ক্রিকেটের ইতিহাসে লজ্জাজনক ঘটনা ঘটলো ক্রিকেটের নন্দনকানন বলে পরিচিত ইডেন উদ্যানে। ক্রিকেটের নামে কি প্রহসন হল ? এই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ক্রিকেট মহলে।

কারণ নজিরবিহীন ভাবে রঞ্জি ট্রফিতে ১০০৮ রানে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ঝাড়খণ্ড । যে রাজ্য থেকে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো কিংবদন্তি বিশ্ব ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন , সেই ঝাড়খণ্ড রঞ্জি দলই বিতর্কের কেন্দ্রে । তারা তোপের মুখে পড়েছে অখেলোয়াড়ি মনোভাব দেখানোর জন্য । নাগাল্যান্ডের মতো দুর্বল দলকে সামনে পেয়েও তারা ফলো – অন করায়নি । কার্যত অসম্মান , অপমান করে গিয়েছে বলে অভিযোগ ।
প্রথম ইনিংসে ৮৮০ রান করেছিল ঝাড়খণ্ড । জবাবে দুর্বল নাগাল্যান্ড মাত্র ২৮৯ রানে অলআউট হয়ে যায় । ৫৯১ রানে এগিয়ে থাকা অবস্থাতেও ফলো অন করায়নি ঝাড়খণ্ড । দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে ১০০৮ রানের ‘ লিড ’ নেয় । দ্রুত ম্যাচ শেষ করার চেষ্টা না করে প্রতিপক্ষকে নিয়ে ছেলেখেলা করার নেশায় মাতে । দ্বিতীয় ইনিংসে তারা নীচের সারির ব্যাটারদের আগে পাঠায়।
রঞ্জি ট্রফিতে নাগাল্যান্ডের মতো দলের অন্তর্ভূক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে কারণ লড়াই করার মতো প্রথম একাদশই তারা গড়ে তুলতে পারছে না । ভিন রাজ্য থেকে কোনও রকমে ক্রিকেটার ধরে এনে দল সাজানো হচ্ছে ।
তবু ঝাড়খণ্ডের এমন মনোভাবে তীব্র অসন্তোষ , ক্ষোভ তৈরি হয়েছে । দ্বিতীয় ইনিংসে এমনকি তারা নীচের দিকের ব্যাটসম্যানদের আগে পাঠিয়ে দেয় । যা দেখে অনেকের মত , ক্রিকেটকে ধ্বংস করা হল ইচ্ছাকৃত ভাবে । যদিও অভিযোগ উড়িয়ে ঝাড়খণ্ডের কোচ এস এস রাও বলেছেন , “ রেকর্ড করার উদ্দেশ্য নিয়ে খেলিনি । যদি সে রকম ইচ্ছে থাকত , দ্বিতীয় ইনিংসেও বিরাট সিংহ , সৌরভ তিওয়ারিদের নামিয়ে দিতে পারতাম । শেষ আটে যাওয়ার জন্য তিন পয়েন্ট যথেষ্ট ছিল আমাদের । আমরা সেটা নিশ্চিত করেছি । পিচটা ব্যাটারদের স্বর্গ ছিল , তাই পার্ট – টাইম ব্যাটারদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার । ” তিনি বললেও এমন বিস্ময়কর ক্রিকেট নিয়ে ক্ষোভ কিন্তু থামছে না।
