মার্কিন সেনার ফেলে যাওয়া আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আফগান জঙ্গিরা কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে জড়ো হচ্ছে !

নিজস্ব প্রতিবেদন : মার্কিন সেনা ফিরে গিয়েছে বেশ কয়েক মাস আগে। যাওয়ার আগে কিছু যুদ্ধেস্ত্র ধ্বংস করে দিয়ে গেলেও আফগানিস্তানে (Afghanistan) এখনও তাদের ফেলে যাওয়া বহু অত্যাধুনিক অস্ত্র পড়ে রয়েছে ৷ আর সেই সমস্ত অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র নিয়েই পাকিস্তান হয়ে কাশ্মীর সীমান্তে (Afghan Terrorists at Line of Control) জড়ো হচ্ছে আফগান জঙ্গিরা ৷ এমনই আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন উত্তর কাশ্মীরের বারামুলায় নিযুক্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৯ নম্বর ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জেনারেল অফিসার মেজর জেনারেল অজয় চাঁদপুরিয়া (Ajay Chandpuriya) ।

মেজর জেনারেল অজয় চাঁদপুরিয়া
১৯ নম্বর ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন

মেজর জেনারেল চাঁদপুরিয়া বলেন, ‘আফগানিস্তানের পরিবর্তিত পরিস্থিতির যথেষ্ট প্রভাব আমাদের দেশের নিরাপত্তার উপরে পড়ছে৷ বিশেষত জম্মু কাশ্মীরে (Jambu & Kasmir) আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে৷ আমেরিকার বাহিনীর বিরুদ্ধে যে আফগান জঙ্গিরা এতদিন লড়াই করছিল, তাদের এখন আর অন্য কোনও কাজ নেই ৷ তাই বসে থাকা সেই জঙ্গীদেরকেই কাজে লাগানো হচ্ছে৷’

আশঙ্কার বিষয় , আধুনিক রাইফেল , ট্যাঙ্ক , নাইট ভিশন ডিভাইস, মাইন-নিরোধক গাড়ি, অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারের মতো সব উন্নত অস্ত্রশস্ত্র যেগুলো মার্কিন বাহিনী ফেলে গিয়েছে আফগানিস্তানে সেগুলো এখন তালিবানের হাতে এসেছে। ফলে আফগান জঙ্গীদের হাতে সেই অস্ত্র পৌঁছনোর সমূহ সম্ভাবনা। জেনারেল চাঁদপুরিয়ার দাবি , “এলওসি-তে নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র/ডিভাইস সাধারণত দেখা যায় না। মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার সময় এগুলো আফগানিস্তানে ছিল। আমাদের বিশ্লেষণ- শুধু সন্ত্রাসীরাই নয় অস্ত্রও আসতে পারে কাশ্মীরে”।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, তালিবানরা ক্ষমতা য় আসার পর আফগানিস্তানের জেলে বন্দি বহু জঙ্গিকে মুক্তি দিয়ে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিয়েছে প্রশিক্ষণ এর জন্য। জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তৈবার বহু প্রশিক্ষিত জঙ্গি ইতিমধ্যেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন ক্যাম্প এবং লঞ্চ প্যাডে পৌঁছে গিয়েছে৷

মেজর জেনারেল চাঁদপুরিয়ার দাবি , এই মুহূর্তে অন্তত ১০০ – ১৩০ জন জঙ্গি কাশ্মীরে ভারতীয় সীমান্তের উল্টোদিকে লঞ্চ প্যাডগুলিতে ঘাঁটি গড়ে রয়েছে ৷ ওই সেনাকর্তার দাবি অনুযায়ী, ‘গত এক বছরে আমরা জঙ্গি অনুপ্রবেশের যে প্রচেষ্টাগুলি রুখেছি, সেই ঘটনাগুলিতে আমরা অত্যাধুনিক মার্কিন অ্যাসল্ট রাইফেল, থার্মাল ইমেজিং নাইট ভিশন ডিভাইসের মতো সাজ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছি৷’ এ থেকেই প্রমাণিত মার্কিন সেনার ফেলে যাওয়া অস্ত্র জঙ্গিদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।

গত প্রায় একবছর ধরে পাকিস্তান সীমান্তে ভারতীয়সেনার কঠোর নজরদারীর ফলে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে৷ যার ফলে জঙ্গি অনুপ্রবেশের জন্য পাকিস্তান সেনার পক্ষ থেকে কভার ফায়ারিং করা সম্ভব হচ্ছে না৷ উল্লেখ্য, প্রতিবছর শীতে বরফ পড়ার আগে পাক বাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য থাকে , কভার ফায়ারিং করে কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটানো।

গত বছর মোটের উপরে নিয়ন্ত্রণরেখা শান্ত থাকলেও , গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এ বছরের গ্রীষ্ম কাল পড়লেই বড়সড় জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা শুরু হবে ৷ আর এতে মুখ্য ভূমিকা নেবে আফগান জঙ্গিরা।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান