গ্রামে বেকারত্ব কিছুটা কমলেও আগের মতোই শহরে তা যথেষ্ট বেশি। সূচকে পশ্চিমবঙ্গের স্থান দেশে সপ্তম , শেষে হরিয়ানা ।জানুয়ারি মাসের রিপোর্ট প্রকাশ করে জানাল CMIE

করোনা র তৃতীয় ঢেউ মাথা নামাতে শুরু করেছে, যার ফলে বেশিরভাগ রাজ্য কোভিড সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড জোরকদমে শুরু করার প্রতি জোর দিয়েছে। ফলে সারা দেশে বেকারত্বের হার কিছুটা হলেও কমেছে বলে দাবি করলো সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি (CMIE) র রিপোর্ট। রিপোর্ট এ জানান হয়েছে , ডিসেম্বরের 7.91% থেকে কমে জানুয়ারি মাসে দেশে বেকারত্ব হার হয়েছে 6.57% । তবে চিন্তার বিষয় যে গ্রামাঞ্চলে এই হার (5.84%) কমলেও শহরে তা (8.16%) যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
তবে দেশে বেকারত্বে মাথা চাড়া দিয়েছিল অনেক আগেই, করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন এর কারণে তা আরো বেড়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ বিশেষত যুবকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।সম্প্রতি বিহার , উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন স্থানে রেলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে চাকরিপ্রার্থীরা। এ সবই চরম বেকারত্বের প্রতিচ্ছবি। মানুষের হাতে কাজ না থাকলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতি বিঘ্নিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম জি রাজন সহ একাধিক অর্থনীতিবিদ।
এই পরিস্থিতিতে সংসদে সদ্য 2022 -23 অর্থ বর্ষের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারামন। কিন্তু বেকারত্ব দূর করার জন্য বাজেটে কোনো পরিকল্পনা না থাকায় হতাশ অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এমনকি দরিদ্র মানুষের হাতে সরাসরি টাকা তুলে দেওয়ার জন্য যে একশ দিনের প্রকল্প রয়েছে, সেখানেও বরাদ্দ কমানো হয়েছে বাজেটে। সরকার গুরুত্ব দিয়েছে মূলধনী খাতে খরচ বাড়িয়ে কাজ তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় । এতে হয়তো দীর্ঘ মেয়াদে লাভ হবে,কিন্তু তাৎক্ষণিক লাভ হবে না বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞগন।
CMIE এর রিপোর্টে জানানো হয়েছে জানুয়ারি মাসে পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্ব হার ছিল 6.4% , যা জাতীয় গড়ের চেয়ে কম। বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম ছিল তেলেঙ্গানায়( 0.7%)। এরপর রয়েছে গুজরাট(1.2%) ,মেঘালয়(1.5%), ওড়িশা(1.8%) । হরিয়ানার(23. 4%) বেকারত্ব হার সবচেয়ে বেশি । দিল্লি, বিহার , ত্রিপুরা, রাজস্থানের বেকারত্ব হার এখানো দুই অঙ্কের ঘরে রয়েছে।
বেকারত্বের হার যে উর্ধমুখী ,তা বোঝা গিয়েছিল 2019 সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে NSO এর রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে যাওয়ায়। 2017-18 অর্থবছরে বেকারত্ব হার (6.1%) চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছে গিয়েছিল।করোনা পরিস্থিতি যে তাকে আরো গতি বাড়াতে সাহায্য করেছে , CMIE এর রিপোর্টেই সেটি প্রকাশিত।
