রুশ ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে , ভারতে বাড়তে পারে নানা পণ্যের দাম

যুদ্ধের কারনে বিশ্ব বাজারে ধস।বাড়ল সোনা – অপরিশোধিত তেল সহ বিভিন্ন পণ্যের।

নিজস্ব প্রতিবেদন : ইউক্রেন- রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি তে চরম ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিশ্ব জুড়ে অস্থির শেয়ার মার্কেট এবং অপরিশোধিত তেলের দাম । যদিও ভারত এখনও কোনও পক্ষেই অবস্থান নেয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশে আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে বিভিন্ন জিনিসের দাম। এর মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেলে, সোনা , সূর্যমুখী তেল, গম , LPG দাম , কয়লা , তামা , পেট্রোপন্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস।

ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (US Energy Information Administration) এর তথ্য অনুসারে, ২০২০ সালে, রাশিয়া ছিল তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ । প্রতিদিন আনুমানিক ১০.৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করা হত। যুদ্ধের ফলে, অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস পেলে দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। যুদ্ধের ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত আট বছরের সমস্ত অতীত রেকর্ড ভেঙে নয়া জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে । Brent Crude Oil-এর দাম পৌঁছে গিয়েছে 101.90 ডলার প্রতি ব্যারেলে। পাশাপাশি WTI Crude Oil-এর দাম পৌঁছে গিয়েছে ব্যারেল প্রতি 96.21 ডলারে।

ভারত যেহেতু তার জ্বালানি তেলের মোট চাহিদার প্রায় ৮৬ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হিসেবে আমদানি করেতাই এই সংকটের সময়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলির মধ্যে একটি হতে চলেছে ভারত। ভারতে এক লাফে কয়েকগুন বাড়তে চলেছে আমদানি খরচ। আমদানি খরচ সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে তার প্রভাব পরবে মুদ্রাস্ফীতিতে , যা বৃদ্ধি করবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্র এর দাম।

এছাড়াও ভারতের সূর্যমুখী তেলের মোট চাহিদার ৭০ শতাংশই আসে ইউক্রেন থেকে। এই তেলের দাম বাড়লে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির সমূহ সম্ভাবনা । এছাড়াও অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে বাড়বে LPG এবং কেরসিন তেলের দাম। 

সোনার দাম সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে । রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান এর ঘোষণা করার পরেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম গত নয় মাসের মধ্যে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এদিন ১০ গ্রাম পাকা সোনার দাম বেড়েছে ২২৫০ টাকা।

কয়লার দাম বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়বে, যার ফলে বিদ্যুত মাসুল বৃদ্ধি পাবে।

ভারতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গম। এই যুদ্ধের ফলে গমের দামে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়ই দেশই বিশ্বের দুটি বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশ। পৃথিবী জুড়ে গমের মোট উৎপাদনের প্রায় এক চতুর্থাংশ আসে এই দুটি দেশ থেকে।
যুদ্ধের কারণে গমের সরবরাহে ঘাটতি, খাদ্যের দামে তীব্র বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। 

অন্যদিকে রাশিয়া প্যালাডিয়ামের বৃহত্তম রপ্তানিকারক। এই ধাতু মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে স্বয়ংক্রিয় নিষ্কাশন সিস্টেম পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহার হয়। নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ধাতুর সরবরাহে যে কোনও ব্যাঘাত এই পণ্যগুলির সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা তাদের দামকে আরও বাড়িয়ে দেবে।   

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দাম বাড়তে পারে কোবাল্ট এর। বিশ্বের মোট উৎপাদন এর চার শতাংশ কোবাল্ট উৎপাদন করে রাশিয়া। গত বছর রাশিয়ার কোবাল্ট উৎপাদন এর পরিমাণ ছিল ৭,৬০০ টন। এটি প্রধানত কাঁচ, বার্নিশ, রং , সিরামিক , কালি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও বাড়তে পারে তামার দাম। ফলে বৈদ্যুতিক পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা।

এদিকে উদ্বেগ বাড়িয়ে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের ‘যুদ্ধের’ জেরে বৃহস্পতিবার ধস নামল ভারতের শেয়ার বাজারে। পড়ল সেনসেক্স এবং নিফটি। পতনের সাক্ষী থাকল ৩,০৮৪ টি সংস্থার শেয়ার দিনের শেষে নিফটি ৪.৭৮ শতাংশ কমে ১৬,২৪৭.৯৫-এ বন্ধ হয়েছে। একই অবস্থা সেনসেক্সের। ৫৪,৫২৯.৯১ তে থেমেছে সেনসেক্স। এই ক্ষেত্রে ৪.৭২ শতাংশ তলানিতে নেমেছে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান