ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট এর মধ্যেই বিশ্বের মধ্যে সর্ববৃহৎ ” সোলার ট্রি ” স্থাপিত হলো মেদিনীপুরে ।
একটি সৌর গাছ বা সোলার ট্রি হল একটি কাঠামো যা একটি গাছের কাণ্ডের মতো একটি একক স্তম্ভে সৌর শক্তি প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করে যা থেকে কার্যকরী শক্তি উৎপাদন সম্ভব।

সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট- এর সহযোগিতায় মেদিনীপুরে , রাজা নরেন্দ্র লাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ে ১১.৫ কিলোওয়াট পিক – পাওয়ারের একটি সোলার ট্রি বসানো হয়েছে । ৩৫ থেকে ৪৫ ইউনিট , ” গ্রীন এন্ড ক্লিন এনার্জি ” উৎপাদন করতে পারা এই সোলার ট্রি -টিতে ৩৩০ ওয়ার্ড পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ৩৫ টি সোলার প্যানেল রয়েছে ।
এই ‘ সোলার ট্রি ‘ টি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ মহাবিদ্যালয় এর চাহিদাকে আংশিকভাবে মেটাতে সক্ষম বলে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জয়শ্রী লাহা দাবি করেছেন । সেই সঙ্গেই তিনি জানান , চাহিদার থেকে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে তা পাওয়ার গ্রিডে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব । জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় এই ” সোলার ট্রি ” টি ১০ থেকে ১২ টন কম পরিমাণে কার্বন ডাই – অক্সাইড নির্গমন করে পরিবেশের সহায়ক হবে।
সিএসআইআর দুর্গাপুরের অধিকর্তা ড . হরিশ হিরানী জানান , বিশ্বের মধ্যে সর্ববৃহৎ ” সোলার ট্রি ” এটি ।
2016 সালে, দুর্গাপুরে অবস্থিত CSIR- সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট , দেশে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির অংশ বাড়িয়ে বিদ্যুতের সংকট পূরণের জন্য জাতীয় মহাসড়ক এবং প্রচলিত পাওয়ার গ্রিড সিস্টেমের পাশাপাশি গ্রামে সৌর বিদ্যুৎ কে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য সোলার ট্রির আরেকটি মডেল উদ্ভাবন করে। এই ধরনের সৌর কাঠামো 2×2 বর্গফুট জায়গার 3-7 Kwh তে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। এই সৌর গাছগুলি ইতিমধ্যেই CSIR ক্যাম্পাসে, সিএসআইআর-এর সদর দফতর এবং ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর আবাসিক ক্যাম্পাসে বসানো হয়েছে এবং সেগুলি কাজও করছে । CSIR-CMERI-এর গবেষকরাও পাবলিক পার্ক, বাগান, বাজার ইত্যাদির স্থানে প্রয়োজন অনুসারে সৌর গাছ বসানোর কাজ করছেন।

