ইউক্রেন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস – দাবি রাশিয়ার,ভারতের সাহায্য প্রার্থনা ইউক্রেনের

ইউক্রেনের ২৩ টি শহরে একযোগে রুশ হামলা। নিহত ১১ ইউক্রেনীয়।ভারতের কাছে কূটনৈতিক সাহায্য প্রার্থনা করলো ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত

একনজরে :

  • ইউক্রেনের ২৩ টি শহরে একযোগে রুশ হামলা
  • হামলায় নিহত ১১ ,আহত অন্তত 230 জন
  • রাজধানী কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণ
  • রাশিয়াকে সমর্থন চীনের
  • পতন ডানবাস অঞ্চলের
  • ভারতের কূটনৈতিক সাহায্য চাইলেন ভারতে নিযুক্ত ইউক্রেন রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদন : সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ঘোষণা করে রাশিয়া ইতিমধ্যেই পূর্ব ইউরোপের ক্রিমিয়া দিয়ে ইউক্রেনে ঢুকে পড়েছে । এরপরই রাজধানী কিয়েভ, খারকিভ-সহ একাধিক শহরে শোনা যায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। এমনকি ইউক্রেন নিয়ে কোনও বিদেশি শক্তি নাক গলালে তার ফল ভুগতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। 

ইউক্রেন দখলের কোনো অভিসন্ধি নেই – একথা বহুবার বিশ্বকে জানানোর পরেও রাশিয়ান সেনা বাহিনী পূর্ব ইউক্রেন সীমান্তের ক্রিমিয়ার মধ্য দিয়ে ইউক্রেনে ঢুকতে শুরু করেছে। এর আগেই একতরফা ভাবে ইউক্রেন এর লুগানস্ক ও ডোনেৎস অঞ্চলের স্বাধীনতা ঘোষণা করে রাশিয়া। তার দুদিনের মধ্যেই পুরোদস্তুর সামরিক অভিযান শুরু করেছে রাশিয়া। উক্ত দুটি অঞ্চল ইতিমধ্যেই রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানা গেছে।

রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেনের বিমান বন্দর ও বিমান ঘাঁটি গুলো। রাশিয়ার ছোরা ক্ষেপণাস্ত্র এর আঘাতে ইউক্রেনের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গেছে বলে রাশিয়া দাবি করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের দাবি তারা পাঁচটি রুশ যুদ্ধ বিমান ও একটি হেলিকপ্টার গুলি করে নামিয়েছে। রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ এর শব্দ পাওয়া গেছে।

এদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে আগেই ইউক্রেন সীমান্তে এয়ারস্পেস বন্ধ করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনও তাদের ৩টি বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে। গোটা দেশে জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা। ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের দূতাবাস খালি করেছে মস্কো। ইউক্রেনের তরফেও তাদের নাগরিকদের রাশিয়া ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আজ ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেছে G-7 গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি। বৈঠকে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

অন্যদিকে চীন স্বাভাবিক ভাবেই রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। ইরাকের প্রসঙ্গ টেনে আমেরিকাকে বিঁধেছে চীন।চীনের আরেক পরম মিত্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইউক্রেনে রুশ হামলাকে চরম রোমাঞ্চকর বলে উল্লেখ করেছেন। ইমরান খানের এই উক্তি কতটা সুস্থ মস্তিষ্কের পরিচয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশেষজ্ঞ মহল।

রাশিয়াকে প্রতিহত করতে প্রত্যেক ইউক্রেন বাসীর হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভোলদিমির জেলেনস্কি।

এদিকে ন্যাটো ভুক্ত দেশগুলো ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দিলেও ইউক্রেনকে কতটা সামরিক সাহায্য করবে তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে।এদিকে সংকট নিরসনে ভারতের সাহায্য চাইলেন ভারতে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইগর পলিখা । বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান সংকট নিরসনে আমরা ভারতের সাহায্য চাইছি। কারন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্কট নিয়ন্ত্রণে নয়াদিল্লি সদর্থক ভূমিকা নিতে পারে। আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অবিলম্বে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং আমাদের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি ।”

সৌজন্যে-টুইটার/ছবি-সংগৃহিত

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান