কয়েক বছর আগে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান বলে খ্যাত নবদ্বীপে কসাইখানা নির্মাণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে মঙ্গলবার হাইকোর্ট এ জানাল রাজ্য সরকার।

শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু প্রাচীন যে শহর থেকে সারা বিশ্বে জুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ভক্তি প্রেম ও অহিংসার মহান বাণী সেই শ্রী চৈতন্যের পদধুলি ধন্য নদীয়ার নবদ্বীপ (Nabadwip) এ কোনও কসাইখানা থাকবে না বলে জানাল রাজ্য। বৈষ্ণব ক্ষেত্র নবদ্বীপ পুরসভার অন্তর্গত কোথাও হবে না কসাইখানা (Slaughter House)।
কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় এসে অবৈধ কসাইখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি তারা জানায়, যত্রতত্র নয়, সরকারি নজরদারিতে জেলায় জেলায় নির্দিষ্ট কয়েকটি কসাইখানা চালুর অনুমতি দেওয়া হবে। কেন্দ্রের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কসাইখানার পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রক। ইতিমধ্যে সেই অর্থ নির্দিষ্ট পুরসভাগুলোকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কেন্দ্রের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী নবদ্বীপে একটি কসাইখানা নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
কয়েক বছর আগে নবদ্বীপ শ্মশান এর পার্শ্ববর্তী যে স্থানে কসাইখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল , সেটি বৈষ্ণব সমাধি ক্ষেত্র বলে দাবি স্থানীয় মানুষের। সেখানে তৈরি হয়ে গিয়েছিল কসাইখানার কাঠামোও । তারপরেই এ নিয়ে সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বৈষ্ণব সমাজ তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে । একসময় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলাও হয় যথেষ্ট । কসাইখানা নির্মাণ এর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা হাইকোর্ট এ এতদিন মামলা চলছিল । সেই মামলা মঙ্গলবার খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। সব বিতর্কে জল ঢেলে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে অবস্থান স্পষ্ট করে দিল রাজ্য সরকার। পাশাপাশি স্থানীয় পুরসভার পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয়, নবদ্বীপে কোনো কসাইখানা হবে না (No Slaughter House in Nabadwip)। নিয়ম মেনে কসাইখানা তৈরির জন্য বরাদ্দ কেন্দ্রীয় অর্থ ইতিমধ্যেই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ।
কসাইখানা নির্মাণের অর্থ কেন্দ্রকে ফেরতের নথিও মঙ্গলবার আদালতে পেশ করে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজ্ঞানসম্মত কসাইখানা তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় পুরো আইন মেনে কসাইখানা তৈরির রীতি। কসাইখানায় পশু চিকিৎসক থাকাও আবশ্যিক।
বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে ওই কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার নির্দেশিকায়। কেন্দ্রের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কসাইখানার পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করবে কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রক। ইতিমধ্যে সেই অর্থ নির্দিষ্ট পুরসভা গুলোকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কেন্দ্রের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্বে মহাপ্রভুর জন্মস্থান বলে খ্যাত নবদ্বীপে একটি কসাইখানা তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ২০১৭ সালে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন ভক্তি সাধন তাপার মহারাজ। আবেদনকারী হাইকোর্টে জানান , নবদ্বীপ সারা বিশ্বে মহাপ্রভুর জন্মস্থান বলে সুখ্যাত । মহাপ্রভুর আবেগ নবদ্বীপের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সারা বিশ্বের মানুষ প্রতিদিন নবদ্বীপ এ আসেন মহাপ্রভুর টানে । এমন একটি স্থানে কসাইখানা তৈরি , সঠিক পদক্ষেপ নয়। আদালতকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন জানান আবেদনকারী । মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট (kolkata Highcourt) এর প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের আইনজীবী তপন মুখোপাধ্যায় আদালতকে জানান রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবদ্বীপে কোনওভাবেই কসাইখানা তৈরি করা হবে না।
ইতিমধ্যে নবদ্বীপ পুরসভা থেকে কসাইখানার জন্য বরাদ্দ অর্থ কেন্দ্রকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালতে উপস্থিত কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীও রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে মামলার নিষ্পত্তি ঘোষণা করে দেয় এদিন।
