ভারতে ৪২টি ভাষা দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যুর দোরগোড়ায়!

বিশ্বজুড়ে বিলুপ্তির পথে বা ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে বহু ভাষা। এই তালিকায় রয়েছে ভারতের বিয়াল্লিশ টি ভাষা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই ১০টি ভাষা…

মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ এর সমান। ভাষা মানুষের মস্তিষ্কজাত একটি মানসিক ক্ষমতা যা অর্থবাহী বাকসংকেতে রূপায়িত হয়ে মানুষের মনের ভাব প্রকাশ করতে এবং একই সমাজের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করে।  পৃথিবীর প্রতিটি জনগোষ্ঠীর একান্তই নিজস্ব যে ভাষা , তাই মাতৃভাষা। ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর  রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ৬৫তম অধিবেশনে স্থির হয় প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে রাষ্ট্রপুঞ্জ। সেই থেকে প্রতিবছর বিশ্ব জুড়ে পালিত হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

মাতৃভাষা দিবস পালন এর গৌরবময়তার মধ্যেও এক আশঙ্কা তাড়া করে বেড়াচ্ছে বিশ্ব ভাষাপ্রেমীদের। যত দিন এগোচ্ছে , প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের জীবন পরিবর্তিত হচ্ছে , পাল্টে যাচ্ছে মানুষের ভাব বিনিময়ের প্রধান উপাদান ভাষার গঠন – আঙ্গিক – বাচনভঙ্গী। ফলে এক ভাষা থেকে যেমন অন্য ভাষায় নতুন শব্দ প্রবেশ করে তার রূপ কে বদল করছে ; তেমনি কিছু ভাষার বিলুপ্তির কারন হয়েও দাঁড়াচ্ছে।

ভারত বহু ভাষাভাষীর দেশ। ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফশিলে (Indian Constitution, schedule 8 )মোট ২২টি নির্ধারিত ভাষা এবং ১০০টি নির্দিষ্ট ভাষা রয়েছে। রয়েছে যুক্তিনির্ভর ১ হাজার ৬৩৫টি মাতৃভাষা। আরও রয়েছে ২৩৪টি চিহ্নিত মাতৃভাষা। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার বিভিন্ন সময় আরও ৩১টি আঞ্চলিক ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এক লাখ বা তার বেশি মানুষ সে ভাষায় কথা বলে। এর মধ্যেই আবার ৪২টি ভাষায় কথা বলে ১০ হাজারের কম মানুষ। এই ৪২টি ভাষা এখন ইউনেসকোর বিপন্ন ভাষার তালিকায় স্থান পেয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ১০টি ভাষা। এগুলো হলো গ্রেট আন্দামানিজ, জারোয়া, লুরো, মুয়োট, ওঙ্গে, পু, সানেন্যিও, সেন্টিলিজ, শম্পেন ও তাকাহান্যিলাং। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, এই ভাষাগুলিকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কারন এগুলি দ্রুত অবলুপ্তির দিকে এগোচ্ছে।

ইউনেস্কোর নয়া রিপোর্টেও ভারতের এই ৪২টি বিপন্ন ভাষা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের চিরতরে হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের গ্রেট আন্দামানিজ, জারোয়া, লুরো, মুয়োট, ওঙ্গে, পু, সানেনিও, সেন্টিলিজ, শম্পেন ও তাকাহান্যিলাং। মণিপুরের ৭টি ভাষা যথা আইমল, আকা, কইরেন, লামগ্যাং, লাংরোং, পুরুম ও তারাও ক্রমে অবলুপ্তির পথে এগোচ্ছে। একই পরিণতি হতে চলেছে হিমাচল প্রদেশের বাঘাতি, হান্ডুরি, পাংভালি ও সিরমাউদি ভাষার।

এছাড়া বিপন্ন তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে ওডিশার মান্‌ডা, পার্জি ও পেঙ্গো, কর্নাটকের কোরাগা ও কুরুবা, অন্ধ্রপ্রদেশের গাডাবা ও নাইকি, তামিলনাডুর কোটা ও টোডা, অরুণাচল প্রদেশের ম্রা ও না, অসমের টাই নোরা এবং টাইরং, উত্তরাখণ্ডের বাঙ্গানি, ঝাড়খণ্ডের বিরহোড়, মহারাষ্ট্রের নিহালি, মেঘালয়ের রুগা এবং পশ্চিমবঙ্গের টোটো,মালতও , শবর, থারু, হাজং , ধীমাল , কয়া ,বিরহর, তামাং উপজাতিদের কথ্য ভাষা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশে বিপন্ন ভাষা রক্ষা ও সংরক্ষণে দীর্ঘ দিন ধরে নিযুক্ত রয়েছে মাইসুরুর কেন্দ্রীয় ভাষা চর্চা প্রতিষ্ঠান(Central Institute of Indian Language)।

কেন্দ্রীয় প্রকল্প অনুযায়ী, বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলিকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াসে ব্যাকরণগত বিবরণ, একভাষিক ও দ্বিভাষিক অভিধান, পাঠ্য পুস্তক, লোক কাহিনি সংগ্রহ, বিপন্ন ভাষার এনসাইক্লোপিডিয়া (Encyclopaedia) ইত্যাদি তৈরি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার কাজ চলেছে।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার- টুইটার

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান