বঙ্গাব্দের সূচনা কার হাতে ?

আজ নতুন বাংলা বর্ষ ১৪২৯ এর শুভ সূচনা। এই সূচনা লগ্নে আলোকপাত করা যাক বঙ্গাব্দের উৎপত্তির উপর।

বঙ্গাব্দের সূচনা সম্পর্কে দুটি মত প্রচলিত আছে প্রথম মত অনুযায়ী বঙ্গাব্দের সূচনা হয় গৌড়ের শাসক শশাঙ্ক র হাত ধরে আর দ্বিতীয় মত অনুযায়ী বঙ্গাব্দের সূচনা করেন মোগল সম্রাট আকবর

আবার কিছু ঐতিহাসিক এর মতে, বাংলা বর্ষপঞ্জি এসেছে ৭ম শতকের হিন্দু রাজা শশাঙ্কের কাছ থেকে। আকবরের সময়ের অনেক শতক আগে নির্মিত দুটি শিব মন্দিরে বঙ্গাব্দ শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়। আর এটাই নির্দেশ করে, আকবরের সময়ের আরও অনেক আগেও বাংলা বর্ষপঞ্জির অস্তিত্ব ছিল। সপ্তম শতাব্দীর শুরুর দিকে শশাঙ্ক ছিলেন গৌড়ের রাজা ও তার রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ বাংলা বিহার অসমের একাংশ তার শাসনাধীনে ছিল ।অনুমান করা হয় শশাঙ্কের আমলে জুলিয়ান বর্ষপঞ্জির ৫৯৪ সনে বঙ্গাব্দের সূচনা হয়। তবে বঙ্গদেশে বঙ্গাব্দ কে বেশি জনপ্রিয় করে তোলেন মুর্শিদাবাদের নবাব মুর্শিদকুলি খান।

মুঘল শাসনের প্রথমদিকে দেশে হিজরী সন অনুযায়ী শাসনকার্য চলত। সম্রাটের অভিষেক থেকে শুরু করে রাজস্ব আদায় সবকিছুই হিজরী সন মেনেই হত । তবে এ ক্ষেত্রে প্রধান অসুবিধা ছিল হিজরী সন তথা পঞ্জিকা নির্ভরশীল চান্দ্রমাসের উপরে। চান্দ্রমাস অনুযায়ী এক বছর হয় ৩৫৪ দিনে। কিন্তু সৌরবছর হয় ৩৬৫ দিনে। ফলে কৃষিপ্রধান বঙ্গদেশে ঋতুর ওপর নির্ভরশীল কৃষিজ ফসল উৎপাদনের উপর থেকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিত । এইজন্য মুঘল সম্রাট আকবর হিজরী সন কে চান্দ্র পঞ্জিকা থেকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর রাজ জ্যোতিষী ফতুল্লাহ শিবাজীর পরামর্শ অনুযায়ী ৯৬৩ হিজরী সনে নতুন বর্ষের সূচনা করেন আকবর । প্রধানত বঙ্গ দেশের জন্য এই নববর্ষের সূচনা হয় বলে এটি বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

বাংলা বর্ষপঞ্জি হল বঙ্গদেশের একটি ঐতিহ্য মণ্ডিত সৌর পঞ্জিকা ভিত্তিক বর্ষপঞ্জি ও পঞ্জিকা সাল । সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সৌরদিন গণনা শুরু হয় । পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড সময়ের প্রয়োজন হয় । এই সময়টাই এক সৌর বছর ।

গ্রেগরীয় সনের মতন বঙ্গাব্দেও মোট ১২ মাস । এগুলো হল বৈশাখ , জ্যৈষ্ঠ , আষাঢ় , শ্রাবণ , ভাদ্র , আশ্বিন , কার্তিক , অগ্রহায়ণ , পৌষ , মাঘ , ফাল্গুন ও চৈত্র । আকাশে রাশিমণ্ডলীতে সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে বঙ্গাব্দের মাসের হিসাব হয়ে থাকে । জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে সৌর – মাস নির্ধারিত হয় , সূর্যের গতিপথের উপর ভিত্তি করে । সূর্যের ভিন্ন অবস্থান নির্ণয় করা হয় আকাশের অন্যান্য নক্ষত্রের বিচারে । প্রাচীন কালের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের বার্ষিক অবস্থান অনুসারে আকাশকে ১২ টি ভাগে ভাগ করেছিলেন । এর একটি ভাগকে তারা নাম দিয়েছিলেন রাশি । আর ১২ টি রাশির সমন্বয়ে যে পূর্ণ আবর্তন চক্র সম্পন্ন হয় , তার নাম দেওয়া হয়েছে রাশিচক্র ।

এই রাশিগুলোর নাম হল- মেষ রাশি , বৃষ রাশি , মিথুন রাশি , কর্কট রাশি , সিংহ রাশি , কন্যা রাশি , তুলা রাশি , বৃশ্চিক রাশি , ধনু রাশি , মকর রাশি , কুম্ভ রাশি ও মীন রাশি । সূর্যের বার্ষিক অবস্থানের বিচারে , সূর্য কোনো না কোন রাশির ভিতরে অবস্থান করে । এই বিচারে সূর্য পরিক্রমা অনুসারে , সূর্য যখন একটি রাশি থেকে অন্য রাশিতে যায় , তখন তাকে সংক্রান্তি বলা হয় । এই বিচারে এক বছরে ১২ টি সংক্রান্তি পাওয়া যায় । একেকটি সংক্রান্তিকে একেকটি মাসের শেষ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। যেদিন রাত্রি ১২ টার মধ্যে সূর্য ০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে প্রবেশ করে তার পরদিনই ১ লা বৈশাখ ( পহেলা বৈশাখ ) হয় । যেদিন রাত্রি ১২ টার মধ্যে সংক্রান্তি হয় তার পরদিনই মাসের প্রথম দিন । মূলত একটি সংক্রান্তির পরের দিন থেকে অপর সংক্রান্ত পর্যন্ত সময়কে এক সৌর মাস বলা হয় ।

লক্ষ্য করা যায় সূর্য পরিক্রমণ অনুসারে সূর্য প্রতিটি রাশি অতিক্রম করতে একই সময় নেয় না । এক্ষেত্রে মাসভেদে সূর্যের একেকটি রাশি অতিক্রম করতে সময় লাগতে পারে , ২৯ , ৩০ , ৩১ বা ৩২ দিন । সেই কারণে প্রতি বছর বিভিন্ন মাসের দিনসংখ্যা সমান হয় না । হিন্দু পণ্ডিতগণ সূর্য , চন্দ্র এবং অন্যান্য গ্রহসমূহের ক্রমাবর্তনকে পর্যবেক্ষণ এবং হিসাব করে সময়ের হিসাব রাখার চেষ্টা করতেন ।

সূর্য সম্পর্কিত এই হিসাব নিকাশ সংস্কৃত ভাষার বিভিন্ন জ্যোতিঃশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থে উঠে এসেছে , যেমন ৫ ম শতকে আর্যভট্ট কর্তৃক রচিত আর্যভট্টীয় , ৬ ষ্ঠ শতকে লটদেব কর্তৃক রচিত রোমক এবং বরাহমিহির কর্তৃক রচিত পঞ্চসিদ্ধান্তিকা , ৭ ম শতকে ব্রহ্মগুপ্ত কর্তৃক রচিত খাওখাণ্ড্যক ইত্যাদি । এই গ্রন্থগুলোতে সূর্য সহ ও বিভিন্ন গ্রহ সম্পর্কে লেখা হয় এবং এদের স্থানান্তর সম্পর্কিত হিসাব – নিকাশ এবং বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয় ।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার :- উইকিপিডিয়া

স্মরণে

ম্যাজিক পেন এবার প্রতারনার নতুন অস্ত্র

ম্যাজিক পেনের কারসাজিতে মুছে যাচ্ছে চেকে লেখা টাকার অঙ্ক তাই ব্যাঙ্কের কাজে অপরিচিতদের কলম না নেওয়ার  সতর্কবার্তা জারী করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিস ।

অনলাইনে ব্যাংক প্রতারণার বহু ঘটনা ধরা পড়েছে । কিন্তু এবার অনলাইন নয় গ্রাহকের সাক্ষাতেই প্রতারণা করছে জালিয়াতরা। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের একটি ঘটনা সামনে এসেছে । বেসরকারি সংস্থা থেকে স্বাস্থ্যবিমা করিয়েছিলেন এক প্রবীণ নাগরিক । লকডাউনে বেশ কয়েক মাসের প্রিমিয়াম বাকি পড়ে যায় তার । এরপর বীমা সংস্থার নাম করে ফোন আসে তাঁর কাছে । বলা হয় , বিমা ফের চালু করতে ২০০ টাকার একটি পেমেন্ট করতে হবে এবং তা দিতে হবে চেকে। বাড়ি এসে সেই চেক নিয়ে যাবেন বীমা সংস্থার এজেন্ট ।

বিশ্বাস করে ওই এজেন্টের বাড়িয়ে দেওয়া কলমে সেই চেক লিখে দেন ওই গ্রাহক । পরের দিনই মোবাইলে ব্যাংকের মেসেজ আসে । সেখান থেকে তিনি জানতে পারেন , ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছে দেড় লক্ষ টাকা ।

তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে , পুরোটাই ‘ম্যাজিক পেন ‘ এর কারসাজি । এমন একটি নয় , রাজ্যজুড়েই এধরনের অভিনব জালিয়াতির বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছে পুলিস । এধরনের প্রতারণার জাল এড়াতে চেক বা ফর্মে নিজের কলমে সই করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিস ।

কীভাবে হচ্ছে এধরনের আর্থিক প্রতারণা ? বেশ কয়েক মাসের চেষ্টার পর অবশেষে রহস্যভেদ করেছেন রাজ্য পুলিসের আধিকারিকরা । তাঁরা জানাচ্ছেন , মূল কারসাজি প্রতারকদের কলমে। সেই কলমে রয়েছে একটা বিশেষ ধরনের কালি, যা পেনের পিছনে থাকা রবার দিয়ে মুছে ফেলা যায় । বিশেষজ্ঞরা বলছেন , এই কালিটি ‘ থার্মোক্রমিক ইঙ্ক ‘ নামে পরিচিত । কাগজের পাতায় ওই কালিতে লিখে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় রাখলে বা প্রয়োগ করলে তা উবে যায় । রাজ্য পুলিস সূত্রে খবর , রবার লাগানো ছাড়া অন্য কোনও পেনে এই কালি ভরেও এই জালিয়াতি করা যায় ।

পুলিস জানিয়েছে , ব্যাঙ্ক বা বীমা সংস্থার এজেন্ট পরিচয় দিয়ে বাড়িতে হানা দিচ্ছে প্রতারকরা । কথাবার্তার ফাঁকে চেকে সই করার জন্য নিজেদের ‘ ম্যাজিক পেন ‘ গছিয়ে দিচ্ছে তারা । সাতপাঁচ না ভেবেই সেই ম্যাজিক পেন ব্যবহার করে প্রতারকদের পাঁতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেকে । চেকে টাকার অঙ্ক সমেত সই করে দিচ্ছেন তাঁরা । আসলে গ্রাহক তখন ভাবতেও পারেন না যে , তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয় একলহমায় গায়েব করে দিতে পারে এজেন্টরূপী এই সব প্রতারক ।

গ্রাহকের চোখের আড়ালে ম্যাজিক পেনের পিছনের রবার দিয়ে টাকার অঙ্ক মুছে ফেলা হচ্ছে । বলাই বাহুল্য , গ্রাহকের সই অটুট থাকছে । টাকার অঙ্ক মুছে দিতেই চেকটি পরিণত হচ্ছে ‘ ব্ল্যাঙ্ক চেক ‘ – এ । আর এতেই কেল্লা ফতে। গ্রাহকের সই করা ওই ব্ল্যাংক চেক এ নিজের মনপসন্দ টাকার অঙ্ক বসিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে তারা । ফোনে টাকা ডেবিটের মেসেজে যতক্ষনে তা জানতে পারছেন গ্রাহক , ততক্ষণে খেলা শেষ ।

রাজ্য পুলিসের এক কর্তা বলেন , মূলত প্রবীণদের টার্গেট করছে প্রতারকরা । এর কারণ- ✏️ প্রথমত , তাঁদের ব্যাঙ্কে সঞ্চয়ের পরিমাণ বেশি । তাই বেশি টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ থাকে । ✏️দ্বিতীয়ত , বয়স্করা অনেকেই ব্যাঙ্কে গিয়ে কাজকর্ম করতে অক্ষম । তাই তাঁদের ভুল বুঝিয়ে প্রতারণা অনেক বেশি সহজ। তাই বয়স্ক মানুষেরা এই অভিনব প্রতারণার ‘ ইজি টাগেট ‘ ।

সেক্ষেত্রে অভিনব প্রতারণা থেকে বাঁচবেন কী করে ? উপায় বাতলে দিয়েছে পুলিস । তাদের পরামর্শ , অপরিচিত কোনও ব্যক্তির পেনে চেক বা ফর্মে সই করবেন না । সর্বদা নিজের পেন ব্যবহার করুন । তাহলে সুরক্ষিত থাকবে অ্যাকাউন্ট ।

জন্মদিনে রক্তদান

সন্তান নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়লে প্রত্যেক বাবা মায়ের জীবনে উপস্থিত হয় চরম দুঃখের দিন, ঠিক তেমনই কিছু পবিত্র নেশা আছে যেটি বাবা মাকে ভীষণ গর্বিত করে তোলে।

13/4/1996 এক রত্নগর্ভা মা জন্ম দিয়েছিলেন একটি রত্নের , যার নাম শুভ্রনীল ভট্টাচার্য। সময়ের স্রোতে শুভ্রনীল বাবু নিজেকে একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তার একটি ভয়ংকর সুন্দর নেশা আছে তা হল “মানুষ বাঁচানোর নেশা”

শুভ্রনীল বাবুর এই নেশায় সামিল হয়ছেন বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন কিছু মানুষ তাদের মধ্যে আছেন ডাক্তার নার্স গবেষক অধ্যাপক এবং সমাজের বেশকিছু তরুণ প্রাণ। এই সংগঠন আজ “YOUTH OF BENGAL” নামে পরিচিতি পেয়েছে সভ্য সমাজের বুকে। শুভ্রনীল এই সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ এবং মেডিসিন বিভাগের প্রধান।

আগামী ১৩ই এপ্রিল শুভ্রনীল বাবুর ২৭তম তম জন্মদিবস উপলক্ষে “YOUTH OF BENGAL” নবদ্বীপ ব্লাড ব্যাংকে (Nabadwip State General Hospital) আয়োজন করতে চলেছে একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত চলবে এই শিবির। এখনও পর্যন্ত মোট ২৫জন মানুষ রক্তদান করার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন।

আরো দেখুন পূর্বস্থলীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতা শিবির,আয়োজনে ইয়ুথ অফ বেঙ্গল

আমাদের পেজের পক্ষ থেকে সংগঠনের সম্পাদক জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ,

♦️1 মূলত গরমের দাবদাহ যত বাড়ে তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে রক্ত সংকট সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই শিবির আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

♦️2 শিবির আয়োজনের খরচ কমোনো এবং রক্তদাতা দের শারীরিক পরিস্থিতি যদি কোনো কারণে অবনতি হয় তখন তাকে দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার জন্য নবদ্বীপ ব্লাড ব্যাংককে শিবির আয়োজনের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

♦️3 মূলত এই চৈত্র মাসের শেষে হিন্দু এবং মুসলিম এই দুই ধর্মেরই বিশেষ একটি অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে। হিন্দু ধর্মে এই সময় গাজনের সন্ন্যাসী এবং মুসলিম ধর্মে রমজান মাসের পালন এই দুইটি ধার্মিক অনুষ্ঠান চলার কারণে অনেক তরুণ রক্তদাতা ই রক্তদান করতে পারছেন না।কাজেই এটা আমাদের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ এই সময়ে চরম রক্ত সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা।

♦️4 মহিলা রক্তদাতা দের জন্য একটি আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তার সাহাযার্থে মহিলা ভলেন্টিয়ার্ নিয়োগ করা হবে।

আমাদের পেজের পক্ষ থেকে শুভ্রনীল বাবুকে তার জন্মদিনের আগাম শুভেচ্ছা রইল।

এবার রাতেও হবে সৌরশক্তির উৎপাদন , গবেষণা স্টানফোর্ডের

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিড আসাওয়াওরারিট  ( Sid Assawaworrarit)  এবং তার সহকর্মীরা একটি থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটরের সাথে রিট্রোফিট করা একটি স্ট্যান্ডার্ড সোলার প্যানেল তৈরি করেছেন। থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর গরম বাতাস থেকে শীতল সৌর প্যানেলে প্রবাহিত তাপকে ধরে সেটিকে বিদ্যুৎ এ পরিণত করতে পারে ।

নিজস্ব প্রতিবেদন : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ( Stanford University) এর ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল এমন একটি সৌরকোষ (Solar Cell) তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যা রাতেও কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এতদিন আমরা জেনে এসেছি , যে সৌরকোষ থেকে শুধুমাত্র দিনের বেলাতেই সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হতে পারে । এবার সেই ধারণা আংশিক বদলাতে চলেছে বলেই আশা বিজ্ঞানী মহলে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিড আসাওয়াওরারিট ( Sid Assawaworrarit)  এবং তার সহকর্মীরা একটি থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটরের সাথে রিট্রোফিট করা একটি স্ট্যান্ডার্ড সোলার প্যানেল তৈরি করেছেন। থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর গরম বাতাস থেকে শীতল সৌর প্যানেলে প্রবাহিত তাপকে ধরে সেটিকে বিদ্যুৎ এ পরিণত করতে পারে ।

ইতিমধ্যে এর পরীক্ষাও করা হয়েছে । একটি পরিষ্কার রাতে, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে পরীক্ষা করা ডিভাইসটি সোলার প্যানেলের প্রতি বর্গমিটারের জন্য প্রায় পঞ্চাশ মিলিওয়াট (50 mW/m2) বিদ্যুৎ উৎপন্ন করেছে ।

সিড আসাওয়াওরারিট বলেছেন , “দিনের সময়, সূর্য থেকে একটি আলো আসে এবং সৌর কোষে আঘাত করে, কিন্তু রাতে বিপরীত ঘটনা ঘটে, এর কারণ হল সৌর প্যানেল, বা পরম শূন্যের চেয়ে উষ্ণ সবকিছু, ইনফ্রারেড বিকিরণ নির্গত করে। “আসলে [সৌর প্যানেল থেকে] আলো বের হচ্ছে, এবং আমরা রাতে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে এটি ব্যবহার করি। রাতের আকাশে বেরিয়ে আসা ফোটনগুলি আসলে সৌর কোষকে শীতল করে, “।

এ সপ্তাহেই অ্যাপ্লাইড ফিজিকস লেটার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা বলছে , স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিষ্কৃত সোলার প্যানেল দিনের বেলাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে, এই যন্ত্রটি “দিন এবং রাত উভয়ের জন্য একটি অবিচ্ছিন্ন পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস হিসাবে কাজ করতে পারে “। গবেষণাপত্র টিকে আরও বলা হয়েছে ,”আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অফ-গ্রিড এবং মিনি-গ্রিড অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে রাত্রিকালীন স্ট্যান্ডবাই আলো এবং শক্তি সরবরাহ করা।

মিনি-গ্রিড অ্যাপ্লিকেশান (Mini-Grid Application) বলতে স্বাধীন ইলেক্ট্রিসিটি নেটওয়ার্ককে বোঝায় যা খুব কম জনসংখ্যা বিশিষ্ট অঞ্চল কিংবা কোন দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত অঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। নদী মধ্যস্থ দ্বীপ কিংবা ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ, যেখানে তাপবিদ্যুৎ বা জলবিদ্যুতের সুবিধা নেই , সেই সমস্ত অঞ্চলে এই ধরনের সোলার প্যানেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

এই গবেষণাটি গবেষণাটি এমন এক মুহুর্তে সামনে এসেছে যখন বিশ্বজুড়ে আসে যখন সৌর চাকরি (Solar jobs) এবং আবাসিক ক্ষেত্রে(Residential Installation) সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অপ্রচলিত শক্তি গুলির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। ফলে এই গবেষণাটি সফলভাবে ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমবে বলেই আশা।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ক্যালিফোর্নিয়া, আমেরিকা

ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ চলতে থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে । এই অবস্থায় সোলার এনার্জি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (Solar Energy Industries Association) এর সভাপতি এবং সিইও অ্যাবিগেল রস হপার বলেছেন যে , ” শক্তির বিকল্প উৎস গুলিতে বিনিয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ৷ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার মুখে, আমাদের অবশ্যই বিকল্প পথে শক্তি উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং আমাদের শক্তির প্রয়োজনের জন্য প্রতিকূল দেশগুলির উপর আমাদের নির্ভরতা দূর করতে হবে,”

22 লক্ষ কিমি গতিবেগে ধেয়ে আসছে সৌর ঝড়,ইন্টারনেট স্যাটেলাইট ব্যবস্থায় প্রভাবের আশঙ্কা!

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ঝড়ের সাথে বিপুল পরিমান সৌর কণা প্রতি ঘণ্টায় 22 লক্ষ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন : একদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন মনুষ্য সৃষ্ট যুদ্ধে যেমন বিপর্যস্ত পৃথিবী , তেমনি আরো একটি যুদ্ধ ঘনিয়ে আসতে চলেছে । তবে এটি পার্থিব যুদ্ধ নয় , এক মহাজাগতিক যুদ্ধ । কারণ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে অতি শক্তিশালী সৌর ঝড় (Solar Storm)। 28 শে মার্চ সূর্যের অতি সক্রিয় অঞ্চলে যার সৃষ্টি । খুব শীঘ্রই ঘন্টায় 22 লক্ষ কিলোমিটার গতিবেগে পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেত্রের উপর আছড়ে পড়বে এই সৌর ঝড়।পৃথিবীতে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে এক অতি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র।তার ওপরেই আছরে পড়বে এই সৌর ঝড়। এমন আশঙ্কাবাণী শুনিয়েছেন বিজ্ঞানীদের একটি দল বিজ্ঞানীদের একটি দল।

সৌর ঝড় (Solar Storm) হল সূর্যের উপরের বায়ুমণ্ডল থেকে নির্গত চার্জযুক্ত কণার একটি স্রোত, যাকে করোনা বলে। এই প্লাজমায় বেশিরভাগ 0.5 থেকে 10 kv এর মধ্যে গতিময় শক্তি সহ ইলেকট্রন, প্রোটন এবং আলফা কণা থাকে। সৌর-বায়ু প্লাজমার মধ্যে হ’ল আন্তঃ গ্ৰহ চৌম্বকীয় ক্ষেত্র।এক্ষেত্রে প্রচুর শক্তিশালী আধানযুক্ত কোন পৃথিবীর চৌম্বক মন্ডল এ প্রবেশ করলে পৃথিবীর চৌবক ক্ষেত্রের জন্য সেগুলি পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে গিয়ে বায়ুমণ্ডলের আয়োনোস্ফিয়ার ( ionosphere ) এ এসে রঙ্গিন আলোর ছটা সৃষ্টি করে যাকে মেরুজ্যোতি বা অরোরা বলে।

সূর্য একটি নতুন সৌর চক্রে প্রবেশ করেছে। এই সময় সূর্য মহাকাশে অনেক পদার্থ নিক্ষেপ করতে থাকে। আশঙ্কা করা হচ্ছে শক্তিশালী সৌরঝড় আছড়ে পড়তে পারে পৃথিবীতে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন , এই ঝড়ের সাথে বিপুল পরিমান সৌর কণা প্রতি ঘণ্টায় 22 লক্ষ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে।

এই ঘটনায় ঝনঝন করে কেঁপে উঠবে পৃথিবীর চার পাশে থাকা চৌম্বক ক্ষেত্র। দুই মেরুতে আরও ঘনঘন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখা যাবে মেরুজ্যোতি। এই হানাদারদের জন্য কিছু ক্ষণের জন্য হলেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে গোটা ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ মেরু, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও উত্তর মেরুর যাবতীয় রেডিয়ো যোগাযোগ ব্যবস্থা। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বিশ্বের একাংশের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থাও। ব্যাহত হতে পারে জিপিএস-মোবাইল-বিদ্যুৎ পরিষেবাও।

এই ঝড়ে মানুষের সরাসরি কোন ক্ষতি হয়না ।কিন্তু ঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ ও স্যাটেলাইট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে এবং বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে তারা বলছেন।

এবার এক ঝলকে সৌর ঝড় এর প্রভাব গুলো দেখে নেওয়া যাক –

গত পাঁচ বছরে যতগুলো সৌর ঝড় পৃথিবীকে আঘাত করেছে এটি তার মধ্যে সবচেয়ে বড়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ঝড়ের প্রভাবে সৌর কনা ও পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সংঘর্ষের ফলে দুই মেরুতে অর্থাৎ উত্তর মেরুতে সুমেরু প্রভা এবং দক্ষিণ মেরুতে কুমেরু প্রভা আরো উজ্জ্বলতর হবে ।

মেরু প্রভা ছবি – উইকিপিডিয়া

MRO র ছবিতে মঙ্গল পৃষ্ঠে বিরল গর্তের সন্ধান,নিরুত্তর NASA

তবে, রাশিয়ান অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্স-এর বিজ্ঞানীদের দাবি, কিছু কিছু সৌর-ঝড় মানুষ সহ বিভিন্ন জীবের ক্ষতিও করে। যেমন—রক্ত চলাচল, রক্তচাপ ও শরীরে অ্যাডরেনালিনের সক্রিয়তায় প্রভাব পড়ে। রুশ বিজ্ঞানীদের দাবি, ভয়ঙ্কর এই ঝড়ের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের মাথাব্যথা, ঝিমুনি এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রেও মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা

নাসা গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার (NASA Goddard Space Flight Center ) এর একজন সহযোগী প্রধান জ্যোতির্বিদ্যা অ্যালেক্সা হ্যালফোর্ড বলেছেন, প্রত্যেক 11 বছর অন্তর পৃথিবী সূর্যের সবথেকে কাছে চলে যায়। সেই সময়েই এই ঘটনা ঘটতে পারে। এই সময় আরও একটি সৌর শিখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং পদ্ধতিগুলি কতটা সফলভাবে সৌর কণার ঢেউ প্রতিরোধ করতে পারে তা মূল্যায়ন করার একটি সুযোগ পাওয়া যাবে।

১৯৮৯ সালে একটি সৌর ঝড় আছড়ে পড়েছিল পৃথিবীতে। এর ‌ফলে কানাডাতে প্রায় ৯ ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিল না। যদিও বড় কিছু হওয়ার সম্ভাবনাও কম। পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্র পৃথিবীকে সুরক্ষা দেবে এই ঝড়ের থেকে এমনটাই জানান হয়েছে।

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ সরে আসছে হাওড়ার দিকে , আশঙ্কিত বিজ্ঞানীরা

বোটানিক্যাল গার্ডেন পেরিয়ে হুগলী নদীর দুই তীরে বেলুড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে সুন্দরবনের লবণাম্বু উদ্ভিদগুলি ।

‘ দাও ফিরে সে অরণ্য ,লও এ নগর ‘ কবিগুরুর এই আকাঙ্খা যেন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। ম্যানগ্রোভ অরণ্যের কথা ভাবলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুন্দরবনের সুন্দরী , গরান , গেওয়া , হোগলা , কৃপাল , বায়েন , হাড়গোজা , সমুদ্র , পানলতা , গোলপাতার সারি , স্বাসমূল আর ঠেস মূলের বিস্তৃত জলাভূমি।

যদিও এবার ম্যানগ্রোভ দেখতে সুন্দরবন (Sundarban) যাওয়ার দরকার নেই । ম্যানগ্রোভ এখন শিবপুর আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ভারতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন (Acharya Jagadish Chandra Bose Indian Botanic Garden) সংলগ্ন গঙ্গার পাড়েই । হ্যাঁ , শুনতে আশ্চর্য লাগলেও এখন গঙ্গার জলেই গজিয়ে উঠছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ।গঙ্গার পাড়ে ম্যানগ্রোভের অরণ্য নিয়ে চিন্তার ভাঁজ বিজ্ঞানীদের কপালে।

বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global warming) এর প্রভাবের ফলেই সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ চলে এসেছে হাওড়া (Howrah) র পাড়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনে । তবে এই ধরণের ঘটনা নিয়ে চিন্তিত বোটানিক্যাল গার্ডেনের উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা । প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণেই এই স্থানবদল বলে প্রাথমিক অনুমান উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের ।

ম্যানগ্রোভ এক বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ যা লবণাক্ত জলে জন্মায় । এই উদ্ভিদের শ্বাসমূল মাটির ওপরে বেরিয়ে থাকে এবং এই শ্বাসমূলের মাথায় নিউমাটাপোর নামে শ্বাসছিদ্র থাকে । এই গাছের ফল শাখা থেকে খসে পড়ার আগেই অঙ্কুরিত হয়ে থাকে । তাই মাটিতে পড়তেই সরাসরি মূল বিস্তার করতে পারে । এখানে এখন দেখা মিলেছে বিরল প্রজাতির ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ ‘ ওরা’র । এর বিজ্ঞানসম্মত নাম সনেরাশিয়া গ্রিফিথি (Sonneratia Griffithii)। এ ছাড়াও কৃপাল , বায়েন , হাড়গোজা , সমুদ্র , পানলতার মতো গাছগুলিও প্রাকৃতিক কারণেই সরে এসে বাসা বেঁধেছে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে ।

বোটানিক্যাল গার্ডেন পেরিয়ে হুগলী নদীর দুই তীরে বেলুড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে সুন্দরবনের লবণাম্বু উদ্ভিদগুলি । প্রকৃতিগত ভারসাম্যের তারতম্যজনিত কারণেই সঠিক প্রাকৃতিক পরিবেশ পেয়ে এখন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে সেই গাছগুলি ।

তবে এই উদ্ভিদ – গুলির এমন সরে আসার বিষয়টিকে বিপদ সংকেত বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরাও । সম্ভবত , সমুদ্রের জলে লবণের পরিমান বেড়ে যাওয়ার ফলেই এই বিশেষ উদ্ভিদগুলির পক্ষে বংশবিস্তার ও জীবনধারণের অনুকুল পরিবেশ আর মিলছে না সুন্দরবন এলাকায় । আর তাই অনুকূল পরিবেশের সন্ধানে সুন্দরবন থেকে সরে আসছে ম্যানগ্রোভ।গঙ্গার পার বরাবর ম্যানগ্রোভ বেড়ে উঠতে দেখে তখনই শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন , গঙ্গার পাড় বরাবর দু – কিলোমিটার জায়গা জুড়ে তৈরি করা হবে ম্যানগ্রোভ অরণ্য ।

আরো দেখুন দূরসম্পর্কের বোন বিজয়া হয়ে উঠেছিলেন সত্যজিৎ জায়া

এখানকার উদ্ভিদ বিজ্ঞানী বসন্ত সিংহ জানান , গত দশ বছর ধরেই এই পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলেন তাঁরা । সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় গঙ্গার মিঠে জলে মিশে যাচ্ছিল সমুদ্রের নোনা জল । তাই শুধু শিবপুরের গঙ্গার পাড় নয় , গঙ্গার উপর অন্যত্রও মিলেছে ম্যানগ্রোভের খোঁজ । সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাওয়া যেমন একটা কারণ , তেমনই ইনওয়ার্ড মাইগ্রেশনও এর অন্যতম কারণ বলে তিনি জানান । তিনি বলেন , বসবাসের জন্য সুন্দরবনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ম্যানগ্রোভ অরণ্য । তাই ইনওয়ার্ড মাইগ্রেশন হচ্ছে । ওই সব গাছের বীজ ভেসে এসে অনুকূল পরিবেশে গাছ জন্মাচ্ছে ।

উল্লেখ্য , ২০০৬ সাল থেকে বোটানিক্যাল গার্ডেনে ম্যানগ্রোভ সংক্রান্ত গবেষণা শুরু হয়েছে । সেই সময় ভারত ও আফ্রিকার অ্যামাজন অববাহিকার প্রায় ২০ টি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের চারা রোপণ করা হয় , এই বাগানের বেড়াতে এসে যেমন ম্যানগ্রোভ অরণ্য দেখতে পাবেন , পাশপাশি গাছ সংরক্ষণ ও গবেষণাও করা যাবে। তাই বাঘের দেখা হয়তো মিলবে না , কিন্তু শহর থেকে অল্প দূরেই গঙ্গায় নৌকো নিয়ে ভেসে পড়লেই এ বার দেখা মিলবে এক টুকরো সুন্দরবনের ।

পূর্বস্থলীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতা শিবির,আয়োজনে ইয়ুথ অফ বেঙ্গল

‘ইয়ুথ অফ বেঙ্গল’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে মিনাপুর নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয় নিখরচায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সহ বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়া হয়।

আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ / স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি। আঠারো বছর বয়সেই অহরহ / বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।……..

অনেকদিন আগে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য এদেশের তরুণ দল সম্পর্কে তার ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় যে প্রশস্তি বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন তার সফল রূপ দিতে এগিয়ে এসেছেন একদল তরুণ-তরুণী। বর্তমান অনলাইন গেমের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা সমাজের বুকে যারা মানুষ বাচানোর নেশায় মেতেছে।

কোভিড কালে ‘মানুষ বাঁচানোর নেশা’ য় মাত্র এক বছর আগে কয়েকজন শিক্ষার্থী , চিকিৎসক , নার্স , গবেষক , শিক্ষক মিলে তৈরি করেছিলেন ‘কোভিড মুক্ত বাংলা’ নামক একটি ফেসবুক গ্রুপ , যেটি বর্তমানে ‘ইউথ অফ বেঙ্গল (YOUTH OF BENGAL)’নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে । ইতিমধ্যেই তারা এন জি ও হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

৩ এপ্রিল ২০২২, রবিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী – ১ ব্লকের ‘মিনাপুর নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়’ প্রাঙ্গণে ইয়ুথ অফ বেঙ্গল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী ও গ্রামবাসীদের জন্য একটি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ও সচেতনতা শিবির এর আয়োজন করা হয় । সকাল দশটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত শিবির চলেছে । উক্ত শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্বস্থলী -১ ব্লকের বিডিও দেবব্রত জানা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিৎ সরকার মহাশয়। এই শিবিরে মিনাপুর- যশপুর সহ তত্সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৩৭০ র বেশি মানুষের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা পরিসেবা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সম্পাদক জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী।

স্বাস্থ্য শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক – ড: বলরাম দাস (MD- Medicine) , ড: সূর্য্যাঙ্কর সাহা (MBBS), ড: মৈনাক নাথ ( স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ) , ড: নীলয় ভট্টাচার্য(দন্ত বিশেষজ্ঞ) । এছাড়াও ছিলেন মিশুকা বসাক (নার্সিং অফিসার) ও সুদীপা জানা(নার্সিং অফিসার) এবং অভিষেক রায়(প্যারামেডিক স্টাফ)

এই স্বাস্থ্য শিবিরে আসা প্রতিটি মানুষের রক্তচাপ, সুগার,ইসিজি ও ফুসফুস পরীক্ষা করা হয় এবং তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

শুধু স্বাস্থ্য পরীক্ষাই নয় , সংগঠনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের ৩০০ পড়ুয়াকে নতুন জুতো দেওয়ার পাশাপাশি সুঅভ্যাস গঠনের উদ্দেশ্যে তাদের হাতে টুথপেস্ট-টুথব্রাশ তুলে দেওয়া হয়। শিবিরে আসা গ্রামবাসীদের হাতে পোশাক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও ৪০০ জন মহিলাকে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ঋতু ও প্রসবকালীন নানান শারীরিক সমস্যা , অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

এদিনের শিবিরে স্কুল কর্তৃপক্ষ এর তত্ত্বাবধানে ড: বলরাম দাস তার জন্মদিন উপলক্ষে বিদ্যালয় এর সকল ছাত্র-ছাত্রী দের জন্য এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছিলেন। শেষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা হিসেবে ২০টি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

সংস্থার প্রেসিডেন্ট কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক শ্রী লক্ষীনারায়ণ সতপতি মহাশয় আমাদের জানান তিনি সংস্থার প্রত্যেকটি সদস্যের কাজে ভীষণ ভাবে সন্তুষ্ট এবং ভবিষ্যতে বাংলা ও বাংলার বাইরে কৃষি ও পরিবেশ নিয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন।

উল্কা নয় ,মহারাষ্ট্রের আকাশের চিনা রকেটের অবশিষ্টাংশ

মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশের কয়েকটি জায়গা থেকে যে উল্কাপাতের মত আলোর ছটা দেখা দিয়েছিল তা আসলে চিনা রকেট Y77/3B এর অবশিষ্টাংশএই রকেটের ধ্বংসাবশেষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার আগে এটি কোথায় পড়বে – তা নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কেননা ১৮ টন ওজনের এই ধ্বংসাবশেষ ছিল মহাকাশে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আবর্জনাগুলোর একটি

Chinese rocket re enters Earth, burns up in skies : না উল্কাপাত নয় , মহারাষ্ট্রের নাগপুর এবং মধ্যপ্রদেশের জাবুয়া ও বারওয়ানি জেলায় থেকে দোসরা এপ্রিল শনিবার রাতের আকাশে যে উজ্জ্বল আলোর ঝলক (blazing streak of light) দেখা গেছে , তা আসলে চিনা রকেট এর ধ্বংসাবশেষ। রাত সোয়া দশটা নাগাদ বিষয়টি সামনে আনে সংবাদসংস্থা ANI । জেট প্লেন গেলে যেরকম সাদা ধোঁয়ার একটা রেখা আকাশে তৈরি হয় কিংবা ধুমকেতু মত বহুদূর বিস্তৃত আলোর ছটা , অনেকটা সেই রকম উজ্জ্বল আলোর রেখা বা স্ট্রেক দেখা গিয়েছিল মহারাষ্ট্রের রাতের আকাশে। সাধারণভাবে এ দৃশ্য দেখে অনেকেই অনুমান করেছিলেন উল্কাপাত (meteor shower)। কারণ উল্কাপাত বা উল্কাবৃষ্টির সময় এমনটা হতে দেখা যায়।

কিন্তু পরে মার্কিন বিজ্ঞানীরা এর আসল রহস্য উদ্ঘাটন করেন। মার্কিন বিজ্ঞানীদের মতে , এই আলোকরেখার সৃষ্টি হয়েছে রকেটের অবশিষ্টাংশ থেকে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়েছিল এই চিনা রকেটের অংশবিশেষ। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ওই চিনা রকেটের অবশিষ্ট অংশ প্রবেশ করার পর তা বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে তীব্র গতিতে সংঘর্ষের ফলে জ্বলে উঠেছিল। আর সেখান থেকেই তৈরি হয়েছিল ওই উজ্জ্বল আলোর রেখা।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চিনের Chang Zheng 5B রকেট লঞ্চ করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই রকেট অবতরণের তৃতীয় পর্যায়ে অবস্থান করছিল। শনিবার সেই রকেটেই মহাকাশ থেকে ফিরে এসেছিল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে। তারপর তা বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে জ্বলে উঠেছিল। আর সেটাই মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে রাতের আকাশে দেখা গিয়েছে। ওই রকেট মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পুনরায় ফিরে আসার সময়েই তার বেশিরভাগ অবশিষ্টাংশ জ্বলে গিয়েছে।

আরো দেখুন MRO র ছবিতে মঙ্গল পৃষ্ঠে বিরল গর্তের সন্ধান,নিরুত্তর NASA

উল্লেখ্য এই ধরনের রকেটের অবতরণের জন্য এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রবেশ পথ তৈরি করতে পারেনি চিন। তবে উন্নত প্রযুক্তিতে আকাশেই সেটি যাতে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, সেই ব্যবস্থা করেছে তারা। তবে গতবার ওই রকেট শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম, মলদ্বীপের উত্তরে ভারত মহাসাগরে ভেঙে পড়ে। সেই সময় এই ধরনের ১০টি রকেট উৎক্ষেপণের কথা ছিল চিনের।

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা, ম্যাসাচুসেটস-এর সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে কর্মরত জ্যোতির্বিজ্ঞানী জনাথান ম্যাকডাওয়েল আগেই জানিয়েছিলেন যে ৩বি রকেটে পুনরায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকতে পারে।

চাঙ ঝেং ৫বি রকেট চিনের লং মার্চ রকেট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। মহাকাশে (Space Programme) নির্দিষ্ট স্পেস স্টেশন (Space Station) প্রয়োজনীয় রসদ এবং মানব সাহায্য পাঠানোর জন্য এই প্রকল্প গৃহীত হয়। চন্দ্র এবং মঙ্গল অভিযানে অনুসন্ধানমূলক কাজে সাফল্য পেতেই এই রকেটের নির্মাণ। মহাকাশে নতুন স্পেস স্টেশন তৈরিতেও এই রকেট ব্যবহার করছে চিন। এতে একটি লঞ্চ ভেহিকলে এক বা একাধিক রকেট সংযুক্ত থাকে। প্রত্যেকটির নিজ নিজ ইঞ্জিন এবং চালকযন্ত্র থাকে। জ্বালানি যত পুড়তে থাকে, ততই দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে রকেট।

এই জ্যোতির্বিজ্ঞানী জানিয়েছেন যে তিনি বিশ্বাস করেন Chang Zheng 3B চিনের রকেট, যার সিরিয়াল নম্বর ওয়াই৭৭ এবং ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লঞ্চ হয়েছিল সেটিই তৃতীয় পর্যায়ে ছিল। আর এই তৃতীয় পর্যায়ে থাকাকালীনই মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সেটি ফিরে এসেছে। তবে যে সময়ে এই রকেটের অবশিষ্টাংশ জ্বলন্ত অবস্থায় আলোক রেখা রূপে দেখা গিয়েছে তার কিছু সময় পর এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢোকার কথা ছিল। অন্যদিকে ভারতে মহারাষ্ট্রে ও মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশ ছাড়া অন্য কোথাও এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।তবে মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলার দু’টি গ্রামে একটি ধাতব বলয় এবং সিলিন্ডারের মতো একটি ধাতব বস্তু পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসন সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। ওই সব বস্তু আকাশ থেকেই পড়েছে বলে গ্রামবাসীরা প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

এই মুহূর্ত ভাইরাল হয়েছে টুইটারে, দেখুন সেই ভিডিয়ো

এরআগে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়ার আকাশেও চিনের চাঙ ঝেং ৩বি রকেটের দেখা মেলে। উৎক্ষেপণের ৩০ মিনিট পর সেটি আকাশে দেখতে পান সেখানকার বাসিন্দারা। সে বার পৃথিবীর কক্ষপথে এক সপ্তাহের বেশি পাক খাওয়ার পর নেমে আসে সেটি। পরে তার ধ্বংসাবশেষের টুকরো উদ্ধার হয়।

মহারাষ্টের চন্দ্রপুর এ পাওয়া রকেটের ধাতব অংশ।ছবি : এবিপি

এই ধরনের রকেটের অবতরণের জন্য এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রবেশ পথ তৈরি করতে পারেনি চিন। তবে উন্নত প্রযুক্তিতে আকাশেই সেটি যাতে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, সেই ব্যবস্থা করেছে তারা। তবে গতবার ওই রকেট শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম, মলদ্বীপের উত্তরে ভারত মহাসাগরে ভেঙে পড়ে। সেই সময় এই ধরনের ১০টি রকেট উৎক্ষেপণের কথা ছিল চিনের।

এবার কালোবাজারি বন্ধ করতে ডিমের গায়েও লেখা থাকবে দাম , উৎপাদন তারিখ

Haringhata egg : এতদিন শুধুমাত্র প্যাকেট জাত দ্রব্যেই দেখা যেত দ্রব্যটি উৎপাদনের তারিখ দাম এবং কতদিন সেটি ব্যবহার করা যাবে। এবার ডিমের গায়েও লেখা থাকবে দাম , তারিখ । রাজ্যবাসীর রান্নাঘরে ন্যায্য মূল্যে ডিম পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নিগম । এবার সরকারি উদ্যোগে হরিণঘাটা (Haringhata)য় উৎপন্ন ডিমের গায়ে লেখা থাকবে তার সম্পূর্ণ ‘ ঠিকুজি – কোষ্ঠী ’ । অর্থাৎ ডিমের দাম , উৎপাদনের তারিখ এবং সরকারি সংস্থার (Westbengal livestock Development Corporation limited ) নাম ছাপা থাকবে খোলার গায়ে ।

গোটা দেশের মধ্যে এই প্রথম কোনও সরকারি সংস্থার প্রতিটি ডিমের গায়ে এই ‘ অঙ্গসজ্জা ’ চালু হবে । অন্তত এমনটাই দাবি পশ্চিমবঙ্গ প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নিগম কর্তাদের ।

১ এপ্রিল থেকেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে হরিণঘাটার এই অভিনব সাজের ডিম । বাজারে খুচরো ডিমের দাম মাঝে ৬ থেকে ৭ টাকা হয়ে গিয়েছিল । হরিণঘাটার ডিমের দাম তখনও ৪.৫০ টাকাতেই বেঁধে দিয়েছিল সরকার ।

কিন্তু সরকারের কাছে অভিযোগ আসে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হরিণঘাটায় উৎপন্ন সেই ডিম কম দামে কিনে চড়া দামে বিক্রি করছে। তাই সুলভ মূল্যে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি ডিমের গায়েই দাম ছেপে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ।

নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর গৌরীশঙ্কর কোনার বলেন , হরিণঘাটার কার্টনে ( বড় বাক্স ) দাম লেখা থাকে । কিন্তু বাক্স খুলে খুচরো ডিম বিক্রির সময় বিভিন্ন দাম নেওয়ার অভিযোগ আসে । তাই সব ডিমের খোলার গায়ে ৪.৫০ টাকা দাম , হরিণঘাটার ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘ এইচ ‘ এবং উৎপাদনের তারিখ লেখা থাকবে । ফলে কালোবাজারি বন্ধ হবে । ডিম কতদিন খাওয়া যাবে , তারিখ দেখে সেটাও জানা যাবে । নিগমের এই শীর্ষ কর্তার দাবি , এপ্রিলের মধ্যে হরিণঘাটা দৈনিক আড়াই লক্ষাধিক ডিম উৎপাদন করবে । পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক ডিম আমদানি করতে হয় তাই , ভিন রাজ্য থেকে ডিম আমদানি ২০২৩ সালের মধ্যে বন্ধ করার লক্ষ্যে যাবতীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে । অর্থাৎ ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়েছে এটি তারই অঙ্গ। ডিমের উপর নির্দিষ্ট তথ্যাদি লেখার মেশিন কেনা হয়েছে । এগুলি ‘ লেসার প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে গোলাপি রঙে লেখা হবে ।

উল্লেখ্য রাজ্য জুড়ে হরিণঘাটার ৬৩০ টি কাউন্টার রয়েছে । মাংস ও মাছ – সহ হেঁশেলের আরও অনেক সামগ্রীও সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হয় সেখান থেকে । সরকারি সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও পেশাদারিত্বে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নিগম বস্তুত আপসহীন । সংস্থার পণ্যগুলি সম্পর্কে ক্রেতাদের অভিমত জানতে একটি টোল – ফ্রি ফোন নম্বরও ( ১৮০০-১২০-৮২৪৩ ) চালু রয়েছে।

বিশ্বফুটবলে অঘটন উঃ মেসিডোনিয়ার,নীল প্লাবনহীন কাতার বিশ্বকাপ

মাত্র ২০ বছর বয়স যে দেশের স্বাধীনতার, যার আয়তন মাত্র ২৫,৭১৩ বর্গকিলোমিটার, সেই উত্তর ম্যাসিডোনিয়া ই এবার চমক দিলো চারবারের বিশ্ব ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ইটালিকে ১-০ গোলে হারিয়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদন : বিশ্বফুটবলে এযাবত কালের মধ্যে সবচেয়ে বড় অঘটন উত্তর মেসিডোনিয়ার । পালেরমোয় বৃহস্পতিবার প্লে – অফে অবিশ্বাস্য ভাবে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে দিল উত্তর ম্যাসেডোনিয়া । ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ এর পরে এ বার কাতার বিশ্বকাপের গ্যালারিতেও দেখা যাবে না ইটালির নীল প্লাবন ।

ইটালিকে হারিয়ে উচ্ছাসে মাতোয়ারা উঃ ম্যাসিডোনিয়ার ফুটবলাররা

বৃহস্পতিবার সংযুক্ত সময়ের ( ৯২ মিনিট ) একমাত্র গোলে জয়ী হলো উত্তর মেসিডোনিয়া। খেলার শেষ লগ্নে অপ্রত্যাশিত ভাবে ফাঁকায় বল পেয়ে উত্তর মেসিডোনিয়ার স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ত্রাজকোভস্কি দুরন্ত শটে বল জালে জড়িয়ে ইটালির বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ করে দেন ।

বিশ্বকাপে চারবারের চ্যাম্পিয়ন পাওলো রোসি , দিনো জফ , পাওলো মালদিনিদের দেশ , টানা দু’বার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারল না । ২০১৮ সালেও ৫৮ বছর পরে বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি ইটালি। সেবার তারা প্লে – অফে সুইডেনের কাছে হেরে যায় ।

বিষণ্ণতা

এদিকে ইটালিকে হারিয়ে ইন্দ্রপতন ঘটানোর আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা পাওয়া মাত্র ২৫ হাজার ৭১৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দেশে উত্তর ম্যাসিডোনিয়ার ফুটবলারেরা । যারা কাতারে খেলার লক্ষ্যে এ বার চ্যালেঞ্জ জানাবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের পর্তুগালকে ।

রবের্তো মানচিনি দলের দায়িত্ব নেওয়ার পরে মনে হয়েছিল , ইটালি আবার পুরনো ছন্দে ফিরছে । বিশেষ করে , ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে সকলেই মনে করেছিলেন , কাতার বিশ্বকাপে আবারও দেখা যাবে ইটালিকে । কিন্তু ফিফা ক্রমতালিকার ১৩২ নম্বরে থাকা মাত্র ২২ লক্ষ জনসংখ্যার একটা দলের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হল ইতালির ।

বৃহস্পতিবার অপ্রত্যাশিত হারের পরে ইটালির ফুটবলারেরা হতাশায় মাঠেই বসে পড়েন । গণমাধ্যমেও আছড়ে পড়তে থাকে একের পর এক ‘ শোকবার্তা ‘ । হতবাক ইটালি দলের অন্যতম তারকা জর্জে কিয়েল্লিনি । তাঁর প্রতিক্রিয়া , “ আমরা সবাই যেন ধ্বংসস্তূপে বসে আছি । প্রত্যেকেই ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে । ইটালির ফুটবলে এ বার অসীম শূন্যতার সৃষ্টি হবে । ” জুভেন্টাস তারকার আফসোস , “ গোল ছাড়া গোটা ম্যাচে আমরা কার্যত ভুলই করিনি । আর কত গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছে তা বলে শেষ করা যাবে না । আসলে গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর থেকেই আমরা একের পর এক ভুল করছি । আজ যার চরম মূল্য দিতে হল । এত কিছুর পরেও বলব , এ রকম একটা দলের সঙ্গে থাকতে পেরে আমি গর্বিত । ”

বিশ্বের সর্বোচ্চ টাওয়ার এবার এভারেস্টে , মিলবে ফোরজি পরিষেবা

Worlds Highest Cell Tower in Mt. Everest : নেপালের টেলিকমিউনিকেশন সংস্থা এনসেলের মতে, একটি প্রাথমিক রিপোর্টে দেখানো হয়েছে যে এভারেস্ট চূড়ায় অর্থাৎ ৮,৮৪৮.৮৬ মিটারেও ফোর জি সংযোগ পাওয়া যেতে পারে।

নেপালের (Nepal) বেসরকারি টেলিকমিউনিকেশন সংস্থা, এনসেল (Ncell) মাউন্ট এভারেস্টে ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় বিশ্বের সর্বোচ্চ সেল ফোন টাওয়ার তৈরি করতে চলেছে। এই টাওয়ার অতি দ্রুত ফোর জি (4G) সংযোগ দেবে। এমনই জানা গেছে বুধবার । সম্প্রতি একটি সমীক্ষা বলছে মাউন্ট এভারেস্ট এর ৮,৮৪৮ মিটার উচ্চতায়ও ফোর জি পরিষেবা পাওয়া সম্ভব।

তুষার ঝড় ও খারাপ আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়ে প্রতিবছরই বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটে মাউন্ট এভারেস্টে। মাউন্ট এভারেস্টের ৫,২০০ মিটার উচ্চতায় যে টাওয়ার বসতে চলেছে তা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করে দ্রুত উদ্ধার কাজে সাহায্য করবে । টাওয়ার বসানোর জন্য ইতিমধ্যেই সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে । এই সেলফোন টাওয়ার পর্বতারোহীদের যথেষ্ট সাহায্য করবে বলে নেপাল সরকারের অভিমত।

এভারেস্ট অঞ্চলে বছরে প্রায় ৬০ হাজার ট্রেকার এবং পর্বতারোহী আসেন। বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌঁছনোর উদ্দেশে একাধিক পর্যটক আসেন। ফলে এটি নেপালের পর্যটন শিল্পের একটি উচ্চ রাজস্ব উৎপাদনকারী অংশ।

আরো ১০ লক্ষ মানুষ লকডাউন এর আওতায়

রবিবার ফের নতুন করে ১০ লক্ষ লোককে লকডাউনের আওতায় নিয়ে এল চিন । সেখানে নতুন করে করোনা আতঙ্ক (Covid 19) ছড়ানোয় আগে থেকেই কড়াকড়ি শুরু করেছে প্রশাসন। চিনা প্রশাসন সূত্রে খবর, ,এটিই চিনের সবচেয়ে বড় করোনা সংক্রমণ হতে চলেছে। শেষ দু’বছরে সংক্রমণের (Covid 19) এমন চেহারা চিন দেখেনি। সংক্রমণ আটকাতে শুরু হয়েছে গণপরীক্ষা

২০২০ সাল থেকেই চিন বিভিন্ন স্থানভিত্তিক লকডাউনের পথে হেঁটেছে। সর্বত্রই প্রশাসন জোর দিয়েছে করোনা পরীক্ষা থেকে শুরু করে, চিকিৎসা ও আঞ্চলিক লকডাউনের উপর। কিন্তু সেই প্রতিরোধের দেওয়াল ভেদ করে ঢুকে পড়েছে করোনার নতুন ওমিক্রন স্ট্রেন। শেষ কয়েকমাসে সেই কারণেই লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে সংক্রমণ (Covid 19)। করোনার নতুন প্রজাতির সবচেয়ে বেশি আক্রমণ দেখা গিয়েছে চিনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জিলিন প্রদেশে। সেই কারণেই সেখানে ক্রমে পুরো প্রদেশটিকেই লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। জিলিনের ৪০ লক্ষ মানুষ আপাতত লকডাউনের আওতায় রয়েছেন।

চিনে রবিবার মোট ৪ হাজার নতুন করে করোনা আক্রান্তের (Covid 19) সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ আক্রান্তের বাড়ি জিলিন প্রদেশে। এই প্রদেশের অবস্থান রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায়, সেই কারণে ওই দেশগুলিতেও রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, ১১ মার্চ থেকে চাংচুং প্রদেশেও জারি করা হয়েছে কড়া কোভিড বিধি। এই প্রদেশের ৯০ লক্ষ মানুষকে সপ্তাহে দু’দিন করে খাবার কিনতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

চিনে গত দু’বছরের মধ্যে প্রথমবারের জন্য করোনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটার কারণে শনিবারের পর থেকে আরও কড়া হয়েছে প্রশাসন। আপাতত চিনে ১ কোটি মানুষ লকডাউনের আওতায় রয়েছে। পরিস্থিতি নাকি এমন অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছে যে চিনের হাসপাতালগুলিতে কোভিডের শয্যা পাওয়া সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে জিলিন প্রদেশে দুটি অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি হয়েছে, তৈরি করা হয়েছে দুটি কোয়ারেন্টিন সেন্টার। এছাড়া ও হাসপাতাল গুলোতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

ইডেনে লজ্জাকর ১০০৮ রানের লিড

ক্রিকেটের ইতিহাসে লজ্জাজনক ঘটনা ঘটলো ক্রিকেটের নন্দনকানন বলে পরিচিত ইডেন উদ্যানে। ক্রিকেটের নামে কি প্রহসন হল ? এই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ক্রিকেট মহলে।

কারণ নজিরবিহীন ভাবে রঞ্জি ট্রফিতে ১০০৮ রানে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ঝাড়খণ্ড । যে রাজ্য থেকে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো কিংবদন্তি বিশ্ব ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন , সেই ঝাড়খণ্ড রঞ্জি দলই বিতর্কের কেন্দ্রে । তারা তোপের মুখে পড়েছে অখেলোয়াড়ি মনোভাব দেখানোর জন্য । নাগাল্যান্ডের মতো দুর্বল দলকে সামনে পেয়েও তারা ফলো – অন করায়নি । কার্যত অসম্মান , অপমান করে গিয়েছে বলে অভিযোগ ।

প্রথম ইনিংসে ৮৮০ রান করেছিল ঝাড়খণ্ড । জবাবে দুর্বল নাগাল্যান্ড মাত্র ২৮৯ রানে অলআউট হয়ে যায় । ৫৯১ রানে এগিয়ে থাকা অবস্থাতেও ফলো অন করায়নি ঝাড়খণ্ড । দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে ১০০৮ রানের ‘ লিড ’ নেয় । দ্রুত ম্যাচ শেষ করার চেষ্টা না করে প্রতিপক্ষকে নিয়ে ছেলেখেলা করার নেশায় মাতে । দ্বিতীয় ইনিংসে তারা নীচের সারির ব্যাটারদের আগে পাঠায়।

রঞ্জি ট্রফিতে নাগাল্যান্ডের মতো দলের অন্তর্ভূক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে কারণ লড়াই করার মতো প্রথম একাদশই তারা গড়ে তুলতে পারছে না । ভিন রাজ্য থেকে কোনও রকমে ক্রিকেটার ধরে এনে দল সাজানো হচ্ছে ।

তবু ঝাড়খণ্ডের এমন মনোভাবে তীব্র অসন্তোষ , ক্ষোভ তৈরি হয়েছে । দ্বিতীয় ইনিংসে এমনকি তারা নীচের দিকের ব্যাটসম্যানদের আগে পাঠিয়ে দেয় । যা দেখে অনেকের মত , ক্রিকেটকে ধ্বংস করা হল ইচ্ছাকৃত ভাবে । যদিও অভিযোগ উড়িয়ে ঝাড়খণ্ডের কোচ এস এস রাও বলেছেন , “ রেকর্ড করার উদ্দেশ্য নিয়ে খেলিনি । যদি সে রকম ইচ্ছে থাকত , দ্বিতীয় ইনিংসেও বিরাট সিংহ , সৌরভ তিওয়ারিদের নামিয়ে দিতে পারতাম । শেষ আটে যাওয়ার জন্য তিন পয়েন্ট যথেষ্ট ছিল আমাদের । আমরা সেটা নিশ্চিত করেছি । পিচটা ব্যাটারদের স্বর্গ ছিল , তাই পার্ট – টাইম ব্যাটারদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার । ” তিনি বললেও এমন বিস্ময়কর ক্রিকেট নিয়ে ক্ষোভ কিন্তু থামছে না।

দূরসম্পর্কের বোন বিজয়া হয়ে উঠেছিলেন সত্যজিৎ জায়া

সত্যজিৎ ও বিজয়া

সত্যজিৎ রায়ের থেকে বিজয়া দাস ছিলেন বছর চারেকের বড়। আরো চমকপ্রদ বিষয় হল বিজয়ার দূরসম্পর্কের পিসতুতো ভাই ছিলেন সত্যজিৎ । দুজনেই একসময় বিবাহের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। শেষে চারহাত এক করেন রায় পরিবারের চিকিৎসক নসুবাবু।

আকাশে বাতাসে বসন্তের হাতছানি , কোকিলের কুহুতান , পলাশ রাঙা প্রান্তর , গাছে গাছে সবুজ কিশলয় মন ফাগুনের আঙিনায় রঙের দোলা দিয়ে মনে করিয়ে দিচ্ছে ‘বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’। এই বসন্ত বেলায় আজ একটু ছুঁয়ে আসা যাক আমাদের প্রিয় সত্যজিৎ-বিজয়া র বসন্ত দিনে।

সত্যজিৎ রায় (Satyajit Roy) ও বিজয়া দাস (Bijoya Das) দুজনেই একসময় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কোনওদিন বিয়ে করবেন না , যেভাবে চলছে সেভাবেই সব চলুক । কিন্তু অনেক বাঁধা অতিক্রম করে প্রবাদপ্রতিম চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে বিজয়া রায়ের বিয়ে হয়েছিল ১৯৪৯ সালের এক বসন্ত দিনে (৩ মার্চ)। সত্যজিৎ- বিজয়ার প্রেমকাহিনী কোনো চলচ্চিত্রের থেকে কম নয়।

বিয়ের দু’চারদিন পরে সকালে সত্যজিৎ রায়ের মা সুপ্রভা দেবী (Suprava Roy) তরকারি কাটছেন ,পাশে এসে বসলেন নববিবাহিতা বিজয়া । বেশ একটু ভয়ের সঙ্গেই বললেন , তাকে কেন তরকারি কাটতে দেওয়া হচ্ছে না , তিনি তো তরকারি কাটতে পারেন , কী কী কাটতে হবে জানতে চাইলে শাশুড়ি মা বললেন ‘ সে পরে হবে ‘ ।

কিন্তু এরপরেই যে আসল সমস্যাটা তৈরি হল , ছেলের বউ মেজোপিসিকে (সুপ্রভা দেবী) জিজ্ঞেস করলেন ‘ এবার থেকে তোমাকে কী বলে ডাকব ? পিসিমা উত্তর দিলেন, কেন এতদিন পিসিমা বলেছো এবার ‘ পিসি’টা বাদ দিয়ে শুধু মা বলে ডাকবে । মানিক (সত্যজিৎ রায়ের ডাক নাম মানিক ) বাবুর স্ত্রী হিসেবে বিজয়া রায় কে খুব ভালবাসতেন বাড়ির সকলে। তাদের বিয়েটা মেনে নেওয়ার নেপথ্যে সবথেকে বড় কারণ সম্ভবত দুজনেই সবার প্রিয় ছিলেন ৷

সত্যজিৎ রায় ও বিজয়া রায়ের ঘনিষ্ঠতা শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ সালের দিকে , বিজয়া দাশ তখন বেথুন স্কুলে (Bethune School) চাকরি করেন , কমলা গার্লস স্কুলে এর আগে কিছুদিন চাকরি করেছিলেন ।

শৈশব ও প্রৌঢ়

বিজয়া রায় নিজেই বলেছেন মানিকের সঙ্গে একসঙ্গে কবে বসে মিউজিক শুনতে শুনতে কবে তারা পরস্পরের প্রেমে পড়েছেন সেটা বলতে পারবেন না। একজন পুরুষের মধ্যে যা গুণ থাকা দরকার সবই ছিল মানিকবাবুর মধ্যে ,বরং একটু বেশিই ছিল । কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায় ।একে তো মানিক, বিজয়ার থেকে বয়সে চার বছরের ছোট , উপরন্তু তারা আবার নিকট আত্মীয়( বিজয়া ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের দূরসম্পর্কের বোন ) । কাজেই বিয়ের কথা ভাবা অসম্ভব , দুজনে সিদ্ধান্ত নিলেন কোনওদিন বিয়ে করবেন না , যেভাবে চলছে সেভাবে সব চলুক ৷

মানিক বাবু বি.এ পাশ করেছেন । এখন মায়ের ইচ্ছা ছেলে শান্তিনিকেতনে কলাভবনে ভর্তি হোক , কারণ বাবারও (সুকুমার রায়) তাই ইচ্ছা ছিল । মানিকবাবু যদিও সেখানে যেতে চান নি , কিন্তু তাঁর সে আপত্তি বিশেষ পাত্তা পেল না মায়ের কাছে। আসলে ফাইন আর্টস শিখতে তিনি আগ্রহী ছিলেন না । কিন্তু নেপথ্যের আরও বড় কারণ বিজয়া , তাঁকে ছেড়ে শান্তিনিকেতন (Shantiniketan) যেতে হবে সেটা কিছুতেই ভাবতে পারছিলেন না মানিক । শেষে বিজয়া তাঁকে বুঝিয়ে শান্তিনিকেতনে পাঠালেন । তবে শর্ত হল প্রতিদিন দু’জন দু’জনকে চিঠি লিখবেন। মানিক বাবু প্রচুর চিঠি লিখেছেন সেইসময় , যদিও পরবর্তীতে সত্যজিৎ জায়া আক্ষেপ করে বলেছিলেন, সবার কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সেই সব চিঠি তিনি রাখেননি ৷

১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞাপন সংস্থা ডি জে কিমার কোম্পানি তে মাত্র ৮০ টাকা বেতনের বিনিময়ে “জুনিয়র ভিজুয়ালাইজার” হিসেবে কাজে যোগ দিয়ে শান্তিনিকেতন থেকে সত্যজিৎ রায় কলকাতায় ফিরেছেন। সেই সময় এক পাঞ্জাবি ভদ্রলোক বংশী চন্দ্রগুপ্ত (Bangshi Chandragupta)এর সঙ্গে তার সখ্য তৈরি হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি কলকাতায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে পরিচিতি গড়ে , তাদের কাছ থেকে শহরে আসা নতুন মার্কিন চলচ্চিত্রগুলোর খবর নিতেন। এই সময় তিনি নরম্যান ক্লেয়ার (Norman Claire) নামের রয়েল এয়ার ফোর্স (Royal Air Force) এর এক কর্মচারীর সংস্পর্শে আসেন, যিনি সত্যজিতের মতোই চলচ্চিত্র, দাবা ও পাশ্চাত্যের ধ্রুপদী সঙ্গীত পছন্দ করতেন। নরম্যান ক্লেয়ার এর কলকাতায় থাকার সমস্যা ছিল , মানিববাবু তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এলেন , তাঁরই ঘরে বাড়তি একটা খাট পেতে নরম্যান এর থাকার ব্যবস্থা হল । নরম্যান আর মানিক দুই বন্ধু তখন ঘন্টার পর ঘন্টা দাবা খেলেন ৷

জে ডি কিমার কোম্পানিতে অন্যান্য সহকর্মীদের মাঝে সত্যজিৎ রায়

বিজয়া ও তার মা থাকতেন বিজয়ার কাকার বাড়িতে। ইতিমধ্যে বিজয়ার দু’একটা বিয়ের সম্বন্ধ আসা শুরু হয়েছে কিন্তু প্রতিবারই তিনি না বলেছেন। এইজন্য তাঁর কাকা বিজয়ার উপরে কিছুটা অসন্তুষ্টও হন । উপার্জন করতে বিজয়া রায় ঠিক করলেন সিনেমায় অভিনয় করবেন। কিন্তু সত্যজিৎ বাবু আপত্তি করেছিলেন কারণ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তখন তেমন সুনাম ছিল না৷ বিজয়া ‘শেষরক্ষা’ বলে একটা ছবিতে অভিনয় করলেন , অবশ্য তার আগে মুক্তি পেয়েছিল ‘ সন্ধা ‘ কিন্তু দুটোই ফ্লপ করল। এবার একটু বিপদে পড়লেন বিজয়া।

বিজয়া মানিককে সব বললেন । মানিক শুনে বললেন ভালই হয়েছে , ওসব আজেবাজে ছবিতে অভিনয়ের কোনো মানেই হয় না ৷ ‘ কিন্তু উপার্জন তো করতে হবে ৷ কারন কাকা কাকিমার গলগ্রহ হয়ে থাকার কোনো ইচ্ছে বিজয়ার নেই । আবার হাত – পা গুটিয়ে বসে থাকার মেয়েও তিনি নন । মানিক একটু ধৈর্য্য ধরতে বললেন বিজয়কে। তাতে বিজয়া বললেন ‘ বিয়ে করব না বলে যখন ঠিক করেছি , তখন একটা কিছু আমাকে করতেই হবে , সারাজীবন কাকা কাকিমার গলগ্রহ হয়ে আমি থাকব না ‘ উত্তরে মানিক বললেন , খুব তাড়াতাড়ি আমার চাকরিতে প্রমোশন হবে । মাইনেটা আর একটু বাড়লেই তোমাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারব ‘ । মানিক তার প্রানের মানুষ হলেও অত্যন্ত আত্মসম্মান বোধ সম্পন্ন বিজয়া জবাব দিলেন , ‘ তোমার টাকা আমি নিতে যাব কেন ‘ ? আমাদের বিয়ে হলে সেটা হত , কিন্তু তা যখন হবার নয় , তখন বৃথা তর্ক করে কোনও লাভ নেই ‘ ।

যুবক সত্যজিৎ

বিয়ে যে দু’জনের মধ্যে হওয়া একপ্রকার অসম্ভব সেটা জেনেও দু’জন দু’জনকে নানা উপহার দিতেন ৷ বিজয়া রায়ের মেজদি তাঁকে বম্বেতে যেতে বলছেন , কিন্তু মানিকবাবু যেতে দিতে রাজি নন । এই নিয়ে প্রেমিক – প্রেমিকার শুরু হল মান – অভিমানের পালা । শেষে যদিও বা মানিকবাবুকে রাজি করানো গেল , কিন্তু মানিককে ছেড়ে যেতে বিজয়ার মন সায় দেয়না। আবার মনের দুঃখ – অভিমান কাউকে বলাও যায় না ।

শেষ পর্যন্ত বিজয়া রায় বোম্বেতে গেলেন , ভীষণ মনখারাপ নিয়ে , মানিকের সাথে হয়তো বছরে এক বা দু’বার দেখা হবে ! নীতিন বোসের মা ছিলেন ট্রেনের সেই কম্পার্টমেন্টে , তিনি আবার উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (Upendra Kishor Roychowdhury) র আপন বোন ৷ নীতিন বসুর বোন সোনা , তাঁর সঙ্গে বিজয়া রায়ের আলাপ ছিল , সোনার মা বিজয়াকে কে প্রশ্ন করলেন ‘ তুমি কবে বিয়ে করছো ‘ ? নানান কথাবার্তার মাঝে নীতিন বসুর মা একসময় বললেন ,’ বিয়ে করাটা মেয়ে মানুষের ধর্ম ‘। কিন্তু বিজয়া তাকে কিভাবে বোঝাবেন যে , যাকে তিনি বিয়ে করতে চান , তার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই ৷

এদিকে বলাই নামে এক ভদ্রলোকের সঙ্গে বিজয়ার বিয়ে দেবেন বলে ঠিক করেছেন তাঁর মেজদি । তবে মানুষ বলাই ছিলেন অন্যধাতুতে গড়া । সহনশীল , উচ্চশিক্ষিত , প্রবল সেন্স অফ হিউমার সমৃদ্ধ মানুষ বলাই। তিনি বিজয়ার সব কথা শুনে বুঝলেন তাঁর সঙ্গে বিজয়ার বিয়ে হবে না , বরং তিনি তখন মানিক-বিজয়ার যোগাযোগের মাধ্যম হলেন ৷

মানিকবাবু তখন বালিগঞ্জ গার্ডেনসে ( Ballygunge Gardens )আস্তানা গেড়েছেন। বিজয়া ভুলাভাই দেশাই পিকচার্সের ব্যানারে ‘ জনতা’ বলে একটা ছবির কাজ শুরু করেছেন৷ অনাদি দস্তিদার বিজয়াকে গান শেখাতেন । অত্যন্ত স্নেহও করতেন । তিনি একদিন বিজয়া বললেন , এসব ছেড়ে বিয়ে করতে । কিন্তু দুর্বল মুহূর্তে বিজয়া বলে ফেললেন , আসলে তিনি সত্যজিৎ রায় (Satyajit Roy) কে ভালবাসেন । প্রথমে শুনে চমকে উঠলেও অনাদিবাবু সত্যটা মেনে নিলেন।

১৯৪৭ সালে বম্বেতে একটা ছবি করার কথা থাকলেও মানিকবাবুর কথায় তা প্রত্যাখান করেছিলেন বিজয়া। এদিকে মানিক বাবু মাসে মাসে বিজয়কে টাকা পাঠিয়ে দেবেন বললেও বিজয়া সেই টাকা গ্রহন করবেন না বলে পণ করে আছেন । বিজয়া মানিককে বললেন, ‘ যেহেতু আমাদের কোনওদিন বিয়ে হবে না ,তাই সারাজীবন মানিক সাপোর্ট করে যাবে এটা হয় না । তাছাড়া ভবিষ্যতের কথা তো কেউ বলতে পারে না , যদি কোনওদিন মানিক আর কারও প্রেমে পড়েন ‘ ? কথা শেষ হল না , মানিকবাবু বিজয়কে বললেন ‘ তুমি খুব ভাল করে জানো যে , তোমাকে ছাড়া আমি কাউকে কখনও বিয়ে করব না। তাতে যদি বিয়ে না হয় তো হবে না।

দুই প্রেমিক – প্রেমিকার কথোপকথনের সারাংশ হল মানিকবাবু কী পারবেন তাঁর মাকে তাঁদের বিয়ের ব্যাপারে রাজি করাতে ! সত্যজিৎ রায় দৃঢ় স্বরে বললেন ‘ দেখো সব ঠিক হয়ে যাবে’।বলেই বললেন চলো তোমার জন্য একটা এনগেজমেন্ট রিং কিনব । সোনার জল করা একটা রুপোর আংটি কিনে পরিয়ে দিলেন বিজয়ার আঙুলে ।

মানিকবাবুর বাড়িতে ফোন ছিল না , তিনি কাকার বাড়ি থেকে ট্রাঙ্ককল করে বিজয়া রায়ের খোঁজ নিতেন । একদিন বললেন কিছু একটা করতে হবে । বিজয়া তখন বোম্বেতে । একদিন নিজে বোম্বে (Mumbai) এলেন সত্যজিৎ। নিভৃতে বিজয়াকে বললেন তাদের বাড়ির ডাক্তার নসুবাবুকে তিনি সব বলেছেন । মা’কে যদি কেউ রাজি করাতে পারেন তবে একমাত্র তিনিই পারবেন । অবশ্য মানিকবাবু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রেজিস্ট্রেশন ও বিয়ের ব্যাপারটা বোম্বেতে সেরে নেবেন , তারপর যা হয় হবে৷ মেজদিকে গোটা ঘটনা বিজয়া বললেন , তিনি খুব খুশি , সবাই আনন্দিত । বিজয়ার মা তবু একটু দ্বিধায় ছিলেন ।

শেষ পর্যন্ত ১৯৪৮ সালের ২০ অক্টোবর পিকোদির বাড়িতে হল রেজিস্ট্রেশন৷ সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং পৃথ্বীরাজ কাপুর । বিজয়া কোনওদিন কল্পনাও করতে পারেন নি যে তার ও সত্যজিৎ এর বিয়ে হবে । সত্যিই আইনি বিয়ে সম্পন্ন হল । তবে সেখানেও একটা বেদনা থেকে গেল । কারন , গোপন রাখতে হবে রেজিস্ট্রেশনের খবর ৷ মানিকবাবু মুখে যাই বলুন , মায়ের কাছে সব কথা খুলে বলার সাহস তাঁর ছিল না । এখানে মুশকিলাশান করলেন সেই ডাক্তার নসুবাবু । তিনিই সুপ্রভা দেবীকে সব বলে রাজি করালেন । মাঝে অনেক কিন্তু , কেন পেরিয়ে অবশেষে উত্তরণের পথ পাওয়া গেল । শেষপর্যন্ত মানিকবাবুর মা , সুপ্রভা দেবী রাজি হলেন । ১৯৪৯ এর ফেব্রুয়ারি মাসে মানিকের থেকে চিঠি পেলেন বিজয়া । চিঠিতে মানিক লিখেছেন , তাঁর মা বিয়েতে রাজি হয়েছেন ,বিজয়া যেন যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি কলকাতায় চলে আসেন ৷ যেখানে একবারও বিয়ের সম্ভাবনা ছিল না , সেখানে বিয়ে হল দু’বার ৷ একবার আইনি বিয়ে , আরেকবার সামাজিক বিয়ে । ওই বছরেরই ৩ মার্চ বিয়ের দিন ঠিক হল ৷

অজস্র শাড়ি , তাঁর নিজের গয়নার বাক্স সব পুত্রবধূর জন্য রেখে দিয়েছিলেন সুপ্রভা দেবী । বিজয়া রায়কে শুধু পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহনই করলেন না , নিজের হাতে পরিয়ে দিলেন শাঁখা , নোয়া ৷ লেক এভেনিউ (lake avenue) এর বাড়িতে একদিন নয় তিনদিন ধরে ভিয়েন বসেছিল । আর মানিকবাবুর সাথে যেদিন বিজয়া রায় রাত কাটালেন সেই কথা তাঁর নিজের মুখে শুনুন’কলকাতায় বিয়ের পর যেদিন মানিকের সঙ্গে রাত কাটালাম গল্পে – কী করে ওর মা রাজি হলেন জিজ্ঞেস করাতে বললেন,’ নসুবাবুকে জিজ্ঞেস করো। মনে রেখো , ওঁর জন্যই আমাদের গাঁটছড়া বাধা সম্ভব হয়েছে । উনি ছাড়া আর কেউ মা’কে রাজি করাতে পারতেন না ‘ ।

পুত্র সন্দীপের সঙ্গে সত্যজিৎ ও বিজয়া রায়

সত্যজিৎ ঘনিষ্ঠদের মতে, প্রত্যেক সফল পুরুষের পিছনে যেভাবে একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নারী থাকেন, সেভাবেই ‘পথের পাঁচালি’ (Pather Panchali) –র সময় থেকে মানিকের সঙ্গে ছায়ার মত থেকেছেন বিজয়া। এমনকি একজন খ্যাতনামা লেখক হয়ে ওঠার আগে নিজের সকল পাণ্ডুলিপি বিজয়াকে দিয়ে ঠিক করিয়ে নিতেন সত্যজিৎ। এমনকি ‘পথের পাঁচালি’ ছবি তৈরির সময় প্রবল অর্থসংকটে পড়লে নিজের সকল গয়নাও বিজয়াদেবী দিয়ে দেন সত্যজিৎ কে। ২০১৫-এ মৃত্যুর আগে বিজয়া জানান, “আমার পরামর্শের প্রায় ৯০% মানিক নিজের লেখাতে প্রয়োগ করেছিলেন।”

তথ্যসূত্র ও চিত্র : অন্তর্জাল

প্রকাশিত একাদশশ্রেণী ও উচ্চমাধ্যমিক এর নতুন পরীক্ষা সূচি

আশঙ্কা ছিলই। এবার তাই ঘটলো। আবারও বদল হল উচ্চমাধ্যমিক এর সূচিতে।

আশঙ্কা ছিলই। এবার তাই ঘটলো। বালিগঞ্জ বিধানসভা ও আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচন এর তারিখ নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন অনড় থাকায় এবং JEE – মেইন পরীক্ষার সূচি পুনরায় পরিবর্তন এর কারনে আজ এবছরের উচ্চমাধ্যমিক ও একাদশ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষার পরিবর্তিত সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় একমাস ধরে চলবে এই দুটি পরীক্ষা।

আগামী ২ এপ্রিল প্রথম ভাষার পরীক্ষা দিয়ে শুরু হয়ে পরীক্ষা শেষ হবে ২৭ এপ্রিল। মাঝে ৬ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পরীক্ষা।

মহাপ্রভুর নবদ্বীপে কোনো কসাইখানা হবে না, হাইকোর্টে জানাল রাজ্য (No Slaughter House in Nabadwip)

কয়েক বছর আগে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান বলে খ্যাত নবদ্বীপে কসাইখানা নির্মাণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে মঙ্গলবার হাইকোর্ট এ জানাল রাজ্য সরকার।

শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু প্রাচীন যে শহর থেকে সারা বিশ্বে জুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ভক্তি প্রেম ও অহিংসার মহান বাণী সেই শ্রী চৈতন্যের পদধুলি ধন্য নদীয়ার নবদ্বীপ (Nabadwip) এ কোনও কসাইখানা থাকবে না বলে জানাল রাজ্য। বৈষ্ণব ক্ষেত্র নবদ্বীপ পুরসভার অন্তর্গত কোথাও হবে না কসাইখানা (Slaughter House)।

কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় এসে অবৈধ কসাইখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি তারা জানায়, যত্রতত্র নয়, সরকারি নজরদারিতে জেলায় জেলায় নির্দিষ্ট কয়েকটি কসাইখানা চালুর অনুমতি দেওয়া হবে। কেন্দ্রের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কসাইখানার পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রক। ইতিমধ্যে সেই অর্থ নির্দিষ্ট পুরসভাগুলোকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কেন্দ্রের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী নবদ্বীপে একটি কসাইখানা নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কয়েক বছর আগে নবদ্বীপ শ্মশান এর পার্শ্ববর্তী যে স্থানে কসাইখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল , সেটি বৈষ্ণব সমাধি ক্ষেত্র বলে দাবি স্থানীয় মানুষের। সেখানে তৈরি হয়ে গিয়েছিল কসাইখানার কাঠামোও । তারপরেই এ নিয়ে সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বৈষ্ণব সমাজ তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে । একসময় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলাও হয় যথেষ্ট । কসাইখানা নির্মাণ এর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা হাইকোর্ট এ এতদিন মামলা চলছিল । সেই মামলা মঙ্গলবার খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। সব বিতর্কে জল ঢেলে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে অবস্থান স্পষ্ট করে দিল রাজ্য সরকার। পাশাপাশি স্থানীয় পুরসভার পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয়, নবদ্বীপে কোনো কসাইখানা হবে না (No Slaughter House in Nabadwip)। নিয়ম মেনে কসাইখানা তৈরির জন্য বরাদ্দ কেন্দ্রীয় অর্থ ইতিমধ্যেই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ।

কসাইখানা নির্মাণের অর্থ কেন্দ্রকে ফেরতের নথিও মঙ্গলবার আদালতে পেশ করে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজ্ঞানসম্মত কসাইখানা তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় পুরো আইন মেনে কসাইখানা তৈরির রীতি। কসাইখানায় পশু চিকিৎসক থাকাও আবশ্যিক।

বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে ওই কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার নির্দেশিকায়।  কেন্দ্রের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কসাইখানার পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করবে কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রক। ইতিমধ্যে সেই অর্থ নির্দিষ্ট পুরসভা গুলোকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কেন্দ্রের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্বে মহাপ্রভুর জন্মস্থান বলে খ্যাত নবদ্বীপে একটি কসাইখানা তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ২০১৭ সালে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন ভক্তি সাধন তাপার মহারাজ। আবেদনকারী হাইকোর্টে জানান , নবদ্বীপ সারা বিশ্বে মহাপ্রভুর জন্মস্থান বলে সুখ্যাত । মহাপ্রভুর আবেগ নবদ্বীপের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সারা বিশ্বের মানুষ প্রতিদিন নবদ্বীপ এ আসেন মহাপ্রভুর টানে । এমন একটি স্থানে কসাইখানা তৈরি , সঠিক পদক্ষেপ নয়। আদালতকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন জানান আবেদনকারী । মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট (kolkata Highcourt) এর প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের আইনজীবী তপন মুখোপাধ্যায় আদালতকে জানান রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবদ্বীপে কোনওভাবেই কসাইখানা তৈরি করা হবে না।

ইতিমধ্যে নবদ্বীপ পুরসভা থেকে কসাইখানার জন্য বরাদ্দ অর্থ কেন্দ্রকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালতে উপস্থিত কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীও রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে মামলার নিষ্পত্তি ঘোষণা করে দেয় এদিন। 

আজ আন্তর্জাতিক পাই (π) দিবস

গণিত ও বিজ্ঞান শাস্ত্রের ইতিহাসে আজকের দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সানফ্রান্সিস্কো জাদুঘর

আজ ১৪ মার্চ , বিশ্ব পাই (π) দিবস । পাই দিবস গাণিতিক ধ্রুবক পাই ( t ) -এর সম্মানে উদযাপনের দিন । পাই – এর মান প্রায় ৩.১৪ বলে বছরের ৩ নম্বর মাসের ১৪ নম্বর দিনটিকে অর্থাৎ মার্চ মাসের ১৪ তারিখকে পাই দিবস হিসাবে পালন করা হয় ।

১৪ মার্চের দুপুর ১ টা ৫৯ মিনিট ২৬ সেকেন্ডকে পাই সেকেন্ড বলা হয় । পাইয়ের মানের ( ৩.১৪১৫৯২৬ ) কাছাকাছি সময়ে দিবসটি উদযাপন করার জন্য পাই দিবসে পাই সেকেন্ড পালন করা হয় ।

১৯৮৮ সালে প্রথমবারের মতো পাই দিবস পালিত হয় আমরিকার স্যান ফ্রানসিস্কো – এর একটি বিজ্ঞান জাদুঘরে । ঐ জাদুঘরের কর্মকর্তা পদার্থবিদ ল্যারি শ এই দিবস উদযাপনের উদ্যোক্তা বলে তাকে ‘ পাই – এর রাজপুত্র ‘ বলা হয় ।

 π বা পাই একটি গাণিতিক ধ্রুবক , যার মান 22/7 বা 3.14159 এর সমান।  এটিকে ইউক্লিডীয় জ্যামিতিতে একটি বৃত্তের পরিধি এবং ব্যাসের অনুপাত হিসাবে দেখানো হয়েছে এবং  এটি গণিত এবং পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনেক সূত্রে ব্যবহার হয় । একটি বৃত্তের পরিধি এবং ব্যাসের অনুপাতকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য গ্রীক অক্ষর π- এর প্রথম ব্যবহার করেন ওয়েলশ এর গণিতবিদ উইলিয়াম জোন্স 1706 সালে।  একে আর্কিমিডিসের ধ্রুবক হিসাবেও উল্লেখ করা হয় । 

উইলিয়াম জোনস সর্বপ্রথম পাই ( π ) প্রতীকটির প্রচলন করলেও , এই প্রতীকটিকে জনপ্রিয় করেন সুইস গণিতবিদ লিওনার্দো ইউলার । গণিত , বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিদ্যার অনেক সূত্রে পাইয়ের ব্যবহার দেখা যায় ।

চিত্র ও তথ্যসূত্র : অন্তর্জাল

উচ্চমাধ্যমিকের সূচিতে কি ফের বদল ?

উপনির্বাচনের সঙ্গে তারিখ সংঘাত উচ্চমাধ্যমিক এর।

জয়েন্ট এন্ট্রান্স ( মেন ) পরীক্ষার সঙ্গে সময় – সংঘাত এড়াতে উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষাসূচিতে ইতিমধ্যেই এক দফা অদলবদল হয়েছে । ওই পরীক্ষার সূচি আবার এক প্রস্ত বদলানো হবে কি না , তা নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি এবং জল্পনা তৈরি হয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মহলে।

কারণ , উচ্চ মাধ্যমিকের মধ্যেই আগামী ১২ এপ্রিল আসানসোল লোকসভা ও বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ।

আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ২৬ এপ্রিল । কিন্তু ভোটের সঙ্গে সূচি – সংঘাতের জেরে আবার কোনও পরিবর্তন হতে চলেছে কি না , সেই প্রশ্ন তো থাকছেই । আগামী ১২ এপ্রিল উপনির্বাচনের দিনক্ষন ঘোষণা করা হয়েছে।এই দোলাচলে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে বলেও শিক্ষা শিবিরের একাংশের অনুযোগ।

পরীক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের পক্ষে বিষয়টি যে খুবই উদ্বেগের , তা স্বীকার করে নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন , “ এই ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে আলাপ – আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হবে । ” শিক্ষক – শিক্ষিকাদের অনেকে বলছেন , স্কুলে অন্তত দু’দিন ধরে ভোট কেন্দ্রের কাজ চলে। অনেক শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ।

তাই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি ফের বদলানো হবে কি না , সেই বিষয়ে শুধু জল্পনা বা বিভ্রান্তি নয় , উদ্বেগও আছে ব্যাপক । অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেসের রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন , “ সবে উচ্চমাধ্যমিকের সংশোধিত দ্বিতীয় রুটিন প্রকাশিত হয়েছে । আবার ভোট ঘিরে এই জটিলতার ফলে চরম বিভ্রান্তি চলছে । নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে ভাবতে অনুরোধ করছি । ” অন্য দিকে , উচ্চ মাধ্যমিক ও একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষক – শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনও ছুটি নিতে পারবেন না বলে সংসদ গতকাল একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দিয়েছে ।

ইংল্যান্ডে স্টেশনের নাম বাংলায়!

বাঙালি যেখানে নিজ ভাষাই ভুলতে বসেছে , সেখানে ইংল্যান্ডের হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশনটির নাম লেখা হল বাংলা হরফে।

বাংলা হরফে স্টেশনের নাম চিত্র-সংগৃহিত

ইংল্যান্ডের হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশনটির নাম লেখা হল বাংলা হরফে । মাটির নীচের এই রেল স্টেশনটি দীর্ঘদিন পরিচর্যার জন্য বন্ধ ছিল । নতুন করে উদ্বোধনের সময়ই ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও লেখা হয়েছে স্টেশনের নাম । ওই অঞ্চলে বসবাসকারী বাঙালিদের দাবি মেনেই এটা করা হয়েছে বলে জানা গেছে ।

স্টেশনটি যে অঞ্চলে , সেই টাওয়ার হ্যামলেটে বসবাসকারীদের বড় অংশই বাঙালি । এই বাঙালিরা মূলত বাংলাদেশি । এই এলাকায় জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাঙালিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে , এখানকার দোকান বাজার সর্বত্রই বাংলা হরফ চোখে পড়ে । কিন্তু কোনও রেল স্টেশনের নাম বাংলায় যা শুধু এই এলাকায়ই নয় , খোদ ইংল্যান্ডের বুকেও এই প্রথম ।

গত বছরের শেষে এই এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে স্টেশনটির নাম বাংলায় লেখার দাবি জানানো হয় হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশন কর্তৃপক্ষকে । সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে ইংল্যান্ডের হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশন এর নাম লেখা হয়েছে বাংলায় ।

বাংলা ভাষার এই জয়জয়কারে উচ্ছ্বসিত ইংল্যান্ড তো বটেই , ভারত ও বাংলাদেশের বাঙালিরাও । এখানকার বাংলাপক্ষ সংগঠনের সদস্য কৌশিক মাইতি বলেন , ‘ ওখানকার বাঙালিদের এটি একটি অনন্য সাফল্য । কিন্তু এখানে যেটা লজ্জার । এ ব্যাপারে কেউই কোনও নিয়ম মানেন না । আমরা চাই , সাইনবোর্ড বা অন্য যে কোনও জায়গায় সব ভাষার সঙ্গে বাংলাও থাকুক । ‘

১ মিনিটে ৪৭ জীবজন্তুর নাম বলে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে ২ বছরের বিহান

সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে এক মিনিটে ছবি দেখে নির্ভুলভাবে ৪৭ টি জীব – জন্তুর নাম বলে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে নাম তুলেছে তেহট্টের ছোট্ট বিহান

বিহান পাল

বয়স দু’বছর পাঁচ মাস । এখনও ঠিকমতো কথা ফোটেনি । এরই মধ্যে রেকর্ড গড়ে ফেলেছে তেহট্টের বিহান পাল । সবচেয়ে ছোট বয়সে এক মিনিট সময়ের মধ্যে ছবি দেখে নির্ভুলভাবে ৪৭ টি জীব – জন্তুর নাম বলে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে সে নাম তুলেছে । তার এই কৃতিত্বে খুশি পরিবার পরিজন সহ তেহট্টবাসী ।

তেহটের গরিবপুরে বাড়ি বিহানের । বাবা কুত্তল পাল ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত । মা কাল্গুন পাল মণ্ডল গৃহবধূ । পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে , এখনও স্কুলে পড়াশোনা শুরু হয়নি বিহানের । কিন্তু খেলার চেয়ে বইয়ের প্রতি আগ্রহই বেশি তার । মায়ের সঙ্গে খেলার ছলেই অ আ ক খ এবং A B C D চেনা ছোট বিহানের। বইয়ের পাতায় ছবি দেখে চিনতে শুরু করে পশু – পাখি । এভাবেই মায়ের সঙ্গে চলত অনুশীলন ।

অল্প সময়ের মধ্যে বিহানের সবকিছু চিনে নেওয়ার প্রতিভা লক্ষ্য করেন মা । তারপরই ইন্ডিয়া বুঝ তার রেকর্ডসে নাম তোলার ইচ্ছা জাগে বিহানের বাবা – মায়ের । সেইমতো এবছর জানুয়ারি মাসে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করেন বিহানের মা । ছেলে কী কী জানে , কী করতে ভালোবাসে , সবকিছু জানানো হয় সেখানে । সেই মতো কিছুদিনের মধ্যে তাদের তরফে একটি ইমেল আসে । সেখানে বিহানের কার্যকলাপের উপরে ভিডিও করে পাঠাতে বলা হয় । সেইমতো পাঠানো হয় ভিডিও।সেই ভিডিও যাচাই করে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসের বিশেষজ্ঞ টিম ।

এরপরই ১৪ জানুয়ারি ইমেল করে জানানো হয় রেকর্ডের কথা । সম্প্রতি বাড়িতে এসে পৌঁছায় বিহানের পুরস্কার , ট্রফি ও শংসাপত্র । বিহানের বাবা কুন্তল পাল বলেন , ছোট থেকেই বই নিয়ে খেলা করতে শুরু করে বিহান । খেলার ছলেই চিনে যায় অক্ষর । বইয়ে থাকা ছবি দেখে বলে ফেলত পশু পাখির নাম । ওর মায়ের সঙ্গে প্রায় সারাদিন চলত অনুশীলন । এই রেকর্ডের কিছুটা কৃতিত্ব ওর মায়ের । বিহানের মা বলেন , ওর ছোট বেলা থেকেই বইয়ের প্রতি আগ্রহ । সারাদিন বই নিয়ে খেলতে ভালোবাসে ।

A Guideline has declared by Indian Embassy in Russia for Indian student

Guidelines for Indian students studying in Russia The Embassy has been receiving messages from Indian students in universities in Russia seeking advice on their continued stay in the country .

1. The Embassy would like to reassure all students that at present we see no security reasons for them to leave . The Embassy is in regular contact with relevant authorities with respect to the safety and security of the Indian nationals , including students .

2. Certain disruption of banking services in Russia and direct flight connectivity from Russia to India is , however , taking place . If students have concerns regrading these aspects and would like to travel back to India , they may consider doing so .

3. Regarding the academic programs , the Embassy has been informed by a number of universities that they have already shifted to the online distance learning mode . Students are advised to exercise their discretion in consultation with their respective universities on the appropriate course of action regarding continuation of their academic activities without disruption .

2. দূতাবাস সকল শিক্ষার্থীকে আশ্বস্ত করতে চায় যে বর্তমানে আমরা তাদের চলে যাওয়ার জন্য কোনো নিরাপত্তার কারণ দেখি না। দূতাবাস শিক্ষার্থীসহ ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছে।

3. রাশিয়ায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবার কিছু বিঘ্ন ঘটছে এবং রাশিয়া থেকে ভারত সরাসরি ফ্লাইট সংযোগ ঘটছে। ছাত্রদের যদি এই দিকগুলো নিয়ে উদ্বেগ থাকে এবং তারা ভারতে ফিরে যেতে চায়, তাহলে তারা তা করার কথা বিবেচনা করতে পারে।

4. একাডেমিক প্রোগ্রামের বিষয়ে, দূতাবাসকে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা জানানো হয়েছে যে তারা ইতিমধ্যে অনলাইন দূরশিক্ষণ মোডে স্থানান্তরিত হয়েছে৷ শিক্ষার্থীদের তাদের একাডেমিক কার্যক্রম বিনা বাধায় চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপের বিষয়ে তাদের নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে পরামর্শ করে তাদের বিচক্ষণতা প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পাকিস্তানে আছড়ে পড়লো ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র !

পাকিস্তানের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের আকাশসীমার মধ্যে ৪০,০০০ ফুট উচ্চতায় শব্দের তিনগুণ গতিতে ১০০ কিমির বেশি উড়েছিল। মিসাইলটিতে কোন ওয়ারহেড ছিল না তাই এটি বিস্ফোরিত হয়নি।

ভারত ভুলবশত পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক

নিজস্ব প্রতিবেদন : পাকিস্তানি সামরিক মুখপাত্র মেজর-জেনারেল বাবর ইফতিখার একটি ৯ মার্চ সন্ধ্যায় একটি সংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন যে একটি “উচ্চ গতির উড়ন্ত বস্তু” পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর মিয়াচান্নুর কাছে এসে পড়েছিল । হরিয়ানা রাজ্যের সিরসা থেকে উদ্ভূত হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। মেজর জেনারেল বাবর ইফতিকার দাবি করেছেন, মিসাইলটি আছড়ে পড়ায় কয়েকটি বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে।

১০ মার্চ ভারত এর সত্যতা স্বীকার করে ব্যাখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তানের এলাকায় ভারতের দিক থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভুলক্রমে ছোঁড়া হয়েছিল, বলে জানিয়েছিল পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বৃহস্পতিবার এই ঘটনাটিকে একটি “প্রযুক্তিগত ত্রুটি” বলে দায়ী করে ঘটনাটিকে “গভীরভাবে দুঃখজনক” বলে বর্ণনা করেছে।

“৯ মার্চ ২০২২, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সময়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হরিয়ানা রাজ্যের  সিরসা থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হঠাৎই নিক্ষিপ্ত হয় , যা পাকিস্তানের আকাশ সীমায় প্রবেশ করেছিল । ভারত সরকার বিষয়টি কে গুরুত্ব দিয়ে একটি উচ্চ-স্তরীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে , বলে জানা গেছে

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ,” প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারনে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রটি পাকিস্তানের একটি এলাকায় অবতরণ করেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি গভীরভাবে দুঃখজনক হলেও , একটি স্বস্তির বিষয় যে দুর্ঘটনার কারণে কোন প্রাণহানি হয়নি” ।

পাকিস্তানের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের আকাশসীমার মধ্যে ৪০,০০০ ফুট উচ্চতায়  শব্দের তিনগুণ গতিতে ১০০ কিমির বেশি উড়েছিল। মিসাইলটিতে কোন ওয়ারহেড ছিল না তাই এটি বিস্ফোরিত হয়নি।

কিন্তু পাক আকাশসীমা লঙ্ঘন করার প্রতিবাদে ইসলামাবাদে ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পাকিস্তান। এছাড়াও পাকিস্তান এই ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে ধরনের ঘটনার কারনে যাত্রীবাহী বিমান এবং বেসামরিক জীবন বিপন্ন হতে পারে।

পাকিস্তান ভারতকে সতর্ক করে বলেছে “এই ধরনের অবহেলার অপ্রীতিকর পরিণতি সম্পর্কে ভারতকে সচেতন হতে হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে “।

এই ঘটনাটি ভারতের সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছেও যথেষ্ট চিন্তার । কারণ , একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ফায়ারিং হল প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, এটি লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণসহ একাধিক বিষয়ের সঙ্গে জড়িত থাকে। প্রসঙ্গত, গত বছরের গোড়ার দিকে  পাঞ্জাবে প্রথম S-400 মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করে ভারতীয় বায়ুসেনা। চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে একযোগে মোকাবিলা করতে ও প্রতিপক্ষের মিসাইল ও যুদ্ধবিমানগুলিকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করতেই এই পদক্ষেপ।        

ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক হ্যাপিমন জ্যাকব বলেছেন, উভয় পক্ষই পরিস্থিতি ভালোভাবে পরিচালনা করেছে। ফলে পারস্পরিক সম্পর্ক এ কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসতে চলেছে নতুন আইন

বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম আসতে চলেছে বিশ্ব ক্রিকেটের ২২ গজে।

প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার বিনু মাঁকড়ের নামের পাশে যে দাগ এত দিন লেগে ছিল , তা মুছে যেতে চলেছে । ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়ন সংস্থা , মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব ( এমসিসি ) বুধবার জানিয়ে দিল , মাঁকড়ীয় আউট করাকে আর অখেলোয়াড়োচিত হিসেবে দেখা হবে না । এই সঙ্গেই আরো বেশ কয়েকটি নিয়ম আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল( ICC)

🏏ক্রিকেটের নতুন নিয়ম🏏

🏏 বলে লালা লাগিয়ে পালিশ করার পদ্ধতি চিরতরে নিষিদ্ধ । তবে বলে ঘাম লাগানো যাবে ।

🏏 মাঁকড়ীয় আউটকে আর অখেলোয়াড়োচিত হিসেবে দেখা হবে না । নিয়ম একই থাকবে । কিন্তু অনৈতিক আউট নয় , এখন থেকে রান আউট হিসেবে গণ্য হবে ।

🏏 ব্যাটার ক্যাচ আউট হলে নতুন ক্রিকেটার প্রথম বলেই স্ট্রাইক নেবে ( যদি না ওভার শেষ হয়ে যায় )

🏏 ডেলিভারি করতে যাওয়ার আগে কোনও বোলার যদি স্ট্রাইকারকে রান আউট করার জন্য বল ছোড়ে , তা হলে সেই বলকে ‘ডেড বল’ ডাকবেন আম্পায়াররা ।

🏏 বোলার দৌড় শুরু করার সময় ব্যাটার ক্রিজের যে জায়গায় দাঁড়িয়ে গার্ড নিয়েছে , সেটাকে মাথায় রেখে ওয়াইড ডাকা হবে ।

🏏 ব্যাটিংয়ের সময় ফিল্ডাররা যদি নিয়ম ভেঙে নড়াচড়া করে , তা হলে জরিমানা হবে । ব্যাটিং দলকে পাঁচ রান বাড়তি দেওয়া হবে ।

🏏 পিচের বাইরে বল পড়লে ব্যাটাররা তখনই সেটা মারতে পারবে , যদি তার ব্যাট বা শরীরের কোনও অংশ পিচের নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে থাকে ।

এবছরের শেষ থেকেই এই নিয়মগুলো চালু করতে পারে ICC

Panjub Election 22 : কমেডিয়ান থেকে মুখ্যমন্ত্রী!

নভজিৎ সিং সিধুর মুখের হাসি কেড়ে নিয়ে পঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হতে চলেছেন তিনিই ।

পাঁচ রাজ্যের ভোটে পাঞ্জাবে সবচেয়ে বড় চমক দিয়েছে এবার আম আদমি পার্টি (Aam admi party) । দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো একটি আঞ্চলিক দল দুটি রাজ্যের ক্ষমতায় আসীন হতে চলেছে( punjab accembly election 22)।আর তার অন্যতম মুখ ভগবন্ত মান। কমেডি শো থেকে মুখ্যমন্ত্রী । এবার নভজিৎ সিং সিধুর মুখের হাসি কেড়ে নিয়ে পঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হতে চলেছেন তিনিই । বয়স ৪৮ । মাথায় বাসন্তী পাগড়ি । মুখে ভগৎ সিংহের নাম। ইনকিলাব জিন্দাবাদ পছন্দের স্লোগান । ভগবন্ত সিংহ মান।(APP)

রাজনীতিকদের নিয়ে মজা করতেন এক সময়।প্রাক্তন এই কমেডি অভিনেতা টিভি শো – এ মজা করছেন আর বিচারকের আসনে রয়েছেন নভজ্যোৎ সিংহ সিধু — ঘটেছে এমনও। ২০০৬ – এর কথা সেটা । সে বার অবশ্য শো জেতেননি ভগবন্ত।

তবে 2022 এ বিচারক কেই হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে সব কিছুই মসৃণ ছিল না ভগবন্তের জন্য । নানা বিতর্কে জড়িয়েছে তাঁর নাম । ভগবন্ত বলে দিয়েছেন , রাজভবনে নয় , তিনি শপথ নেবেন ভগৎ সিংহের গ্রামে গিয়ে । আর কোনও সরকারি অফিসে যেন মুখ্যমন্ত্রীর ছবি না থাকে ! কারন তার সরকারের প্রকৃত চালক রাজ্যের মানুষ।

পরিখা কেটে গণকবরে থরে থরে দেহ!

রাশিয়ার লাগাতার আক্রমণ এর মুখে মৃত দেহের সৎকার করাও সম্ভব হচ্ছে না। গনকবর দেওয়া হচ্ছে ইউক্রেনে।

১৬দিন ধরে চলা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে বহু সাধারণ মানুষের। গুলি গোলার তীব্রতায় মৃতদেহের সৎকার করাও হয়ে উঠেছে এক যুদ্ধের সামিল। যেখানে সেখানে পড়ে রয়েছে মৃতদেহ।

দীর্ঘ পরিখা কাটা হয়েছে মাটিতে । তাতে সারি সারি মৃতদেহ ঠেলে ফেলছেন নীল ওভারঅল পরা কর্মীরা । দেহগুলি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরা । অনেকের অবশ্য সেই সৌভাগ্যটুকুও জোটেনি । চাদর আর কম্বলের আড়ালেই মিলেছে শেষ পর্দাটুকু । রাশিয়ার লাগাতার আক্রমনে বিধ্বস্ত ইউক্রেনের মারিয়ুপোল শহরের এই গণকবরের ছবি তুলে ধরেছেন চিত্রসাংবাদিক ইভজেনি মালোলেটকা । সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ।

ইভজেনি বলেছেন , রোজই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা । মঙ্গলবার এখানে ৪০ টি দেহ এসেছিল । বুধবার দুপুরের মধ্যে তা ৩০ ছুঁয়েছে । এক দিকে মৃতদেহের সারি , অন্য দিকে কর্মী সঙ্কটের জেরবার মারিয়ুপোলের প্রশাসন স্থানীয় একটি কবরস্থানের কাছে ৭৫ ফুট লম্বা ওই পরিখা কাটিয়েছে । তাতে নিহত সৈনিক এবং সাধারণ মানুষ— সকলকেই গণকবর দেওয়া হচ্ছে ।

ইউক্রেনে গত পনেরো দিন ধরে হামলা চালাচ্ছে রুশ সেনাবাহিনী । কিভ , খারকিভ , সুমি , মারিয়ুপোলের মতো শহরগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । গতকাল মারিয়ুপোলের একটি শিশু ও প্রসূতি হাসপাতালে বোমাবর্ষণ করে রাশিয়া । তাতে এক শিশু – সহ তিন জন নিহত হন । আহত অন্তত ১৭। ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে অনেকে । মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা । লাগাতারা হামলায় মারিয়ুপোল এখন মৃত্যুপুরী । হাসপাতালে রাশিয়ার আক্রমণ এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। অন্যদিকে রাশিয়ার দাবি , মারিওপোলের ওই হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরেই পরিত্যক্ত। সেখানে ইউক্রেন সেনা ঘাঁটি তৈরি করেছে বলেও টুইট করেছে রাশিয়া

শহরের ডেপুটি মেয়র সের্গেই ওরলোভ বলেছেন , “ অন্তত ১৩০০ জন মারা গিয়েছেন এই শহরে । তবে আসল সংখ্যাটা এর তিন , চার গুণ বেশি হতে পারে । বোমা আর ক্ষেপণাস্ত্রে নিহতদের অনেকের দেহ পড়ে রয়েছে রাস্তায় । আমরা গুণে উঠতে পারছি না । ” তিনি জানান , শহরে বিদ্যুৎ , জলের লাইন বিচ্ছিন্ন । প্রাণ বাঁচাতে বেশির ভাগ মানুষ এখন বম্ব শেল্টার আর মাটির তলায় মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছেন । মারিয়ুপোলের বাসিন্দাদের উদ্ধারের জন্য সাময়িক যুদ্ধ বিরতির কথা মুখে বললেও রাশিয়া লাগাতার হামলা চালিয়েই যাচ্ছে । ক্ষুব্ধ ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা বলেছেন , “ মারিয়ুপোলের ৩ লক্ষ বাসিন্দাকে পণবন্দি করে রেখে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া । ”

এবার সাধারণ মোবাইলেও UPI এর মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ!

ইন্টারনেট ছাড়াই অনলাইনে টাকা লেনদেন এবার সাধারণ মোবাইল গ্রাহকদের জন্য চালু

টাকা পাঠাতে ছ’বছর আগেই সাধারণ মোবাইল ফোনের জন্য ইউএসএসডি নির্ভর ইউপিআই চালু করেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক । কিন্তু , প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং চার্জেবল হওয়ায় তা অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়ে । তাই সেই ভুল শুধরাতে মঙ্গলবার ইন্টারনেট সংযোগহীন মোবাইল গ্রাহকদের জন্য নয়া ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস ( ইউপিআই ) পরিষেবা চালু করল আরবিআই । নাম দেওয়া হয়েছে ‘ ইউপিআই ১২৩ পে ‘ ।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেন , সমাজের যে স্তরের মানুষ ইউপিআইয়ের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন , ‘ ইউপিআই ১২৩ পে ’ চালুর ফলে তাঁরাও ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন । দেশের আর্থিক অগ্রগতিতে সকলকে শামিল করা যাবে । এই পরিষেবা চালু করতে একজন মোবাইল গ্রাহককে তিনটি ধাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে । সেখান থেকেই নাম হয়েছে ‘ ইউপিআই ১২৩ পে ‘ ।

পরিষেবা চালু হয়ে গেলে চারটি প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকরা টাকা লেনদেন করতে পারবেন । সেগুলি হল , আইভিআর নম্বরে ফোন , ফিচার মোবাইলে থাকা অ্যাপ ব্যবহার , মিস কল পরিষেবা এবং গ্রাহক – প্রেরক কাছাকাছি থাকলে সাউন্ড নির্ভর পেমেন্ট । নয়া এই পরিষেবায় একজন তাঁর বন্ধু , আত্মীয়দের টাকা পাঠানোর পাশাপাশি মোবাইল রিচার্জ , বিল পে , ফাস্ট ট্যাগ রিচার্জ , ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স চেক করতে পারবেন ।

সাধারণ মোবাইল গ্রাহকদের জন্য ইউপিআই পরিষেবার পাশাপাশি এদিন ‘ ডিজিসাথী ’ নামে একটি হেল্পলাইন চালু করে আরবিআই । http://www.digisathi.info নামক ওয়েবসাইটে ঢুকে একজন গ্রাহক তাঁর সমস্যার কথা জানাতে পারবেন ।

পাশাপাশি , ১৪৪৩১ এবং ১৮০০ ৮৯১ ৩৩৩৩ নম্বরে ফোন করেও সমস্যার সমাধান করা যাবে।

২০১৬ সালে ইউপিআই পরিষেবা চালুর পর থেকে অনলাইন আর্থিক লেনদেনে জোয়ার এসেছে । চলতি অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ৭৬ লক্ষ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে । এ প্রসঙ্গে শক্তিকান্ত দাস বলেন , সেদিন খুব দূরে নেই , যেদিন ইউপিআইয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের অঙ্ক ছাড়াবে ১০০ লক্ষ কোটি টাকা।

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সূচিতে রদবদল

উচ্চ মাধ্যমিক (২০২২) পরীক্ষা সূচীতে কিছুটা রদবদল করা হয়েছে । জয়েন্ট এন্ট্রান্স মেইনের সঙ্গে একই দিনে যাতে উচ্চমাধ্যমিক না পড়ে , সেকারণেই এপ্রিলের ১৩ , ১৬ , ১৮ ও ২০ তারিখের পরীক্ষার সূচী পরিবর্তন করা হল বলে জানিয়েছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।

পরিবর্তিত সূচী অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ২ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিলের বদলে ২৬ তারিখ পর্যন্ত চলবে ।

১৩ ই এপ্রিল দর্শন ও সমাজবিজ্ঞানের যে পরীক্ষা ছিল , তা এখন হবে ১৮ ই এপ্রিল ।

১৬ তারিখের রসায়ন , সাংবাদিকতা , সংস্কৃত , আরবি , ফরাসি পরীক্ষার দিন এগিয়ে ১৩ ই এপ্রিল করা হয়েছে ।

১৮ এপ্রিলের স্ট্যাটিসটিক্স , ভূগোল এবং হোম ম্যানেজমেন্টের পরীক্ষা হবে ২৫ শে এপ্রিল ।

২০ তারিখের অর্থনীতির পরীক্ষা , পিছিয়ে ২৬ তারিখ করা হয়েছে ।

উচ্চমাধ্যমিক এর নতুন রুটিন

এবার মেঘে ঢাকা রেস্তোরাঁ সাংহাইতে

মাটি থেকে ৫৫৬.৩৬ মিটার অর্থাৎ প্রায় ১৮২৫ ফুট উচ্চতায় বসে খাওয়ার সুযোগ বিশ্বের সর্বোচ্চ রেস্তোরা দ্য জিন এ

নিজস্ব প্রতিবেদন : চিনের সাংহাইয়ের একটি বিল্ডিংয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেস্তোরাঁ তৈরি করা হয়েছে । জে হোটেল সাংহাই টাওয়ারের ১২০ তম তলায় অবস্থিত জিন রেস্তোরাঁ থেকে মিলছে স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা ।

ইতিমধ্যেই ” গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস”(Gines book of world Records) দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ কোনও বিল্ডিংয়ের সবথেকে উঁচু রেস্তোরাঁ ’(World highest Restaurant) হিসাবে নামকরণ করা হয়েছে একে । সাংহাই টাওয়ারের ১২০ নম্বর তলায় অবস্থিত, এটি মাটি থেকে ৫৫৬ মিটার উপরে। এটি ২০১১ সালে দুবাইয়ের At.mosphere দ্বারা স্থাপিত ৪৪১.৩০ মিটারের আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে জিন রেস্তোরাঁ এখন বিশ্বের উচ্চতম।

এই রেস্তোরাঁটি মানুষকে মাটি থেকে ৫৫৬.৩৬ মিটার অর্থাৎ প্রায় ১৮২৫ ফুট উচ্চতায় বসে খাওয়ার সুযোগ করে দেয় । জে হোটেল সাংহাই টাওয়ারের জেনারেল ম্যানেজার জেনি ঝাং (jeni jhang) জানান , খোলার পর থেকেই রেস্তোরাঁটি তার উচ্চমানের খাবারের অভিজ্ঞতা এবং পরিষেবার জন্য গ্রাহকদের কাছে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে । তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অতিথিদের একটি উচ্চ স্তরের অভিজ্ঞতার জন্য স্বাগত জানান । আর মেঘের ওপর থেকে তাঁরা এই অভিজ্ঞতা পান ।

এখানে ডিনারে প্রবেশ করার পরে , অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানো হয় একটি 30-মিটার দীর্ঘ সিল্ক রোড-থিমযুক্ত ইতালীয় মোজাইক যা কয়েক ডজন সমৃদ্ধ উপকরনে তৈরি। 

রেস্তোরাঁর দেওয়ালে চিত্রিত ম্যুরাল

আধুনিক ইউরোপীয় এবং জাপানি খাবার থেকে শুরু করে চীনা রান্নাও – রেস্তোরাঁটি সর্বরাহ করে । উপরন্তু, এটি অতিথিদের উচ্চ মানের চা ও পরিবেশন করে থাকে।

উন্মুক্ত রান্নাঘর

এখানকার আরো একটি চমকপ্রদ বিষয় হল খোলা রান্নাঘর , যা তাদের রান্নার প্রক্রিয়াগুলিকে অতিথিদের সামনে তুলে ধরে অতিথিদের খাবার উপভোগ করার সাথে সাথে একটি উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্যের অভিজ্ঞতা এনে দেয়।

চিত্র: আন্তর্জাল সংগৃহিত

Ind Vs Pak : পাক বধ ভারতীয় মেয়েদের

নিজস্ব প্রতিবেদন : গতবছর টি টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ছেলেরা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান এর কাছে শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়েছিল। এবার তারই মধুর বদলা নিল মিতালী রাজের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল।

রবিবার নিউজিল্যান্ডের বে ওভালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১০৭ রানে পাকিস্তানকে পরাজিত করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারতের মেয়েরা।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত । নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৪৪ রান তোলে ভারত । ভারতের হয়ে এদিন তিনজন অর্ধ শতরান করেন – পূজা ভাস্ট্রাকর (৬৭) , স্নেহ রানা (৫৩*) এবং স্মৃতি মান্ধানা (৫২) । এছাড়াও দীপ্তি শর্মা করেন ৪০ রান।

পাকিস্তান এর পক্ষে নাসরা সান্ধু ও নিদা দার ২ করে উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের সামনে আত্মসমর্পণ করেন পাকিস্থানী ব্যাটার রা। মাত্র ১৩৭ রানে শেষ হয়ে যায় পাক ইনিংস। পাকিস্তান এর পক্ষে শিদরা আমিন (৩০) , দিয়ানা বাগ, (২৪)ফাতিমা সানা(১৭), এবং বিসমা মারুফ (১৫) ছাড়া আর কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে র পরে এদিন বল হাতেও সফল ভারত। রাজেস্বরী গায়কোয়ার একাই ১০ ওভারে মাত্র ৩১ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নেন। এছাড়াও স্নেহ রানা ও ঝুলন গোস্বামী ২টি করে উইকেট পান।

ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে পুজা ভাস্ট্রকর

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন ভারতের পূজা ভাস্ট্রকর। ভারতের পরের ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ মার্চ।

এদিন খেলা শুরুর আগে ভারত ও পাকিস্তানের মেয়েরা পারস্পরিক সৌহার্দ্য এর অন্যন্য নজির তৈরি করেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কা বিসমা মারুফের ৬ মাসের মেয়ে ফাতিমাকে নিয়ে খেলায় মেতে উঠেন মিতালী রাজরা । বিসমার সঙ্গে সেলফি তুলতেও দেখা যায় ভারতের মেয়েদের। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছে ICC

১৩৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে A I প্রযুক্তিতে দুবাইয়ে নির্মিত হল Musium of the Future

১৩৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তৈরি এই ইমারতটিকে (Musium of the Future)। বিশ্বের সুন্দরতম ভবন বলেও আখ্যা দেওয়া হচ্ছে । সাধারণ ধারণার বিপরীতে হেঁটে ঐতিহাসিক জিনিসপত্রের বদলে এই জাদুঘরে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত আবিষ্কারের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে ।

নিজস্ব প্রতিবেদন : দুবাইয়ে উদ্বোধন করা হল মিউজিয়াম অফ দ্যা ফিউচার (Musium of the Future)। প্রায় ৯ বছর ধরে , ১৩৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তৈরি এই ইমারতটিকে বিশ্বের সুন্দরতম ভবন বলেও আখ্যা দেওয়া হচ্ছে । ৭ তলা উঁচু এই ভবনটি দুবাইয়ের অন্যতম বিখ্যাত বুর্জ খালিফা কমপ্লেক্সের উত্তরে নির্মাণ করা হয়েছে ।

ভবিষ্যতের জাদুঘর , দুবাই

দুবাই (Dubai) এর শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরসাহীর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম  (Mohammed Bin Rashid Al Maktoum ) , 4 মার্চ 2015 তারিখে সরকারী শীর্ষ সম্মেলনের সময় ভবিষ্যতের যাদুঘর (Musium of the Future) প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। 

শেষ পর্যন্ত 22 ফেব্রুয়ারী 2022 তারিখে,দুবাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হল Musium of the Future

বিশ্বের সবচেয়ে জটিল কাঠামোগুলির মধ্যে একটি, মিউজিয়াম অফ দ্য ফিউচার , ব্রিটেনের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা ব্যুরো হ্যাপল্ড (Buro Happily) এর অধীনে তৈরি এ.আই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্ট্যালিজেন্স ( Artificial intelligence) এর মাধ্যমে বিল্ডিংটির ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয় । গোটা নির্মাণকাজে মানবিক শ্রমের পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়েছে রোবটও।

ভবনটির বাইরের দিকের অংশে যে জানালার নকশা করা হয়েছে তা আসলে আমিরসাহির ভবিষ্যত সম্পর্কে দুবাইয়ের শাসকের একটি আরবি কবিতা।  কবিতাটি সংযুক্ত আরব আমিরসাহির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম (Mohammed Bin Rashid Al Maktoum ) এর 3টি উদ্ধৃতি :

🔅 আমরা শত বছর বাঁচব না, তবে আমরা এমন কিছু তৈরি করতে পারি যা শত শত বছর ধরে চলবে।

🔅 ভবিষ্যত হবে তাদের জন্য যারা এটি কল্পনা করতে, পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে এবং এটি তৈরি করতে সক্ষম হবে, ভবিষ্যত অপেক্ষা করে না, ভবিষ্যত আজকেই পরিকল্পনা এবং তৈরি করা যেতে পারে।

🔅 জীবনের নবায়ন, সভ্যতার বিকাশ এবং মানবতার অগ্রগতির রহস্য যাকে এক কথায় : উদ্ভাবন।

দুবাইয়ের মিউজিয়াম অফ দ্য ফিউচারে আরবি ক্যালিগ্রাফি খোদাই করা উদ্ধৃতিটি লিখেছেন আমিরাতি শিল্পী মাতার বিন লাহেজ (Mattar Bin Lahej ) । 

এই টরাস-আকৃতির শেলটি বিল্ডিংয়ের শীর্ষে বসে এবং স্টেইনলেস স্টিলের পরিহিত 1,024টি অগ্নি-প্রতিরোধী যৌগিক প্যানেল নিয়ে গঠিত, এবং যার প্রত্যেকটির আরবি লিপি তৈরি করার জন্য একটি অনন্য 3D আকৃতি রয়েছে। 

ভবনটি নির্মাণের জন্য কিল্লা ডিজাইন এবং বুরো হ্যাপল্ড নতুন প্যারামেট্রিক ডিজাইন এবং বি .আই.এম বা বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং (Building Information Modeling) টুলস তৈরি করেছে, যার মধ্যে একটি গ্রোথ অ্যালগরিদম রয়েছে যা অভ্যন্তরীণ ইস্পাত কাঠামোর শক্তি বৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল উপায়ে নির্মিত। Musium of the Future নির্মাণের জন্য ইস্পাত সরবরাহ করেছে ড্যানেম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস ।

সাত তলা এই মিউজিয়ামটির বিভিন্ন তলায় রয়েছে , স্পেস এক্সপ্লোরেশন , ডিসকভারি অফ ওয়ান্ডার্স অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড , নেচার , লাইব্রেরী অফ লাইফ ইত্যাদির প্রদর্শনী । এর তিনটি তলা বাইরের মহাকাশ সম্পদ উন্নয়ন, ইকোসিস্টেম এবং বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এবং সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার উপর দৃষ্টিপাত করে । অন্যান্য তলায় অদূর ভবিষ্যতে প্রযুক্তি কিভাবে স্বাস্থ্য, জল, খাদ্য, পরিবহন এবং শক্তি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে , তা দেখানো হয়েছে। জাদুঘর এর শেষ তলাটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের জন্য উৎসর্গীকৃত।

মনে করা হচ্ছে , দুবাইয়ে পর্যটন ব্যবসাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার । আমিরশাহিকে জ্ঞান – বিজ্ঞান – কলা – প্রযুক্তির মতন বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুনিয়ার আকর্ষণের কেন্দ্রে আনতে এই পদক্ষেপ ।

সকল চিত্র : আন্তর্জাল সংগৃহীত

ভুবন বাদ্যকরের নতুন গান, শুনে নিন!

স্যোশাল মিডিয়ায় রয়েছেন অথচ ‘কাঁচা বাদাম’ গান শোনেননি– এমন মানুষ বিরল। কারণ এই গান এখন ভাইরাল। ভুবন বাদ্যকর নামের এক অতি সাধারণ বাদাম বিক্রেতা এই কাঁচা বাদাম গান গেয়ে এখন জনপ্রিয়তার শিখরে। তাঁর ‘কাঁচা বাদাম’ গান এখন ট্রেন্ডে রয়েছে।


‘ভাইরাল’, ‘ট্রেন্ড’– এইসব শব্দগুলোর সাথে আমরা পরিচিত হয়েছি স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে। স্যোশাল মিডিয়া আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে, তার মধ্যে এই শব্দগুলো অন্যতম। ‘ভাইরাল’ কথাটির সাথে আমরা সকলেই ভীষণভাবে পরিচিত। সামাজিক মাধ্যম বা স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিভাবান ব্যাক্তিরা জনপ্রিয় হন। রাণাঘাটের রানু মন্ডল যেমন গান গেয়ে জনপ্রিয় হয়েছিলেন। ঠিক তেমনভাবেই ভুবন বাদ্যকর নামক এক বাদাম বিক্রেতা জনপ্রিয় হন কাঁচা বাদাম গানের মাধ্যমে।


বীরভূমের এক বাদাম বিক্রেতা ভুবন বাদ্যকর। ভুবন বাদ্যকর বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে কাঁচা বাদাম বিক্রি করতেন। বাদামের পরিবর্তে তিনি দিতেন ভাঁঙা মোবাইল, সিটি গোল্ডের চেন প্রভৃতি। ভুবন বাদ্যকর যে গানটি গেয়ে বাদাম বিক্রি করতেন, সেই গানটিই স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এই কাঁচা বাদাম গানটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই গানটিকে বিভিন্ন আঙ্গিকে গাইতে শুরু করেন বিভিন্ন শিল্পী। পিকনিক, অনুষ্ঠান, ইনস্টাগ্রাম রিল কোনো জায়গায় বাদ যায়নি এই গানটি। এমনকি এই কাঁচা বাদাম গানটির হিন্দি ভার্সন বের করেছিলেন বাংলাদেশের অভিনেতা হিরো আলমকে। এছাড়াও আফ্রিকার জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক ডেভিড স্কট এই গানটি গেয়ে মন জয় করে। এমনকি এই ব্যক্তি ভুবন বাদ্যকরকে নতুন কিছু গান করার জন্যও আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিভিন্ন ব্লগার, ইউটিউবাররাও ভুবন বাদ্যকরকে নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও বানাতে শুরু করেন এবং মোটা টাকা ব্লগার, ইউটিউবাররাও মোটা টাকা রোজগার করতেন। কিন্তু ভুবন বাদ্যকর পুলিশের সাহায্যে নিজের নামে কপিরাইট জোগাড় করেছেন।



তবে জনপ্রিয় যখন হয়েছেন গান গেয়ে তখন তিনি গান নিয়েই এগিয়ে যেতে চান। এই মর্মে তিনি কিছুদিন আগেই তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেছেন মিউজিক কোম্পানির সাথে। তাই নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর বাদাম বিক্রি করবেন না।


কিন্তু হঠাৎ ভুবন বাদ্যকরের দুর্ঘটনার কথা জানা যায়। তিনি নাকি গাড়ি চালাতে গিয়ে আক্রান্ত হন। তবে পরবর্তীতে সমস্ত বিপদ কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। সুস্থ হয়েই তিনি গেয়ে ফেলেছেন নতুন গান। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে তিনি হলুদ জামা, চোখে রোদচশমা দিয়ে গান গাইছেন আর তাঁর চারিদিকে বিভিন্ন লোকজন। এক্কেবারে সেলিব্রেটি। তাঁর গানের লিরিক্সের কিছুটা অংশ ছিল “আমার নতুন গাড়ি, ড্রাইভার হতে সাধ যে করি। দেওয়ালে ধাক্কা মারি, দেওয়ালে ধাক্কা মারি। বাঁচিয়েছেন আমার গৌর হরি।” ক’দিন আগেই তো দুর্ঘটনা থেকে সেরে উঠেছেন, তাই হয়তো এমন গান।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ এবং তৎক্ষণাৎ কি করা উচিত জেনে নিন!

আমরা সবাই চাই সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে। আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল হার্ট। কারণ এই হার্টের মাধ্যমেই শরীরের সমস্ত রকম অক্সিজেন যুক্ত রক্ত সরবরাহ হয়ে থাকে। এই হার্ট বিকল হয়ে গেলে আমাদের শরীরে প্রচন্ডভাবে তা প্রভাব ফেলে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। হার্টের সমস্যা দেখা দিলে সারা শরীরে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। আর এই কারণে আমাদের মৃত্যু অবধি ঘটতে পারে।


বিভিন্ন সময় দেখা যায় বহু মানুষ হার্টফেলের কারণে মারা যান। আমাদের হার্ট থেকে সরাসরি করোনীয় ধমনীর মাধ্যমে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ হয় । এবার আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভাসের ফলে যদি প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট আমাদের শরীরে জমা হতে থাকে, তাহলে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয়। যার ফলে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ হতে সমস্যা দেখা দেয়। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে বড় রকমের সমস্যা ঘটতে পারে।


হার্টফেলের কিছু লক্ষণ আছে যে লক্ষণগুলো সাহায্যে কেউ বুঝতে পারে যে কোনো মানুষের হার্ট ফেল হতে চলেছে। যেমন-
1. হার্টফেল এর সময় শুধু বুকের উপরেই নয় হাতের পিছন দিকটা অর্থাৎ পিঠের দিকে ব্যথার তৈরি হয়, যার ফলে সহজেই বোঝা যায় যে সেটি হার্টের কোন সমস্যার কারণেই হচ্ছে।
2. হার্টফেল হওয়ার আগের মুহূর্তে প্রচন্ডভাবে ঘাম হয়।
3. হার্টফেলে হওয়ার আগের মুহূর্তে প্রচন্ডভাবে মাথা ঘুরতে থাকে, যেন মনে হয় কেউ পড়ে যাবে।
4. শরীরের ভেতরে ধরপাকড় করা শুরু হয়, সাথে অস্বস্তি বোধ হতে থাকে।


এইসব উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না অনেক সময়। তাই তৎক্ষণাৎ কি করা উচিত জেনে নিন–

1. উপসর্গ রয়েছে এমন মানুষকে সবার আগে কমফোর্টভাবে রাখার ব্যবস্থা করুন।

2.আক্রান্ত যদি সামনে কোনওরকম উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার সৃষ্টি হয়, তাহলে সেই পরিস্থিতি থেকে তাকে বের করে এনে শান্ত পরিবেশে রাখা উচিত।

3. এরপর আক্রান্তের মাথা ও কাঁধে সাপোর্ট দিয়ে হালকা করে কোমর ঝুঁকিয়ে রাখতে বলুন।

4. জোরে জোরে শ্বাস প্রশ্বাস নিতে বলুন।

5. হালকা করে কোনকিছু চিবানোর মতো করে ব্যায়াম করতে বলুন।

6. রেস্ট নিতে বলুন।

7. অ্যানজিনা মেডিটেশন করতে বলতে পারেন।

8.রোগীর হাত সোজা করে রেখে বুকের মাঝখানে দু’ফাত দিয়ে জোরে জোরে ও শীঘ্রই চাপ দিতে থাকুন।

9. রোগীর মুখের ভিতরে মুখ দিয়ে ফু দিন যাতে জোরে জোরে বাতাস প্রবেশ করতে পারে। আড়াই মিনিট অন্ততঃ এমন করুন।

10. যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারকে খবর দিন। অ্যাম্বুলেন্সের নম্বরে ফোন করুন। এতে ডাক্তাররা ইসিজি, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন কতোটা বন্ধ হয়েছে বা হার্টের অবস্থান কি তা জেনে চিকিৎসা শুরু করে দিতে পারবেন। তাই এক্ষেত্রে গাফিলতি করা একেবারেই উচিত নয়।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণা রাশিয়ার

আজ সকাল ১১.৩০ থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করল রাশিয়া।

ঘরে বাইরে প্রবল চাপের মুখে সাময়িক ভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিরতি ঘোষণা করল রাশিয়া , যা কিছুটা স্বস্তি এনেছে বিশ্বে । ভারতীয় সময় সকাল ১১.৩০ মিনিট থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

একেই যুদ্ধে সাধারণ মানুষের মৃত্যু হওয়ায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন কে যুদ্ধাপরাধী ঘোষণা করে মামলা দায়ের হয়েছে আন্তর্জাতিক আদালতে। নিজের দেশেই পুতিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখচ্চেন বহু মানুষ।

এরই মধ্যে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারে সেই জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে রাশিয়া।

মারিউপোল এবং ভলনোভাখা দিয়ে হিউম্যান করিডর করে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে দেশ ছেড়ে বেরিয়ে যাওযার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রয়াত স্পিন সম্রাট

তাইল্যান্ডে আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত কিংবদন্তি লেগস্পিনার শেন ওয়ার্ন (Shane Warne)। স্পিনের 'জাদুকরের' প্রয়াণে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া।

এবার বিশ্বের সর্ববৃহৎ সোলার ট্রি বাংলায়

ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট এর মধ্যেই বিশ্বের মধ্যে সর্ববৃহৎ ” সোলার ট্রি ” স্থাপিত হলো মেদিনীপুরে ।

একটি সৌর গাছ বা সোলার ট্রি হল একটি কাঠামো যা একটি গাছের কাণ্ডের মতো একটি একক স্তম্ভে সৌর শক্তি প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করে যা থেকে কার্যকরী শক্তি উৎপাদন সম্ভব।

সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট- এর সহযোগিতায় মেদিনীপুরে , রাজা নরেন্দ্র লাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ে ১১.৫ কিলোওয়াট পিক – পাওয়ারের একটি সোলার ট্রি বসানো হয়েছে । ৩৫ থেকে ৪৫ ইউনিট , ” গ্রীন এন্ড ক্লিন এনার্জি ” উৎপাদন করতে পারা এই সোলার ট্রি -টিতে ৩৩০ ওয়ার্ড পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ৩৫ টি সোলার প্যানেল রয়েছে ।

এই ‘ সোলার ট্রি ‘ টি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ মহাবিদ্যালয় এর চাহিদাকে আংশিকভাবে মেটাতে সক্ষম বলে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জয়শ্রী লাহা দাবি করেছেন । সেই সঙ্গেই তিনি জানান , চাহিদার থেকে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে তা পাওয়ার গ্রিডে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব । জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় এই ” সোলার ট্রি ” টি ১০ থেকে ১২ টন কম পরিমাণে কার্বন ডাই – অক্সাইড নির্গমন করে পরিবেশের সহায়ক হবে।

সিএসআইআর দুর্গাপুরের অধিকর্তা ড . হরিশ হিরানী জানান , বিশ্বের মধ্যে সর্ববৃহৎ ” সোলার ট্রি ” এটি ।

2016 সালে, দুর্গাপুরে অবস্থিত CSIR- সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট , দেশে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির অংশ বাড়িয়ে বিদ্যুতের সংকট পূরণের জন্য জাতীয় মহাসড়ক এবং প্রচলিত পাওয়ার গ্রিড সিস্টেমের পাশাপাশি গ্রামে সৌর বিদ্যুৎ কে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য সোলার ট্রির আরেকটি মডেল উদ্ভাবন করে। এই ধরনের সৌর কাঠামো 2×2 বর্গফুট জায়গার 3-7 Kwh তে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। এই সৌর গাছগুলি ইতিমধ্যেই CSIR ক্যাম্পাসে, সিএসআইআর-এর সদর দফতর এবং ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর আবাসিক ক্যাম্পাসে বসানো হয়েছে এবং সেগুলি কাজও করছে । CSIR-CMERI-এর গবেষকরাও পাবলিক পার্ক, বাগান, বাজার ইত্যাদির স্থানে প্রয়োজন অনুসারে সৌর গাছ বসানোর কাজ করছেন।

দুর্গাপুর CSIR ক্যাম্পাস চিত্র: উইকিপিডিয়া

শততম টেস্ট ম্যাচে বিরাট কোহলি! টেস্ট ম্যাচের ৮০০০ রান পূরণ করলেন!

বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট টিমের পিলারদের মধ্যে অন্যতম বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। বরাবরই তিনি খবরের শিরোনামে থাকেন। তবে কিছুদিন ধরে বিরাট কোহলি বিশেষভাবে চর্চায় রয়েছে। কারণ তাঁর ঐতিহাসিক ১০০ তম টেস্ট ম্যাচ ( 100th test)। বিরাট কোহলি আজ ১০০ তম টেস্ট ম্যাচ খেলতে গেছেন। এই ১০০ তম টেস্ট ম্যাচে শতরান করতে পারলেন কি?


খেলা মানেই তো জয়, পরাজয় দুটোই রয়েছে। একজন যেমন রোজ হারতে পারে না, তেমনই কেউ রোজ হারতেও পারে না। আর জয়-পরাজয় তো একে অপরের পরিপূরক। বিরাট কোহলিও বহু ম্যাচ হেরেছেন, আবার বহু ম্যাচে তিনি নিশ্চিত করেছেন ভারত বিজয়। কিন্তু বিরাট কোহলির মতো একজন যোগ্য ক্রিকেটার, অধিনায়কের থেকে শত রান আশা করাই যায়। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করেছিল কোহলি তাঁর ১০০ তম ক্রিকেট ম্যাচে শত রান করবেনই। কিন্তু না, সেগুড়ে বালি। শতরান তো দূরে থাক, হাফসেঞ্চুরি থেকেও পাঁচ রান দূরেই থমকালো বিরাটের ইনিংস।


ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা (Ind vs SL) প্রথম টেস্ট ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বিরাট কোহলির সর্বমোট (Virat Kohli) স্কোর ৪৫। টসে জিতে প্রথম ব্যাট নেয় ভারত। টসে জিতে ক্যাপ্টেন রোহিত ম্যাচ শুরু করেন। বিরাট কোহলির সময় এলে তিনি বেশ ভালোই খেলছিলেন। তবে শতরান হয়নি। তিনি ৭৬ বলে ৪৫ রান করেন৷ প্রথম ম্যাচে শতরান না করায় মনখারাপ ক্রিকেটপ্রেমী ও বিরাটের ভক্তদের। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে পরিস্থিতি কতটা সামাল দেন কোহলি সেটাই দেখার।


বিরাট কোহলির শততম ম্যাচে শতরান না করতে পারলেও তিনি তাঁর ক্রিকেট জীবনে টেস্ট ম্যাচে মোট ৮০০০ রানের মাইল ফলক অতিক্রম করলেন। কোহলির শততম টেস্ট ম্যাচের জন্য বিসিসিআই তাঁকে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করলো। রাহুল দ্রাবিড় কোহলির হাতে ট্রফি তুলে কোহলির ভূয়সী প্রসংশা করেন। এইদিন কোহলির সম্বর্ধনা জ্ঞাপনের সময় তাঁর পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা। এবারে শতরান না করতে পারলেও, বিরাট ভক্তরা এখনও আশাবাদী।