ভারতের রেলের (Indian Railways) দীর্ঘতম টানেল(T-49-এর)-এর সংযুক্তিকরণ অবশেষে সমাপ্ত হয়েছে। বহুদিনের আকাঙ্খার ফল মিলেছে এতদিন পরে। উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেল লিঙ্কের কাটরা-বানিহাল সেকশনের সাম্বার (Sumber) এবং আরপিনচালা (Arpinchala station) স্টেশনের মধ্যে সংযুক্তিকরণের যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, তা সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে।
উত্তর রেলওয়েকে জানানো হয়েছে কাটরা বানিহালের মধ্যে 111 কিলোমিটারের মধ্যবর্তী প্রসারণের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে, রেলওয়ে জানিয়েছে।
উধমপুর শ্রীনগর বারামুল্লা রেল প্রকল্পটির কাজ ছিল 272 কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মধ্যে। তার মধ্যে 161 কিলোমিটার ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে। একইসাথে কাটরা বানিহালের মধ্যে 111 কিলোমিটারের মধ্যবর্তী প্রসারণের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে, যা কয়েক মাসের মধ্যেই সমাপ্ত হবে।
তবে ভারতের সর্ববৃহৎ টানেলের কাজ সমাপ্তির পর উত্তর রেলওয়ে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, “চলমান কাটরা-বানিহাল সেকশনে সাম্বার এবং আরপিনচালা স্টেশনের মধ্যে টানেল T49-এর ব্রেক-থ্রু কার্যকর করার মাধ্যমে একটি বড় মাইলফলক অর্জন করা হয়েছে। এটি উল্লেখ করা সার্থক যে সুড়ঙ্গের লাইন এবং স্তরটি অবিকল ব্রেক-থ্রুতে অর্জিত হয়েছে।” ( “A major milestone has been achieved by executing break-through of Tunnel T49 between Sumber and Arpinchala Station on ongoing Katra-Banihal Section. It is worthwhile to mention that line and level of the tunnel is precisely achieved in break-through,”)
টানেল T-49-এর দক্ষিণ পোর্টাল জেলা মূল সদর দপ্তর থেকে 45 কিলোমিটার দূরে মনোরম সাম্বার গ্রামে অবস্থিত। আর উত্তর পোর্টাল 1400 মিটার উচ্চতায় জম্মু ও কাশ্মীরের রামবান জেলার তহসিল খারির আরপিনচালা গ্রামের কাছে অবস্থিত।
T-49 টানেলের মূলত দুটি টিউব রয়েছে। একটি মূল টানেল এবং অন্যটি এস্কেপ টানেল। টানেলটি এন এ টি এম বা নিউ অষ্ট্রিয়ান টানেলিং মেথড (New Austrian Tunneling Method) দ্বারা নির্মিত হয়েছে। এই পদ্ধতি অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির ফসল। একইসাথে এটি ড্রিল এবং ব্লাস্ট পদ্ধতির একটি আধুনিক কৌশল। টানেলের ক্রস-সেকশন প্রোফাইলটি পরিবর্তিত ঘোড়ার নালের আকৃতির। আর এই টানেলের দৈর্ঘ্য অনেক লম্বা।
এই টানেলটির মধ্যে 1 রুলিং গ্রেডিয়েন্ট রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, মূল টানেলের সমান্তরালে নির্মিত এস্কেপ টানেলটি উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারের কাজের সুবিধার্থে 375 মিটার ব্যবধানে ক্রস প্যাসেজ দ্বারা সংযুক্ত করা হয়েছে। এই সম্পূর্ণ নির্মাণকল্পটি আই আর সি ও এন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে অর্পণ করা হয়েছিল।
রেলওয়ের বক্তব্য অনুযায়ী এটি নির্মাণের সময় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। যেমন –শিলা চাপার সমস্যা, জলের উচ্চ প্রবেশ, শিয়ার জোন, পার্চড অ্যাকুইফার। তবে উত্তর রেলওয়ের অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের দল, IRCON এবং কার্যকরী সংস্থা HCC এবং AFCONS সফলভাবে সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে। ফলে এই সাফল্যের ভাগীদার সকলেই।
এমনকি সবচেয়ে বড় বিষয় হল যে, টানেলের নির্মাণ চলাকালীন স্থানীয় জনগণকে বিভিন্ন কাজের জন্য এজেন্সি দ্বারা নিযুক্ত করা হয়েছিল, যা সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক ল্যান্ডস্কেপে পরিবর্তন এনেছে। স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
