জাদুঘরের জাদু ইতিহাসে নজর

আজ ১৮ মে, বিশ্ব সংগ্রহশালা দিবস। আজকের দিনে একটু ঘুরে দেখা যাক এশিয়া ও ভারতের প্রথম বৃহত্তম সংগ্রহশালা কলকাতায় অবস্থিত ভারতীয় জাদুঘরে।

কলকাতায় অবস্থিত ভারতীয় জাদুঘর

কলকাতায় অবস্থিত ভারতীয় জাদুঘর আধুনিক ভারতের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম জাদুঘর ।এছাড়াও গোটা এশিয়া – প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেরই প্রথম জাদুঘর এটি। জাদুঘর যেমন ইতিহাস সংরক্ষণ করে রাখে , তেমনই জাদুঘরেরও তো একটা ইতিহাস থাকে ।

ভারতীয় জাদুঘরের ইতিহাস সেই উইলিয়াম জোন্সের আমলে শুরু । প্রাচ্য ইতিহাস চর্চার উদ্দেশ্যে উইলিয়াম জোন্স তৈরি করলেন এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল ১৭৮৪ সালে। তখন এশিয়াটিক সোসাইটির দপ্তর ছিল ফোর্ট উইলিয়ামে । সোসাইটির সদস্যরা একটা সময়ে বুঝতে পারলেন , তাঁদের গবেষণার প্রয়োজনেই পুরোনো দিনের মানুষের ব্যবহার করা জিনিসপত্রকে সংরক্ষণ করা দরকার । তার সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক জগৎ নিয়ে পড়াশোনা চালাতে গেলে নানা ধরনের জীব ও জড় পদার্থের নমুনাও রাখা উচিত সংগ্রহে । সেখান থেকেই ১৭৯৬ সালে একটি জাদুঘর বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল ।

১৮০৮ সালে ব্রিটিশ সরকার চৌরঙ্গী অঞ্চলে এশিয়াটিক সোসাইটিকে জমি দেয় মিউজিয়াম তৈরির জন্য । সে বছরই পার্ক স্ট্রিটের একটা বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এশিয়াটিক সোসাইটিকে । ১৮৯৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে যাত্রা শুরু ওরিয়েন্টাল মিউজিয়াম অফ এশিয়াটিক সোসাইটির । পরবর্তীকালে নাম পাল্টে হয় ইম্পিরিয়াল মিউজিয়াম ।

হাতির দাঁতের নির্মিত দুর্গা মূর্তি

ভারতীয় জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে প্রখ্যাত বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ ইন্ডিয়ান মিউজিয়ম ‘ শীর্ষক প্রবন্ধে লেখেন , “বিগত 3 রা ৪ ঠা মাঘ কলিকাতা মিউজিয়ামের শতবার্ষিক উৎসব শেষ হইয়া গিয়াছে । এক শত বৎসর পূর্বে — ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে এই মিউজিয়াম স্থাপিত হইয়াছিল । ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে স্যর উইলিয়াম জোন্স ‘ এশিয়াটিক সোসাইটি ‘ নামক সভা স্থাপন করিয়াছিলেন , এবং তাহার ত্রিশ বৎসর পরে এশিয়াটিক সোসাইটির চেষ্টায় সভাগৃহে ভারতবর্ষের , এমন কি সমগ্র এশিয়া খণ্ডের , প্রথম মিউজিয়াম স্থাপিত হইয়াছিল । এশিয়াটিক সোসাইটি স্থাপনের পর হইতে উক্ত সভার সদস্যগণ সময়ে সময়ে যথাসম্ভব জীব – জন্তুর মৃতদেহ , ভূগর্ভে প্রাপ্ত জীবাশ্ম এবং প্রত্নতত্ত্ব – সংক্রান্ত দ্রব্যাদি উপহার প্রদান করিতেন । সর্ব প্রথমে প্রাচীন সুপ্রিমকোর্টের গৃহে এশিয়াটিক সোসাইটির অধিবেশন হইত এবং উপহারপ্রাপ্ত দ্রব্যাদি সেই গৃহেই রক্ষিত হইত । স্যর উইলিয়াম জোন্স যতদিন ভারতবর্ষে ছিলেন , ততদিন এশিয়াটিক সোসাইটির জন্য স্বতন্ত্র গৃহ নির্মাণের কোন চেষ্টাই হয় নাই । কিন্তু , ১৭৯৬ সালে সুপ্রিমকোর্টের গৃহে সভার অধিবেশন অসম্ভব হওয়ায় , নূতন গৃহনির্মাণের চেষ্টা আরম্ভ হয় । সদস্যগণের অর্থ – সাহায্যে ‘ চৌরঙ্গী ও পা র্কস্ট্রিটের ‘ সংযোগস্থলে নূতন – গৃহ নির্মিত হয় , এবং এশিয়াটিক সোসাইটির দ্রব্যাদি ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে সুপ্রিমকোর্ট ভবন হইতে নূতন – গৃহে আনয়ন করা হয় । সুপ্রিমকোর্ট – ভবনই বর্তমান সময়ে কলিকাতা মিউজিয়ামের সুপারিন্টেন্ডেন্টের বাস – গৃহে পরিণত হইয়াছে।”

ভিক্টোরিয়ান রীতিতে নির্মিত প্রাচীন ভবন
গান্ধার রীতিতে নির্মিত বুদ্ধমূর্তি

এদিকে শ্রীরামপুর যুদ্ধের সময়ে বন্দি করা হয়েছিল ডেনমার্কের উদ্ভিদবিদ ড . নাথানিয়েল ওয়ালিচকে । বন্দী দশায় তিনি স্বপ্ন দেখতেন একটি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার । পরে তার বৈজ্ঞানিক মেধার কথা বিবেচনা করে তাকে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিল সরকার । সুযোগ পেয়ে তার মনোবাসনা জানিয়ে তিনি একটি চিঠি লিখলেন এশিয়াটিক সোসাইটির কর্তৃপক্ষের কাছে একটি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানিয়ে । জানালেন , তিনি মিউজিয়ামের সেবা করবেন অবৈতনিক কিউরেটর হিসেবে এবং তার সঙ্গে দান করে দেবেন তাঁর সংগ্রহে থাকা দুষ্প্রাপ্য গাছগাছড়াগুলো । তার অনুরোধের যথার্থতা অনুধাবন করে তখন প্রাচ্য জাদুঘরের প্রথম সাম্মানিক কিউরেটর নিযুক্ত করা হলো তাকেই ।

তখন এশিয়াটিক সোসাইটির দোতলায় ছিল লাইব্রেরি আর মিউজিয়াম গড়ে উঠেছিল একতলাতে । ১৮৬৬ সালে প্রথম ভারতীয় জাদুঘর আইন পাশ হয় এ দেশে। এখন যে ভিক্টোরিয়ান প্রাসাদটিতে ভারতীয় জাদুঘর অবস্থিত তার ভিত্তি স্থাপন করা হয় ১৮৬৭ সালে আর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৮৭৫ সালে । স্থপতি ছিলেন ডব্লিউ.এল গ্ল্যানভিল এবং পরামর্শদাতা ছিলেন স্যার টমাস হল্যান্ড । চৌরঙ্গী রোডের উপর সবুজ মাঠের পাশে এই প্রাসাদ ১৮৭৮ সালে ১ লা এপ্রিল উন্মুক্ত করা হয় সাধারণ দর্শকদের জন্য । ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এই জাদুঘর এখন রয়েছে ভারত সরকারের সংস্কৃতি দপ্তরের অধীনে ।

১৮৭৫ সালে ১,৪০,০০০ টাকা খরচ করে এই নতুন বাড়ি তৈরি হয় । ১৮৭৯ সালে সাউথ কেনসিংটনের ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের সংগ্রহের একাংশ এই জাদুঘরে আসে । ১৯১৬ সালে জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অনুদানে জাদুঘরে প্রাণীতত্ব এবং ১৯৪৫ সালে অ্যানথ্রোপোজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অনুদানে নৃতাত্ত্বিক বিভাগ চালু হয় ।

প্রায় আট হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ জাদুঘরে শিল্পকলা ও প্রকৃতির বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য সংগ্রহ শিল্পকলা , প্রত্নতত্ত্ব , নৃতত্ত্ব , ভূতত্ত্ব , প্রাণীবিদ্যা , উদ্ভিদ বিদ্যা এ ছয়টি ভাগে বিভিন্ন গ্যালারিতে সুসজ্জিত রয়েছে । শুধু প্রাকৃতিক ইতিহাসের জন্যই রয়েছে চারটি গ্যালারি যেখানে রয়েছে বন্য উদ্ভিদ পোকামাকড় স্তন্যপায়ী এবং পাখি । এই জাদুঘরে প্রায় দশ লক্ষ সামগ্রী সংরক্ষিত আছে।

বোধিসত্ত্ব

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে প্রাক ও আদি ঐতিহাসিক নিদর্শন , মৌর্য, শুঙ্গ , সাতবাহন , গান্ধার , কুষাণ , গুপ্ত , পাল – সেন , চান্দেল , হোয়সল ও চোল যুগীয় শিল্পের গ্যালারিগুলির পাশাপাশি অন্যান্য বহুযুগের প্রাচীন নিদর্শনের সংগ্রহও রয়েছে । মধ্যপ্রদেশের ভারত থেকে প্রাপ্ত সাঁচি স্তুপ ও তার তোরণ এবং রেলিংয়ের রেপ্লিকা, একটি অশোকস্তম্ভ , বেশ কয়েকটি যক্ষের মূর্তি হাতির দাঁতের তৈরি নানান ধরনের মূর্তি একটি বিশেষ প্যালারিতে রয়েছে মিশরীয় প্রাচীন নিদর্শনের একটি সংগ্রহ , যেখানে প্রধান আকর্ষণ হল চার হাজার বছরের মিশর থেকে আনা প্রাচীন একটি মমি । এছাড়াও রয়েছে মিশর থেকে নিয়ে আসা একটি স্ফীঙস মূর্তি । এ ছাড়াও রয়েছে সংস্কৃত , প্রাকৃত , আরবি , ফার্সি , উর্দু ও বাংলা ভাষায় প্রচুর শিলালিপি , পাণ্ডুলিপি ও সিলমোহর ।

রাজপুত অস্ত্র

ভারতীয় প্রাচীন , মধ্যযুগীয় ও আধুনিককালের মুদ্রার সংগ্রহ কয়েকটি গ্যালারিতে প্রদর্শনমান । শিল্পকলা বিভাগে ভারতীয় চিত্রকলা , বস্ত্রশিল্প ও অলংকরণ সামগ্রীর পাশাপাশি নেপাল , তিববত , চীন , জাপান , থাইল্যান্ড , কম্বোডিয়া , ইন্দোনেশিয়া , মায়ানমার , শ্রীলংকা এবং ইরানের শিল্পসামগ্রীও প্রদর্শিত হচ্ছে । মুঘল যুগের চিত্রকলা বস্ত্র সহ নানা নিদর্শন রয়েছে এখানে ।

দুর্গা মূর্তি

নৃবিজ্ঞান শাখায় প্রত্ন – নৃতত্ত্ব ও সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্বের বিভাগ এবং সাথেই রয়েছে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে সজ্জিত একটি গ্যালারি , অসংখ্য ভূতাত্ত্বিক জীবাশ্ম । জুওলোজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া , জিওলোজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া ও বোটনিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া কর্তৃক পরিচালিত বিজ্ঞান শাখার অনেকগুলি গ্যালারি রয়েছে ।

প্রাগৈতিহাসিক সুবৃহৎ হাতির দাঁত

এই সংগ্রহালয় প্রসঙ্গে আচার্য্য যদুনাথ সরকার একবার ভাষণে বলেছিলেন , কলকাতায় অবস্থিত ভারতীয় সংগ্রহালয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পত্তি । ভারত সরকার তা একদিনের নোটিশে দিল্লীতে স্থানান্তরিত করতে পারে । কিন্তু ” বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ” ও ” বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর ” বাংলার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান । এদের কেউ বাংলা থেকে স্থানান্তরিত করতে পারবে না । তাই বঙ্গবাসীরা যেন এর সংগ্রহের জন্য প্রত্ন ও শিল্প দ্রব্যাদি দান করেন । আচার্য্যের এই কথা আংশিক ভাবে সত্য । কারণ দিল্লীতে জাতীয় সংগ্ৰহালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ভারতীয় সংগ্রহালয় থেকে সিন্ধু সভ্যতার মূল্যবান নিদর্শনসমূহ সেখানে স্থানান্তরিত করা হয় ।ভারতীয় মিউজিয়ামে বর্তমানে রয়েছে সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন স্বরূপ দুটি মানুষের কঙ্কালের মাথা ( একটি চার ও অন্যটি সাড়ে চার হাজার বছরের পুরনো ) । যদিও এক সময় এখানে সিন্ধু সভ্যতার অনেক নিদর্শন ছিল । এখন আর নেই । তবুও ভারতীয় সংগ্রহালয় নিজের অবস্থানেই রয়েছে । একে স্থানান্তরের কোনো সম্ভাবনা নেই । এখনো এই সংগ্রহালয়ের সংগ্রহে যা আছে , তা ভারতের আর কোনো সংগ্রহালয়ে নেই । ভারতের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বাঙালী শিল্পী সুরজিৎ দাসের হাতে গড়া ডাইনোসরের মডেল , বিখ্যাত ভারহুত স্তূপের অবশেষ , প্রাচীন মুদ্রার মূল্যবান সংগ্রহ , বৌদ্ধ মূর্তির বিবর্তন , অশোক স্তম্ভের স্তম্ভশীর্ষ , অসংখ্য খোদিত শিলালিপি , গান্ধার ও মথুরা শিল্পের অনন্য কিছু নিদর্শন , আর সেই বিখ্যাত মিশরীয় মমি ।

প্রাণিবিদ্যার গ্যালারিগুলিতে কীটপতঙ্গ , মাছ , উভচর প্রাণী , সরীসৃপ প্রাণী , পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণী প্রদর্শিত হচ্ছে । রয়েছে একটি ঘূর্ণায়মান ডিএনএ এর রেপ্লিকা ।উদ্ভিদ শাখায় ভেষজ গাছগাছড়া , উদ্ভিজ্জ তন্ত্র , রাক উদ্ভিদ , আঠা ও রেসিন , দারু , তেল ও তৈলবীজের সংগ্রহ রয়েছে । বিভিন্ন আঞ্চলিক জলবায়ুতে বেড়ে ওঠা উদ্ভিদ ও প্রাণীর সংগ্রহ। প্রাগৈতিহাসিক হাতির সুবৃহৎ দাঁত ,ডাইনোসর ,হরিণ, বাইসনের কঙ্কাল।

বিষ্ণু মূর্তি

ভূতত্ত্ব বিভাগের সংগ্রহ পাঁচ ভাগে বিভক্ত : সিওয়ালিক জীবাশ্ম , ভূপৃষ্ঠ ও উল্কাপিন্ড , প্রস্তর ও খনিজ , অমেরুদন্ডী ও মেরুদন্ডী প্রাণীর জীবাশ্ম । বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবাশ্ম, একটি উল্কাপিণ্ড এখানে রয়েছে ।

বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ

সময়ের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট বিভাপগুলিতে প্রাচীন ও পুষ্প্রাপ্য সংগ্রহের তালিকা দীর্ঘতর হয়েছে যা ভারতীয় জাদুঘরকে পৃথিবী বিখ্যাত করে তুলেছে । যদিও এক সময় এখানে সিন্ধু সভ্যতার অনেক নিদর্শন ছিল । এখন আর নেই।তবুও ভারতীয় সংগ্রহালয় নিজের অবস্থানেই রয়েছে । এখনো এই সংগ্রহালয়ের সংগ্রহে যা আছে , তা ভারতের আর কোনো সংগ্রহালয়ে নেই । ভারতের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বাঙালী শিল্পী সুরজিৎ দাসের হাতে গড়া ডাইনোসরের মডেল , বিখ্যাত ভারহুত স্তূপের অবশেষ , প্রাচীন মুদ্রার মূল্যবান সংগ্রহ , বৌদ্ধ মূর্তির বিবর্তন , অশোক স্তম্ভের স্তম্ভশীর্ষ , অসংখ্য খোদিত শিলালিপি , গান্ধার ও মথুরা শিল্পের অনন্য কিছু নিদর্শন , আর সেই বিখ্যাত মিশরীয় মমি নিয়ে সুপ্রাচীন ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যের বিশাল বাড়িতে তার নিজস্ব ঐতিহ্য অবিচল রয়েছে ভারতের বৃহত্তম প্রাচীনতম জাদুঘর।

2 thoughts on “জাদুঘরের জাদু ইতিহাসে নজর

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান