ম্যাজিক পেন এবার প্রতারনার নতুন অস্ত্র

ম্যাজিক পেনের কারসাজিতে মুছে যাচ্ছে চেকে লেখা টাকার অঙ্ক তাই ব্যাঙ্কের কাজে অপরিচিতদের কলম না নেওয়ার  সতর্কবার্তা জারী করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিস ।

অনলাইনে ব্যাংক প্রতারণার বহু ঘটনা ধরা পড়েছে । কিন্তু এবার অনলাইন নয় গ্রাহকের সাক্ষাতেই প্রতারণা করছে জালিয়াতরা। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের একটি ঘটনা সামনে এসেছে । বেসরকারি সংস্থা থেকে স্বাস্থ্যবিমা করিয়েছিলেন এক প্রবীণ নাগরিক । লকডাউনে বেশ কয়েক মাসের প্রিমিয়াম বাকি পড়ে যায় তার । এরপর বীমা সংস্থার নাম করে ফোন আসে তাঁর কাছে । বলা হয় , বিমা ফের চালু করতে ২০০ টাকার একটি পেমেন্ট করতে হবে এবং তা দিতে হবে চেকে। বাড়ি এসে সেই চেক নিয়ে যাবেন বীমা সংস্থার এজেন্ট ।

বিশ্বাস করে ওই এজেন্টের বাড়িয়ে দেওয়া কলমে সেই চেক লিখে দেন ওই গ্রাহক । পরের দিনই মোবাইলে ব্যাংকের মেসেজ আসে । সেখান থেকে তিনি জানতে পারেন , ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছে দেড় লক্ষ টাকা ।

তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে , পুরোটাই ‘ম্যাজিক পেন ‘ এর কারসাজি । এমন একটি নয় , রাজ্যজুড়েই এধরনের অভিনব জালিয়াতির বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছে পুলিস । এধরনের প্রতারণার জাল এড়াতে চেক বা ফর্মে নিজের কলমে সই করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিস ।

কীভাবে হচ্ছে এধরনের আর্থিক প্রতারণা ? বেশ কয়েক মাসের চেষ্টার পর অবশেষে রহস্যভেদ করেছেন রাজ্য পুলিসের আধিকারিকরা । তাঁরা জানাচ্ছেন , মূল কারসাজি প্রতারকদের কলমে। সেই কলমে রয়েছে একটা বিশেষ ধরনের কালি, যা পেনের পিছনে থাকা রবার দিয়ে মুছে ফেলা যায় । বিশেষজ্ঞরা বলছেন , এই কালিটি ‘ থার্মোক্রমিক ইঙ্ক ‘ নামে পরিচিত । কাগজের পাতায় ওই কালিতে লিখে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় রাখলে বা প্রয়োগ করলে তা উবে যায় । রাজ্য পুলিস সূত্রে খবর , রবার লাগানো ছাড়া অন্য কোনও পেনে এই কালি ভরেও এই জালিয়াতি করা যায় ।

পুলিস জানিয়েছে , ব্যাঙ্ক বা বীমা সংস্থার এজেন্ট পরিচয় দিয়ে বাড়িতে হানা দিচ্ছে প্রতারকরা । কথাবার্তার ফাঁকে চেকে সই করার জন্য নিজেদের ‘ ম্যাজিক পেন ‘ গছিয়ে দিচ্ছে তারা । সাতপাঁচ না ভেবেই সেই ম্যাজিক পেন ব্যবহার করে প্রতারকদের পাঁতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেকে । চেকে টাকার অঙ্ক সমেত সই করে দিচ্ছেন তাঁরা । আসলে গ্রাহক তখন ভাবতেও পারেন না যে , তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয় একলহমায় গায়েব করে দিতে পারে এজেন্টরূপী এই সব প্রতারক ।

গ্রাহকের চোখের আড়ালে ম্যাজিক পেনের পিছনের রবার দিয়ে টাকার অঙ্ক মুছে ফেলা হচ্ছে । বলাই বাহুল্য , গ্রাহকের সই অটুট থাকছে । টাকার অঙ্ক মুছে দিতেই চেকটি পরিণত হচ্ছে ‘ ব্ল্যাঙ্ক চেক ‘ – এ । আর এতেই কেল্লা ফতে। গ্রাহকের সই করা ওই ব্ল্যাংক চেক এ নিজের মনপসন্দ টাকার অঙ্ক বসিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে তারা । ফোনে টাকা ডেবিটের মেসেজে যতক্ষনে তা জানতে পারছেন গ্রাহক , ততক্ষণে খেলা শেষ ।

রাজ্য পুলিসের এক কর্তা বলেন , মূলত প্রবীণদের টার্গেট করছে প্রতারকরা । এর কারণ- ✏️ প্রথমত , তাঁদের ব্যাঙ্কে সঞ্চয়ের পরিমাণ বেশি । তাই বেশি টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ থাকে । ✏️দ্বিতীয়ত , বয়স্করা অনেকেই ব্যাঙ্কে গিয়ে কাজকর্ম করতে অক্ষম । তাই তাঁদের ভুল বুঝিয়ে প্রতারণা অনেক বেশি সহজ। তাই বয়স্ক মানুষেরা এই অভিনব প্রতারণার ‘ ইজি টাগেট ‘ ।

সেক্ষেত্রে অভিনব প্রতারণা থেকে বাঁচবেন কী করে ? উপায় বাতলে দিয়েছে পুলিস । তাদের পরামর্শ , অপরিচিত কোনও ব্যক্তির পেনে চেক বা ফর্মে সই করবেন না । সর্বদা নিজের পেন ব্যবহার করুন । তাহলে সুরক্ষিত থাকবে অ্যাকাউন্ট ।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান