হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ এবং তৎক্ষণাৎ কি করা উচিত জেনে নিন!

আমরা সবাই চাই সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে। আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল হার্ট। কারণ এই হার্টের মাধ্যমেই শরীরের সমস্ত রকম অক্সিজেন যুক্ত রক্ত সরবরাহ হয়ে থাকে। এই হার্ট বিকল হয়ে গেলে আমাদের শরীরে প্রচন্ডভাবে তা প্রভাব ফেলে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। হার্টের সমস্যা দেখা দিলে সারা শরীরে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। আর এই কারণে আমাদের মৃত্যু অবধি ঘটতে পারে।


বিভিন্ন সময় দেখা যায় বহু মানুষ হার্টফেলের কারণে মারা যান। আমাদের হার্ট থেকে সরাসরি করোনীয় ধমনীর মাধ্যমে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ হয় । এবার আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভাসের ফলে যদি প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট আমাদের শরীরে জমা হতে থাকে, তাহলে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয়। যার ফলে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ হতে সমস্যা দেখা দেয়। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে বড় রকমের সমস্যা ঘটতে পারে।


হার্টফেলের কিছু লক্ষণ আছে যে লক্ষণগুলো সাহায্যে কেউ বুঝতে পারে যে কোনো মানুষের হার্ট ফেল হতে চলেছে। যেমন-
1. হার্টফেল এর সময় শুধু বুকের উপরেই নয় হাতের পিছন দিকটা অর্থাৎ পিঠের দিকে ব্যথার তৈরি হয়, যার ফলে সহজেই বোঝা যায় যে সেটি হার্টের কোন সমস্যার কারণেই হচ্ছে।
2. হার্টফেল হওয়ার আগের মুহূর্তে প্রচন্ডভাবে ঘাম হয়।
3. হার্টফেলে হওয়ার আগের মুহূর্তে প্রচন্ডভাবে মাথা ঘুরতে থাকে, যেন মনে হয় কেউ পড়ে যাবে।
4. শরীরের ভেতরে ধরপাকড় করা শুরু হয়, সাথে অস্বস্তি বোধ হতে থাকে।


এইসব উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না অনেক সময়। তাই তৎক্ষণাৎ কি করা উচিত জেনে নিন–

1. উপসর্গ রয়েছে এমন মানুষকে সবার আগে কমফোর্টভাবে রাখার ব্যবস্থা করুন।

2.আক্রান্ত যদি সামনে কোনওরকম উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার সৃষ্টি হয়, তাহলে সেই পরিস্থিতি থেকে তাকে বের করে এনে শান্ত পরিবেশে রাখা উচিত।

3. এরপর আক্রান্তের মাথা ও কাঁধে সাপোর্ট দিয়ে হালকা করে কোমর ঝুঁকিয়ে রাখতে বলুন।

4. জোরে জোরে শ্বাস প্রশ্বাস নিতে বলুন।

5. হালকা করে কোনকিছু চিবানোর মতো করে ব্যায়াম করতে বলুন।

6. রেস্ট নিতে বলুন।

7. অ্যানজিনা মেডিটেশন করতে বলতে পারেন।

8.রোগীর হাত সোজা করে রেখে বুকের মাঝখানে দু’ফাত দিয়ে জোরে জোরে ও শীঘ্রই চাপ দিতে থাকুন।

9. রোগীর মুখের ভিতরে মুখ দিয়ে ফু দিন যাতে জোরে জোরে বাতাস প্রবেশ করতে পারে। আড়াই মিনিট অন্ততঃ এমন করুন।

10. যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারকে খবর দিন। অ্যাম্বুলেন্সের নম্বরে ফোন করুন। এতে ডাক্তাররা ইসিজি, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন কতোটা বন্ধ হয়েছে বা হার্টের অবস্থান কি তা জেনে চিকিৎসা শুরু করে দিতে পারবেন। তাই এক্ষেত্রে গাফিলতি করা একেবারেই উচিত নয়।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান