সাগরেই দুর্বল হবে অশনি, ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে

অশনির অশনি সংকেত থেকে রেহাই পেতে চলছে বঙ্গ। সাগরের শক্তিক্ষয় হবে ঝড়ের।

ঘূর্ণিঝড়ের ‘ অশনি সঙ্কেতে প্রমাদ গুনছিল বাংলা । সেই বিপদের আশঙ্কা আর নেই । বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অশনি শক্তি বাড়িয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে । ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে , অন্ধ্রপ্রদেশ বা ওড়িশা কোনো রাজ্যের ওপর দিয়েই ঘূর্ণিঝড় অশনি স্থলভাগে প্রবেশ করবে না । কিন্তু আজ তা ওড়িশা উপকূলের আরো কাছাকাছি চলে আসায় অন্ধ্রপ্রদেশ , ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে । অশনির মোকাবিলায় ওড়িশা সরকার গঞ্জাম , পুরী , জগতসিংহপুর এবং কেন্দ্রাপাড়া এই চার উপকূলবর্তী জেলার কমপক্ষে ১৫ টি ব্লকের নিচু এলাকার মাটির বাড়িগুলি খালি করে দিয়েছে । বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে । তৈরি রয়েছে কেন্দ্ৰ ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল । ৬ হাজারের বেশী মাছ ধরার নৌকা সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে ।

বঙ্গোপসাগরের উৎপন্ন হাওয়া অশনি র ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে শ্রীলঙ্কা। সিংহলি ভাষায় যার অর্থ ‘ক্রোধ’

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘ অশনি ‘ স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আগেই শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে । বৃহস্পতিবার নাগাদ ওড়িশা উপকূল থেকে কিছুটা দূরে বঙ্গোপসাগরে ‘ অশনি ‘ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে । তারপরও এর শক্তি ক্ষয় অব্যাহত থাকবে । সাধারণ নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হয়ে এটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে । অথবা সমুদ্রেই তা পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে ।

ঠিক কী পরিণতি হতে চলেছে , সোমবার পর্যন্ত তা নিয়ে আবহাওয়াবিদরা নিশ্চিত হতে পারেননি । ঝড়ের ভয় কাটলেও এর প্রভাবে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকছে। রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হবে । বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে কলকাতা , উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা , পূর্ব মেদিনীপুর , হাওড়া ও নদীয়া জেলায় ।

সোমবার কলকাতা সহ উপকূলবর্তী কয়েকটি জেলায় যে বৃষ্টি হয়েছে , তাও ‘ অশনি’র কারণে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস । এদিন বিকেল পর্যন্ত কলকাতায় ৫৮ মিমি ( মিলিমিটার ) , সল্টলেকে ৬১ মিমি , দমদমে ২৩ মিমি , হলদিয়ায় ৪৪ মিমি , ডায়মন্ডহারবারে ১১ মিমি বৃষ্টি হয়েছে । আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা গণেশ দাস জানিয়েছেন , এদিন রাজ্যের উপকূল থেকে অনেকটা দুরে পশ্চিম – মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান ছিল ‘ অশনি’র । পাশাপাশি দক্ষিণ – পূর্ব বাতাস বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় রয়েছে ।

আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতির কারণেই গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি হবে । বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি পরিমাণে জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে ঢোকায় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি হবে । ‘ অশনি’র জেরে রাজ্যের উপকূলতী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বা জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও আর খুব একটা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর । তবে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে এখনও ।

কৃষিজমি থেকে জমা জল বের করার আগাম ব্যবস্থা রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে । রাজ্য অবশ্য আগাম সতর্কতামূলক একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে । পূর্ব মেদিনীপুরে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে । তৈরি রাখা হয়েছে ত্রাণ শিবিরগুলিও । দীঘা , মন্দারমণি সহ বিভিন্ন উপকূলবর্তী পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে স্থানীয় পুলিস – প্রশাসন । জেলা ও ব্লক পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে ।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান