ভিনগ্রহীর সন্ধান পেল বিশ্বের বৃহত্তম স্কাই আই টেলিস্কোপ

অন্য গ্রহে প্রানের সন্ধানে অনেকদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এবার ৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে আসা রেডিও সিগন্যাল ধরা পরল বিশ্বের বৃহত্তম টেলিস্কোপ স্কাই আই তে

চিনের দক্ষিণ-পশ্চিমের গুইঝো প্রদেশে বসানো রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপ ৫০০ মিটার ব্যাসের স্কাই আই (Sky Eye)। ২০২০-র মাঝামাঝি থেকে বহির্জগতে প্রাণের সন্ধান করছে স্কাই আই । এবার এই টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বহির্জগতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার ইঙ্গিত মিলেছে বলে সম্প্রতি দাবি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা । অতি সংবেদনশীল ওই টেলিস্কোপ অতি দুর্বল রেডিও সোর্সও ধরতে সক্ষম।

সম্প্রতি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় দৈনিক সংবাদপত্রে বিষয়টি আলোচিত হওয়ার পর ব্রিটেনের নেচার (Nature) জার্নালেও এ ব্যাপারে  রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব জুড়ে আলোচনা শুরু হওয়ায়, চিনা সংবাদপত্র তাদের ওয়েবসাইট থেকে রিপোর্টটি তুলে নেয়।

জ্যাক মা প্রতিষ্ঠিত চিনা সংস্থা আলিবাবা (Alibaba) র মালিকানাধীন হংকংয়ের ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ ( south chaina morning post ) জানিয়েছে, পৃথিবীর বাইরে থেকে রহস্যজনক আলোর ঝলকানি ধরা পড়েছে ‘Sky Eye’ টেলিস্কোপে। পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৩০০ কোটি আলোকবর্ষ । চিনা বিজ্ঞানীদের অনুমান, বহু দূরের কোনও ছায়াপথে অবস্থানরত কম্প্যাক্ট রেডিও সোর্স ( compect radio source ) থেকেই ওই আলোর ঝলকতানি উৎসারিত হয়েছে। এরপরেই আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ এবং নিউ মেক্সিকোর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মিলিত ভাবে রেডিও সিগন্যালের শনাক্ত করনে নেমে পড়েন চিনা বিজ্ঞানীরা।

জ্যোতির্বিজ্ঞানে  টেলিস্কোপে ধরা পড়া এই ধরনের আলোর ঝলকানিকে ফাস্ট রেডিও বার্স্টস ( First Radio Bursts বা FRB) বলা হয়। মাত্র কয়েক সেকেন্ড  এই ধরনের ঝলকানি স্থায়ী হয়। ক্রমান্বয়ে ঘটতে থাকা  ঝলকানিকে একত্রিত করে সূত্র খোঁজার চেষ্টা করেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু চিনের টেলিস্কোপে ধরা পড়া ওই আলোর ঝলকানি প্রতি ঘণ্টায় বেশ কয়েক বার ধরা পড়েছে, তাতেই এর উৎস অনুমান করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিনের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল ( National astronomical abservatory) অবজারভেটোরিজের মুখ্য বিজ্ঞানী লি দি। বিগত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের টেলিস্কোপে প্রায়শই এই ধরনের ইঙ্গিত ধরা পড়া বহির্জগতে প্রাণের অস্তিত্বের দাবিই জোরাল হয়ে উঠছে।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান