উল্কা নয় ,মহারাষ্ট্রের আকাশের চিনা রকেটের অবশিষ্টাংশ

মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশের কয়েকটি জায়গা থেকে যে উল্কাপাতের মত আলোর ছটা দেখা দিয়েছিল তা আসলে চিনা রকেট Y77/3B এর অবশিষ্টাংশএই রকেটের ধ্বংসাবশেষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার আগে এটি কোথায় পড়বে – তা নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কেননা ১৮ টন ওজনের এই ধ্বংসাবশেষ ছিল মহাকাশে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আবর্জনাগুলোর একটি

Chinese rocket re enters Earth, burns up in skies : না উল্কাপাত নয় , মহারাষ্ট্রের নাগপুর এবং মধ্যপ্রদেশের জাবুয়া ও বারওয়ানি জেলায় থেকে দোসরা এপ্রিল শনিবার রাতের আকাশে যে উজ্জ্বল আলোর ঝলক (blazing streak of light) দেখা গেছে , তা আসলে চিনা রকেট এর ধ্বংসাবশেষ। রাত সোয়া দশটা নাগাদ বিষয়টি সামনে আনে সংবাদসংস্থা ANI । জেট প্লেন গেলে যেরকম সাদা ধোঁয়ার একটা রেখা আকাশে তৈরি হয় কিংবা ধুমকেতু মত বহুদূর বিস্তৃত আলোর ছটা , অনেকটা সেই রকম উজ্জ্বল আলোর রেখা বা স্ট্রেক দেখা গিয়েছিল মহারাষ্ট্রের রাতের আকাশে। সাধারণভাবে এ দৃশ্য দেখে অনেকেই অনুমান করেছিলেন উল্কাপাত (meteor shower)। কারণ উল্কাপাত বা উল্কাবৃষ্টির সময় এমনটা হতে দেখা যায়।

কিন্তু পরে মার্কিন বিজ্ঞানীরা এর আসল রহস্য উদ্ঘাটন করেন। মার্কিন বিজ্ঞানীদের মতে , এই আলোকরেখার সৃষ্টি হয়েছে রকেটের অবশিষ্টাংশ থেকে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়েছিল এই চিনা রকেটের অংশবিশেষ। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ওই চিনা রকেটের অবশিষ্ট অংশ প্রবেশ করার পর তা বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে তীব্র গতিতে সংঘর্ষের ফলে জ্বলে উঠেছিল। আর সেখান থেকেই তৈরি হয়েছিল ওই উজ্জ্বল আলোর রেখা।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চিনের Chang Zheng 5B রকেট লঞ্চ করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই রকেট অবতরণের তৃতীয় পর্যায়ে অবস্থান করছিল। শনিবার সেই রকেটেই মহাকাশ থেকে ফিরে এসেছিল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে। তারপর তা বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে জ্বলে উঠেছিল। আর সেটাই মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে রাতের আকাশে দেখা গিয়েছে। ওই রকেট মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পুনরায় ফিরে আসার সময়েই তার বেশিরভাগ অবশিষ্টাংশ জ্বলে গিয়েছে।

আরো দেখুন MRO র ছবিতে মঙ্গল পৃষ্ঠে বিরল গর্তের সন্ধান,নিরুত্তর NASA

উল্লেখ্য এই ধরনের রকেটের অবতরণের জন্য এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রবেশ পথ তৈরি করতে পারেনি চিন। তবে উন্নত প্রযুক্তিতে আকাশেই সেটি যাতে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, সেই ব্যবস্থা করেছে তারা। তবে গতবার ওই রকেট শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম, মলদ্বীপের উত্তরে ভারত মহাসাগরে ভেঙে পড়ে। সেই সময় এই ধরনের ১০টি রকেট উৎক্ষেপণের কথা ছিল চিনের।

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা, ম্যাসাচুসেটস-এর সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে কর্মরত জ্যোতির্বিজ্ঞানী জনাথান ম্যাকডাওয়েল আগেই জানিয়েছিলেন যে ৩বি রকেটে পুনরায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকতে পারে।

চাঙ ঝেং ৫বি রকেট চিনের লং মার্চ রকেট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। মহাকাশে (Space Programme) নির্দিষ্ট স্পেস স্টেশন (Space Station) প্রয়োজনীয় রসদ এবং মানব সাহায্য পাঠানোর জন্য এই প্রকল্প গৃহীত হয়। চন্দ্র এবং মঙ্গল অভিযানে অনুসন্ধানমূলক কাজে সাফল্য পেতেই এই রকেটের নির্মাণ। মহাকাশে নতুন স্পেস স্টেশন তৈরিতেও এই রকেট ব্যবহার করছে চিন। এতে একটি লঞ্চ ভেহিকলে এক বা একাধিক রকেট সংযুক্ত থাকে। প্রত্যেকটির নিজ নিজ ইঞ্জিন এবং চালকযন্ত্র থাকে। জ্বালানি যত পুড়তে থাকে, ততই দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে রকেট।

এই জ্যোতির্বিজ্ঞানী জানিয়েছেন যে তিনি বিশ্বাস করেন Chang Zheng 3B চিনের রকেট, যার সিরিয়াল নম্বর ওয়াই৭৭ এবং ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লঞ্চ হয়েছিল সেটিই তৃতীয় পর্যায়ে ছিল। আর এই তৃতীয় পর্যায়ে থাকাকালীনই মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সেটি ফিরে এসেছে। তবে যে সময়ে এই রকেটের অবশিষ্টাংশ জ্বলন্ত অবস্থায় আলোক রেখা রূপে দেখা গিয়েছে তার কিছু সময় পর এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢোকার কথা ছিল। অন্যদিকে ভারতে মহারাষ্ট্রে ও মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশ ছাড়া অন্য কোথাও এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।তবে মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলার দু’টি গ্রামে একটি ধাতব বলয় এবং সিলিন্ডারের মতো একটি ধাতব বস্তু পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসন সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। ওই সব বস্তু আকাশ থেকেই পড়েছে বলে গ্রামবাসীরা প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

এই মুহূর্ত ভাইরাল হয়েছে টুইটারে, দেখুন সেই ভিডিয়ো

এরআগে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়ার আকাশেও চিনের চাঙ ঝেং ৩বি রকেটের দেখা মেলে। উৎক্ষেপণের ৩০ মিনিট পর সেটি আকাশে দেখতে পান সেখানকার বাসিন্দারা। সে বার পৃথিবীর কক্ষপথে এক সপ্তাহের বেশি পাক খাওয়ার পর নেমে আসে সেটি। পরে তার ধ্বংসাবশেষের টুকরো উদ্ধার হয়।

মহারাষ্টের চন্দ্রপুর এ পাওয়া রকেটের ধাতব অংশ।ছবি : এবিপি

এই ধরনের রকেটের অবতরণের জন্য এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রবেশ পথ তৈরি করতে পারেনি চিন। তবে উন্নত প্রযুক্তিতে আকাশেই সেটি যাতে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, সেই ব্যবস্থা করেছে তারা। তবে গতবার ওই রকেট শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম, মলদ্বীপের উত্তরে ভারত মহাসাগরে ভেঙে পড়ে। সেই সময় এই ধরনের ১০টি রকেট উৎক্ষেপণের কথা ছিল চিনের।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান