বৈদ্যুতিক গাড়ির হাত ধরে সম্ভবত খুলতে চলেছে উত্তরপাড়ার হিন্দ মোটর কারখানা

ফিরবে কি অ্যাম্বাসেডর ২.০ ? লক্ষ্যমাত্রা ২০২৪ সাল । হিন্দমোটর এর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছে একটি ফরাসি সংস্থা।

নিজস্ব প্রতিবেদন : দ্বিতীয় এবং ভারতের প্রথম বৃহত্তম মোটর গাড়ি নির্মাতা হিন্দুস্তান মোটরস। তাদের হাত ধরেই হয়তো পুনরায় ফিরতে চলেছে অ্যাম্বাসেডর। উত্তরপাড়ার হিন্দ মোটরে অ্যাম্বাসেডর গাড়ি তৈরীর পুরনো কারখানাটি সম্ভবত চালু হতে চলেছে সি কে বিড়লা ( CK Birla ) গোষ্ঠীর অধীনস্থ হিন্দুস্থান মোটরস (Hindustan Motors) বাএইচ এম এর হাত ধরে । সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সে কথাই উসকে দিয়েছে।

এক ঝলকে হিন্দুস্থান মোটরস 🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓🚓

  • ১৯৪২ সালে গুজরাটে প্রধানত যাত্রীবাহী গাড়ি তৈরির উদ্দেশ্যে পত্তন হয় হিন্দুস্থান মোটরস (Hindustan Motors )এর।
  • ১৯৪৮ সালে সংস্থাটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর পাড়ায় স্থানান্তরিত হয় , প্রধানত বাণিজ্যিক গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে।
  • এরপর জাপানি কোম্পানি মিৎসুবিসির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে হিন্দুস্থান মোটরস।
  • গত শতকে বিপুল চাহিদা থাকলেও পরবর্তী সময়ে অন্যান্য গাড়ি কোম্পানি ভারতের বাজার দখল করলে অ্যাম্বাসেডর (Ambassador) গাড়ির চাহিদা ও জনপ্রিয়তা দুইই কমতে থাকে।
  • ২০১৪ সালে উত্তরপাড়া কারখানার ৩১৪ একর জমি শ্রীরাম গোষ্ঠীকে বিক্রি করে দেয় সংস্থা।
  • প্রতিযোগিতায় পেরে না উঠে ২০১৪ সালে বন্ধ হয়ে যায় উত্তরপাড়া হিন্দ মোটর কারখানা। সেইসঙ্গে বন্ধ হয় অ্যাম্বাসেডর গাড়ি তৈরি।
  • ২০১৪ সালে অ্যাম্বাসেডর ব্র্যান্ড ৮০ কোটি টাকায় পিএসএ গোষ্ঠীকে বিক্রি করে দেয় সংস্থাটি।
  • 2021 সালে হিরানান্দনি গোষ্ঠীকে আরো ১০০ একর জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়।
  • বর্তমানে হিন্দুস্থান মোটরস এর হাতে রয়েছে ২৭৬ একর জমি এবং ৯৬ একর জুড়ে তৈরি কারখানা পরিকাঠামো।
  • এবারে পূর্বতন পরিকাঠামো কে কাজে লাগিয়ে ফরাসি সংস্থা peugeot এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির ভাবনা। ২০২৪ সালকে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

গত অর্থবছরের আর্থিক ফল প্রকাশ করে শেয়ারবাজারকে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ এর প্রস্তাবের কথা জানিয়েছে হিন্দুস্তান মোটর । এক সময় দেশীয় বাজারে অ্যাম্বাসেডর গাড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং বিপুল ধারের কারনে হিন্দ মোটর কারখানাটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় সংস্থা । সংস্থার ডিরেক্টর উত্তম বসু জানিয়েছেন, “বর্তমানে সংস্থার ঋনের বোঝা প্রায় শূন্য। বৈদ্যুতিক গাড়ি এখন ভবিষ্যৎ । ২০১৮ সাল থেকেই উত্তরপাড়ার কারখানায় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ এর ভাবনাচিন্তা চলছিল কিন্তু করোনা সহ নানান কারণে সে বিষয়ে আর এগোনো হয়নি।”

ফ্রান্সের Peugeot সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে প্রথমে দুই চাকার গাড়ি তৈরীর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তা সফল হলে ভবিষ্যতে উত্তর পাড়াতেই চারচাকা গাড়িও তৈরি হবে বলে সংস্থা সূত্রে খবর।

উত্তর পাড়ার হিন্দ মোটরের কারখানাটির ভবিষ্যৎ বরাবর কুয়াশাচ্ছন্ন । গত শতকের পঞ্চাশের দশকে ব্রিটিশ সংস্থা ‘মরিস অক্সফোর্ড’ সিরিজ থ্রি (Moris Oxford series 3 ) এর আদলে অ্যাম্বাসেডর গাড়ি নির্মাণ শুরু করে এইচ এম। একসময় প্রবল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে অ্যাম্বাসেডর গাড়ি । এখনো দেশের বেশ কিছু শহরের রাস্তায় পুরনো এম্বাসেডর গাড়ির দেখা মেলে । কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের দিকে নজর না দেওয়ায় এবং মারুতি সুজুকি, হিরো হোন্ডার সহ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা বাজারে চলে আসায় অ্যাম্বাসেডর গাড়ির চাহিদা ধীরে ধীরে কমতে থাকে । আশির দশকে বছরে ২৪ হাজার গাড়ি বিক্রি হলেও ২০১৩-১৪ সালে তা গিয়ে দাঁড়ায় ২৫০০ তে। এক সময় যেখানে মাসে ১৫০০ গাড়ি তৈরি করত উত্তরপাড়ার কারখানা, সেখানে ২০১৪ সালে কারখানা বন্ধের সময় মাত্র ১৫০ টি গাড়ি তৈরি হয়।

সংস্থার মতে বেশ কয়েকটি কারণে ইউরোপীয় সংস্থাটির কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে হিন্দুস্তান মোটরস এর প্রস্তাব । কেননা স্টাম্পিং , ফোর্জিং এর মতো একাধিক কেন্দ্র এক ছাদের তলায় রয়েছে। কারখানার হাতে এখনো প্রচুর জমি রয়েছে , প্রয়োজনে সেখানেই ইঞ্জিনিয়ারিং ও গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে ।এইচ এম এর হাতে এক সময় যে ডিলাররা ছিল তাদের মাধ্যমে সহজেই দেশজুড়ে পুনরায় নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলা সম্ভব । আবার পুরোনো এম্বাসেডর গাড়ি তৈরি কারখানার পরিকাঠামো কে ব্যবহার করলে এক্ষেত্রে মূলধনী খরচ কম হবে বলেই আশা সংস্থাটির।

কারখানা পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনায় খুশির হাওয়া উত্তরপাড়ার হিন্দ মোটর কারখানা সংলগ্ন এলাকায় । বিদেশী সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বৈদ্যুতিক গাড়ির হাত ধরে আবার কি ফিরতে চলেছে হিন্দি মোটরের কর্মব্যস্ততা? সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কারখানা চালু হলে পুরনো যোগ্য কর্মীরাই অগ্রাধিকার পাবেন তাদের কাছে।

SUPPORT MYBENGAL24


One thought on “বৈদ্যুতিক গাড়ির হাত ধরে সম্ভবত খুলতে চলেছে উত্তরপাড়ার হিন্দ মোটর কারখানা

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান