দূরসম্পর্কের বোন বিজয়া হয়ে উঠেছিলেন সত্যজিৎ জায়া

সত্যজিৎ ও বিজয়া

সত্যজিৎ রায়ের থেকে বিজয়া দাস ছিলেন বছর চারেকের বড়। আরো চমকপ্রদ বিষয় হল বিজয়ার দূরসম্পর্কের পিসতুতো ভাই ছিলেন সত্যজিৎ । দুজনেই একসময় বিবাহের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। শেষে চারহাত এক করেন রায় পরিবারের চিকিৎসক নসুবাবু।

আকাশে বাতাসে বসন্তের হাতছানি , কোকিলের কুহুতান , পলাশ রাঙা প্রান্তর , গাছে গাছে সবুজ কিশলয় মন ফাগুনের আঙিনায় রঙের দোলা দিয়ে মনে করিয়ে দিচ্ছে ‘বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’। এই বসন্ত বেলায় আজ একটু ছুঁয়ে আসা যাক আমাদের প্রিয় সত্যজিৎ-বিজয়া র বসন্ত দিনে।

সত্যজিৎ রায় (Satyajit Roy) ও বিজয়া দাস (Bijoya Das) দুজনেই একসময় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কোনওদিন বিয়ে করবেন না , যেভাবে চলছে সেভাবেই সব চলুক । কিন্তু অনেক বাঁধা অতিক্রম করে প্রবাদপ্রতিম চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে বিজয়া রায়ের বিয়ে হয়েছিল ১৯৪৯ সালের এক বসন্ত দিনে (৩ মার্চ)। সত্যজিৎ- বিজয়ার প্রেমকাহিনী কোনো চলচ্চিত্রের থেকে কম নয়।

বিয়ের দু’চারদিন পরে সকালে সত্যজিৎ রায়ের মা সুপ্রভা দেবী (Suprava Roy) তরকারি কাটছেন ,পাশে এসে বসলেন নববিবাহিতা বিজয়া । বেশ একটু ভয়ের সঙ্গেই বললেন , তাকে কেন তরকারি কাটতে দেওয়া হচ্ছে না , তিনি তো তরকারি কাটতে পারেন , কী কী কাটতে হবে জানতে চাইলে শাশুড়ি মা বললেন ‘ সে পরে হবে ‘ ।

কিন্তু এরপরেই যে আসল সমস্যাটা তৈরি হল , ছেলের বউ মেজোপিসিকে (সুপ্রভা দেবী) জিজ্ঞেস করলেন ‘ এবার থেকে তোমাকে কী বলে ডাকব ? পিসিমা উত্তর দিলেন, কেন এতদিন পিসিমা বলেছো এবার ‘ পিসি’টা বাদ দিয়ে শুধু মা বলে ডাকবে । মানিক (সত্যজিৎ রায়ের ডাক নাম মানিক ) বাবুর স্ত্রী হিসেবে বিজয়া রায় কে খুব ভালবাসতেন বাড়ির সকলে। তাদের বিয়েটা মেনে নেওয়ার নেপথ্যে সবথেকে বড় কারণ সম্ভবত দুজনেই সবার প্রিয় ছিলেন ৷

সত্যজিৎ রায় ও বিজয়া রায়ের ঘনিষ্ঠতা শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ সালের দিকে , বিজয়া দাশ তখন বেথুন স্কুলে (Bethune School) চাকরি করেন , কমলা গার্লস স্কুলে এর আগে কিছুদিন চাকরি করেছিলেন ।

শৈশব ও প্রৌঢ়

বিজয়া রায় নিজেই বলেছেন মানিকের সঙ্গে একসঙ্গে কবে বসে মিউজিক শুনতে শুনতে কবে তারা পরস্পরের প্রেমে পড়েছেন সেটা বলতে পারবেন না। একজন পুরুষের মধ্যে যা গুণ থাকা দরকার সবই ছিল মানিকবাবুর মধ্যে ,বরং একটু বেশিই ছিল । কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায় ।একে তো মানিক, বিজয়ার থেকে বয়সে চার বছরের ছোট , উপরন্তু তারা আবার নিকট আত্মীয়( বিজয়া ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের দূরসম্পর্কের বোন ) । কাজেই বিয়ের কথা ভাবা অসম্ভব , দুজনে সিদ্ধান্ত নিলেন কোনওদিন বিয়ে করবেন না , যেভাবে চলছে সেভাবে সব চলুক ৷

মানিক বাবু বি.এ পাশ করেছেন । এখন মায়ের ইচ্ছা ছেলে শান্তিনিকেতনে কলাভবনে ভর্তি হোক , কারণ বাবারও (সুকুমার রায়) তাই ইচ্ছা ছিল । মানিকবাবু যদিও সেখানে যেতে চান নি , কিন্তু তাঁর সে আপত্তি বিশেষ পাত্তা পেল না মায়ের কাছে। আসলে ফাইন আর্টস শিখতে তিনি আগ্রহী ছিলেন না । কিন্তু নেপথ্যের আরও বড় কারণ বিজয়া , তাঁকে ছেড়ে শান্তিনিকেতন (Shantiniketan) যেতে হবে সেটা কিছুতেই ভাবতে পারছিলেন না মানিক । শেষে বিজয়া তাঁকে বুঝিয়ে শান্তিনিকেতনে পাঠালেন । তবে শর্ত হল প্রতিদিন দু’জন দু’জনকে চিঠি লিখবেন। মানিক বাবু প্রচুর চিঠি লিখেছেন সেইসময় , যদিও পরবর্তীতে সত্যজিৎ জায়া আক্ষেপ করে বলেছিলেন, সবার কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সেই সব চিঠি তিনি রাখেননি ৷

১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞাপন সংস্থা ডি জে কিমার কোম্পানি তে মাত্র ৮০ টাকা বেতনের বিনিময়ে “জুনিয়র ভিজুয়ালাইজার” হিসেবে কাজে যোগ দিয়ে শান্তিনিকেতন থেকে সত্যজিৎ রায় কলকাতায় ফিরেছেন। সেই সময় এক পাঞ্জাবি ভদ্রলোক বংশী চন্দ্রগুপ্ত (Bangshi Chandragupta)এর সঙ্গে তার সখ্য তৈরি হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি কলকাতায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে পরিচিতি গড়ে , তাদের কাছ থেকে শহরে আসা নতুন মার্কিন চলচ্চিত্রগুলোর খবর নিতেন। এই সময় তিনি নরম্যান ক্লেয়ার (Norman Claire) নামের রয়েল এয়ার ফোর্স (Royal Air Force) এর এক কর্মচারীর সংস্পর্শে আসেন, যিনি সত্যজিতের মতোই চলচ্চিত্র, দাবা ও পাশ্চাত্যের ধ্রুপদী সঙ্গীত পছন্দ করতেন। নরম্যান ক্লেয়ার এর কলকাতায় থাকার সমস্যা ছিল , মানিববাবু তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এলেন , তাঁরই ঘরে বাড়তি একটা খাট পেতে নরম্যান এর থাকার ব্যবস্থা হল । নরম্যান আর মানিক দুই বন্ধু তখন ঘন্টার পর ঘন্টা দাবা খেলেন ৷

জে ডি কিমার কোম্পানিতে অন্যান্য সহকর্মীদের মাঝে সত্যজিৎ রায়

বিজয়া ও তার মা থাকতেন বিজয়ার কাকার বাড়িতে। ইতিমধ্যে বিজয়ার দু’একটা বিয়ের সম্বন্ধ আসা শুরু হয়েছে কিন্তু প্রতিবারই তিনি না বলেছেন। এইজন্য তাঁর কাকা বিজয়ার উপরে কিছুটা অসন্তুষ্টও হন । উপার্জন করতে বিজয়া রায় ঠিক করলেন সিনেমায় অভিনয় করবেন। কিন্তু সত্যজিৎ বাবু আপত্তি করেছিলেন কারণ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তখন তেমন সুনাম ছিল না৷ বিজয়া ‘শেষরক্ষা’ বলে একটা ছবিতে অভিনয় করলেন , অবশ্য তার আগে মুক্তি পেয়েছিল ‘ সন্ধা ‘ কিন্তু দুটোই ফ্লপ করল। এবার একটু বিপদে পড়লেন বিজয়া।

বিজয়া মানিককে সব বললেন । মানিক শুনে বললেন ভালই হয়েছে , ওসব আজেবাজে ছবিতে অভিনয়ের কোনো মানেই হয় না ৷ ‘ কিন্তু উপার্জন তো করতে হবে ৷ কারন কাকা কাকিমার গলগ্রহ হয়ে থাকার কোনো ইচ্ছে বিজয়ার নেই । আবার হাত – পা গুটিয়ে বসে থাকার মেয়েও তিনি নন । মানিক একটু ধৈর্য্য ধরতে বললেন বিজয়কে। তাতে বিজয়া বললেন ‘ বিয়ে করব না বলে যখন ঠিক করেছি , তখন একটা কিছু আমাকে করতেই হবে , সারাজীবন কাকা কাকিমার গলগ্রহ হয়ে আমি থাকব না ‘ উত্তরে মানিক বললেন , খুব তাড়াতাড়ি আমার চাকরিতে প্রমোশন হবে । মাইনেটা আর একটু বাড়লেই তোমাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারব ‘ । মানিক তার প্রানের মানুষ হলেও অত্যন্ত আত্মসম্মান বোধ সম্পন্ন বিজয়া জবাব দিলেন , ‘ তোমার টাকা আমি নিতে যাব কেন ‘ ? আমাদের বিয়ে হলে সেটা হত , কিন্তু তা যখন হবার নয় , তখন বৃথা তর্ক করে কোনও লাভ নেই ‘ ।

যুবক সত্যজিৎ

বিয়ে যে দু’জনের মধ্যে হওয়া একপ্রকার অসম্ভব সেটা জেনেও দু’জন দু’জনকে নানা উপহার দিতেন ৷ বিজয়া রায়ের মেজদি তাঁকে বম্বেতে যেতে বলছেন , কিন্তু মানিকবাবু যেতে দিতে রাজি নন । এই নিয়ে প্রেমিক – প্রেমিকার শুরু হল মান – অভিমানের পালা । শেষে যদিও বা মানিকবাবুকে রাজি করানো গেল , কিন্তু মানিককে ছেড়ে যেতে বিজয়ার মন সায় দেয়না। আবার মনের দুঃখ – অভিমান কাউকে বলাও যায় না ।

শেষ পর্যন্ত বিজয়া রায় বোম্বেতে গেলেন , ভীষণ মনখারাপ নিয়ে , মানিকের সাথে হয়তো বছরে এক বা দু’বার দেখা হবে ! নীতিন বোসের মা ছিলেন ট্রেনের সেই কম্পার্টমেন্টে , তিনি আবার উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (Upendra Kishor Roychowdhury) র আপন বোন ৷ নীতিন বসুর বোন সোনা , তাঁর সঙ্গে বিজয়া রায়ের আলাপ ছিল , সোনার মা বিজয়াকে কে প্রশ্ন করলেন ‘ তুমি কবে বিয়ে করছো ‘ ? নানান কথাবার্তার মাঝে নীতিন বসুর মা একসময় বললেন ,’ বিয়ে করাটা মেয়ে মানুষের ধর্ম ‘। কিন্তু বিজয়া তাকে কিভাবে বোঝাবেন যে , যাকে তিনি বিয়ে করতে চান , তার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই ৷

এদিকে বলাই নামে এক ভদ্রলোকের সঙ্গে বিজয়ার বিয়ে দেবেন বলে ঠিক করেছেন তাঁর মেজদি । তবে মানুষ বলাই ছিলেন অন্যধাতুতে গড়া । সহনশীল , উচ্চশিক্ষিত , প্রবল সেন্স অফ হিউমার সমৃদ্ধ মানুষ বলাই। তিনি বিজয়ার সব কথা শুনে বুঝলেন তাঁর সঙ্গে বিজয়ার বিয়ে হবে না , বরং তিনি তখন মানিক-বিজয়ার যোগাযোগের মাধ্যম হলেন ৷

মানিকবাবু তখন বালিগঞ্জ গার্ডেনসে ( Ballygunge Gardens )আস্তানা গেড়েছেন। বিজয়া ভুলাভাই দেশাই পিকচার্সের ব্যানারে ‘ জনতা’ বলে একটা ছবির কাজ শুরু করেছেন৷ অনাদি দস্তিদার বিজয়াকে গান শেখাতেন । অত্যন্ত স্নেহও করতেন । তিনি একদিন বিজয়া বললেন , এসব ছেড়ে বিয়ে করতে । কিন্তু দুর্বল মুহূর্তে বিজয়া বলে ফেললেন , আসলে তিনি সত্যজিৎ রায় (Satyajit Roy) কে ভালবাসেন । প্রথমে শুনে চমকে উঠলেও অনাদিবাবু সত্যটা মেনে নিলেন।

১৯৪৭ সালে বম্বেতে একটা ছবি করার কথা থাকলেও মানিকবাবুর কথায় তা প্রত্যাখান করেছিলেন বিজয়া। এদিকে মানিক বাবু মাসে মাসে বিজয়কে টাকা পাঠিয়ে দেবেন বললেও বিজয়া সেই টাকা গ্রহন করবেন না বলে পণ করে আছেন । বিজয়া মানিককে বললেন, ‘ যেহেতু আমাদের কোনওদিন বিয়ে হবে না ,তাই সারাজীবন মানিক সাপোর্ট করে যাবে এটা হয় না । তাছাড়া ভবিষ্যতের কথা তো কেউ বলতে পারে না , যদি কোনওদিন মানিক আর কারও প্রেমে পড়েন ‘ ? কথা শেষ হল না , মানিকবাবু বিজয়কে বললেন ‘ তুমি খুব ভাল করে জানো যে , তোমাকে ছাড়া আমি কাউকে কখনও বিয়ে করব না। তাতে যদি বিয়ে না হয় তো হবে না।

দুই প্রেমিক – প্রেমিকার কথোপকথনের সারাংশ হল মানিকবাবু কী পারবেন তাঁর মাকে তাঁদের বিয়ের ব্যাপারে রাজি করাতে ! সত্যজিৎ রায় দৃঢ় স্বরে বললেন ‘ দেখো সব ঠিক হয়ে যাবে’।বলেই বললেন চলো তোমার জন্য একটা এনগেজমেন্ট রিং কিনব । সোনার জল করা একটা রুপোর আংটি কিনে পরিয়ে দিলেন বিজয়ার আঙুলে ।

মানিকবাবুর বাড়িতে ফোন ছিল না , তিনি কাকার বাড়ি থেকে ট্রাঙ্ককল করে বিজয়া রায়ের খোঁজ নিতেন । একদিন বললেন কিছু একটা করতে হবে । বিজয়া তখন বোম্বেতে । একদিন নিজে বোম্বে (Mumbai) এলেন সত্যজিৎ। নিভৃতে বিজয়াকে বললেন তাদের বাড়ির ডাক্তার নসুবাবুকে তিনি সব বলেছেন । মা’কে যদি কেউ রাজি করাতে পারেন তবে একমাত্র তিনিই পারবেন । অবশ্য মানিকবাবু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রেজিস্ট্রেশন ও বিয়ের ব্যাপারটা বোম্বেতে সেরে নেবেন , তারপর যা হয় হবে৷ মেজদিকে গোটা ঘটনা বিজয়া বললেন , তিনি খুব খুশি , সবাই আনন্দিত । বিজয়ার মা তবু একটু দ্বিধায় ছিলেন ।

শেষ পর্যন্ত ১৯৪৮ সালের ২০ অক্টোবর পিকোদির বাড়িতে হল রেজিস্ট্রেশন৷ সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং পৃথ্বীরাজ কাপুর । বিজয়া কোনওদিন কল্পনাও করতে পারেন নি যে তার ও সত্যজিৎ এর বিয়ে হবে । সত্যিই আইনি বিয়ে সম্পন্ন হল । তবে সেখানেও একটা বেদনা থেকে গেল । কারন , গোপন রাখতে হবে রেজিস্ট্রেশনের খবর ৷ মানিকবাবু মুখে যাই বলুন , মায়ের কাছে সব কথা খুলে বলার সাহস তাঁর ছিল না । এখানে মুশকিলাশান করলেন সেই ডাক্তার নসুবাবু । তিনিই সুপ্রভা দেবীকে সব বলে রাজি করালেন । মাঝে অনেক কিন্তু , কেন পেরিয়ে অবশেষে উত্তরণের পথ পাওয়া গেল । শেষপর্যন্ত মানিকবাবুর মা , সুপ্রভা দেবী রাজি হলেন । ১৯৪৯ এর ফেব্রুয়ারি মাসে মানিকের থেকে চিঠি পেলেন বিজয়া । চিঠিতে মানিক লিখেছেন , তাঁর মা বিয়েতে রাজি হয়েছেন ,বিজয়া যেন যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি কলকাতায় চলে আসেন ৷ যেখানে একবারও বিয়ের সম্ভাবনা ছিল না , সেখানে বিয়ে হল দু’বার ৷ একবার আইনি বিয়ে , আরেকবার সামাজিক বিয়ে । ওই বছরেরই ৩ মার্চ বিয়ের দিন ঠিক হল ৷

অজস্র শাড়ি , তাঁর নিজের গয়নার বাক্স সব পুত্রবধূর জন্য রেখে দিয়েছিলেন সুপ্রভা দেবী । বিজয়া রায়কে শুধু পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহনই করলেন না , নিজের হাতে পরিয়ে দিলেন শাঁখা , নোয়া ৷ লেক এভেনিউ (lake avenue) এর বাড়িতে একদিন নয় তিনদিন ধরে ভিয়েন বসেছিল । আর মানিকবাবুর সাথে যেদিন বিজয়া রায় রাত কাটালেন সেই কথা তাঁর নিজের মুখে শুনুন’কলকাতায় বিয়ের পর যেদিন মানিকের সঙ্গে রাত কাটালাম গল্পে – কী করে ওর মা রাজি হলেন জিজ্ঞেস করাতে বললেন,’ নসুবাবুকে জিজ্ঞেস করো। মনে রেখো , ওঁর জন্যই আমাদের গাঁটছড়া বাধা সম্ভব হয়েছে । উনি ছাড়া আর কেউ মা’কে রাজি করাতে পারতেন না ‘ ।

পুত্র সন্দীপের সঙ্গে সত্যজিৎ ও বিজয়া রায়

সত্যজিৎ ঘনিষ্ঠদের মতে, প্রত্যেক সফল পুরুষের পিছনে যেভাবে একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নারী থাকেন, সেভাবেই ‘পথের পাঁচালি’ (Pather Panchali) –র সময় থেকে মানিকের সঙ্গে ছায়ার মত থেকেছেন বিজয়া। এমনকি একজন খ্যাতনামা লেখক হয়ে ওঠার আগে নিজের সকল পাণ্ডুলিপি বিজয়াকে দিয়ে ঠিক করিয়ে নিতেন সত্যজিৎ। এমনকি ‘পথের পাঁচালি’ ছবি তৈরির সময় প্রবল অর্থসংকটে পড়লে নিজের সকল গয়নাও বিজয়াদেবী দিয়ে দেন সত্যজিৎ কে। ২০১৫-এ মৃত্যুর আগে বিজয়া জানান, “আমার পরামর্শের প্রায় ৯০% মানিক নিজের লেখাতে প্রয়োগ করেছিলেন।”

তথ্যসূত্র ও চিত্র : অন্তর্জাল

2 thoughts on “দূরসম্পর্কের বোন বিজয়া হয়ে উঠেছিলেন সত্যজিৎ জায়া

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান