বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ঝড়ের সাথে বিপুল পরিমান সৌর কণা প্রতি ঘণ্টায় 22 লক্ষ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে।
নিজস্ব প্রতিবেদন : একদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন মনুষ্য সৃষ্ট যুদ্ধে যেমন বিপর্যস্ত পৃথিবী , তেমনি আরো একটি যুদ্ধ ঘনিয়ে আসতে চলেছে । তবে এটি পার্থিব যুদ্ধ নয় , এক মহাজাগতিক যুদ্ধ । কারণ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে অতি শক্তিশালী সৌর ঝড় (Solar Storm)। 28 শে মার্চ সূর্যের অতি সক্রিয় অঞ্চলে যার সৃষ্টি । খুব শীঘ্রই ঘন্টায় 22 লক্ষ কিলোমিটার গতিবেগে পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেত্রের উপর আছড়ে পড়বে এই সৌর ঝড়।পৃথিবীতে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে এক অতি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র।তার ওপরেই আছরে পড়বে এই সৌর ঝড়। এমন আশঙ্কাবাণী শুনিয়েছেন বিজ্ঞানীদের একটি দল বিজ্ঞানীদের একটি দল।

সৌর ঝড় (Solar Storm) হল সূর্যের উপরের বায়ুমণ্ডল থেকে নির্গত চার্জযুক্ত কণার একটি স্রোত, যাকে করোনা বলে। এই প্লাজমায় বেশিরভাগ 0.5 থেকে 10 kv এর মধ্যে গতিময় শক্তি সহ ইলেকট্রন, প্রোটন এবং আলফা কণা থাকে। সৌর-বায়ু প্লাজমার মধ্যে হ’ল আন্তঃ গ্ৰহ চৌম্বকীয় ক্ষেত্র।এক্ষেত্রে প্রচুর শক্তিশালী আধানযুক্ত কোন পৃথিবীর চৌম্বক মন্ডল এ প্রবেশ করলে পৃথিবীর চৌবক ক্ষেত্রের জন্য সেগুলি পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে গিয়ে বায়ুমণ্ডলের আয়োনোস্ফিয়ার ( ionosphere ) এ এসে রঙ্গিন আলোর ছটা সৃষ্টি করে যাকে মেরুজ্যোতি বা অরোরা বলে।
সূর্য একটি নতুন সৌর চক্রে প্রবেশ করেছে। এই সময় সূর্য মহাকাশে অনেক পদার্থ নিক্ষেপ করতে থাকে। আশঙ্কা করা হচ্ছে শক্তিশালী সৌরঝড় আছড়ে পড়তে পারে পৃথিবীতে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন , এই ঝড়ের সাথে বিপুল পরিমান সৌর কণা প্রতি ঘণ্টায় 22 লক্ষ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে।

এই ঘটনায় ঝনঝন করে কেঁপে উঠবে পৃথিবীর চার পাশে থাকা চৌম্বক ক্ষেত্র। দুই মেরুতে আরও ঘনঘন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখা যাবে মেরুজ্যোতি। এই হানাদারদের জন্য কিছু ক্ষণের জন্য হলেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে গোটা ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ মেরু, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও উত্তর মেরুর যাবতীয় রেডিয়ো যোগাযোগ ব্যবস্থা। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বিশ্বের একাংশের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থাও। ব্যাহত হতে পারে জিপিএস-মোবাইল-বিদ্যুৎ পরিষেবাও।
এই ঝড়ে মানুষের সরাসরি কোন ক্ষতি হয়না ।কিন্তু ঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ ও স্যাটেলাইট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে এবং বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে তারা বলছেন।
এবার এক ঝলকে সৌর ঝড় এর প্রভাব গুলো দেখে নেওয়া যাক –




গত পাঁচ বছরে যতগুলো সৌর ঝড় পৃথিবীকে আঘাত করেছে এটি তার মধ্যে সবচেয়ে বড়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ঝড়ের প্রভাবে সৌর কনা ও পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সংঘর্ষের ফলে দুই মেরুতে অর্থাৎ উত্তর মেরুতে সুমেরু প্রভা এবং দক্ষিণ মেরুতে কুমেরু প্রভা আরো উজ্জ্বলতর হবে ।

MRO র ছবিতে মঙ্গল পৃষ্ঠে বিরল গর্তের সন্ধান,নিরুত্তর NASA

তবে, রাশিয়ান অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্স-এর বিজ্ঞানীদের দাবি, কিছু কিছু সৌর-ঝড় মানুষ সহ বিভিন্ন জীবের ক্ষতিও করে। যেমন—রক্ত চলাচল, রক্তচাপ ও শরীরে অ্যাডরেনালিনের সক্রিয়তায় প্রভাব পড়ে। রুশ বিজ্ঞানীদের দাবি, ভয়ঙ্কর এই ঝড়ের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের মাথাব্যথা, ঝিমুনি এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রেও মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা
নাসা গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার (NASA Goddard Space Flight Center ) এর একজন সহযোগী প্রধান জ্যোতির্বিদ্যা অ্যালেক্সা হ্যালফোর্ড বলেছেন, প্রত্যেক 11 বছর অন্তর পৃথিবী সূর্যের সবথেকে কাছে চলে যায়। সেই সময়েই এই ঘটনা ঘটতে পারে। এই সময় আরও একটি সৌর শিখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং পদ্ধতিগুলি কতটা সফলভাবে সৌর কণার ঢেউ প্রতিরোধ করতে পারে তা মূল্যায়ন করার একটি সুযোগ পাওয়া যাবে।
১৯৮৯ সালে একটি সৌর ঝড় আছড়ে পড়েছিল পৃথিবীতে। এর ফলে কানাডাতে প্রায় ৯ ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিল না। যদিও বড় কিছু হওয়ার সম্ভাবনাও কম। পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্র পৃথিবীকে সুরক্ষা দেবে এই ঝড়ের থেকে এমনটাই জানান হয়েছে।
