব সভ্যতার সূচনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে । এখানে আবিষ্কৃত হয়েছে বিশ্বের সর্বপ্রাচীন মন্দির।

গোবেকলি তেপে (Göbekli Tepe )

গোবেকলি তেপে (Göbekli Tepe ) তুর্কি ভাষায় যার অর্থ ‘লম্বা পাহাড়’ । গোবেকলি তেপে বর্তমানে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত। তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আনাতোলিয়া মালভূমি অঞ্চলে শানলিউরফা প্রদেশের  রাজধানী উরফা (Urfa) থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে অবস্থিত একটি প্রত্নক্ষেত্র হলো গোবেকলি তেপে(Göbekli Tepe )। এই গোবেকলি তেপের আবিষ্কার মানব সভ্যতার প্রাচীন ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। একসময় ভাবা হতো কৃষি কাজ শেখার পর থেকেই মানুষ দলবদ্ধ হয়েছে , স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শিখেছে, গোষ্ঠীবদ্ধ জীবন গড়ে তুলেছে । কিন্তু কৃষি সভ্যতার থেকেও প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন টি মানুষের দলবদ্ধতার প্রমাণ দেয়।

১৯৬০ এর দশকে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একদল ছাত্র তুরস্কের সীমান্তবর্তী শানলিউরফা প্রদেশের ওরেনসিক শহরে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এর খোঁজে গিয়েছিল । স্থানীয় মানুষের মুখে এই পাহাড়ি অঞ্চল টি পরিচিত গোবেকলি তেপে নামে । এখানে এই প্রত্নতাত্ত্বিক দলটি একটি ফলক খুঁজে পায়। যা থেকে তাদের মনে ধারণা হয় এটি কোন মধ্যযুগীয় সমাধিক্ষেত্র । সমাধি ক্ষেত্র সম্পর্কে তাদের আগ্রহ না থাকায় তারা আর এ নিয়ে বেশি দূর এগোয়নি। তবে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিল তা হল তাদের গবেষণাপত্রে ওই ফলকটির উল্লেখ তারা করে রেখেছিল।

এর প্রায় ৩৪ বছর পরে ১৯৯৪ সালে জার্মানির প্রত্নতত্ত্ববিদ ক্লস স্কিমিট ( Klaus Schmit ) এর কাছে কোন ভাবে সেই রিসার্চ পেপার পৌঁছয়। প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পর্কে ক্লাসের গভীর কৌতূহল ছিল। তিনি ওই ফলকটির রহস্য সন্ধানে চলে আসেন তুরস্ক । এরপর একদিন খননকাজের সরকারি অনুমতি নিয়ে তিনি পৌঁছে যান গোবেকলি তেপে । এরপরই মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হয় আলাদা আলাদা কুড়িটি অট্টালিকার সমন্বয়ে গঠিত এক প্রাচীন উপাসনা স্থান। পরবর্তী সময়ে কার্বন-১৪ (carbon-14) পরীক্ষার মাধ্যমে এর বয়স নির্ণয় করা হয়েছে। যা থেকে জানা যায় গোবেকলি তেপে নির্মিত হয়েছিল প্রায় সাড়ে এগারো হাজার বছর পূর্বে । আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব দশম সহস্রাব্দে এটি নির্মিত হয় এবং খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম সহস্রাব্দ পর্যন্ত এর ব্যবহার ছিল বলে অনুমান করা হয় । ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থল (UNESCO World Heritage Site )এর তালিকায় এখনো পর্যন্ত আবিষ্কৃত এটি সর্ব প্রাচীন উপাসনা স্থল এর নিদর্শন (২০১৮ সাল)।

ক্লস স্কিমিট

গোবেকলি তেপে ২০ বৃত্তে ২০০ টিরও বেশি স্তম্ভ আবিষ্কৃত হয়েছে । প্রতিটি স্তম্ভের উচ্চতা প্রায় কুড়ি ফুট এবং ওজন ১০ থেকে ২০ পর্যন্ত । স্তম্ভ গুলিকে মাটিতে গর্ত করে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। অনেকটা ইংরেজি ‘টি’ (T )অক্ষরের মতো একটি উলম্ব স্তম্ভের মাথায় আরেকটি পাথরের স্তম্ভ কে আড়াআড়িভাবে বসানো হয়েছিল । কতটা প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকলে এত ভারী পাথরকে সঠিক অবস্থানে স্থাপন করা সম্ভব , তা আজকের দিনে ভাবলে অবাক হতে হয় ।অনুমান করা হয় , যে পাথরগুলি স্তম্ভ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলি ওই স্থানেই বা খুব কাছাকাছি স্থানে পাওয়া যেত । কারণ এত ভারী পাথর তখনকার দিনে দূর থেকে নিয়ে আসা সম্ভব ছিল না। তেপে টির উচ্চতা ১৫ মিটার (৪৯ ফুট) এবং ব্যাস প্রায় ৩০০ মিটার (৯৮০ ফুট)। এটি সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ৭৬০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।

‘ T ‘ আকৃতির স্তম্ভ

প্রতিটি পাথরের গায়ে নানান অর্থবহ আকৃতি ও চিহ্ন খোদাই করা আছে । বেশকিছু প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর চিত্র সহ সাপ , শিয়াল এবং শুয়োর, কিন্তু এছাড়াও অরোচ , গাজেল, মাউফ্লন (বন্য ভেড়া), ওনাগার , ক্রেন , হাঁস এবং শকুন এর ছবি খোদাই করা হয়েছে পাথরগুলির গায়ে ।

হাঁস

আরো দেখুন বারমুডা ট্রায়াঙ্গল (Bermuda Triangle) রহস্যের সন্ধানে

গোবেকলি তেপে প্রাপ্ত নিদর্শন

এদিকে গোবেকলি তেপের আবিষ্কার মানব সভ্যতার সূচনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে । এতদিন ধরে আমরা জেনে এসেছি , মানব সভ্যতার সূচনা হয়েছিল কৃষিকাজ শেখার হাত ধরে । কৃষিকাজের জন্য জমি তৈরি , রক্ষণাবেক্ষণ এবং শস্য সংরক্ষণের সহ বিভিন্ন কাজের জন্য মানুষ দলবদ্ধ ভাবে একত্রে বসবাস করতে শিখেছিল । কৃষি জমির নিকটে তারা বসতি গড়ে তুলেছিল। আর তা থেকেই সূচনা হয় সভ্যতার । খাদ্য সংগ্রাহক থেকে মানুষ পরিণত হয় খাদ্য উৎপাদকে।

কুমির ও টিকটিকির সংমিশ্রণ

কিন্তু গোবেকলি তেপের আবিষ্কার চিরন্তন এই মতবাদে জল ঢেলে দিয়েছে । কারণ ,কৃষি সভ্যতার সূচনার ৫০০ বছর আগেই এটি নির্মিত। এর বড় বড় পাথরের আকার এবং খোদাই দেখে ধারণা করা হয় , এটি নির্মাণে অন্তত ১০ বছরের পরিশ্রম রয়েছে । আর অনেক মানুষের শ্রম ছাড়া এরকম একটি ভারী পাথর নির্মিত নিদর্শন এর নির্মাণকাজের কথা কল্পনা করা যায় না । যার অর্থ , কৃষিকাজ শুরুর আগেই মানুষ একত্রে বসবাস করতে শুরু করে । দশ বছর ধরে নিশ্চয়ই যাযাবররা এরকম একটি বিশাল স্থাপনা নির্মাণ করবে না । এই তথ্য জানার পর স্বাভাবিকভাবেই মনে হয় মানব সভ্যতার সূচনা পর্বের ইতিহাস আবার নতুন করে লেখার প্রয়োজন বোধহয় আছে ।

সানলিওরফা মিউজিয়াম , তুরস্ক (Sanlıurfa Museum)

আনুমানিক দশ হাজার খ্রীস্ট পূর্বাব্দে গোবেকলি তেপে নির্মিত হয় । গোবেকলি তেপে চূড়ান্তভাবে পরিত্যাগ করে যাবার আগে সে সময়ের মানুষেরা একে পাথর আর মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়ে যায় । ফলে দীর্ঘদিন ধরে অক্ষত অবস্থায় মাটিচাপা পড়ে ছিল স্থাপনাটি । প্রাচীন যুগের এই মানুষদের আমরা এতদিন অসভ্য বলেই জেনে এসেছি । কিন্তু তাদের সময়েই সভ্যতার সূচনার ইঙ্গিত দেয় এই গোবেকলি তেপে ।

তবে প্রত্ন ক্ষেত্র কী কাজে লাগত, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ আলোকপাত এখনো সম্ভব হয়নি। সম্ভবত স্থানীয় মানুষের উপাসনা স্থান হিসেবে এটি ব্যবহৃত হতো । এখনও পর্যন্ত এখানে প্রাপ্ত শিলালিপি গুলির পাঠোদ্ধার করা যায়নি । যেদিন তা সম্ভব হবে সেদিন অবশ্যই খুলে যাবে ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় । ১৯৯৬ সাল থেকেজার্মান রিসার্চ ফাউন্ডেশন (German Research Foundation) , জার্মান আর্কিওলজিক্যাল ইনস্টিটিউট (German Archaeological Institute ) কর্তৃক এখানে খননকার্য চলছে। কিন্তু এখানকার একটি বড়ো অংশে এখনও খননকার্য চালানো হয়নি।

তথ্যসূত্র ও চিত্র সৌজন্য :- ঊইকিপিডিয়া ও অন্তর্জাল

কলকাতায় পেন মহোৎসব

ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান দাম সাড়ে তিন লক্ষ টাকা , পার্কার এর দাম এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা।

উৎসব তো কত রকমেরই হয়। হরেক কিসিমের উৎসব পালিত হয় বাংলা জুড়ে। আর বাংলার রাজধানী কলকাতা তো উৎসব নগরী। এখানে বারোমাসই কোনো না কোনো উৎসব হয়েই থাকে । তেমনি এবার কলকাতায় পালিত হল ফাউন্টেন পেনের মহোৎসব।

একসময় কলমের দুনিয়ায় বিপ্লব ঘটে ফাউন্টেন পেন পেন এর হাত ধরে । ফাউন্টেন পেন এর আবিষ্কর্তা হলেন লুইস এডসন ওয়াটারম্যান।এই পেনের আবিষ্কার কাহিনী বেশ চমকপ্রদ। ফাউন্টেনপেন আসার আগে , সকলের মতই ওয়াটারম্যানও দোয়াত কলম ব্যবহার করতেন। তিনি একবার এক ব্যবসায়ীক চুক্তিপত্র সই করতে গিয়েছিলেন এক ব্যবসায়ীর কাছে। চুক্তিপত্র লেখা শেষ হয়েছে , এমন সময় হঠাৎ চুক্তিপত্রএর উপরে দোয়াত উল্টে পড়ে যায়। কি আর করবেন ওয়াটারম্যান ? তিনি গেলেন কালির সন্ধানে। কিন্তু ফিরে এসে দেখলেন, যে ইতিমধ্যেই আর একজন ব্যবসায়ী সই সবুদ করে চুক্তিপত্র পাকা করে চলে গেছেন। তখনই ওয়াটারম্যান প্রতিজ্ঞা করলেন এর একটা বিহিত করতেই হবে। এরপর এই ওয়াটারম্যানের হাত ধরেই জন্ম নিল ফাউন্টেন পেন।


অনেকে বলেন, ফাউন্টেন পেনের বাংলা ‘ঝর্ণা কলম’ নামটি রেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গত শতাব্দীর শেষ দশক পর্যন্তও বাঙালির মধ্যে এই কলমের ব্যাপক চাহিদা ছিল। এখন তাতে মরচে পড়েছে। শখে ছাড়া এখন কেউ ফাউন্টেন পেন খুব একটা ব্যবহার করেন না। সেই জায়গা নিয়েছে বল পয়েন্ট এবং আধুনিক জেল পেন। দামে সস্তা বলে কলমের জগতে সহজে জায়গা করে নিয়েছে ডট বা জেল পেন। পার্কার, ক্যামেল, উইলসন, উইং সাং, ক্যামলিন ইত্যাদি পরিচিত ফাউন্টেন পেন চলে গিয়েছে পিছনের সারিতে। 

কিন্তু স্মৃতি সততই মধুর। আর
পুরনো সেই দিনের কথা মনে করিয়ে দিতে কলকাতার আইসসিআর-এ আয়োজন করা হয়েছিল ঝর্ণা কলমের একটি প্রদর্শনী। যার নাম দেওয়া হয় ‘পেন মহোৎসব’। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়ে তা চলল রবিবার অর্থাৎ ৩ বৈশাখ (১৭ এপ্রিল) পর্যন্ত।

সেখানেই মানুষ নেড়েচেড়ে দেখলেন ‘ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান’কে। তবে এ উদ্যান সুদূর ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান নয় । পান্না সবুজ দেহ। সোনা রঙের নকশা কাটা চকচকে খাপ। খাঁটি সোনার নিব। এ জিনিস হাতে খোদাই করে বানিয়েছেন জার্মানির শিল্পীরা। অত্যন্ত টেকসই। ভারতীয় মুদ্রায় দাম ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা। সারা পৃথিবীতে মাত্র ৪১০ জন এর মালিক হতে পারবেন। কারণ এর পর আর এই ডিজাইনের ‘ফর্মুলা’ ব্যবহার করা যাবে না। সংক্ষেপে এই হল ‘হ্যাঙ্গিং গার্ডেন অব ব্যাবিলন’-এর ইতিহাস—যা আদতে একটি ঝর্ণা কলম বা ফাউন্টেন পেন।

তবে চমকে দেওয়ার মতো ঝর্ণা কলম আরও ছিল। পেন-প্রেমীরা দেখলেন তিন লক্ষ টাকার ‘ওয়াল্ডম্যান’। এই কলমটি মহোৎসবে এনেছে সান মার্কেটিং সংস্থা। তাদের তরফে শচীন আগরওয়াল জানান, ন’টি পেন বিদেশ থেকে আনানো হয়েছিল। তার একটি রয়েছে। তবে ওয়াল্ডম্যান কলকাতায় বিক্রি হয়নি। পাইলট কোম্পানির ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দামের কাস্টম উরুশি ল্যাকার। দ্য পেপার প্যান সংস্থা পেনটি নিয়ে এসেছে উৎসবে। এই সংস্থার কর্ণধার রাজীব সিং জানান, তিনটি কাস্টম বিক্রি হয়েছে। যদিও এই উৎসবে ব্যাবিলন বিক্রি হয়নি। তবে এই কলম নিয়ে উৎসাহ ছিল তুঙ্গে।


উৎসবের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রসেনজিৎ গুচ্ছাইৎ জানান, ২২টি স্টল বসেছিল এখানে। বিদেশি ও দেশীয় মিলে প্রায় হাজার পাঁচেক পেন ছিল। এখানে ৫০০ টাকা দামের কলমও যেমন ছিল, তেমনি ব্যাবিলন সহ আরও কয়েকটি বহুমূল্য পেন ছিল। প্রায় ১০ হাজার মানুষ কলম দেখতে এখানে হাজির হয়েছিলেন।


তবে পেন মহোৎসব নতুন নয় । দেশের অন্যান্য শহরে এই উৎসব নিয়মিত হয়। তবে কলকাতায় শুধু ঝর্ণা কলম নিয়ে এরকম প্রদর্শনী আগে হয়নি। মুম্বইয়ের হীরেন ও ক্রনাল কনকহারা এসেছিলেন হনুমান, গণেশ, সাঁইবাবার মূর্তি খোদাই করা পেন নিয়ে। তাঁরা জানান, পেনগুলির দাম ২৫ থেকে ৯৯ হাজার টাকার মধ্যে। মহারাষ্ট্র, পুনে চেন্নাই, অমৃতসর ইত্যাদি জায়গায় এগুলির বিক্রি ভাল। তবে কলকাতায় একটাও বিক্রি হয়নি। তবে সব মিলিয়ে পেন মহোৎসব ঘিরে কলকাতার শৌখিন নাগরিকদের মধ্যে লক্ষ্যণীয় উৎসাহ দেখা গিয়েছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।