মুম্বাইয়ের ফুল বিক্রেতা থেকে গবেষণার কাজে মার্কিন মুলুক পাড়ি সরিতার

মুম্বাইয়ে বাবার দোকানে ফুল,মালা বিক্রি করতেন । এবার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করতে যাচ্ছেন জে.এন.ইউ ছাত্রী সরিতা মালি।

“নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন নাহি দিবে অধিকার” – কবি কবেই বলেছিলেন একথা। একথার বাস্তবায়ন করে দেখালেন এক ভারতীয় কন্যা। কঠোর দারিদ্র্যকে সঙ্গী করে যার বেড়ে ওঠা সেই মুম্বাই নিবাসী ফুল বিক্রেতা মেয়ের নাম সারিতা মালি। সেই মেয়েই এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে গবেষণার কাজের সুযোগ পেয়েছেন।

বর্তমানে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি (জে.এন.ইউ) – এর ভারতীয় ভাষা কেন্দ্রে হিন্দি সাহিত্যে পি. এইচ. ডি গবেষণারত সারিতা।তিনি জেএনইউ থেকে এমএ এবং এমফিল ডিগ্রি নিয়েছেন ।খুব শীঘ্রই মার্কিন মুলুকের উদ্দেশ্যে উড়ে যাবেন ২৮ বছরের এই তরুণী। পড়ুয়ার এই সাফল্যে জে. এন. ইউ জুড়ে এখন খুশির হাওয়া।

মুম্বাই ফুল বিক্রেতা, 28, পিএইচডি করার জন্য শীর্ষ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন
জে.এন.ইউ উপাচার্য শান্তিশ্রী পন্ডিতের সঙ্গে সারিতা ছবি – টুইটার

সারিতা বলেছেন, “আমি অনুভব করি যে প্রত্যেকের জীবনেই উত্থান-পতন আছে। প্রত্যেকেরই তার সুদিনের গল্প এবং কষ্ট রয়েছে। এটি নির্ধারণ করা হয় কোন সমাজে আপনি জন্মগ্রহণ করেন এবং আপনি কী জীবন পান। দুর্ভাগ্যবশত বা সৌভাগ্যবশত কোন অর্থে, আমি জন্মগ্রহণ করেছি এমন একটি সমাজে যেখানে সমস্যা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ।”

উৎসবের সময়, তিনি তার বাবার সাথে ফুল বিক্রি করতেন, বিশেষ করে গণেশ চতুর্থী, দীপাবলি এবং দশেরার মতো বড় উৎসবে। স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকেই বাবাকে সাথে কাজে সাহায্য করছেন তিনি। জে.এন.ইউ তে ভর্তির পর তিনি যখনই ছুটিতে বাড়ি যেতেন, ফুলের মালা তৈরি করতেন। গত দুই বছর ধরে, মহামারীর আঘাতে তার বাবার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে তারা সবাই এই কাজ করতেন। চোখ খোলার পর থেকে সে শুধু ফুল দেখেছে। তাই ফুলের মালা তৈরিই তার ভরসা, যেখানে একদিকে ছিল সংগ্রাম, অন্যদিকে ছিল আশা। সমস্যা ছিল এবং কঠোর পরিশ্রম করার আবেগও ছিল। 

দারিদ্র্য কে হেলায় হারিয়ে সরিতার এই সাফল্যের কাহিনী এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। সহপাঠী ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণা।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান