পদ্ম সম্মান প্রত্যাখ্যান তিন বাঙালীর, সন্ধ্যা মুখার্জি, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এর পর এবার ইনিও

৭৩তম সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে এবারের পদ্মশ্রী সম্মান ফেরালেন তিন বর্ষীয়ান বাঙালী। এ বিষয়ে কি বললেন তারা?

প্রতি বারের মতো এবারও সাধারণ তন্ত্র দিবসের আগের দিন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া পদ্মশ্রী সম্মান ফিরিয়ে দিলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় । বর্তমানে তিনি শারীরিক ভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। পদ্ম পুরস্কার ঘোষণার মাত্র এক দিন আগে তাঁকে জানানো হয়, তিনি পদ্মশ্রী পাচ্ছেন। এই গোটা বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত অপমানজনক বলে মনে হয়েছে বলে জানান সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় , তাই এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী ।

সূত্রের খবর , কেন্দ্রীয় সরকার আগে থেকে কিছু জানায়নি। পুরস্কার প্রদানের মাত্র এক দিন আগে ফোনে যেভাবে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয় শিল্পীর কাছে, তা অত্যন্ত অসম্মানজনক মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় কে সোমবার কেন্দ্রের তরফে ফোন করা হয়। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ এবং শয্যাশায়ী । কোনওরকমে টেলিফোনে কথা বলেন। এই প্রসঙ্গে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ফোনের ওপ্রান্ত থেকে গায়িকাকে হিন্দিতে বলা হয়, আগামিকাল আপনাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করতে চাই। আপনি যদি নেন, তাহলে তালিকায় অন্যান্য পদ্ম-পুরস্কার প্রাপকদের সঙ্গে আপনার নামও ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। এহেন কথা শুনে গায়িকা প্রথমটায় হতবাক হয়ে যান।

বিবৃতিতে সন্ধাদেবী জানিয়েছেন, পদ্ম-সম্মানে ভূষিত করার মাত্র একদিন আগে ফোনে জানানোটা কোনও প্রথা হতে পারে বলে তাঁর জানা ছিল না। শুধুমাত্র তাই নয়, তাঁর সমসাময়িকরা যেখানে যোগ্য কারণেই কেউ ভারতরত্ন, কেউ পদ্মবিভূষণ, অন্তত পদ্মভূষণ, সেখানে তাকে কিনা দেওয়া হচ্ছে পদ্মশ্রী!‌ সন্ধ্যাদেবীর আরও খারাপ লেগেছিল একেবারে শেষলগ্নে এমন প্রস্তাবের ধরনে। তৎক্ষণাৎ তিনি জানিয়ে দেন, এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটি তিনি দিল্লির আমলাকে বলেন তা হল, ‘একটা কথা জেনে রাখুন। আমার শ্রোতারাই আমার পুরস্কার।’‌ অভিমানী সন্ধ্যা বলছেন, ‘‌নব্বই বছর বয়সে এভাবে অপমান করল?‌ এভাবে শেষ মুহূর্তে পুরস্কারের প্রস্তাব দিচ্ছে!‌ অসংখ্য বাণিজ্যিক ছবির গানের পাশাপাশি একাধিক ক্লাসিক্যাল রেকর্ড রয়েছে আমার। একজন ক্লাসিক্যাল শিল্পীও বটে। উস্তাদ গুলাম আলি খানের কাছে গান শিখেছি। উস্তাদ আমির খানের কাছে তালিম নিয়েছি। একজন ক্ল্যাসিক্যাল শিল্পীকে পদ্ম পুরস্কারের জন্য এভাবে প্রস্তাব দেওয়া যায়!‌’‌

এর আগে ১৯৮৭ সালে পদ্মশ্রী ফিরিয়ে দিয়েছিলেন আরেক প্রবাদ প্রতিম কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, এবার ঠিক তেমনটিই করলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। অপমানিত ও অসম্মানিত হয়ে ফিরিয়ে দিলেন পদ্মশ্রী সম্মান। ১৯৮৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেওয়া পদ্মশ্রী সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।

পদ্মভূষণ ফেরালেন পশ্চিম বঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

এছাড়াও , কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া পদ্মভূষণ পুরস্কার ফিরিয়ে দিলেন পশ্চিম বঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ।গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে সামাজিক এবং জনসেবামূলক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে সম্মানিত করার কথা জানানো হয়েছিল একেবারে শেষলগ্নে ৷ বুদ্ধদেববাবুও অনেকদিন ধরেই অত্যন্ত অসুস্থ । পুরস্কার ফেরানো নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য । তিনি জানিয়েছেন, ‘পদ্মভূষণ পুরস্কার নিয়ে আমি কিছুই জানি না, আমাকে এই নিয়ে কেউ কিছু বলেনি। যদি আমাকে পদ্মভূষণ পুরস্কার দিয়ে থাকে তাহলে আমি তা প্রত্যাখ্যান করছি।’

এবার ‘পদ্মশ্রী’ প্রত্যাখ্যান সঙ্গীত শিল্পী পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যাযেরও

অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি গানবাজনা করে আজ এই জায়গায় এসেছি। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত আবদুল কালাম সাহেব আমার গানের ভক্ত ছিলেন। আমাকে সঙ্গীত অ্যাকাডেমি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে আজ থেকে ২২ বছর আগে। তাই আমি আমাকে ঠিকমতো সন্মান দেওয়া হয়নি, সেই জন্যই ‘পদ্মশ্রী’ প্রত্যাখ্যান করছি। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে পদ্মশ্রী গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ফোন এসেছিল , তবে তিনি তা গ্রহণ করছেন না।

পদ্মশ্রী সম্মান প্রত্যাখ্যান করার কারণ জানতে চেয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তাঁর সারা জীবনে যা কিছু কাজ তার সমস্ত নথি রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের দপ্তরে। সেখানে সকলেই তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মান প্রদানের কথা বলেছেন। সেখানে তাঁকে এতো বছর বাদে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়ায় তিনি আহত ও অসম্মানীত বোধ করেছেন। তাই তিনি এই সন্মান গ্রহণ করছেন না।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান