ভেঙে পড়তে পারে বিদ্যুৎ পরিষেবা – আশঙ্কা প্রকাশ কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের

৫ লক্ষ কোটি টাকা লোকসান বিদ্যুৎ শিল্পে। হাত গুটিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকও। ভর্তুকি দেওয়ার মত টাকা সরকারি কোষাগারে নেই, জানিয়েছে অর্থমন্ত্রক।

দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি জ্বালানি এ পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি এবার চরম সঙ্কটে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা । একদিকে কয়লার বিপুল ঘাটতি অথবা উৎপাদনের অভাবে দেশের নানা প্রান্তে ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত । অন্যদিকে ৫ লক্ষ কোটি টাকা লোকসান । সমস্যার এখানেই শেষ নয়। বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থাগুলি চরম লোকসানের মুখে দাঁড়িয়ে এইমুহূর্তে । কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী অঙ্কটা সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার উপরে ।

ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশই তাপবিদ্যুৎ । দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে কয়লার সংকট চলছে। যুদ্ধের কারণে রাশিয়া থেকে কয়লা আমদানি অনেক কম । ইতিমধ্যেই কয়লার রেক চালানোর জন্য বাতিল করতে হয়েছে বহু যাত্রীবাহী ট্রেন। তারপরেও অবস্থা সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। একদিকে টাকার অভাব এবং অন্যদিকে বিদ্যুৎ মাশুল বাড়াতে না পেরে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থাগুলির আর্থিক মেরুদণ্ড প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে । তাদের ঋণের বোঝা , বকেয়ার পরিমাণ এবং সারচার্জ সবই ব্যাপক হারে বাড়ছে ।

পরিস্থিতি যে জায়গায় পৌঁছেছে , তাতে গোটা বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিকাঠামোই যে কোনও সময় থমকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক । এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া হয়ে বিশেষ প্যাকেজ ও সহায়তা প্রকল্প আনতে চাইছে বিদ্যুৎ মন্ত্রক । সেই পরিকল্পনা লিখিতভাবে অর্থমন্ত্রকে জমা দেওয়া হয়েছে । প্রস্তাব গিয়েছে রাজ্যগুলিতেও । কিন্তু এই প্যাকেজ দিতে যে পরিমাণ অর্থের লোকসান হবে সরকারি কোষাগারের , তার দায়ভার কে নেবে ? এই প্রশ্ন উঠছে । তাই এব্যাপারে ঘোরতর আপত্তি অর্থমন্ত্রকের ।

বিদ্যুৎ মন্ত্রকের প্রস্তাব , সরবরাহ সংস্থাগুলির যাবতীয় বকেয়া সম্পূর্ণ মকুব না হলেও আপাতত স্থগিত করা হোক । আর সঙ্গে বেশ কয়েক বছরের কিস্তিতে তা শোধের সুযোগ দেওয়া হোক। এরকম কোনও মধ্যপস্থা না নেওয়া হলে অচিরেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা ।

সুনির্দিষ্টভাবে প্রিন্সিপাল এবং লেট পেমেন্ট সারচার্জ আপাতত স্থগিতের প্রস্তাব রেখেছে বিদ্যুৎ মন্ত্রক । আর তাতে অর্থমন্ত্রক রীতিমতো ক্ষুব্ধ । কারণ , কেন্দ্রীয় সরকার তো বটেই , রাজ্যগুলিতে পর্যন্ত আর্থিক সঙ্কট চরমে । এই অবস্থায় বেসরকারি সংস্থাকে ছাড় দেওয়া হলে অর্থের সংস্থান আরও কমবে । আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন । বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ সংস্থার কেউই নিজেদের বকেয়া মেটাতে পারছে না । সরকারি সংস্থা কোল ইন্ডিয়ার হাজার হাজার কোটি টাকাও অনাদায়ী রয়ে যাচ্ছে । এর মধ্যে নতুন করে ছাড় দিলে বড়সড় ধাক্কা খাবে সরকারের আদায় । এই নিয়ে অর্থ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রকের মধ্যে মতান্তর চরমে । উৎপাদন সংস্থার থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করে তা জোগান দেয় সরবরাহ সংস্থা । বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলি আবার চলে সরকারি সংস্থা থেকে কয়লা ক্রয় অথবা আমদানি করে । এই ব্যবস্থায় একটি পেমেন্ট বন্ধ হয়ে গেলেই ধাক্কা খায় গোটা চক্র । বর্তমানে ঠিক সেটাই হয়েছে । সকলে ভুগছে চরম অর্থসঙ্কটে । সুতরাং , যে কোনও সময় বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে আতঙ্কে বিদ্যুৎ মন্ত্রক ।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান