বর্তমানে করোনার (Corona) তৃতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে বিশ্ববাসী। তবে পুনরায় কি নতুনভাবে আসতে চলেছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট? নতুন ভ্যারিয়েন্ট কি শক্তিশালী হবে ? এই মুহূর্তে এইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় সমগ্র বিশ্ববাসী। এরই মধ্যে কানপুর আইআইটির (Kanpur IIT) গবেষকরা চতুর্থ ঢেউয়ের আগাম সতর্কবাণী শোনালেন।
২০২০ সালে যখন ভারতে প্রথম করোনার ঢেউ আছড়ে পরে, তখন প্রথম দিকে মানুষ এই বিষয়ে গুরুত্ব না দিলেও পরে বুঝতে পেরেছিল করোনা সংক্রমণের কি ফল হতে পারে। সরকারি নিয়মনীতি, গৃহবন্দী দশা সবকিছু পেরিয়ে যখন মানুষ কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে যাবে, তখনই পুণরায় আছড়ে পরলো করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। তাও দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব সামলে ২০২১ সালের প্রায় শেষ দিক থেকে যখন সবাই আবার নতুন করে প্রাণ খুলে বাঁচার চেষ্টা শুরু করলো, তখন আবার নয়া স্ট্রেন ওমিক্রণের দাপট শুরু হয়েছিল। তবে বর্তমানে ওমিক্রণের দ্রুত সম্প্রসারণ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু আবারও আসতে চলেছে করোনার চতুর্থ ভ্যারিয়েন্ট।
গবেষকরা আগেই জানিয়েছিলেন আলফা, বিটা, গামা এবং ডেল্টার পর করোনার আরও একটি নয়া প্রজাতি সামনে আসতে পারে। এর ভয়াবহতা কতটা হবে তা এই মুহূর্তে তেমনভাবে বলা না গেলেও নয়া প্রজাতির প্রভাব অন্ততঃ চার মাস থাকতে পারে। তবে নতুন রূপটি বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ নাও করতে পারে। আসলে এই চতুর্থ কোভিড ঢেউয়ের তীব্রতা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করবে নতুন রূপের আবির্ভাব এবং টিকার ওপর।
করোনার নতুন প্রজাতির সাথে মোকাবিলা করার জন্য টিকাকরণ ও বুস্টার ডোজের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। গতবছর জানুয়ারি মাসে টিকাকরণ পক্রিয়া শুরু হয়েছিল। প্রথমে স্বাস্থ্য কর্মী ও জরুরি পরিষেবার সাথে যুক্ত ব্যাক্তিদের এবং পরবর্তীতে ষাটোর্ধ্ব ব্যাক্তি থেকে শুরু করে বয়সের ক্রম অনুযায়ী টিকাকরণ পক্রিয়া শুরু হয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারতে মোট ১৭৭.৬৭ কোটিরও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও সম্প্রতি বুস্টার ডোজ দেওয়াও শুরু হয়েছে। তবে এখনও বিশ্বের বহু দেশের বহু মানুষের সম্পূর্ণ টীকাকরণ হয়নি। ফলে তাদের যাতে দ্রুত টিকাকরণ পক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যায় সেই বিষয়ে নজর দিচ্ছে ভারত সরকার। কারণ টিকাকরণ সম্পূর্ণ না হলে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের সাথে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
