রহস্যময় অতল সুড়ঙ্গের খোঁজ বাঁকুড়ায়, চাঞ্চল্য এলাকায়।

ব্রিটিশ আমলে বিপ্লবীদের অথবা ডাকাতদলের আত্মগোপনের স্থান বলে দাবি স্থানীয় মানুষজন এর।

এই সেই সুরঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদন : Bankura tunnel : একটি সুড়ঙ্গের খোঁজ পাওয়া গেল বাঁকুড়ার গন্ধেশ্বরী নদীর পাড়ে অবস্থিত রাজারবাগান এলাকায় কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গন্ধেশ্বরী নদী পাহাড় ধসে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষই প্রথম সুড়ঙ্গ টি দেখতে পান। এই সুড়ঙ্গকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বৃষ্টির কারণে বাঁকুড়ার গন্ধেশ্বরী নদীর পাড়ে রাজার বাগান এলাকায় মাটি ধ্বসে যেতেই এই সুড়ঙ্গের মুখ কথা গেছে এবং এই সুড়ঙ্গের মুখ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায় । এই ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার রাজার বাগান এলাকায় ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি , এলাকাটিতে খুব একটা কেউ যায়না। কিন্তু কয়েকদিন আগে কৌতূহলবশত পাঁচ ছয় জন যুবক ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে যায় । সেই সময়ই তারা সুরঙ্গটির মুখ দেখতে পায় । স্থানটি বাঁকুড়ার সতীঘাট থেকে দুই কিলোমিটার দূরে রাজার বাগান এলাকায় । এখানে গন্ধেশ্বরী নদী বাঁক নিয়েছে । সেই বাকের মুখে ক্রমশ গন্ধেশ্বরীর দক্ষিণপাড় ভাঙছে । নদীর পাড়ের একটা অংশ ধ্বসে যেতেই সুড়ঙ্গটি একটা নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের । কিভাবে এখানে সুরঙ্গ এলো সেটা নিয়ে কিন্তু ইতিমধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ।

জানা যাচ্ছে বহু আগে এই জায়গায় তেমন একটা জনবসতি ছিল না। ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল ওই এলাকা । ব্রিটিশ আমলে এখানে ডাকাত দলের আনাগোনা ছিল। এমনকি কুড়ি পঁচিশ বছর আগেও এখানে ডাকাতের উপদ্রব ছিল । এলাকাটি খোড়া ডাকাতের এলাকা বলে পরিচিত ছিল স্থানীয় মানুষের মধ্যে । এখানকার ঘন জঙ্গলে ডাকাতদল আত্মগোপন করে থাকত। সামান্য দূরে ডাকাত কালীর মন্দিরও রয়েছে । আবার গ্রামবাসীদের অন্য একটি পক্ষের মত এই স্থানে একসময় স্বাধীনতা সংগ্রামীরা লুকিয়ে থাকতেন, তারাই হয়তো ঐ সুরঙ্গ ব্যবহার করতেন । যে স্থানে সুরঙ্গ পাওয়া গেছে সেই স্থানটি বাঁকুড়ার সতীঘাট এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে রাজারবাগান এলাকায় ।

চার পাঁচ দিন আগে খোঁজ পাওয়ার পর স্থানীয় মানুষই তারা নিজেরাই কোদাল , শাবল , গাঁইতি দিয়ে সেই জায়গা খুঁড়তে শুরু করেন। প্রায় কুড়ি পঁচিশ ফুট খোঁড়ার পর সুড়ঙ্গের মুখ স্পষ্ট হয় । কুড়ি ফুট খনন করার পরেও সুড়ঙ্গের শেষ পাওয়া যায়নি । উচ্চতায় সুড়ঙ্গটি প্রায় সাড়ে তিন ফুট এবং প্রস্থে আড়াই ফুট । মাথাটি গোল আকারের সুরঙ্গটির দুই পাশের দেওয়াল ইট-চুন-সুরকি দিয়ে গাঁথা। মেঝেটিও চুন সুরকি দিয়েই বাঁধানো। সুড়ঙ্গের ভেতরে একজন মানুষ অনায়াসে যাতায়াত করতে পারে। বিষ্ণুপুর মিউজিয়ামের কিউরেটর তুষার সরকার বলেছেন , সুড়ঙ্গের ছবি দেখে প্রাথমিক ভাবে যা মনে হচ্ছে তা হল এই ধরনের নির্মাণ ব্রিটিশ আমলেই বেশি হতো । কারণ ইটের আকার বা নির্মাণ রীতি সেই যুগের বলেই মনে হচ্ছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকতে পারলে তবে এর রহস্য ভেদ করা সম্ভব হবে ।

সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন

কাল বিকেলে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছলে আজ সকালে বেশ কয়েকবার প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এখানে আসেন এবং তারা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন । প্রশাসন স্থানীয় মানুষকে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করতে নিষেধ করে গেছে। সুড়ঙ্গের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আপাতত বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ পাঁচিল গেঁথে সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে । গ্রামবাসীদের দাবি , প্রশাসনের তরফ থেকে জায়গাটিতে খনন করে সুড়ঙ্গের রহস্য ভেদ করা হোক । জায়গাটি ডাকাতদলের হোক বা বিপ্লবী দলের , যাই হোক না কেন প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এমনটাই দাবি স্থানীয় মানুষের।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান