“আমি কখনই হিজাব বা বোরখা পরার পক্ষে নই। কিন্তু…” কি বললেন জাভেদ আখতার

এবার দেশজোড়া হিজাব বিতর্কে সরব বর্ষীয়ান গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার(Javed Akhtar)। সোশ্যাল মিডিয়ায় এদিন নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি যা বললেন..

জাভেদ আখতার

নিজস্ব প্রতিবেদন: কর্ণাটক তথা দেশজোড়া হিজাব বিতর্কে (Hijab Row)এবার সরব হলেন প্রখ্যাত বর্ষীয়ান গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার (Javed Akhtar)। সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। কয়েকদিন ধরেই হিজাব বিতর্কে উত্তাল গোটা দেশ। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয় একটি ভিডিও। ভিডিও টিতে দেখা যাচ্ছে , কর্ণাটকের উদপির পিই কলেজে হিজাব পরা ছাত্রীকে দেখে গেরুয়া উত্তরীয় পরা একদল যুবক নাগাড়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিতে থাকে। তাতে পিছু না হটে পালটা এগিয়ে আসেন ওই ছাত্রী। চোয়াল শক্ত করে পালটা ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে থাকে সে। প্রতিবাদী ওই ছাত্রীর নাম মুসকান।

বৃহস্পতিবার জাভেদ আখতার তাঁর টুইটে লেখেন, ‘আমি কখনই হিজাব বা বোরখা পরার পক্ষে ছিলাম না। আমি এখনও এর পক্ষে নই ।কিন্তু একইসঙ্গে একদল গুন্ডা যারা, একটি মেয়েকে হিজাব পরার জন্য ভয় দেখানোর চেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হয়, তাদের জন্য ধিক্কার। এটাই কী তাদের কাছে পুরুষত্বের ধারণা?’ জাভেদ  আখতারের পাশাপাশি হিজাব বিতর্কে সরব হয়েছেন স্বরা ভাস্কর থেকে হেমা মালিনী। 

ছবি সৌজন্যে – টুইটার

পাশাপাশি হিজাব বিতর্কে মুখ খুলেছেন নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। তিনিও এই ঘটনার নিন্দা করে বলেছেন,”কলেজ আমাদের শিক্ষা আর হিজাব এর মধ্যে যে কোনো একটি কে বেছে নিতে বাধ্য করছে। হিজাব পরে মেয়েদের স্কুলে যেতে বাধা দেওয়া ভয়াবহ বিষয়। মহিলারা কম পোশাক পরুন বা বেশি, তাদের এখনো পণ্য বলে ভাবা হয়। ভারতীয় রাজনীতিকদের উচিত মুসলিম মহিলাদের কোনঠাসা করা বন্ধ করা।” (Karnataka Hijab Row)

হিজাব কাণ্ডে মুখ খুলে ওই ছাত্রী এক জাতীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমি ভয় পাইনি। কলেজে ঢোকার সময় আমি বোরখা পরা দেখে তারা আমাকে ঢুকতে দিতে চাইছিল না। তারা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকলে আমি ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে শুরু করি। কলেজের অধ্যক্ষও আমাকে সমর্থন করেছেন এবং আমাকে সুরক্ষা দিয়েছেন।”

প্রসঙ্গত, 2021 সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই বিজেপি (BJP) শাসিত কর্ণাটকের কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাবে পরা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে তা চরমে পৌঁছেছে,যার রেশ পৌঁছেছে মধ্যপ্রদেশেও ।ফলে দেশে তো বটেই , মুখ খুলতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

2022 OSCARS : ‘The Power of the Dog’, ‘Dune’, ‘West Side Story’ lead nominations ; ‘Writing With Fire’ nominated for Best Documentary

‘The Power of the Dog’, ‘Dune’, ‘West Side Story’ lead nominations ; ‘Writing With Fire’ nominated for Best Documentary for oscar 22

 The Power of the Dog‘, ‘Dune‘, ‘West Side Story‘ took the lead, securing nominations in almost all major categories including Best Film and Best Director.

In the acting categories, Kristen Stewart won her first Oscar nod for Best Actress in a lead role for ‘Spencer , she will go up against Olivia Colman, Nicole Kidman, Jessica Chastain and Penelope Cruz.

The nominees for Best Actor in the lead role include Javier Bardem, Benedict Cumberbatch, Andrew Garfield and Will Smith.

The ten films in the running for Best Picture include ‘Belfast‘, ‘CODA’, ‘Don’t Look Up’, ‘Drive My Car’, ‘Dune’, ‘King Richard‘, ‘Licorice Pizza’, ‘Nightmare Alley’, ‘The Power of the Dog’ and ‘West Side Story’.

Although the Tamil film ‘Jai Bhim‘ didn’t secure a nod, Indian documentary feature ‘Writing With Fire‘ earned a nod in the Best Documentary Feature category. The documentary directed by Rintu Thomas and Sushmit Ghosh.

Writing with Fire tells the story of Khabar Lahariya, the only news agency in India run by Dalit (oppressed-caste) women. Armed with smartphones, these women journalists report from some of the most difficult regions of the country, risking everything to speak truth to power. Led by Chief Reporter Meera and her feisty understudy, crime reporter Suneeta, the film bears witness to wit, intelligence and compassion of these journalists in confronting the most urgent stories of our times.

Set in the backdrop of an increasingly polarized world, Writing with Fire journeys with Meera and her band of sisters for five years – as they break traditions on the frontlines of India’s biggest issues and within the confines of their homes, redefining what it truly means to be powerful.

৮৫কোটির সম্পদ মিলল বাড়ির অব্যাবহৃত বাতিল জিনিসের স্তূপে

আমরা তো অনেকেই বাড়ির পুরনো অব্যবহৃত জিনিস বাতিল জঞ্জাল হিসেবে ফেলে দিই কিংবা সেসবের মধ্যে যেগুলি বিক্রয়যোগ্য, তা বিক্রি করে দিই। কিন্তু অনেক সময়ই খেয়াল করিনা ,সেই বাতিল জিনিস বলে যা আবর্জনার স্তূপে যাচ্ছে, তার মধ্যেই রয়ে যায় অমূল্য সম্পদ এমনকি অতি বিরল সম্পদও।

একদা বাড়ির বাতিল জঞ্জাল হিসেবে মাত্র ৩০ মার্কিন ডলারে (প্রায় ২ হাজার ৫৫০ টাকা) বিক্রি হয়ে গিয়েছিল একটি ছবি। পরে জানা যায়, চিত্রকর্মটির মূল্য নাকি ১ কোটি ডলার! ভারতীয় মুদ্রায় যার দাম ৮৫ কোটি টাকারও বেশি!

কেন চিত্রকর্মটির এতো দাম? বলা হচ্ছে, সেটি নাকি এঁকেছিলেন এক জার্মান চিত্রশিল্পী যার নাম আলব্রেখট ড্যুরার (Albrecht Durer)। ১৫২৮ সালে মৃত্যু হয় তার। জার্মান রেনেসাঁ যুগের সবচেয়ে খ্যাতনামা শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের একজন হিসেবেই গণ্য করা হয়ে থাকে তাকে। পাশাপাশি সেই সময়ের শ্রেষ্ঠ জার্মান শিল্পীর খেতাবও পেয়েছিলেন তিনি। এমন একজন শিল্পীর নতুন কোনো কাজ এভাবে সামনে আসাটা সত্যিই খুব আশ্চর্যের , একই সঙ্গে রোমাঞ্চকরও।

ড্যুরারের আঁকা চিত্রকর্মটির নাম ‘দ্য ভার্জিন অ্যান্ড চাইল্ড ’ (The Virjin and Child)। সেটি ১৫০৩ সালে আঁকা শেষ হয়েছিল।চিত্র টীতে দেখা যাচ্ছে , কোনো এক যুবতী একটি শিশুকে কোলে নিয়ে বসে আছেন । চিত্রকর্মটি রাখা আছে লন্ডনের ‘অ্যাগনিউস গ্যালারি’ নামের এক নিলামকারী প্রতিষ্ঠানে। এই গ্যালারির একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্লিফোর্ড শোরার (Clifford shorar) । পেশায় তিনি এক শিল্প-সংগ্রাহক।

‘দ্য ভার্জিন অ্যান্ড চাইল্ড

ক্লিফোর্ড শোরার এই ‘দ্য ভার্জিন অ্যান্ড চাইল্ড’ প্রসঙ্গে বলেন, ২০১৯ সালে ম্যাসাচুসেটসে একটি পার্টিতে যাচ্ছিলেন তিনি। সঙ্গে উপহার নিতে ভুলে যান তিনি। অগত্যা উপহার কিনতে তাকে ছুটতে হয় এক বইয়ের দোকানে। দোকানি তাকে জানান, তার এক বন্ধুর কাছে ড্যুরারের একটি চিত্রকর্ম আছে। উপহার হিসেবে সেটিও কিনতে পারেন শোরার। শুনেই সেখানে ছোটেন শোরার। বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব উত্তেজিতও ছিলেন। কারণ, ড্যুরারের অজানা কোনো চিত্রকর্মের সন্ধান সর্বশেষ মিলেছিল ১০০ বছরের বেশি আগে! ফলে শোরারের মনে হচ্ছিল, সত্যিই কি ড্যুরারের ছবি আর পাওয়া সম্ভব?

কিন্তু ওই ব্যক্তির কাছে পৌঁছে চমকে যান শোরার। চিত্রকর্মটি দেখেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, সেটি আসল এবং সেই ড্যুরারের আঁকা ছবি।

আলব্রেখট ড্যুরার

কিন্তু শুধু চিনলেই তো হবে না। এটা যে আসল, তা প্রমাণও করতে হবে। ফলে চিত্রকর্মটি যে ড্যুরারের আঁকা, খাতায়-কলমে তা প্রমাণ করতে তিন বছর ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলল। শেষমেশ প্রমাণ হল, চিত্রকর্মটি আসল। এবং সবকিছুর পরে শোরারের বিশ্বাস, নিলামে তোলা হলে চিত্রকর্মটির দাম ১ কোটি ডলারও ছাড়িয়ে যাবে।

তবে শোরার এটি জেনে সেদিনই, সেই উপহার কেনবার দিনেই আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন যে, চিত্রকর্মটি নাকি ২০১৭ সালে কেনা হয়েছিল একটি বাড়ির বাতিল জিনিসপত্র হিসেবে! দাম? মাত্র ৩০ ডলার!

আপনিও আপনার বাড়ির বাতিল জিনিস ,যা বহুদিনের পুরোনো , ফেলে দেওয়ার আগে একবার পরখ করে দেখে নিতে পারেন। হয়তো তার মধ্যেই আপনার অজান্তেই এমনই কোনো মূল্যবান সম্পদ লুকিয়ে আছে।

লতার প্রয়াণে শোকের ছায়া ক্রিকেট জগতেও ! আবেগি টুইট বাবর-রামিজ-দ্বিমুথদের

সাধারণত শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতি-ক্রীড়ার জগতে গুরুত্বপূর্ণ কেউ প্রয়াত হলে বিষয়টিকে ১০০ বারের মধ্যে ৯৯ বারই ‘একটি যুগের অবসান’  বলে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। প্রয়াতকে বিরল বিপুল সম্মান জানানোর জন্যই এটা করা হয়। কিন্তু লতা মঙ্গেশকরের ক্ষেত্রে সম্ভবত এই অতি চেনা লব্জ বড় ম্যাড়মেড়ে দেখাবে। কেননা লতার মঙ্গেশকর এর প্রয়াণে তো একটি নয়, ভারতীয় সংস্কৃতিজগতের একাধিক যুগের অবসান ঘটল। যাতে ভেঙে গেল দেশ-কাল-সীমানার গন্ডী, জিতে গেল ভালবাসা আর সুরের জাদু।

সঙ্গীত শিল্পীর পরিচয় শুধুই সঙ্গীত শিল্পী। লতা মঙ্গেশকর (Lata Mangeshkar) দেশ কাল সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে তিনিও অবিস্মরণীয়। তাঁর গানের মধ্যে দিয়েই তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন মানুষের মনে। আর কে না জানে তিনি ছিলেন গভীর ক্রিকেটানুরাগী । কিংবদন্তির প্রয়াণে দেশ-বিদেশ থেকে শোকবার্তা এসেই চলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিশ্ব ক্রিকেট জগৎ থেকেও এসেছে শোক বার্তা। এমনটাই তো স্বাভাবিক। ভারতীয় সুরসম্রাজ্ঞী প্রকৃত অর্থেই ছিলেন ‘কালচারাল আইকন’। লতার প্রয়াণে শোকের ছায়া পাকিস্তানেও। টুইট করে শোকবার্তা জ্ঞাপন করলেন পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন বাবর আজম (Babar Azam) ও পিসিবি প্রধান রামিজ রাজা (Ramiz Raza)।

রবিবার পাকিস্থানী ব্যাটার বাবর আজম টুইটারে লিখলেন, “সোনালী যুগের সমাপ্তি। ওঁর ম্যাজিকের মতো কণ্ঠস্বর থেকে যাবে বিশ্বব্যপী লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে। অতুলনীয় আইকন! শ্রীমতি লতা মঙ্গেশকরজি-র আত্মার শান্তি কামনা করি।” রামিজ রাজা লেখেন, “লতা মঙ্গেশকর ছিলেন সৌষ্ঠবের প্রতীক, তাঁর নম্রতা, সারল্যই তাঁকে মহৎ বানিয়েছে। সকেলর জন্য যা শিক্ষণীয়। কিশোর কুমারের পর এবার লতা মঙ্গেশকর চলে গেলেন। আমার সঙ্গীতের ভালবাসা ভেঙে গেল!”

শুধু পাকিস্তান নয়, শ্রীলঙ্কার দিমুথ করুণারত্নে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন ক্রিকেটার ড্যারেন গঙ্গাও টুইট করে শোক প্রকাশ করেছেন। ৯২ বছর বয়সে না-ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন ‘ ভারতের কোকিলকন্ঠী’।

রবিবার সকাল ৮.১২ মিনিটে প্রয়াত হন লতা । তাঁর প্রয়াণে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পশ্চিমবঙ্গেও আগামী কাল অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শোকের আবহে গোটা দেশ সহ বিশ্বের অসংখ্য লতা অনুরাগী ।

এদিন ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক দিবসীয় ক্রিকেট ম্যাচের আগে ভারতীয় দল লতা মঙ্গেশকর এর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করে। এছাড়াও ভারতীয় দলের সদস্যরা হাতে কালো ব্যান্ড বেঁধে এদিন খেলতে নেমেছিল।

আবারও অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় ভারতের, এই নিয়ে পঞ্চম বার

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হল ভারতীয় দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজে আয়োজিত ২০২২ আইসিসি -১৯ যুববিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে এই নিয়ে পঞ্চমবার এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হল ভারত।

অ্যান্টিগুয়ার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে চার উইকেটে পরাজিত করল যশ ধুলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল । ফাইনাল ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের নায়ক রাজ বাওয়া।

প্রথমে ব্যাট করে ভারতের সামনে ১৯০ রানের লক্ষ্যমাত্রা রাখে ইংল্যান্ড। দু’শোর ও কম লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে খুব বেশি সমস্যা হয়নি ভারতীয় যুবদলের। ৬ উইকেট হারিয়ে ২.২ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় টিম ইন্ডিয়া।

শুরুটা যদিও প্রত্যাশা মতো হয়নি ভারতীয় ইনিংসের। দ্বিতীয় বলেই ওপেনার অঙ্গকৃষ রঘুবংশী ০ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান, অপর ওপেনার হার্নুর সিং করেন ২১ রান। দুই ওপেনার তাড়াতাড়ি প্যাভিলিয়নে ফিরলেও তার কোনও প্রভাব দলের উপর পড়তে দেননি শেখ রশিদ, নিশান্ত সিন্ধুরা।

শেষ চারের ফর্ম বজায় রেখে এদিন ফাইনালেও ভাল ছন্দে পাওয়া গিয়েছে রশিদকে। এ দিন গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চাশ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। রশিদ ছাড়াও বড় রান পেয়েছেন নিশান্ত সিন্ধু। তাঁর ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৫০ রানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। বল হাতে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন রাজ বাওয়া (৩৫)। মূলত নিশান্ত এবং রাজের কারণে আকস্মিক তৈরি হওয়া বিপদ থেকে এই ম্যাচে বেরিয়ে আসতে প জেমস সেলসের ওভারে পর পর দুই সেট ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া ভারতীয় দলকে ম্যাচে ফেরায় রাজ এবং নিশান্তের জুটি।

ইংল্যান্ডের হয়ে দু’টি করে উইকেট পেয়েছেন জসুয়া বয়ডেন, জেমস সেলস এবং থমাস আসপিনওয়াল।

শনিবার বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটে বিশ্ব খেতাব জয়ের লক্ষ্যে প্রথমে টসে জিতে অ্যাডভান্টেজ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ব্যাটিং সহায়ক উইকেটের সুবিধা নিতে পারেনি তরুণ ইংরেজদের নিয়ে তৈরি দলটি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যান জো রুট-জিমি অ্যান্ডারসনদের উত্তসূরিরা।

এ দিন মূলত ভারতীয় পেস বোলিংয়ের সামনে রুখে দাঁড়াতে পারেননি ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। শোচনীয় আত্ম সমর্পণ করতে হয় ভারতীয় পেস ব্যাটারির সামনে। বাংলার পেসার রবি কুমার এবং রাজের যুগলবন্দীর সামনে ইংল্যান্ডের জেমস রিউ ছাড়া কোনও ক্রিকেটারই টিকতে পারেননি। ৪৪.৫ ওভারে ১৮৯ রানে শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস। তবে, এই ইনিংস আরও আগেই গুটিয়ে ফেলতে পারত ভারত। একটা সময়ে ৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ভেন্টিলেশনে চলে গিয়েছিল ইংল্যান্ড।

ঠাকুরদা প্রাক্তন অলিম্পিয়ান, ১২ নম্বর জার্সিধারী রাজ বাওয়া -র উত্থান চমকপ্রদ ।ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে পাঁচটি উইকেট সংগ্রহ করেন হিমাচল প্রদেশের এই রাজ বাওয়া। শুধু রাজ একাই নন, ভারতকে পঞ্চমবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের দিকে এগিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন বাংলার রবি কুমার। চারটি উইকেট নিয়েছেন রবি। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনে ধসের সূচনা হয়েছিল রবির মধ্যে দিয়েই। অবশিষ্ট একটি উইকেট নিয়েছেন কুশল তাম্বে।

একটা সময়ে ইংল্যান্ডের রান দাঁড়িয়েছিল ৯৭/৭। পঞ্চাশ রান তুলতেই অর্ধেক ব্যাটিং লাইন প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের। এই অবস্থায় অতি বড় ইংরেজও হয়তো মনে করেননি দল ১৫০ রানের গণ্ডি টপকাতে পারবে। কিন্তু এই অবস্থাতেও ইংল্যান্ডের ইনিংস সম্মানজনক পর্যায়ে পৌঁছতে পেরেছে এক মাত্র জেমসের (৯৫) কারণে। জেমস রিউ ছাড়া ইংল্যান্ডের ইনিংসকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন জেমস সেলস। লোয়ার অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ ৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সেলস। এই দুই জেমসের কারণেই ভারতের সামনে ১৯০ রানের টার্গেটও রাখতে পারত না ইংল্যান্ড।

বিশ্বজয়ী পাঁচ ভারত যুব অধিনায়ক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ জয়ের ফলে পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে এই খেতাব জিতলেন যশ ধুল। এর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন মহম্মদ কইফ (২০০০), বিরাট কোহলি (২০০৮), উন্মুক্ত চাঁদ (২০১২) এবং পৃথ্বী শ (২০১৮)।

কোকিলকণ্ঠীর জগতান্তর

প্রয়াত ভারতরত্ন সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর

ভারতে উদ্বেগজনক শহুরে বেকারত্ব , সাতে বাংলা , রিপোর্ট প্রকাশ CMIE এর

গ্রামে বেকারত্ব কিছুটা কমলেও আগের মতোই শহরে তা যথেষ্ট বেশি। সূচকে পশ্চিমবঙ্গের স্থান দেশে সপ্তম , শেষে হরিয়ানা ।জানুয়ারি মাসের রিপোর্ট প্রকাশ করে জানাল CMIE

প্রতীকী ছবি

করোনা র তৃতীয় ঢেউ মাথা নামাতে শুরু করেছে, যার ফলে বেশিরভাগ রাজ্য কোভিড সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড জোরকদমে শুরু করার প্রতি জোর দিয়েছে। ফলে সারা দেশে বেকারত্বের হার কিছুটা হলেও কমেছে বলে দাবি করলো সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি (CMIE) র রিপোর্ট। রিপোর্ট এ জানান হয়েছে , ডিসেম্বরের 7.91% থেকে কমে জানুয়ারি মাসে দেশে বেকারত্ব হার হয়েছে 6.57% । তবে চিন্তার বিষয় যে গ্রামাঞ্চলে এই হার (5.84%) কমলেও শহরে তা (8.16%) যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

তবে দেশে বেকারত্বে মাথা চাড়া দিয়েছিল অনেক আগেই, করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন এর কারণে তা আরো বেড়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ বিশেষত যুবকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।সম্প্রতি বিহার , উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন স্থানে রেলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে চাকরিপ্রার্থীরা। এ সবই চরম বেকারত্বের প্রতিচ্ছবি। মানুষের হাতে কাজ না থাকলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতি বিঘ্নিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম জি রাজন সহ একাধিক অর্থনীতিবিদ।

এই পরিস্থিতিতে সংসদে সদ্য 2022 -23 অর্থ বর্ষের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারামন। কিন্তু বেকারত্ব দূর করার জন্য বাজেটে কোনো পরিকল্পনা না থাকায় হতাশ অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এমনকি দরিদ্র মানুষের হাতে সরাসরি টাকা তুলে দেওয়ার জন্য যে একশ দিনের প্রকল্প রয়েছে, সেখানেও বরাদ্দ কমানো হয়েছে বাজেটে। সরকার গুরুত্ব দিয়েছে মূলধনী খাতে খরচ বাড়িয়ে কাজ তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় । এতে হয়তো দীর্ঘ মেয়াদে লাভ হবে,কিন্তু তাৎক্ষণিক লাভ হবে না বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞগন।

CMIE এর রিপোর্টে জানানো হয়েছে জানুয়ারি মাসে পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্ব হার ছিল 6.4% , যা জাতীয় গড়ের চেয়ে কম। বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম ছিল তেলেঙ্গানায়( 0.7%)। এরপর রয়েছে গুজরাট(1.2%) ,মেঘালয়(1.5%), ওড়িশা(1.8%) । হরিয়ানার(23. 4%) বেকারত্ব হার সবচেয়ে বেশি । দিল্লি, বিহার , ত্রিপুরা, রাজস্থানের বেকারত্ব হার এখানো দুই অঙ্কের ঘরে রয়েছে।

বেকারত্বের হার যে উর্ধমুখী ,তা বোঝা গিয়েছিল 2019 সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে NSO এর রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে যাওয়ায়। 2017-18 অর্থবছরে বেকারত্ব হার (6.1%) চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছে গিয়েছিল।করোনা পরিস্থিতি যে তাকে আরো গতি বাড়াতে সাহায্য করেছে , CMIE এর রিপোর্টেই সেটি প্রকাশিত।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল (Bermuda Triangle) রহস্যের সন্ধানে

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল যা শয়তানের ত্রিভুজ  নামেও পরিচিত, আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিশেষ অঞ্চল, যেখানে বেশ কিছু জাহাজ ও উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হয়। অনেকে মনে করেন ঐ সকল অন্তর্ধানের কারণ নিছক দুর্ঘটনা, যার কারণ হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা চালকের অসাবধানতা। আবার চলতি উপকথা অনুসারে এসবের পেছনে দায়ী হল কোন অতিপ্রাকৃতিক শক্তির উপস্থিতি। তবে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে যে, যেসব দুর্ঘটনার উপর ভিত্তি করে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলকে চিহ্নিত করা হয়েছে তার বেশ কিছু ভুল, কিছু লেখক দ্বারা অতিরঞ্জিত হয়েছে এমনকি কিছু দুর্ঘটনার সাথে অন্যান্য অঞ্চলের দুর্ঘটনার কোনই পার্থক্য নেই।

ত্রিভুজের বিস্তৃতি :

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন লেখকের বর্ণনায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের বিস্তৃতিতে পার্থক্য রয়েছে। এই ত্রিভূজের উপর দিয়ে মেক্সিকো উপসাগর থেকে উষ্ণ সমুদ্র স্রোত বয়ে গেছে। এই তীব্র গতির স্রোতই মূলত অধিকাংশ অন্তর্ধানের কারণ। এখানে কখনও হঠাৎ করে ঝড় ওঠে আবার থেমেও যায়, গ্রীষ্মে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। বিংশ শতাব্দীতে টেলিযোগাযোগ, রাডার ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি পৌঁছানোর আগে এমন অঞ্চলে জাহাজডুবি খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা। এই অঞ্চল বিশ্বের ভারী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকারী পথগুলোর অন্যতম। জাহাজগুলো আমেরিকাইউরোপ ও  ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে যাতায়াত করে। এছাড়া এটি হল প্রচুর প্রমোদতরীর বিচরণ ক্ষেত্র। এ অঞ্চলের আকাশপথে বিভিন্ন রুটে বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত বিমান চলাচল করে। ত্রিভূজের বিস্তৃতির বর্ণনায় বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন মত দিয়েছেন। কেউ মনে করেন এর আকার ট্রাপিজয়েডের মত, যা ছড়িয়ে আছে ফ্লোরিডাবাহামা এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ এবং ইশোর পূর্বদিকের আটলান্টিক অঞ্চল জুড়ে, আবার কেউ কেউ এগুলোর সাথে মেক্সিকো উপসাগরকেও যুক্ত করেন। তবে সাধারণ ভাবে যে অঞ্চলের ছবি ফুটে ওঠে তাতে রয়েছে ফ্লোরিডার আটলান্টিক উপকূল, পুয়ের্তো রিকো, মধ্য আটলান্টিকে বারমুডার দ্বীপপুঞ্জ এবং বাহামা ও ফ্লোরিডা স্ট্রেইটস এর দক্ষিণ সীমানা যেখান ঘটেছে অধিকাংশ দূর্ঘটনা।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল

ত্রিভূজ এর ইতিহাস :

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল বিষয়ে যারা লিখেছেন তাদের মতে ক্রিস্টোফার কলম্বাস সর্বপ্রথম এই ত্রিভুজ বিষয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা লিখেন। তিনি লিখেছিলেন যে তার জাহাজের নাবিকেরা এ অঞ্চলের দিগন্তে আলোর নাচানাচি, আকাশে ধোঁয়া দেখেছেন। এছাড়া তিনি এখানে কম্পাসের ভুল দিক নির্দেশনার কথাও বর্ণনা করেছেন। তিনি ১১ই অক্টোবর, ১৪৯২ তে তার লগ বুকে লিখেন –” triangle means the residence of devil “.

বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা প্রকৃত লগবুক পরীক্ষা করে যে মত দিয়েছেন তার সারমর্ম হল – নাবিকেরা যে আলো দেখেছেন তা হল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ যারা নৌকায় করে মাছ ধরতে সমুদ্রে যান তারাই রান্নার জন্য নৌকায় আগুন এর ব্যবহার করেন । আর কম্পাসে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল তা নক্ষত্রের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে। ১৯৫০ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর ই. ভি. ডব্লিউ. জোন্স ( E.V.W. Jones) সর্বপ্রথম বারমুডা ত্রিভুজ নিয়ে সংবাদ পত্রে লেখেন। এর দু বছর পর ‘ফেট’ (Fate) ম্যাগাজিনে জর্জ এক্স. স্যান্ড( George X. Sand) “সী মিস্ট্রি এট আওয়ার ব্যাক ডোর” (“Sea Mystery At Our Back Door”) শিরোনামে একটি ছোট প্রবন্ধ লেখেন। যাতে তিনি ফ্লাইট নাইনটিন এর নিরুদ্দেশের কাহিনী বর্ণনা করেন এবং এই ত্রিভূজাকার অঞ্চলের রহস্যময় কাহিনী তুলে ধরেন।

১৯৬২ সালের এপ্রিল মাসে ফ্লাইট 19 নিয়ে আমেরিকান লিজান (American Legion) ম্যগাজিনে কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়। বলা হয়ে থাকে এই ফ্লাইটের দলপতি কে নাকি বলতে শোনা গিয়েছে- We don’t know where we are, the water is green, no white. ।এতেই প্রথম ফ্লাইট 19 কে কোন অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার সাথে যুক্ত করা হয়। এরপর ভিনসেন্ট গডিস (Vincent Gaddis) “প্রাণঘাতী বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল”( The Deadly Bermuda Triangle) নামে আর এক কাহিনী ফাঁদেন ১৯৬৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর উপর ভিত্তি করেই তিনি আরও বিস্তর বর্ণনা সহকারে লেখেন “ইনভিজিবল হরাইজন” (Invisible Horizons) মানে “অদৃশ্য দিগন্ত” নামের বই।  আরও অনেক লেখকই নিজ নিজ মনের মাধুরী মিশিয়ে এ বিষয়ে বই লেখেন, তারা হলেন জন ওয়ালেস স্পেন্সার, তিনি লিখেন “লিম্বো অফ দ্যা লস্ট” (Limbo of the Lost, 1969, repr. 1973), মানে “বিস্মৃত অন্তর্ধান” ; চার্লস বার্লিটজ (Charles Berlitz) লিখেন “দি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল”(The Bermuda Triangle, 1974); রিচার্ড উইনার লিখেন “দ্যা ডেভিল’স ট্রায়াঙ্গেল” “শয়তানের ত্রিভূজ” (The Devil’s Triangle, 1974) নামের বই,, এছাড়া আরও অনেকেই লিখেছেন। এরা সবাই ঘুরেফিরে একার্ট ( Eckert) বর্ণিত অতিপ্রাকৃতিক ঘটনাই আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে উপস্থাপন করেছেন। 

ল্যারি কুসচ (Larry Kusche) এর ব্যাখ্যা :

১৯৭৫ সালে Larry Kusche প্রকাশ করেন The Bermuda Triangle Mystery: Solved বইখানা। ল্যারি ডেভিড কুসচ হলেন “অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি”-র রিসার্চ লাইব্রেরিয়ান । তার গবেষণায় তিনি চার্লস বার্লিটজ (Charles Berlitz) এর বর্ণনার সাথে প্রত্যক্ষ্যদর্শীদের বর্ণনার অসংগতি তুলে ধরেন। যেমন- যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকার পরেও বার্লিটজ (Charles Berlitz) বিখ্যাত ইয়টসম্যান ডোনাল্ড ক্রোহার্সট (Donald Crowhurt) এর অন্তর্ধানকে বর্ণনা করেছেন রহস্য হিসেবে। আরও একটি উদাহরণ হল- আটলান্টিকের এক বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার তিন দিন পরে একটি আকরিকবাহী জাহাজের নিখোঁজ হবার কথা বার্লিটজ বর্ণনা করেছেন, আবার অন্য এক স্থানে একই জাহাজের কথা বর্ণনা করে বলেছেন সেটি নাকি প্রশান্ত মহাসাগরের একটি বন্দর থেকে ছাড়ার পর নিখোঁজ হয়েছিল। এছাড়াও কুসচ দেখান যে বর্ণিত দূর্ঘটনার একটি বড় অংশই ঘটেছে কথিত ত্রিভূজের সীমানার বাইরে। কুসচ এর গবেষণা ছিল খু্বই সাধারন। তিনি শুধু লেখকদের বর্ণনায় বিভিন্ন দূর্ঘটনার তারিখ, সময় ইত্যাদি অনুযায়ী সে সময়ের খবরের কাগজ থেকে আবহাওয়ার খবর আর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংগ্রহ করেছেন যা গল্পে লেখকরা বলেননি। কুসচ –এর গবেষণায় যা পাওয়া যায় তা হল-

  • বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে যে পরিমাণ জাহাজ ও উড়োজাহাজ নিখোঁজ হওয়ায় কথা বলা হয় তার পরিমাণ বিশ্বের অন্যান্য সমুদ্রের তুলনায় বেশি নয়।
  • এ অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন ঘূর্ণিঝড় (tropical storms) নিয়মিত আঘাত হানে, যা জাহাজ ও উড়োজাহাজ নিখোঁজ হওয়ার অন্যতম কারণ। কিন্তু বার্লিটজ বা অন্য লেখকেরা এধরনের ঝড়ের কথা অনেকাংশেই এড়িয়ে গিয়েছেন।
  • অনেক ঘটনার বর্ণনাতেই লেখকেরা কল্পনার রং চড়িয়েছেন। আবার কোন নৌকা নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরিতে বন্দরে ভিড়লে তাকে নিখোঁজ বলে‌ প্রচার করা হয়েছে।
  • আবার কখনোই ঘটেনি এমন অনেক ঘটনার কথা লেখকেরা বলেছেন। যেমন- ১৯৩৭ সালে ফ্লোরিডার ডেটোনা সমুদ্রতীরে ( Daytona Beach) একটি বিমান দূর্ঘটনার কথা বলা হয়, কিন্তু সেসময়ের খবরের কাগজ থেকে এ বিষয়ে কোন তথ্যই পাওয়া যায়নি।

কারন হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ :

হারিকেন (Hurricane) হল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। ঐতিহাসিক ভাবেই জানা যায়- আটলান্টিক মহাসাগরে নিরক্ষ রেখার কাছাকাছি অঞ্চলে শক্তিশালী হারিকেনের কারণে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানী ঘটেছে। রেকর্ড অনুসারে ১৫২০ সালে স্প্যানিশ নৌবহর “ফ্রান্সিসকো দ্য বোবাডিলা” (Francisco de Bobadilla) এমনি একটি বিধ্বংসী হারিকেনের কবলে পড়ে ডুবে যায়।বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কাহিনীর সাথে জড়িত অনেক ঘটনার জন্য এধরনের হারিকেনই দায়ী।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে হারিকেন ঝড়ের উপগ্রহ চিত্ৰ

গলফ স্ট্রিম হল মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে স্ট্রেইটস অব ফ্লোরিডা(Straits of Florida) হয়ে উত্তর আটলান্টিকের দিকে প্রবাহিত উষ্ঞ সমুদ্রস্রোত। একে বলা যায় মহা সমুদ্রের মাঝে এক নদী। নদীর স্রোতের মত গলফ স্ট্রিম ভাসমান বস্তু কে স্রোতের দিকে ভাসিয়ে নিতে পারে। যেমনি ঘটেছিল ১৯৬৭ সালের ২২ ডিসেম্বর “ উইচক্রাফট” নামের একটি প্রমোদতরীতে। মিয়ামি তীর হতে এক মাইল দূরে এর ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিলে তার নাবিকরা তাদের অবস্থান কোস্ট গার্ডকে জানায়। কিন্তু কোস্ট গার্ডরা তাদেরকে ঐ নির্দিষ্ট স্থানে পায়নি।

কারন হিসেবে মানবিক ভুল :-

অনেক জাহাজ এবং বিমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার তদন্তে দেখা গিয়েছে এর অধিকাংশই চালকের ভুলের কারণে দূর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। মানুষের ভুল খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, আর এমনি ভুলের কারণে দূর্ঘটনা বারমুডা ট্রায়াঙ্গলেও ঘটেতে পারে। যেমন কোস্ট গার্ড ১৯৭২ সালে ভি.এ. ফগ( V.A. Fogg)-এর নিখোঁজ হবার কারণ হিসেবে বেনজিন এর পরিত্যাক্ত অংশ অপসারনের জন্য দক্ষ শ্রমিকের অভাবকে দায়ী করেছে। সম্ভবত ব্যবসায়ী হার্ভি কোনভার( Harvey Conover) এর ইয়ট টি তার অসাবধানতার কারণেই নিখোঁজ হয়। অনেক নিখোঁজের ঘটনারই উপসংহারে পৌঁছানো যায়নি, কারণ অনুসন্ধানের জন্য তাদের কোন ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

যুদ্ধাদি বা জলদস্যুদের কারনে ঘটা দুর্ঘটনা :

যুদ্ধের সময় অনেক জাহাজ শত্রু পক্ষের অতর্কিত আক্রমণে ডুবে গিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হয়। এ কারণেও জাহাজ নিখোঁজ হতে পারে। তবে বিশ্বযুদ্ধ এর সময় বেশ কিছু জাহাজ, যাদের মনে করা হয় এমনি কারণে ডুবেছে, তাদের উপর অনুসন্ধান করা হয়। তবে শত্রু পক্ষের নথিপত্র, নির্দেশনার লগ বই ইত্যাদি পরীক্ষা করে তেমন কিছু প্রমাণ করা যায়নি। যেমন- মনে করা হয় ১৯১৮ সালে ইউ এস এস সাইক্লপস( USS Cyclops) এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সিস্টার শিপ প্রোটিয়াস(Proteu) এবং নিরিয়াস( Nereus) কে জার্মান ডুবোজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে জার্মান রেকর্ড থেকে তার সত্যতা প্রমাণ করা যায়নি।

আবার ধারণা করা হয় জলদস্যুদের আক্রমণে অনেক জাহাজ নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারে। সে সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাংশে এবং ভারত মহাসাগরে মালবাহী জাহাজ চুরি খুব সাধারণ ঘটনা ছিল। মাদক চোরাচালানকারীরা সুবিধা মত জাহাজ, নৌকা, ইয়ট ইত্যাদি চুরি করত মাদক চোরাচালানের জন্য। ১৫৬০ থেকে ১৭৬০ পর্যন্ত ক্যারিবিয়ান অঞ্চল ছিল জলদস্যুদের আখড়া। কুখ্যাত জলদস্যু এডওয়ার্ড টিচ ( Edward Teach Blackbeard ) এবং জেন ল্যাফিট্টি (Jean Lafitte) ছিল ঐ অঞ্চলের বিভীষিকা। তবে একথাও শোনা যায় যে জেন ল্যাফিট্টি(Jean Lafitte) নাকি বারমুডা ট্রায়াঙ্গলেই নিহত হয়েছিলেন।

দস্যুতার আরও এক ধরনের ফন্দি ছিল , যা পরিচলিত হত স্থল থেকে। এধরনের দস্যুরা সমুদ্রের উপকূলে বা কোনো দ্বীপে রাতে আলো জ্বালিয়ে জাহাজের নাবিকদের বিভ্রান্ত করত। নাবিকরা ঐ আলোকে বাতিঘরের আলো মনে করে সেদিকে অগ্রসর হত। তখন জাহাজগুলি ডুবন্ত পাহাড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে ডুবে যেত। আর তারপরে ডোবা জাহাজের মালপত্র তীরের দিকে ভেসে এলে দস্যুরা তা সংগ্রহ করত।

প্রসঙ্গ, ফ্লাইট 19 :

ফ্লাইট নাইনটিন (Flight 19) : ফ্লাইট ১৯, ৫টি টিভিএম আভেঞ্জার টর্পেডো বোমারু বিমানের একটি, যেটি প্রশিক্ষণ চলাকালে ১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ হয়। বিমানবাহিনীর ফ্লাইট পরিকল্পনা ছিল ফোর্ট লডারদেল থেকে ১৪৫ মাইল পূর্বে এবং ৭৩ মাইল উত্তরে গিয়ে, ১৪০ মাইল ফিরে এসে প্রশিক্ষণ শেষ করা। বিমানটি আর ফিরে আসেনি। নেভি তদন্তকারীরা নেভিগেশন ভুলের কারণে বিমানের জ্বালানীশূন্যতাকে বিমান নিখোঁজের কারণ বলে চিহ্নিত করে।

Flight 19

বিমানটি অনুসন্ধান এবং উদ্ধারের জন্য পাঠানো বিমানের মধ্যে একটি বিমান পিবিএম ম্যারিনার ১৩ জন ক্রুসহ নিখোঁজ হয়। ফ্লোরিডা উপকূল থাকা একটি ট্যাঙ্কার একটি বিস্ফোরণ দেখার রিপোর্ট করে  ব্যাপক তেল দেখার কথা বলে কিন্তু উদ্ধার অভিযানে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনা শেষে আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ হয়ে উঠে।  সূত্র মতে, সমসাময়িক কালে বাষ্প লিকের কারণে পুরো জ্বালানী ভর্তি অবস্থায় বিস্ফোরণ ঘটার ইতিহাস ছিল।

ইউ এস এস সাইক্লপস( USS Cyclops) :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ- বাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম (যুদ্ধ ছাড়া) বড় ক্ষতি হচ্ছে ইউ এস এস সাইক্লপস নিখোঁজ হয়ে যাওয়া। অতিরিক্ত ম্যাঙ্গানিজ আকরিক ভর্তি বিমানটি ১৯১৮ সালের ৪ মার্চ বার্বাডোস দ্বীপ থেকে ওড়ার পর একটি ইঞ্জিন বিকল হওয়ার জন্য ৩০৯ জনকে নিয়ে নিখোঁজ হয়। যদিও এই নিখোঁজ হওয়ার পিছনে কারো মতে ঝড় দায়ী, কারো মত ডুবে গেছে আবার কেউ এই ক্ষতির জন্য শত্রুপক্ষকে দায়ী করেছেন।  উপরন্তু, সাইক্লপস-এর মত আর দুইটি ছোট জাহাজ প্রোটিউস এবং নেরেউস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ হয়। সাইক্লপসের মত এই জাহাজদুটিতেও অতিরিক্ত আকরিকে ভর্তি ছিল। তিনটি ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত পণ্য ধারণে অক্ষমতার কারণেই জাহাজডুবি হয় বলেই ব্যাপক ধারণা করা হয়।

USS Cyclops

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এ ঘটে যাওয়া কিছু বিমান দুর্ঘটনা :

  • ১৯৪৫: জুলাই ১০, টমাস আর্থার গার্নার, এএমএম৩, ইউএসএন, ১১ জন অন্য সদস্যসহ বারমুডা ট্রায়াঙ্গালে হারিয়ে যান। তারা ৯ জুলাই ১৯৪৫ তারিখ ৭:০৭ মিনিটে ব্যানানা রিভারের নাভাল এয়ার স্টেশন থেকে রওনা দেন। তাদের সর্বশেষ অবস্থান জানা যায় ১০ জুলাই ১৯৪৫ রাত ১:১৬-এ। কিন্তু তারপরে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
  • ১৯৪৫: ডিসেম্বর ৫, ফ্লাইট 19, ১৪ জন লোকসহ হাড়িয়ে যায় এবং একই দিনে ১৩ জন লোকসহ ফ্লাইট 19 কে খুজতে গিয়ে পিবিএম মেরিনার হাড়িয়ে যায়।
  • ১৯৪৮: জানুয়ারি ৩০, আভ্রো টুডোর জি-এএইচএনটি স্টার টাইগার ৬জন সদস্য ও ২৫ জন যাত্রীসহ হারিয়ে যায়।
  • ১৯৪৮:ডিসেম্বর ২৮, ডগলাস ডিসি-৩ এনসিং৬০০২ তিনজন সদস্য ও ৩৬জন যাত্রীসহ হারিয়ে যায়।
  • ১৯৪৯: জানুয়ারি ১৭, আভ্রো টুডোর জি-এজিআরই স্টার এরিয়েল সাতজন সদস্য ও ১৩জন যাত্রীসহ কিন্ডলে ফিল্ড, বারমুডা থেকে জ্যামাইকার দিকে রওনা দেওয়ার পরে হারিয়ে যায়।
  • ১৯৬২: জানুয়ারি ৮, একটি ইউএসএএফ কেবি-৫০ ৫১-০৪৬৫ হারিয়ে যায়।

রহস্যের সন্ধান :

তবে কি বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে কোনো রহস্য নেই? আছে বটে। কয়েকটি ঘটনার যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা আজও পাওয়া যায়নি তা সত্য। কিন্তু সেগুলোতে যে আসলে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের কোনো প্রভাব আছে তারও প্রমাণ নেই। তবে একটি মজার থিওরি দিয়েছিলেন কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির স্যাটেলাইট মিটিওরলজিস্ট ড. স্টিভ মিলার। ২০১৬ সালের অক্টোবরে তিনি নাসার স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে সায়েন্স চ্যানেলের What on Earth প্রোগ্রামকে জানান, বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এলাকা জুড়ে জায়গায় জায়গায় ষড়ভুজ মেঘ দেখা যায়। এখানে এমনকি ঘণ্টায় ১৭০ মাইল গতি পর্যন্ত বায়ু বয়ে যায়। এই এয়ার-পকেটগুলোই নাকি জাহাজ বা প্লেন দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। কোনো কোনো মেঘ ২০ থেকে ৫৫ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। তবে তিনি জানান, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হলে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে ।

১৯৭৫ সালে Larry Kusche তার The Bermuda Triangle Mystery: Solved বইতে যুক্তি দেখান যে, বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নাম যিনি দিয়েছিলেন সেই গ্যাডিস ও অন্য লেখকেরা আসলে অনেক জায়গায় অতিরঞ্জন করেছেন। এমনকি গুজব আর শোনা কথা থেকেও তারা কাহিনী নিয়েছেন। তিনি অনেক কাহিনীর অসঙ্গতি প্রমাণ করে দেন। আরো মজার ব্যাপার, বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের শিকার বলে চালিয়ে দেয়া বেশিরভাগ ঘটনাই আসলে এ ত্রিভুজের বাইরে ঘটেছিল। তিনি কাহিনীগুলোর সত্যতা ঘাটতে গিয়ে দেখেন, আসলে অনেক কাহিনী আদৌ ঘটেনি। আবার এমন ঘটনাও বলা হয়েছে, যেখানে এক জাহাজের উধাও হয়ে যাবার কাহিনী বলা হলেও, সেটা যে পরে ফিরে এসেছিল সে ঘটনা বলা হয়নি। ট্রপিক্যাল সাইক্লোন প্রবণ এ এলাকায় জাহাজডুবি খুব অবাক করা কিছু না।

প্রসঙ্গত, অতিরঞ্জনের একটা উদাহরণ দেওয়া যাক , ফ্লাইট নাইনটিন নিয়ে। এটি সত্য যে, তদন্তে কারণ হিসেবে লেখা হয়েছিল ‘অজ্ঞাত’। কিন্তু এর আগে আসলে পাইলটের ত্রুটি লেখা ছিল, কিন্তু মৃতদের স্বজনদের চাপে সেটা পরিবর্তন করা হয়। হারিয়ে যাবার আগে পাইলট বলছিলেন, কম্পাস কাজ করছে না, তিনি কোথায় আছেন বুঝতে পারছেন না, হয়তো ফ্লোরিডার দিকে।

GPS এর সুবিধাহীন যুগে পাইলটদের নিজস্ব অবস্থান বোঝার উপায় ছিল যাত্রাশুরুর বিন্দু ও কতক্ষণ কত বেগে চালিয়েছেন সেটা বুঝে- তাই একবার পথ হারালে সমুদ্রের উপর অবস্থান বোঝা বড্ড কঠিন ছিল। আর জ্বালানি শেষ দিকে থাকলে তো কথাই নেই। এটাই আসলে ফ্লাইট নাইনটিনের উধাও হবার পেছনে মূল রিপোর্ট ছিল। ফ্লাইট 19 কে খুঁজতে যাওয়া বিমান কোনোদিন ফিরে আসেনি, এটা আংশিক সত্য। আসলে, সার্চ পার্টির দুটো মার্টিন মেরিনার প্লেনের একটি প্লেন ফিরে আসেনি। কারণ, যাবার পথে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মাঝেই তেলের ট্যাংকে বিস্ফোরণ হয়েছিল সেটির। খারাপ আবহাওয়ার কারণে এর ধ্বংসাবশেষও ফেরানো যায়নি । সেটাই আসল ঘটনাকে পেছনে ফেলে গল্পকে জনপ্রিয়তা দিয়েছিল। সম্ভবত, ২২ জন ক্রুর একজন ভুলবশত সিগারেট ধরিয়ে ফেলেছিলেন, ভুলে গিয়েছিলেন এরকম পরিবেশে কেবিনে বিশেষ গ্যাস থাকে- সেখান থেকেই বিস্ফোরণ।

আবার আরো একটি ঘটনা ,সেই সালফারবাহী জাহাজ- ‘মেরিন সালফার কুইন’ । জাহাজটি কিন্তু খুবই দুর্ঘটনাপ্রবণ ছিল, দুর্বলও ছিল- কোস্ট গার্ড বলেছিল যে, জাহাজটি চালানোই উচিত না, এটা দুর্ঘটনার অপেক্ষায় আছে। এটা ভাগ্যের পরিহাস যে, এর অন্তিম মুহূর্তের কারণে দোষটা পড়ে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের ওপর, জাহাজের ওপর নয়।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের আদতে কোনো রহস্য যদি না-ও থাকে, তবুও অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে রহস্যের খোরাক হিসেবে জনমানসে আগ্রহ জাগিয়ে গিয়েছে এ জলজ ত্রিভুজ। বহু জনপ্রিয় গ্রন্থের কাহিনীর খোরাক জুগিয়েছে বা জুগিয়ে চলেছে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল।

WORLD GAMES ATHLETE OF THE YEAR P. R. Sreejesh

P. R Sreejesh win world Games athlete of the year award.

Twitter

PR Srejjesh ভারতের একজন professional hockey player. যিনি ভারতীয় হকি দলের নিয়মিত গোলরক্ষক এবং ভারতের পূর্ব ক্যাপ্টেন ছিলেন, তিনি HOCKEY INDIA🇮🇳 LEAGUE-এ UP WIZARD হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। 2021 সালে তিনি “INDIAN NATIONAL HOCKEY PLAYER OF THE YEAR” বিজেতা। “WORLD GAMES ATHLETE” 2021 পুরষ্কার পান

PR SREEJESH 8th may 1988 কেরালা তে জন্মগ্রহণ করেন। এনার ছোটোবেলার জীবন কাহিনী অনেকটা MS DHONI-র জীবনের গল্পের সাথে মিলে যায়। ছোট থেকে ইচ্ছা ছিল একজন sprinter হওয়ার। কিন্তু স্কুল শিক্ষকের ইচ্ছায় তাকে গোলপোস্টের নীচে দাড়াতে হয়।

Pr sreejesh ভারতের junior National team -এর হয়ে AUSTRALIA-র বিরুদ্ধে debut করেন 2004 সালে। এবং সিনিয়র টীমের সাথে খেলার জন্য ডাক আসে 2006 সালে।

PR sreejesh ভারতের হয়ে

Twitter

2012 summer Olympic (London).

2014 world Cup

2014 , 2018 Asian games

2014,2016,2018 Asia cup -এ প্রতিনিধিত্ব করেন

2014,2018 Asian Games-এ তিনি সেরা গোলকিপার এর পুরষ্কার পান। এবং 2016 সালে তার CAPTAINCY তে ভারত ASIA CUP এ SILVER মেডেল পায়।

PR Sreejesh 2017 সালে পদ্মশ্রী এবং 2021 সালে খেল রত্ন ভূষণে ভূষিত হন।

Wikipedia

গোলপোস্টের নিচে তার এই অসামান্য কৃতিত্বের জন্য তাকে “THE WALL” বলা হয়।

৩ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যে খুলছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়

আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যে খুলে যাচ্ছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়(west bengal school Reopen)। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য খুলছে স্কুল। নবান্নে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee)।

আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সরস্বতী পুজোর দুদিন আগে থেকে রাজ্যে খুলে যাচ্ছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে শুধুমাত্র অষ্টম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পঠনপঠন শুরু হবে। একই সঙ্গে খুলছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা।পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির জন্য ‘পাড়ায় শিক্ষালয়’। ইতিমধ্যেই স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় খোলার জন্য বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যেহেতু ৫ তারিখ সরস্বতী পূজো রয়েছে তাই যাতে সব স্কুলেই সরস্বতী পুজোর আয়োজন করতে পারে পড়ুয়ারা, সেকথা মাথায় রেখেই ৩ তারিখ থেকে স্কুল আংশিকভাবে খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ কারণ, ৪, ৫ এবং ৬ তারিখে সরস্বতী পুজো উপলক্ষে সব স্কুলই বন্ধ থাকবে৷ তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন পঞ্চম থেকে সপ্তম অথবা তারও নিচু স্তরে ক্লাসগুলি এখনই শুরু করার কথা ভাবছে না রাজ্য সরকার৷ তার বদলে শুরু হবে পাড়ায় শিক্ষালয়৷

গত বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার শুনিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। সেই আশঙ্কা থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। ঘোষণা করা হয় ৩ জানুয়ারি থেকে বন্ধ রাজ্যের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দৈনিক সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতেই স্কুল খোলার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় এক মাস পর পড়ুয়াদের কোলাহলে মুখরিত হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাজ্যের স্কুলগুলির পাশাপাশি ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বঙ্গে খুলছে বেসরকারি স্কুলও। ‘সরকারি বিধি মেনেই খুলবে স্কুল।’জানালেন আইসিএসই কাউন্সিলের সিইও। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে খুলছে সিবিএসই স্কুলও। 

এরই সঙ্গে রাজ্যে বাড়ল বিধিনিষেধের মেয়াদ। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জারি থাকবে বিধিনিষেধ। 

আজ নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো কয়েকটি ঘোষণা করেছেন…

  • . ৭৫ শতাংশ লোক নিয়ে ওয়ার্ক ফ্রম হোমে ছাড়।
  • . ৭৫ শতংশ কর্মচারী নিয়ে খুলতে পারবে সরকারি ও বেসরকারি অফিস।
  • . ৭৫ শতাংশ লোক নিয়ে খুলতে পারবে রেস্টুরেন্ট, বার, সিনেমা হল।
  • ৪.কলকাতা থেকে মুম্বই এবং দিল্লির বিমানে বিধিনিষেধ উঠল। বেঙ্গালুরুতে করোনা গ্রাফ ঊর্ধমুখী থাকায় কলকাতা-বেঙ্গালুরু বিমানে কড়াকড়ি বহাল থাকছে। 
  • . পার্ক, বিনোদন পার্ক আপাতত খুলে দেওয়া হচ্ছে। ১৫ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
  • . ৭৫ শতাংশ লোক নিয়ে খেলা র আয়োজন করা যাবে।
  • . ৭৫ শতাংশ মানুষ নিয়ে সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করা যাবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো রাস্তার মিটিং, মিছিল ২০০ জনকে নিয়েই করতে হবে।
  • . কলকাতা থেকে মুম্বই এবং দিল্লির বিমানে বিধিনিষেধ উঠল। বেঙ্গালুরুতে করোনা গ্রাফ ঊর্ধমুখী থাকায় কলকাতা-বেঙ্গালুরু বিমানে কড়াকড়ি বহাল থাকছে। 
  • . কলকাতা-ব্রিটেন বিমান চলাচলেও বিধিনিষেধ উঠল। তবে RTPCR বাধ্যতামূলক।

বিশ্বের এক আশ্চর্য উপজাতি আফ্রিকার প্রাচীন ‘মাসাই গোষ্ঠী’

মূলত কেনিয়া(Kenia) এবং তানজানিয়ায়(Tanjania)ছড়িয়ে রয়েছেন মাসাই (Maasai) জনজাতির প্রায় এগারো লক্ষ মানুষ। প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়েও আজ প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরেই বসবাস তাঁদের। বেঁচে থাকা মূলত অরণ্যকে কেন্দ্র করেই। গৃহপালিত পশুর মাংসের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর মাংসও তাঁদের খাদ্য তালিকার একটা বড়ো অংশ।

দীর্ঘকায় মাসাই পুরুষ

আফ্রিকাকে (Africa) একসময় বলা হতো অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ (Darkness continent)। উনিশ শতকে এখানে ইউরোপীয়(european) দের আগমনে সভ্যতার আলো পৌঁছলেও এখনো আফ্রিকার বহু স্থান পড়ে আছে গহীন অন্ধকারে।সেই সব স্থানে বসবাস করে নানা আদিম উপজাতি(primitive tribe)গোষ্ঠী। তবে সেখানেই আবার এমন একটি মনুষ্য গোষ্ঠী রয়েছে যারা আধুনিক প্রযুক্তিগত সভ্যতার সন্ধান পেয়েও আফ্রিকার আঁকড়ে ধরে রেখেছে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি। এরা হল মাসাই জনজাতি । তানজানিয়ার (Tanjania)উত্তরাংশ এবং কেনিয়ার(Kenia) মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ ভাগ জুড়ে এদের বসবাস। অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এর টানে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বহু মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন । এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা কতদিন নিজেদের প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবে, তা বলা কঠিন। এবার জেনে নেওয়া যাক তাদের সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।

ইতিহাসে মাসাই গোষ্ঠী :

এই পৃথিবীতে বসবাসকারী কোনো জাতিগোষ্ঠীর ই জন্ম নিবন্ধন(Date of Birth) দেওয়া সম্ভব নয় । তাই গোষ্ঠীর ইতিকথা জানার ক্ষেত্রে আমাদের উৎস হলো ইতিহাসের পাতা। ইতিহাস বলছে , মাসাইরা প্রাথমিকভাবে বাস করতো দক্ষিণ সুদানে। তারা বরাবরই যাযাবর(Normad)প্রকৃতির। সম্ভবত ষোড়শ শতকে উর্বর জমির খোঁজে তারা বর্তমান কেনিয়া ও তানজানিয়ায় এসে পৌঁছায়। সেই সময় এ অঞ্চলে আগে থেকেই অন্য গোষ্ঠীর বাস ছিলো। ফলত, তাদের সঙ্গে মাসাই দের সংঘর্ষ বাধে এবং শেষ পর্যন্ত তারা এই অঞ্চলের দখল নেয়।মাসাই জনগোষ্ঠী সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে বিংশ শতকে। এই সময়ে তারা রিফট ভ্যালি র প্রায় সবটুকু অংশ জুড়েই নিজেদের সাম্রাজ্য গড়ে নেয়। এখন কেনিয়া এবং তানজানিয়া জুড়ে মাসাইদের জনসংখ্যা প্রায় এগারো লক্ষের  কাছাকাছি। এই জনগোষ্ঠী সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে বিংশ শতকে। এই সময়ে তারা রিফট ভ্যালি (Great Rift Vally)র প্রায় সবটুকু অংশ জুড়েই নিজেদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে । এখন কেনিয়া(kenia) এবং তানজানিয়া(Tanjania) জুড়ে মাসাইদের জনসংখ্যা প্রায় এগারো লক্ষের কাছাকাছি।

ভাষা:

নিজেদের মাতৃভাষা(Mother Tongue) ‘মা'(Maa)তেই কথা বলে। এই ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা তারা ব্যবহার করে না।এই মাতৃভাষাই তাদেরকে একই ধরনের অন্য কিছু আদিবাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে। তেমনই একটি গোষ্ঠী হল সামবুরু গোষ্ঠী (samburu), যারা মাসাই গোষ্ঠীর সাথে ভাষার মাধ্যমে যুক্ত।

মাসাই রমণী

শাসনতান্ত্রিক কার্যক্রম :

মাসাইরা সম্পূর্ণ ভাবে তাদের নিজস্ব প্রাচীন সাংস্কৃতিক রীতিনীতি মেনে চলে । এই আদিবাসী গোষ্ঠী পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা(social system) মেনে চলে। আইন হিসেবে তারা বহু বছরের প্রচলিত মৌখিক আইন মেনে চলে। মৃত্যুদণ্ডের প্রচলন না থাকলেও জরিমানার প্রচলন আছে। এই জরিমানা দিতে হয় গৃহপালিত পশুর মাধ্যমে। গৃহপালিত পশু এ গোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জনগোষ্ঠীর শারীরিক গড়ন :

মাসাই জনজাতি নারী পুরুষ প্রত্যেকেই দীর্ঘদেহী হয়ে থাকে। এদের জীবনযাত্রার ধরনের কারণে শরীর পেশিবহুল হয়। নারী পুরুষ নির্বিশেষে এরা মাথা কামিয়ে রাখে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হচ্ছে, মাসাইরা যোদ্ধা। মাসাইদের মধ্যে লিঙ্গ নির্বিশেষে শরীরে উল্কির প্রচলন আছে । এরা সবাই কৃষ্ণবর্ণ।

মাসাই নারী যোদ্ধা
মাসাই যোদ্ধা

বাসগৃহ :

মাসাইদের ঘরগুলো সাধারণত তৈরি হয় গাছের সরু কাণ্ডের বেড়া এবং ঘাস বা খড়ের ছাউনি দিয়ে । কাদা-বিষ্ঠা-ছাই সব মিলিয়ে ঘর বানানোর উপাদান তৈরি করা হয়।ঘরগুলো কোনটা গোল , কোনটা চৌকো আবার কোনটা আয়তাকার হয়ে থাকে। এই ঘরগুলোকে বলা হয়ে থাকে বোমা(Bomaa)। মেয়েরা রান্নার জন্য অথবা স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ছোট ছোট কিছু ঘর তৈরি করে, যার নাম এনকাজি(Enkaji)। মাসাই গ্রামকে বলা হয়ে থাকে মানয়াত্তা। গ্রামের চারপাশ স্থানীয় গাছ থেকে সংগ্রহ করা ক্রাল(Cral) নামক একধরনের কাঁটা দিয়ে ঘেরা থাকে । এর প্রধান কারণ হল ঘরবাড়িকে বন্যপ্রাণী, বিশেষত , ভয়ঙ্কর সিংহের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য।

মাসাই গৃহ

খাদ্য :

মাসাই গোষ্ঠীর প্রিয় খাবার হলো বিভিন্ন বন্য প্রাণীর মাংস। তবে এরা খাদ্য হিসেবে শাকসবজিও গ্রহণ করে। তবে তার পরিমাণ কম। এছাড়া তাদের প্রিয় খাবারের তালিকায় আছে গরু, মহিষ বা ছাগলের দুধ। প্রথা অনুযায়ী তাদের মাঝে প্রাণীর রক্ত খাবার প্রচলনও রয়েছে। সেটা বিশেষ উপলক্ষ অনুযায়ী; যেমন- কেউ অসুস্থ থাকলে অথবা নারীরা সন্তান জন্মদানের পর। যোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ থাকে ওলকিরটি গাছ থেকে তৈরি বিশেষ ধরনের উত্তেজক পানীয়।

মাসাই খাদ্য (উপরে) , রক্ত পান (নীচে)

পোশাক :

পোশাকের ব্যাপারে এই জনগোষ্ঠী খুবই রঙিন।এই পোশাকের নাম স্যুকা(Syuka)। পোশাকের ক্ষেত্রে দেখা যায় নানান রঙ এর ব্যবহার । পোশাক অনেকটা গামছার মতো দেখতে হয়। সাধারণত রঙিন থান প্যাঁচ দিয়ে পোশাক বানানো হয়। ছেলেদের এই প্যাঁচ দেবার ধরনকে বলা হয় কিকই(Kikii)। মেয়েদের প্যাঁচ দেবার ধরনটা ছেলেদের থেকে ভিন্ন এবং একে বলা হয় কাংগা(Kanga)।

মাসাই অলঙ্কার

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে রঙিন গহনার ব্যবহারও দেখা যায়। উভয়ই হাতে কাঠের ব্রেসলেট পরে। রমণীরা গলায় গোল রিং এর মতো এক ধরনের গহনা ব্যবহার করে। তাদের গহনা এবং সাজ থেকে অনেক সময় সামাজিক অবস্থান আন্দাজ করা যায়। যেমন- ভারি কাজের গহনা গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরেন। আবার একমাত্র যোদ্ধারাই মাথায় পালকের মুকুট (Crown)পরতে পারেন।

তাদের পোশাকের সাদা রঙ হচ্ছে শান্তির (peace) প্রতীক। লাল রঙ সাহসিকতার(Bravery) প্রতীক। তাদের অস্ত্রেও লাল রঙের পোচ থাকে । বর্মের ওপরে থাকে বিভিন্ন ধরনের কাদা এবং লাল মাটির প্রলেপ। 

বিবাহ রীতি :

মাসাই গোষ্ঠীর পুরুষদের মধ্যে বহুগামিতার(Polygamy) প্রচলন  আছে এখনো। এই বহুগামিতা তাদের কাছে শখের চেয়ে বেশি প্রয়োজন সামাজিক মাপকাঠির বিচারের জন্য । কেননা মাসাই সম্প্রদায়ে অর্থবিত্তের পরিমাপক হচ্ছে সন্তান এবং গৃহপালিত পশু। যে যত বেশি সম্পদশালী, তার সন্তান এবং পালিত পশুর সংখ্যা ততটাই বেশি। তাদের মাঝে জন্মনিয়ন্ত্রণের (Birth Control)কোনো প্রচলন নেই। তাই সংসার এবং এই গৃহস্থালি একসাথে দেখাশোনা করা একজন স্ত্রী র পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ফলস্বরূপ নতুন স্ত্রী আনা হয় প্রথমজনের সহকারী হিসেবে।

বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ মাসাই দম্পতি

তবে রীতিনীতিতেও কিছুটা বদল এসেছে। যেমন- অতীতে মেয়ের বাবা পাত্র ঠিক করতো। কিন্তু এখন অনেকক্ষেত্রেই নিজেরা নিজেদের সঙ্গী পছন্দ করছে । আর বহুগামিতাতেও(polygamy) তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে প্রথম স্ত্রী হওয়া সবসময়ই সম্মানের বিষয় হিসেবে দেখা হয়। বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের বাবাকে সম্মান দেয়াও তাদের রীতি। সাধারণত ছাগল বলি দেয়ার মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন করা হয়। 

সামাজিক অনুষ্ঠান :

মাসাই আডুমু নৃত্য

মাসাই জনগোষ্ঠীর যাবতীয় আচার অনুষ্ঠানের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে বৃষ্টি(Rain)। সবকিছুর সাথে বর্ষাকালের সম্পর্ক রয়েছে। সব অনুষ্ঠানেই মাসাই দের প্রথাগত নাচগানের ব্যবস্থা থাকে। প্রধানত, পুরুষরাই এতে অংশ নেয়। ইউনোটো, কুডো এরকম কিছু আঞ্চলিকভাবে তৈরি বাদ্যযন্ত্র(Instrument) তাদের গানে ব্যবহৃত হয়। মেয়েরা সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারে না। তবে তাদের অনুষ্ঠান উপভোগ করার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

তাদের নাচ দেখতে হাই জাম্পের (High jump)মতো লাগতে পারে। এই লাফ দেবার ধরনকে বলা হয় ‘আডুমু'(Aadumu)। এই নাচের একটি অন্যতম প্রধান আঙ্গিক হল ছন্দবদ্ধ ভাবে ঘাড় সঞ্চালন।

ধর্মবিশ্বাস :

এরা একেশ্বরবাদী (Monotheist)। ‘লাইবন'(Libon) নামে একজন থাকেন, যিনি একইসঙ্গে ধর্মযাজক এবং সামাজিক অভিভাবক। তাদের ঈশ্বরের নাম এনকাই । যদিও তারা এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী, তবু নীতেরকব নামে একজনকে তারা গৌণ দেবতা হিসেবে মানে। ধারণা করা হয়, এই দেবতা মানুষ এবং ঈশ্বরের মাঝে মধ্যস্থতাকারী।

মাসাইদের কিছু ভ্রান্ত ধারণা :

মাসাই জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখনো রয়েছে পুরোনো প্রথা,রীতিনীতি কে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার প্রবণতা। তবে এই মানসিকতা অনেক ক্ষেত্রেই পরিবেশ , বন্যপ্রাণসহ তাদের সামাজিক বিষয়েও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

স্মরনাতীত কাল ধরেও বন্যপ্রাণী এবং মাসাইরা পাশাপাশি বাস করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান আধুনিক সভ্যতা বিস্তারের ফলে সারা বিশ্বেই বন্যপ্রাণী আলাদাভাবে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে। বিশ্বের ৫০% সিংহ এই অঞ্চলে বাস করে। কিন্তু এখনো মাসাই যোদ্ধাদের কাছে ঐতিহ্যের কারণে সিংহ শিকার একটি বির্যবত্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয় । তবে ইতোমধ্যেই  এবিষয়ে মাসাই দের সচেতন করতে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থা  কাজ করছে এবং সিংহ শিকারের হারও অনেকটাই কমে এসেছে।

আবার এই সম্প্রদায়ের মনে শিক্ষা নিয়েও একধরনের অনীহা কাজ করে। এই অনীহার ফলস্বরূপ নানান রোগ এবং কুসংস্কার এখনো তাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে। এখনো চিকিৎসার ক্ষেত্রে এরা নিজেদের প্রাচীন পদ্ধতিতেই বিশ্বাসী । মুমূর্ষু রোগীদের তাই অনেক ক্ষেত্রেই বাঁচানো সম্ভব হয় না।

শেষের কথা :

বইয়ের পাতার বাইরে যে এমন একটি গোষ্ঠী আজকের বিশ্বায়নের যুগেও থাকা সম্ভব, তা প্রায় কল্পনাতীত। এমন নয় যে তারা আধুনিক বিজ্ঞান প্রযুক্তির কথা জানে না। জীবনের অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রযুক্তিকে গ্রহণ করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা এখনো দূরত্ব বজায় রাখতেই অভ্যস্ত । সামাজিক রক্ষণশীলতার বাইরে এখন অনেকেই পড়াশোনা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। বিভিন্ন সংগঠন, মিশনারীর দৌলতে অনেক মাসাই খ্রিস্টান (Chirst) এবং ইসলাম(Islam) ধর্ম গ্রহণ করেছে।

বহু বছর নানান প্রতিকূল পরিস্থিতি ও বন্যজন্তুর সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে এই জনগোষ্ঠী। তাদের মাঝে প্রচলিত কুসংস্কার যেমন দূর করা দরকার, সেভাবেই তাদের গ্রামীণ, বিশুদ্ধ, যাযাবর জীবন ও নিজস্ব কৃষ্টি সংরক্ষণ করাটাও কর্তব্য। জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং আধুনিক জীবনযাপনের চাপের মুখে ইতোমধ্যেই অনেক কিছু হারাতে বসেছে এ সম্প্রদায়। আন্তজার্তিক সংস্থাগুলির (International Organisation)এবিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার সময় এসেছে।

বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ ‘ভ্যাটিকান সিটি’

খ্রিস্টধৰ্ম প্রধান পোপ এর দেশ ভ্যাটিকান সিটি,এটি ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ।

ভ্যাটিকান শহর

পরিচয় : ইতালির রোম শহরের মধ্যে অবস্থিত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ভ্যাটিকান সিটি । এটি রোমান ক্যাথলিক গির্জার সদর দফতর । সম্পূর্ণভাবে রোমের অভ্যন্তরে অবস্থিত ভ্যাটিকান সিটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র, যার আয়তন মাত্ৰ ১১০ একর।

গঠন : উত্তর-পশ্চিম রোমের ভ্যাটিকান পাহাড়ের উপর একটি ত্রিভুজাকৃতি এলাকায়, তিবের নদীর পশ্চিমে, ভ্যাটিকান শহর অবস্থিত। ভ্যাটিকান শহর প্রাচীর দ্বারা রোম শহর থেকে বিচ্ছিন্ন। প্রাচীরের ভেতরে আছে উদ্যান, বাহারী দালান ও চত্বরের সমাবেশ। এই প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল ইতালির সুবর্ণ যুগ বলে পরিচিত রেনেসাঁর সময়ে। সবচেয়ে বড় সৌধটি হলো সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা, যা রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান গির্জা। ভ্যাটিকান সিটিতে রয়েছে একটি মহাকাশ নিরীক্ষণাগার , লাইব্রেরী ভ্যাটিকানা এবং সিস্টিন চ্যাপেল।

সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা
সিস্টিন চ্যাপেল এর সুদৃশ্য অলংকরণ সমৃদ্ধ ছাদ

প্রতিষ্ঠা : ভ্যাটিকান সিটি শেষ পোপীয় রাষ্ট্র। ক্যাথলিক গির্জা বহু শতাব্দী ধরে মধ্য ইতালির বেশ কিছু এলাকাতে এই রাষ্ট্রগুলি স্থাপন করেছিল, যার শাসনকর্তা ছিলেন পোপ। ইতালীয় সরকার ও পোপ সম্প্রদায়ের মধ্যে বহু বছর ধরে বিতর্কের পর ১৯২৯ সালে লাতেরান চুক্তির অধীনে ভ্যাটিকান সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই চুক্তির অধীনে ক্যাথলিক গির্জা ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে অন্য সব পোপীয় রাষ্ট্র থেকে দাবী প্রত্যাহার করে নেয় এবং স্বাধীন ভ্যাটিকান সিটি হিসেবে সার্বভৌমত্ব অর্জন করে। এর বর্তমান প্রধান পোপ ফ্রান্সিস, ২০১৩ সালের ১৩ই মার্চ দায়িত্বগ্রহণ করেন ।

বর্তমান পোপ ফ্রান্সিস

ভ্যাটিকান শহরের শাসন কাঠামো : ভ্যাটিকান সিটির নিজস্ব সংবিধান, ডাকব্যবস্থা, সীলমোহর, পতাকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতীক রয়েছে, যা তার সার্বভৌমত্ব কে প্রতিফলিত করে । ভ্যাটিকানের নিজস্ব সেনাবাহিনীও আছে, যার নাম সুইস গার্ড; এর সদস্যসংখ্যা প্রায় এক শত। ভ্যাটিকান রেডিও নামের সরকারি  বেতার কেন্দ্র রয়েছে, যা সারা পৃথিবীতে বিশেষ কিছু দিনে পোপের বক্তব্য ছড়িয়ে দেয়। ২০০০ সালে ভ্যাটিকান শহরে জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১০০০। এখানে বসবাস করতে হলে পোপের দেওয়া বিশেষ দায়িত্ব পালন করে নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব: একটি পরম ধর্মীয় রাজতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। পোপ হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। রাষ্ট্রের শাসন , আইন প্রণয়ন ও বিচারসহ সমস্ত কিছু পোপের অধীনে। ভ্যাটিকান সিটি বিশ্বের রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের সকল মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।

ভ্যাটিকানের পতাকা

ভূপ্রকৃতি : ভ্যাটিকান সিটির আয়তন মাত্র ০.৪৪ বর্গকিলোমিটার। এটি রোম শহরের মধ্যস্থলে প্রাচীর বেষ্টিত একটি এলাকা। ভ্যাটিকান সিটির অভ্যন্তরে কোন প্রাকৃতিক জলাশয়ই নেই। শহরটি মূলত একটি ছোট পাহাড়ের উপর অবস্থিত, যার নাম ভ্যাটিকান পাহাড়।

ভ্যাটিকানের মানচিত্র

ভাষা : ভ্যাটিকান সিটির কোন সরকারি ভাষা নেই, তবে ইতালিয়ান সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা। রোমান ক্যাথলিক গির্জার দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে লাতিন ভাষার বিশেষ মর্যাদা আছে। যারা উচ্চপদে কাজ করে তারা নিয়মিত ইতালীয় ভাষায় কথা বলে। এছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠানে লাতিন ভাষা ব্যবহার করে। ভ্যাটিকানসিটির বাসিন্দারা রোমান ক্যাথলিক ধর্ম অনুসারী।

১ ফেব্রুয়ারি এবারের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ, কখন, কীভাবে দেখবেন অর্থমন্ত্রীর বাজেট ভাষ্য ?

কোভিড গাইডলাইন কঠোরভাবে অনুসরণ করেই পেশ করা হবে বাজেট । আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী শ্রীমতি নির্মলা সিতারামন।

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতে কোভিড এর তৃতীয় ঢেউ এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২২-এর জন্য প্রস্তুতি তুঙ্গে। ওমিক্রনের চোখরাঙানির মাঝেই লোকসভা এবং রাজ্যসভা থেকে ঠিক সময়ে সংসদের বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। বাজেটেও কোভিড গাইডলাইন কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারামন আগামী সপ্তাহে ২০২২ সালের বাজেট ঘোষণা করবেন। । ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং করোনার ফলে লকডাউনে- অর্থনৈতিক কার্যকলাপ প্রত্যাশিত হলবৃদ্ধি পেতে পারেনি। সাধারণ মানুষ মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারের মন্দার প্রভাব সহ্য করে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য সরকার কর্তৃক বেশ কিছু শিথিলকরণ, নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই ১ ফেব্রুয়ারি দেশবাসীর চোখ থাকবে টিভি কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে।

এ বছর ভারতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন দুটি ভাগে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্যায় চলবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৪ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের লোকসভা এবং রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনের ভাষণে আগাম ৩১ জানুয়ারি বাজেট অধিবেশনের ফ্ল্যাগ পেশ করবেন। এরপরে, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গত বছরে সম্মুখীন হওয়া প্রধান চ্যালেঞ্জগুলিকে তুলে ধরা ও পেশ করা হবে। একই দিনে সংসদের কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২২ পরের দিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন সংসদে পেশ করবেন। ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে এই ভাষণটি আলোচনার মাধ্যমে অনুসরণ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী সীতারামনের বাজেট বক্তৃতা আগামী মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে। বাজেট বক্তৃতার জন্য নির্ধারিত সময় সকাল ১১টা। দেড় থেকে ২ ঘন্টার মধ্যে যে কোনও জায়গা থেকে দেখা যেতে পারে বাজেট পেশ। যদিও প্রয়োজনে বাজেট বেশি সময় ধরে চলতে পারে। বাজেট বক্তৃতাটি সম্ববত দুই ঘন্টা ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত বছর অর্থমন্ত্রী ২ ঘন্টা ৪০ মিনিটের বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২১ পেশ করেছিল, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের বাজেট বক্তৃতা ।

গত বছরের মতো এবছরও বাজেট পেশ হচ্ছে পেপারহীন ভাবেই। 1 ফেব্রুয়ারি ‘পেপারলেস’ ভাবেই বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। কোভিড সংক্রমণের কথা মাথায় রেখেই ডিজিটাল বাজেটে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্র মারফৎ খবর।

2021 সালেই প্রথমবার প্রথা ভেঙে ডিজিটালি বাজেট পেশ করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। করোনা পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এবারও অর্থমন্ত্রী একই পথে হাঁটবেন বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি আগের বারের মতোই বাজেট ব্রিফকেসের বদলে ট্যাবেই বাজেট পেশ করতে পারেন তিনি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারতে ব্রিফকেস বা স্যুটকেসে করেই বাজেটের নথি সংসদে বয়ে আনতেন অর্থমন্ত্রীরা । কিন্তূ ২০১৯ সালে সেই প্রথা ভেঙে প্রথমবার ‘বহি খাতা’ আনেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন ‘2019 সালে বাজেটের জন্য স্যুটকেস আনিনি। আমরা স্যুটকেস বহনকারী সরকার নই। একটি স্যুটকেস অন্য কিছুকেও বোঝায়, ‘স্যুটকেস নেওয়া, স্যুটকেস দেওয়া।’ মোদীজির সরকার স্যুটকেস সরকার না।’

পুষ্পা জ্বরে কাব দেশ , কিন্তু পাচারে উদ্বিগ্ন পুলিশ প্রশাসন!

দক্ষিণী ছবি পুস্পা দেশব্যাপী বিপুল সারা ফেলেছে। বেশ কয়েকটি ভাষায় মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। কিন্তু ছবিতে দেখানো পথে পাচার হচ্ছে লাল চন্দন কাঠ।

নিজস্ব প্রতিবেদন: পুষ্পা জ্বরে এখনো কাবু সারা দেশবাসীকে। মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই কয়েক কোটি টাকা আয় করে ফেলেছে এই সিনেমাটি। দক্ষিণ ভারতীয় এই সিনেমাটি শুধুমাত্র তামিল ভাষায় নয়, হিন্দি,মারাঠি ভাষা সহ আরো কয়েকটি ভাষায় মুক্তি পেয়েছে । সিনেমাটিতে লাল চন্দনের চোরাচালান ব্যবসা দেখানো হয়েছে। সিনেমাতে যে ঘটনাগুলি দেখানো হয়েছে তার বাস্তব রুপ ভয়ঙ্কর ভাবে বর্তমান। যাতে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন পুলিশ প্রশাসন।

সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশে এমনই একটি ঘটনা সামনে এসেছে । ২০ জানুয়ারি নেললোর জেলার রাপুর জঙ্গল থেকে কয়েকজন অতিমূল্যবান লাল চন্দন কাঠ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ। জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জন চন্দন কাঠ পাচারকারি এবং ৫৫ জন শ্রমিক রয়েছে । এই চক্রের কাছ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ উদ্ধার করেছেন ৪৫ টি লাল চন্দন কাঠ,২৪ টি কুড়াল, ৩১ টি মোবাইল,১ টি গাড়ি, ৭৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ।

এই চোরাচালানকারীদের ধরতে পুলিশেকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল চেন্নাই ন্যাশনাল রোডে ওৎ পাতে এবং প্রত্যেকটি গাড়ির তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার করে দুটি ট্রাক। ট্র্যাক দুটিতে ভর্তি ছিল লাল চন্দন কাঠ। পুলিশ ধৃতদের ধরতে গেলে চোরাকারবারীরা পুলিশের উপর ঢিল ছুঁড়ে কুড়াল দিয়ে হামলা করার চেষ্টা করে। কিন্তু অবশেষে তারা ধরা পড়ে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের ফাঁদে।

নেললোরের এসপি সি বিজয়া রাও জানিয়েছেন, মূল চোরাকারবারি ভি দামু চিত্তুর জেলার বাসিন্দা এবং তিনি পুদুচেরির কুপান্না সুব্রামানিয়ামের সাথে দেখা করার পর তার সঙ্গে মিলিত হয়ে এই চোরা কারবার শুরু করে । এরপর ভিলুমালাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই চোরাকারবার ব্যাপক আকারে শুরু করে তারা। পুলিশ এই চক্রের অন্যান্য পাচারকারী দের খোঁজে তল্লাসি শুরু করেছে।

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে নিয়ম বদল নবান্নের! নতুন কি নিয়ম হল …

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে ব্যাঙ্ক একাউন্টে নতুন নিয়ম রাজ্যের

নিজস্ব প্রতিবেদন: লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্পের ক্ষেত্রে নিয়ম বদল করলো রাজ্য । আবেদনকারীদের ব্যাঙ্কে সিঙ্গেল অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক।

নবান্ন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প নিয়ে সব জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব এইচ. কে. দ্বিবেদী। সেখানেই মুখ্যসচিব এই নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রকল্প যখন শুরু হয় তারপর থেকে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পেতে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থাকলেই আবেদন করা যেত। কিন্তু, এ বারে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট নয়, শুধুমাত্র সিঙ্গেল অ্যাকাউন্ট থাকলে তবেই লক্ষীর ভান্ডারের জন্য আবেদন করতে পারবেন আবেদনকারীরা।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে রাজ্যের ২৫ বছর বয়সের উর্ধে তপশীল জাতি ও উপজাতির মহিলাদের মাসিক ১০০০ টাকা এবং সাধারণ জাতির মহিলাদের মাসিক ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়।

মুখ্যসচিব দ্বিবেদী জানিয়েছেন, জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট নিয়ে একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার জন্যই এই নয়া নির্দেশ বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রকল্প গুলির সঙ্গে আধার সংযুক্তিকরণের ওপরেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী-সহ বিভিন্ন প্রকল্পগুলিতে আধার সংযুক্তিকরণ বাড়াতে হবে। এ দিনের বৈঠকে নির্দেশ দেন মুখ্যসচিব। পাড়ায় সমাধানের ক্যাম্পগুলো আরও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে করতে হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে নির্দেশ মুখ্যসচিবের।

অরুণাচলের অপহৃত তরুণ মিরাম তারোন কে ভারতে ফিরিয়ে দিল চিনা সেনা

অরুণাচল প্রদেশ থেকে যে ভারতীয় তরুণকে অপরহণ করে ছিল চিনা সেনা, তাকে আজ ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয় । তরুণের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন: অরুণাচল প্রদেশের ১৭ বছর বয়সী যে মিরাম তারোনকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল চীনা সেনা, তাকে আজ ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি আরও জানিয়েছেন, ছেলেটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

১৮ জানুয়ারি অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং জেলা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় মিরাম। প্রথমে এই ঘটনার কথা জানান বিজেপি সাংসদ তাপির গাও। ১৯ জানুয়ারি তিনি ট্যুইট করে জানান, “চিনের সেনাবাহিনী জিডো গ্রামের বাসিন্দা ১৭ বছরের মিরাম তারোনকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে। আপার সিয়াং জেলায় লুঙ্গতা জোর অঞ্চলে ভারতীয় ভূখণ্ড এর ভেতর থেকেই ওই তরুণকে অপহরণ করা হয়েছে।” ২০১৮ সালে ভারতীয় ভূখণ্ডের ভিতরে তিন-চার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছে চিন। মিরাম তারোন ও তার এক বন্ধু ওইদিন শিকারে গিয়ে ছিল। মিরামের বন্ধু বন্দুক উচিয়ে চিনা সেনার হাত থেকে পালিয়ে যেতে পারলেও মিরামকে অপহরণ করে PLA । ভারত সরকারের সব সংস্থার কাছে সংসদ অনুরোধ করেন যেন ওকে দ্রুত ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

অরুণাচলের এই সাংসদের ট্যুইট ঘিরে দেশজুড়ে শোরগোল শুরু হয়ে যায়। বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপহৃত তরুণকে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এরপর গতকাল রিজিজু ট্যুইট করে জানান, ‘প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনা সেনার হটলাইনে কথাবার্তা হয়েছে। চিনা সেনার পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গিয়েছে। ওরা আমাদের তরুণকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ওকে কোথায় ছাড়া হবে, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছে চিনা সেনা। ওরা খুব তাড়াতাড়ি সময় ও তারিখ জানিয়ে দেবে। চিনে আবহাওয়া খারাপ থাকায় অরুণাচলের তরুণকে ফিরিয়ে দিতে দেরি হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, রবিবার চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি ভারতীয় সেনাকে জানিয়েছিল, তারা অরুণাচল প্রদেশ থেকে নিখোঁজ হওয়া কিশোরকে তারা খুঁজে পেয়েছে। তাকে ছাড়ার বাকি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হচ্ছে। ভারতীয় সেনার তেজপুরের জনসংযোগ আধিকারিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হর্ষবর্ধন পান্ডে জানিয়েছিলেন,”চিনা সেনা আমাদের জানিয়েছে যে তাঁরা অরুণাচল প্রদেশ থেকে নিখোঁজ হওয়া কিশোরকে খুঁজে পেয়েছে। তাঁদের তরফে বাকি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হচ্ছে।” তার কিছুক্ষণ পরই চিনের তরফে নিশ্চিত করা হয় খোঁজ পাওয়া কিশোর মিরাম তারোন।

এরপর আজ ট্যুইট করে আইন মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, “চিনা সেনা অরুণাচল প্রদেশের তরুণ শ্রী মিরাম তারোনকে ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দিয়েছে। ওর শারীরিক পরীক্ষা সহ যাবতীয় বিধি মেনে চলা হচ্ছে।”

স্থানান্তরিত গীতশ্রী

করোনা সংক্রামিত গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়।
SSKM থেকে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে অ্যাপেলো হাসপাতালে।

গ্রিন করিডর করে SSKM এ আনা হল গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখার্জি কে

গুরুতর অসুস্থ গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় । গ্রিন করিডর করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল এসএসকেএম এ

নিজস্ব প্রতিবেদন : পরিবার সূত্রে খবর, গত ২৩ জানুয়ারি তিনি বাড়ির বাথরুমে পড়ে গিয়ে কোমরে চোট পেয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের  শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। নিউমোনিয়ার উপসর্গ-ও ছিল । গতকাল ফুসফুসে সংক্রমণ আরও বৃদ্ধি পায়। পারিবারিক চিকিৎসক বিষয়টি দেখে আরটিপিসিআর (RTPCR) করার নির্দেশ দেন। সেই পরীক্ষাও করা হয়েছে বলে সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, তবে রিপোর্ট এখনও আসেনি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধেয় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে নিজে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী, কথা হয় সন্ধ্যা-কন্যার সঙ্গে । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎপরতাতেই তাঁকে তড়িঘড়ি এসএসকেএম- হাসপাতাল এর উডবার্ন ব্লকে ভর্তি করা হয়েছে। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোনও প্রয়োজনে রাজ্য সরকার সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ইতিমধ্যেই শিল্পীর চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে SSKM কর্তৃপক্ষ। সেখানে রয়েছেন মেডিসিন, কার্ডিওলজি, ফুসফুস সহ অন্যান্য বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসকগণ। চিকিৎসক সোমনাথ কুন্ডুর নেতৃত্বে সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

শ্বাসকষ্ট, হালকা জ্বর, ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডের ১০৩ কেবিনে ভর্তি নব্বই বছর বয়সী গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় । তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন এসএসকেএম হাসপাতালের বক্ষরোগ বিভাগের প্রধান চিকিৎসক সোমনাথ কুন্ডু।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই তাঁকে দেখেছেন ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের প্রধান চিকিৎসক অসীম কুন্ডু এবং মেডিসিন-এর চিকিৎসক নিলাদ্রি সরকার । হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দুটি ফুসফুসেই গভীর সংক্রমণ রয়েছে।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় । সংক্রমণ কতটা ছড়িয়েছে তা জানতে রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। পোর্টেবল চেস্ট এক্স-রে মেশিন নিয়ে আসা হয়েছে উডবার্ন ওয়ার্ডে। অক্সিজেন-এর পাশাপাশি নেবুলাইজার দেওয়া হচ্ছে শিল্পীকে ।

এবার FIR দায়ের হল জনপ্রিয় KHAN Sir এর বিরুদ্ধে

পটনার পত্রকার নগর থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধি র বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে জনপ্রিয় ইউটিউবার তথা শিক্ষক খান স্যারের বিরুদ্ধে।

পাটনার ‘খান স্যার’, যিনি দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়কে সহজ উপায়ে ব্যাখ্যা করেন প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের জন্য, তাঁর অনন্য শিক্ষাদানের কারণে তিনি ইউটিউব এ অত্যন্ত জনপ্রিয়।

খান স্যার

RRB পরিচালিত নন-টেকনিক্যাল পপুলার ক্যাটাগরি (NTPC) র পরীক্ষা ঘিরে যখন বিতর্ক তুঙ্গে তারই মধ্যে পটনার জনপ্রিয় ও সুপরিচিত শিক্ষক তথা ইউটিউবার খান স্যার সহ বেশ কিছু কোচিং সেন্টার এবং প্রায় ৪০০ জনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। খান স্যারের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের হিংসার প্ররোচণা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় পত্রকার নগর থানায় এই এফআইআর গুলি দায়ের করা হয়েছে

খান স্যার ছাড়াও বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টার এবং ৪০০ জনেরও বেশি অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজেন্দ্র নগর রেল টার্মিনাল এবং ভিকনা পাহাড়ীতে সহিংসতা চালানো এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এরই মাঝে বুধবারও হিংসা জারি ছিল পরীক্ষার্থীদের। জেহানাবাদ স্টেশনে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ভাগলপুরে ট্রেন আটকানোরও চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। গয়ায় একটি ট্রেনের বগি জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে বিক্ষোভ কারীদের বিরুদ্ধে ।

এদিকে বিক্ষোভের মুখে স্থগিত হয়ে যায় রেলে নিয়োগের পরীক্ষা। নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় চাকরি প্রার্থীদের সহিংস প্রতিবাদের পরে এনটিপিসি লেভেল ২ এবং গ্রুপ ডি লেভেল ১ পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় রেল কর্তৃপক্ষ। বুধবারই রেলের তরফে এই ঘোষণা করা হয়। রেলের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন রেলওয়ে নিয়োগ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ব্যর্থ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখবে এই কমিটি । তারপর কমিটি রেল মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।

NTPC ও GROUP D চাকরি প্রার্থীদের তুমুল বিক্ষোভ উত্তরপ্রদেশে, বিহারের একাধিক জায়গায় , ট্রেনে আগুন ধরানো হল গয়া স্টেশনে।

গয়া স্টেশনে ট্রেনে আগুন

রেলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে , রেল একটি কমিটি গঠন করেছে যারা চাকরী প্রার্থীদের অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখবে। আজ পটনা, নওয়াদা, মুজফফরনগর, সীতামাড়ি, বক্সার ও ভোজপুর জেলাতেও বিক্ষোভ হয়। 

চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল বিহারের একাধিক জায়গা। গয়া স্টেশনের সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভ কারীরা । ভাবুয়া-পাটনা ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের কামরায় লাগানো হয় আগুন। ২০১৯-এর বিজ্ঞপ্তিতে হওয়া NTPC পরীক্ষার ফল সংক্রান্ত অভিযোগে ঘিরে বিক্ষোভ চাকরিপ্রার্থীদের। ট্রেনে আগুন লাগিয়ে দিলেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। পুলিশের দিকে চলল ইটবৃষ্টি। বিক্ষোভকারীদের আটকাতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। জেহানাবাদেও চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে আজ চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভের জেরে ফেব্রুয়ারি মাসে হতে চলা রেলওয়ে গ্রুপ ডি ও NTPC র CBT2 পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছে রেল । বেনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তদন্তের জন্য রেল একটি কমিটিও গঠন করেছে। বিভিন্ন রেলওয়ে নিয়োগ বোর্ডের (আরআরবি) অধীনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ব্যর্থ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর এই কমিটি রেল মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।

পরীক্ষা নিয়ে বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশেও। প্রয়াগরাজে চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভ দেখালে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের খোঁজে হস্টেলেও পৌঁছে যায়। এদিকে এই ঘটনা নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গাঁধী ও সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গাঁধী মোদি সরকারকে কটাক্ষ করেছেন।

প্রয়াগরাজে বিক্ষোভ

অন্যদিকে, রেল এক নোটিশ জারি করে পরীক্ষার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, বিক্ষোভের সময় ভাঙচুর সহ অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপে জড়িতদের রেলের পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। 
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ২০১৯-এ আরআরবি-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী একটি মাত্র পরীক্ষারই উল্লেখ করা ছিল। তাঁরা রেলের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ করেছেন। পরীক্ষার ফল ১৫ জানুয়ারি ঘোষিত হওযার পর বিক্ষোভ সামনে আসে। রেল মন্ত্রক এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছিল যে, বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। সিবিটি-র প্রথম দফার পরীক্ষা সমস্ত চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সাধারণ পরীক্ষা ছিল। 

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়াতেও রেলমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ট্যাগ করে #ntpc scam, #no_cbt_2_in_group_d , #GroupD , #6 , #RRBNTPC লিখে বিক্ষোভ দেখানো হতে থাকে।

প্রসঙ্গত, 14 জানুয়ারি NTPC 35000টি পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষার (CBT-1) ফলাফল প্রকাশ করেছে। এতে 7,05,446 প্রার্থীকে CBT-2-এর জন্য বাছাই করে নেওয়া হয়েছে। এই ফলাফল ঘোষণার পরেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে একাধিক ক্ষেত্রে সফল ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে রেলওয়ে নিয়োগ বোর্ডের তরফে বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, গ্রুপ ডি এর CBT-1-এ উত্তীর্ণ প্রার্থীদের CBT-2-এ উপস্থিত হতে হবে। যেটি ২০১৯ সালে প্রকাশিত প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে বলা ছিল না। CBT-2 এর পরে PET এবং মেডিকেল হবে। পরীক্ষার্থীরা এতদিন জানতেন , CBT-1-এ পাশ করার পরেই তাঁদের PET দিতে হবে। যা নিয়েই এই বিরোধের সূচনা ।

চাকরির সুযোগ চাইল্ড লাইনে! নিয়োগ হবে এই জেলায়

মালদার হায়দরপুরের চাইল্ডলাইন সেন্টারে ‘সেন্টার কো-অর্ডিনেটর’ পদে চাকরির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

রাজ্যের মালদা জেলায় নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চাইল্ড লাইন সার্ভিসেস । সেন্টার কো-অর্ডিনেটর পদে নিয়োগ হবে। ইচ্ছুক চাকরিপ্রার্থীদের আগামী ২৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্দিষ্ট ঠিকানায় আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

মালদার হায়দরপুরের চাইল্ডলাইন সেন্টারে হবে এই নিয়োগ। সেন্টার কো-অর্ডিনেটর পদে চাকরির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

সেন্টার কো-অর্ডিনেটর


শিক্ষাগত যোগ্যতা: এই পদে চাকরির ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীদের মাস্টার্স ইন সোশ্যাল ওয়ার্কস (MSW) অথবা মাস্টার্স ইন হিউম্যানিটিজ/ চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট/ সাইকোলজি/ সমাজবিজ্ঞান/ গ্রামীণ উন্নয়নের ডিগ্রি থাকতে হবে। সঙ্গে ১ বা ২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা ও কম্পিউটার জ্ঞান থাকাটা আবশ্যিক। 

বয়স সীমা
এই পদে কাজের জন্য আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে হতে হবে। অন্যথায় তিনি আবেদন করতে পারবেন না।

আবেদন পদ্ধতি :
আগ্রহী প্রার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে তাদের বায়ো-ডেটা উমা রায় স্মৃতি জেলা প্রতিবন্দী পুনর্বাসন কেন্দ্র, উমা রায় সরণি(বাঘা যতীন ক্লাবের বিপরীতে), ২ নং গভর্নমেন্ট কলোনি, পি.ও. মোকদমপুর, মালদা জেলায় জমা দিতে পারেন। আগামী ২৯ জানুয়ারি দুপুর ১২ থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত এই আবেদনপত্র নেওয়া হবে।

বেতন ক্রম :
প্রার্থী বাছাই হলে নিয়োগের পর প্রতি মাসে ১৪,০০০ টাকা বেতন পাবেন নিযুক্ত। এই বিষয়ে বিশদে জানতে চাকরিপ্রার্থীকে মালদা জেলার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করতে হবে।

Official website of Haiderpur Shelter of Malda — https://www.malda.gov.in  

অরুণাচল সীমান্তে ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় , – ৪৪ ডিগ্রিতে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন

৭৩ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে প্রতিকূল পরিবেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দেশকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানালেন আইটিবিপি-র জওয়ানরা।

লাদাখ  থেকে অরুণাচল প্রদেশ  সীমান্ত অঞ্চল, যে স্থানের উচ্চতা প্রায় ১২ থেকে ১৭ হাজার ফুট, তাপমাত্রা যেখানে মাইনাস ৪৫ ডিগ্রিতে থাকে, কিন্তু এই প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দেশকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানালেন আইটিবিপি-র জওয়ানরা৷ দেশের ৭৩ তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা ভারত-তিব্বত সীমা পুলিশ দেশের তিরঙ্গা উত্তোলন করেন৷ ১২ হাজার ফুট থেকে ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ , উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ITBP জওয়ানরা ৷ যেখানে তখন তাপমাত্রা ছিল হিমাঙ্কের ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে ৷

ভারত-তিব্বত সীমা পুলিশ  (ITBP)  জওয়ানরা উত্তরাখণ্ডের মানা ঘাঁটিতে (যাকে ভারতের শেষ গ্রাম বলা হয়) ১১,০০০ ফুট উচ্চতায় প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করেন ৷

১৯৬২ সালে স্থাপিত আইটিবিপি  (ITBP) র হাতে রয়েছে ভারত-চিন সীমান্তে ৩৪৮৮ কিলোমিটার সুরক্ষার ভার। এরজন্য পার্বত্য এলাকার পাশাপাশি চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে যুঝতে হয় তাদের । আইটিবিপি  (ITBP) -র বাহাদুর জওয়ানরা হিমালয় ক্ষেত্রে নজরদারি রাখেন সারা দিন রাত ৷

রাষ্ট্রের জন্য  সদা জাগ্রত এই সুরক্ষাদল কিছুদিন আগেই ৫৯ তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করেছে৷ আইটিবিপি গত কয়েক বছরে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে ফার্স্ট রেসপন্ডার্স হিসেবে শতাধিক সফল সুরক্ষা অভিযান করেছে৷ স্থানীয় মানুষদের বিপদেও তাঁরা পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করেছে।

ক্রিস গেইলের ঘুম ভাঙল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তায় ! কী এমন ঘটল?

এদিন সকালে ভারতবাসীকে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে ট্যুইটারে গেইল লেখেন, ”আমি ভারতকে ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনেক শুভেচ্ছা । আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত মেসেজে আমার ঘুম ভাঙল।”

‘Universe Boss’ ক্রিস গেইল নামটা শুনলেই আমাদের কী মনে হয়? প্রায় সব মানুষের মনে আসবে, ক্রিকেট এর বাইশ গজে চার ছয়ের বন্যা । আইপিএল-এর দৌলতে ক্রিস গেইল এখন ভারতের ‘ঘরের ছেলে’। ভারতের প্রায় প্রতিটি ক্রিকেট শহরে তার অসংখ্য অনুরাগী। যদিও এবার আর তাকে ipl এর মাঠে পাওয়া যাবে না। এবার সেই ‘ঘরের ছেলে’র থেকেও ২৬ জানুয়ারির সকালে এল ভারতের ৭৩ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা। আর সেই প্রসঙ্গে গেইলের ট্যুইটে এল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথাও।

ক্রিস গেইলের টুইট

এ দেশের প্রতি গেইলের ভালোবাসা এর আগেও একাধিকবার দেখা গিয়েছে। এদিন ভারতবাসীকে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে গেইল লেখেন, ”আমি ভারতকে ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনেক শুভেচ্ছা জানাতে চাই। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত মেসেজে আমার ঘুম ভাঙল, যা ভারতের জনগণ এবং ওঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিচয়বাহক হয়ে রইল। ইউনিভার্স বসের তরফ থেকে অনেক শুভেচ্ছা এবং প্রচুর ভালবাসা।’

দেশ আজ পালন করছে ৭৩ তম প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৯৫০ সালের এই দিনেই ভারতের পবিত্র সংবিধান কার্যকর হয়। প্রতিবারের মতো এবারও এদিন দেশের প্রধান অনুষ্ঠানটি হয় দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি সহ বহু বিশিষ্ট মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পদ্ম সম্মান প্রত্যাখ্যান তিন বাঙালীর, সন্ধ্যা মুখার্জি, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এর পর এবার ইনিও

৭৩তম সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে এবারের পদ্মশ্রী সম্মান ফেরালেন তিন বর্ষীয়ান বাঙালী। এ বিষয়ে কি বললেন তারা?

প্রতি বারের মতো এবারও সাধারণ তন্ত্র দিবসের আগের দিন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া পদ্মশ্রী সম্মান ফিরিয়ে দিলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় । বর্তমানে তিনি শারীরিক ভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। পদ্ম পুরস্কার ঘোষণার মাত্র এক দিন আগে তাঁকে জানানো হয়, তিনি পদ্মশ্রী পাচ্ছেন। এই গোটা বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত অপমানজনক বলে মনে হয়েছে বলে জানান সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় , তাই এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী ।

সূত্রের খবর , কেন্দ্রীয় সরকার আগে থেকে কিছু জানায়নি। পুরস্কার প্রদানের মাত্র এক দিন আগে ফোনে যেভাবে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয় শিল্পীর কাছে, তা অত্যন্ত অসম্মানজনক মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় কে সোমবার কেন্দ্রের তরফে ফোন করা হয়। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ এবং শয্যাশায়ী । কোনওরকমে টেলিফোনে কথা বলেন। এই প্রসঙ্গে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ফোনের ওপ্রান্ত থেকে গায়িকাকে হিন্দিতে বলা হয়, আগামিকাল আপনাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করতে চাই। আপনি যদি নেন, তাহলে তালিকায় অন্যান্য পদ্ম-পুরস্কার প্রাপকদের সঙ্গে আপনার নামও ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। এহেন কথা শুনে গায়িকা প্রথমটায় হতবাক হয়ে যান।

বিবৃতিতে সন্ধাদেবী জানিয়েছেন, পদ্ম-সম্মানে ভূষিত করার মাত্র একদিন আগে ফোনে জানানোটা কোনও প্রথা হতে পারে বলে তাঁর জানা ছিল না। শুধুমাত্র তাই নয়, তাঁর সমসাময়িকরা যেখানে যোগ্য কারণেই কেউ ভারতরত্ন, কেউ পদ্মবিভূষণ, অন্তত পদ্মভূষণ, সেখানে তাকে কিনা দেওয়া হচ্ছে পদ্মশ্রী!‌ সন্ধ্যাদেবীর আরও খারাপ লেগেছিল একেবারে শেষলগ্নে এমন প্রস্তাবের ধরনে। তৎক্ষণাৎ তিনি জানিয়ে দেন, এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটি তিনি দিল্লির আমলাকে বলেন তা হল, ‘একটা কথা জেনে রাখুন। আমার শ্রোতারাই আমার পুরস্কার।’‌ অভিমানী সন্ধ্যা বলছেন, ‘‌নব্বই বছর বয়সে এভাবে অপমান করল?‌ এভাবে শেষ মুহূর্তে পুরস্কারের প্রস্তাব দিচ্ছে!‌ অসংখ্য বাণিজ্যিক ছবির গানের পাশাপাশি একাধিক ক্লাসিক্যাল রেকর্ড রয়েছে আমার। একজন ক্লাসিক্যাল শিল্পীও বটে। উস্তাদ গুলাম আলি খানের কাছে গান শিখেছি। উস্তাদ আমির খানের কাছে তালিম নিয়েছি। একজন ক্ল্যাসিক্যাল শিল্পীকে পদ্ম পুরস্কারের জন্য এভাবে প্রস্তাব দেওয়া যায়!‌’‌

এর আগে ১৯৮৭ সালে পদ্মশ্রী ফিরিয়ে দিয়েছিলেন আরেক প্রবাদ প্রতিম কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, এবার ঠিক তেমনটিই করলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। অপমানিত ও অসম্মানিত হয়ে ফিরিয়ে দিলেন পদ্মশ্রী সম্মান। ১৯৮৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেওয়া পদ্মশ্রী সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।

পদ্মভূষণ ফেরালেন পশ্চিম বঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

এছাড়াও , কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া পদ্মভূষণ পুরস্কার ফিরিয়ে দিলেন পশ্চিম বঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ।গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে সামাজিক এবং জনসেবামূলক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে সম্মানিত করার কথা জানানো হয়েছিল একেবারে শেষলগ্নে ৷ বুদ্ধদেববাবুও অনেকদিন ধরেই অত্যন্ত অসুস্থ । পুরস্কার ফেরানো নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য । তিনি জানিয়েছেন, ‘পদ্মভূষণ পুরস্কার নিয়ে আমি কিছুই জানি না, আমাকে এই নিয়ে কেউ কিছু বলেনি। যদি আমাকে পদ্মভূষণ পুরস্কার দিয়ে থাকে তাহলে আমি তা প্রত্যাখ্যান করছি।’

এবার ‘পদ্মশ্রী’ প্রত্যাখ্যান সঙ্গীত শিল্পী পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যাযেরও

অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি গানবাজনা করে আজ এই জায়গায় এসেছি। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত আবদুল কালাম সাহেব আমার গানের ভক্ত ছিলেন। আমাকে সঙ্গীত অ্যাকাডেমি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে আজ থেকে ২২ বছর আগে। তাই আমি আমাকে ঠিকমতো সন্মান দেওয়া হয়নি, সেই জন্যই ‘পদ্মশ্রী’ প্রত্যাখ্যান করছি। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে পদ্মশ্রী গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ফোন এসেছিল , তবে তিনি তা গ্রহণ করছেন না।

পদ্মশ্রী সম্মান প্রত্যাখ্যান করার কারণ জানতে চেয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তাঁর সারা জীবনে যা কিছু কাজ তার সমস্ত নথি রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের দপ্তরে। সেখানে সকলেই তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মান প্রদানের কথা বলেছেন। সেখানে তাঁকে এতো বছর বাদে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়ায় তিনি আহত ও অসম্মানীত বোধ করেছেন। তাই তিনি এই সন্মান গ্রহণ করছেন না।

শুধু অম্বেদকর-ভগৎ সিংহের ছবিই থাকবে সরকারি দফতরে,ঘোষণা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আজ ঘোষণা করেছেন,কোনো সরকারি দফতরে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর ছবিও ঝোলানো যাবে না,পরিবর্তে থাকবে ড: বি.আর.আম্বেদকর ও বিপ্লবী ভগৎ সিং এর ছবি।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল

দিল্লির সরকারি দফতরগুলিতে শুধুমাত্র বাবাসাহেব অম্বেডকর এবং ভগৎ সিংহের ছবি ঝোলানোর নির্দেশ দিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল । প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গেলবার দিল্লি সরকারের বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল। সেখানেই কেজরিওয়াল ঘোষণা করেন, সরকারি দফতরে ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীর ছবিও ঝোলানো যাবে না।

এ দিন বক্তৃতা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল নিজেকে অম্বেডকরের আদর্শে অনুপ্রাণিত বলে দাবি করে জানান, দলিত পরিবারে জন্মানো অম্বেডকর দেশের সংবিধানের রচনা করেছিলেন। ভগৎ সিংহ ছিলেন বিপ্লবী, স্বাধীনতা সংগ্রামী। কিন্তু ভিন্ন ক্ষেত্র থেকে উঠে এলেও তাঁদের লক্ষ্য ছিল একই। 

আম্বেদকর এবং ভগৎ সিং

দিল্লির সরকারি দফতরে ছবি ঝোলানোর নয়া নীতি ঘোষণা করতে গিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘‘আজ আমি ঘোষণা করছি যে, দিল্লি সরকারের প্রত্যেক দফতরে  বাবাসাহেব অম্বেডকর এবং শহিদ-ই-আজম ভগৎ সিংহের ছবিই ঝোলানো থাকবে। তাঁদের নীতি এবং আদর্শ মেনেই কাজ করবে আমাদের সরকার। কোনও রাজনীতিকের ছবি থাকবে না সরকারি দফতরে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর ছবিও সেখানে স্থান পাবে না।’’

বাবাসাহেব অম্বেডকরের কথা বলতে গিয়ে কেজরিওয়াল জানান, আজ থেকে ১০০ বছর আগে কোনো ইন্টারনেট ছিল না। সেই সময় অম্বেডকর কী ভাবে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করলেন, লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিকস-এই বা কী ভাবে তিনি যাওয়ার সুযোগ পেলেন, তা ভেবে আশ্চর্য হন তিনি।  কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, দেশের সংবিধান রচনায় অতিগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অম্বেডকর। তিনি ছিলেন দেশের প্রথম আইনমন্ত্রীও। শিশুদের উচ্চমানের শিক্ষাপ্রদানের স্বপ্ন দেখেছিলেন বাবাসাহেব।কিন্তু স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

কিছুদিনের মধ্যেই পাঞ্জাব-সহ একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। বিভিন্ন সমীক্ষায় পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির ভালো ফলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।ক্ষমতায় এলে পাঞ্জাবেও উচ্চমানের শিক্ষায় জোর দেওয়ার কথা বলেন কেজরিওয়াল। তার সরকারের আমলে দিল্লির সরকারি বিদ্যালয় গুলিরও যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রত্যেক শিশু উন্নত মানের শিক্ষা পেলে তবেই ভারত শীর্ষে উঠে আসবে। নির্বাচনে যতই লম্বা-চওড়া প্রতিশ্রুতি দেওয়া হোক না কেন, শিক্ষার কোনও শর্টকাট হয় না। আমাদের পরিশ্রম করতে হবে এবং  প্রত্যেক শিশুকে শিক্ষার আলোর আলোকিত করতে হবে।’’

মঙ্গল গ্রহ কি তবে সক্রিয়! মঙ্গলে ‘পাথরের চলন’ দেখে আশ্চর্য বিজ্ঞানীরা!

লালগ্রহে গড়িয়ে গড়িয়ে চলেছে নানা মাপের পাথর।যার ফলে মাটিতে তৈরি হয়েছে V আকৃতির রেখা।কিন্তু কেন? কি বলছেন বিজ্ঞানীরা?

বড় বড় পাথর নড়েচড়ে বেড়াচ্ছে মঙ্গলপৃষ্ঠে। দেখে আশ্চর্য বিজ্ঞানীরা! তাঁরা বলছেন, লালগ্রহ এখন জীবন্ত!

সম্প্রতি মঙ্গল গ্রহের মাটিতে লাল রংয়ের বড় বড় কিছু পাথরকে গড়িয়ে গড়িয়ে চলতে দেখা গেছে। আহমেদাবাদের ‘দ্য ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি’র বিজ্ঞানীরা মঙ্গল এর মাটিতে নড়তে-চড়তে থাকা পাথরখণ্ড দেখে একইসঙ্গে বিস্মিত ও আশান্বিত। তাঁদের একাংশের প্রাথমিক অনুমান, লালগ্রহে মানব-প্রেরিত রোভার ইত্যাদি যন্ত্রের চলাচলের কারণে নড়েচড়ে যেতেই পারে মঙ্গলপৃষ্ঠের পাথরখণ্ড। তবে তাঁদের সার্বিক সিদ্ধান্ত যে – এর পিছনে রয়েছে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক শক্তি।

মানুষের অনেক দিন ধরেই ভাবনায় রয়েছে যে, কোনও একদিন তারা মঙ্গলে বসতি গড়বে, লালগ্রহ হবে বিশ্ববাসীর ‘সেকেন্ড হোম’ । সেই ভাবনা এর ফলে আরও পোক্ত হতে চলেছে বলেই তাঁদের মত । তবে সাম্প্রতিক সময়ে মঙ্গলে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পও হয়েছে। তার কারণেও কোথাও কোথাও এই ওলট-পালটের চিহ্ন তৈরি হতে পারে। আহমেদাবাদের ‘দ্য ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি’র বিজ্ঞানী এই সূত্রে ড. এস বিজয়ন জানান, মঙ্গল এখন সক্রিয়!

যখন ভারী পাথর সচল হয়ে গড়িয়ে চলে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই তার প্রত্যেক আঘাতে মঙ্গলপৃষ্ঠ এর উপরের নরম মাটির স্তর, (রেগলিথ) এর উপর দাগ পড়ে।

এবারে যেমন মঙ্গলপৃষ্ঠে ‘V’ আকৃতির একটা রেখা দেখা গিয়েছে। প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা জুড়ে ৪,৫০০ এরকম রেখা ধরা পড়েছে। বিজ্ঞানীরা ওই ট্র্যাকগুলির প্রসঙ্গে বলেছেন, এর অর্থ, সম্প্রতি গ্রহটি প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। মঙ্গলের যে-অংশে এগুলি ধরা পড়েছে, তার নাম ‘সারবিরাস ফসা’।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গলগাত্রে এরকম অনেক দাগ ধরা পড়ে। কিছু দাগ তো কয়েক দশকের পুরনো। কিছু দাগ মুছে যায়। নতুন দাগ তৈরি হয়। এই ট্র্যাক দেখে বোঝা গিয়েছে, এগুলি সম্প্রতিক। 

ইউরোপীয় মহাদেশে কি শেষের পথে করোনা অতিমারী? ইঙ্গিত WHO-র

WHO ইউরোপীয় ডিরেক্টর হান্স ক্লুগ বলছেন, ওমিক্রনের চলতি যে ঢেউ সমগ্র ইউরোপে দাপট দেখাচ্ছে, তার প্রকোপ কমলে আগামী কয়েক সপ্তাহ ও কয়েকমাস একটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকবে।

ওমিক্রন প্রজাতি কি বিদায় ঘণ্টা বাজাবে করোনা অতিমারীর? এইরকমই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় ডিরেক্টর হ্যান্স ক্লুগ। রবিবার তিনি বলেছেন,  ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট কোভিড-১৯ অতিমারীকে একটা নয়া পর্যায়ে নিয়ে গেছে এবং তা ইউরোপে কোভিড অতিমারীর বিদায় ডেকে আনতে পারে।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় ডিরেক্টর হ্যান্স ক্লুগ সংবাদসংস্থাকে বলেছেন, এই অঞ্চল হয়তো অতিমারীর শেষের শুরুর দিকে এগোচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন, আগামী মার্চের মধ্যে ইউরোপে ৬০ শতাংশ মানুষই ওমিক্রন আক্রান্ত হতে পারেন। 

হান্স আরো বলেছেন, ওমিক্রনের চলতি যে ঢেউ সমগ্র ইউরোপে দাপট দেখাচ্ছে, তার প্রকোপ কমলে আগামী কয়েকমাস মানুষ এর মধ্যে একটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকবে। এর কারণ ভ্যাকসিন বা সংক্রমণের কারণে গড়ে ওঠা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।  তিনি বলেছেন, এরপর বছরের শেষ দিকে কোভিড-১৯ ফিরে আসতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে অতিমারীও ফিরে আসবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে একই ধরনের আশা প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফাউসি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, আমেরিকার বিভিন্ন অংশ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেকটাই কমেছে, যা খুবই ভালো লক্ষণ। তবে এ ব্যাপারে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, আমেরিকার উত্তর-পূর্বে আক্রান্তের সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে যে কমছে, সেই ধারা অব্যাহত থাকলে, সারা দেশেই ঘুরে দাঁড়ানোর পর্ব দেখা যেতে পারে।

 WHO এর আফ্রিকা আঞ্চলিক অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। ওমিক্রনের ফলে যে চতুর্থ ঢেউ শুরু হয়েছিল, তারপর থেকে প্রথমবার মৃতের সংখ্যাও কমছে আফ্রিকার দেশ গুলিতে। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট। কিন্তু টিকাপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে এর উপসর্গ তুলনায় কম গুরুতর। এই ওমিক্রণের দাপটের পর আশা জেগেছে যে, কোভিড ১৯ এরপর অতিমারী এনডেমিক অসুস্থতা বা সিজনাল ফ্লুতে রূপান্তরিত হতে পারে।  

ক্লুগ অবশ্য এখনও কোভিড ১৯-কে এন্ডেমিক হিসেবে বিবেচনা করা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু করোনাভাইরাস বেশ কয়েকবারই আমাদের বিস্মিত করেছে। তাই খুবই সতর্ক থাকতে হবে। তিনি একইসঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ওমিক্রন এত ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে, ফলে এর অন্য ভ্যারিয়েন্টও উঠে আসতে পারে। 

ডিফেন্স রিসার্চ সেন্টার (DRDO) এ চাকরির সুযোগ!

DRDO (RCI): ১৫০টি পদে নিয়োগ করছে DRDO Research Centre Imarat (RCI)। গ্র্যাজুয়েট অ্যাপ্রেন্টিস , ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস, ডিপ্লোমা অ্যাপ্রেন্টিসদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য নিয়োগ করা হবে।

সব মিলিয়ে ১৫০টি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে DRDO Research Centre Imarat (RCI)। গ্র্যাজুয়েট অ্যাপ্রেন্টিস , ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস, ডিপ্লোমা অ্যাপ্রেন্টিসদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য নিয়োগে করা হবে। RCI আসলে DRDO-র এপিজে আব্দুল কালাম মিসাইল কমপ্লেক্সের ল্যাবরেটরি। চাকরিপ্রার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমেই আবেদন করতে হবে।

GRADUATE APPRENTICE – শূণ্যপদ-৪০
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এই পদে আবেদনের ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীর B.E/ B.Tech (in ECE, EEE, CSE, Mechanical, Chemical)/ B.Com/ B.Sc ডিগ্রি থাকতে হবে। 

TECHNICIAN (DIPLOMA) APPRENTICE – শূণ্যপদ-৬০
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এই পদে আবেদনের ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীর মেকানিক্যাল ও কেমিক্যালে ECE, EEE, CSE উত্তীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।

TRADE APPRENTICE – শূণ্যপদ-৫০
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এই পদে আবেদনের ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীর আইটিআই পাশ আউট (এনসিভিটি/ এসসিভিটি স্বীকৃত) (ফিটার, টার্নার, ইলেকট্রিশিয়ান, ইলেকট্রনিক্স, মেকানিক ও ওয়েল্ডার)-এর শংসাপত্র থাকতে হবে।

যে প্রার্থীরা ‘রেগুলার কোর্স’ এ পরীক্ষা দিয়েছেন (স্নাতক, ডিপ্লোমা ও আইটিআই ট্রেড শিক্ষানবিশ 2019, 2020 ও 2021) সম্পন্ন করেছেন , কেবলমাত্র তারাই আবেদন করতে পারবেন।

Research Centre Imarat (RCI) : প্রার্থী বাছাই পদ্ধতি:
চাকরিপ্রার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষাগত মেধা/লিখিত পরীক্ষা/সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে।

পরীক্ষার/ইন্টারভিউয়ের সঠিক তারিখ, 
সময় ও স্থান যথাসময়ে যোগ্য প্রার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। সকল তথ্য DRDO (RCI) এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে – https://rcilab.in 

কীভাবে আবেদন করবেন ?
আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরাই কেবল DRDO-রিসার্চ সেন্টার ইমারত (RCI)-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন – https://rcilab.in  চাকরিপ্রার্থীদের আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। 

APPRENTICE বেতন কাঠামো:

GRADUATE APPRENTICE: ৯০০০/-প্রতি মাসে।

TECHNICIAN (DIPLOMA) APPRENTICE: ৮০০০/- প্রতি মাসে

TRADE APPRENTICE: সরকারি কাঠামো অনুযায়ী স্টাইপেন্ড পাবেন।

Official website of DRDO-Research Centre Imarat (RCI) — https://rcilab.in 

মহামারী বাঁচিয়ে দিল বহু মানুষকে!

এক ভয়ংকর করোনা মহামারীতে সারা বিশ্ব আজ যখন বিপর্যস্ত, তখন সাত দশক আগে আরেক মহামারী প্রাণ বাঁচিয়ে দিয়েছিল বেশকিছু মৃত্যুপথযাত্রী মানুষকে।

সালটা 1943।রোম তখন নাৎসি জার্মানির দখলে।রোমে পাশ হচ্ছে একের পর এক ইহুদি বিরোধী বিধি নিষেধ।মুসোলিনির ইতালিয়ান সোস্যাল রিপাবলিক চলছে হিটলারের আঙ্গুলিহেননে। ফলে রোমান ইহুদি দের উপর শুরু করেছে অমানুষিক নির্যাতন, দমন পীড়ন,হত্যা। আর এইসব কিছুই রোমে ছড়িয়ে দিলো ‘কে সিনড্রোম’ নামক এক মহামারী।

রোগের প্রাণকেন্দ্র রোমের এক ছোট্ট দ্বীপ টিবার আইল্যান্ড এর ‘হাসপাতাল ফাতেবেনেফ্রাতেল্লি’। হাসপাতালে কে সিন্ড্রোম মহামারীর প্রধান চিকিৎসক জিওভানি বোরোমেও, ভিত্তরিও ইমানুয়েল সাচেরদোতি এবং অদ্রিয়ান ওসিসিনি।

টিবার আইল্যান্ড এর ‘হাসপাতাল ফাতেবেনেফ্রাতেল্লি’

1943 সালের 16ই অক্টোবর নাৎসিরা এক কুখ্যাত অভিযানে হাসপাতাল ফাতেবেনেফ্রাতেল্লি র ঠিক উল্টো দিকে অবস্থিত এক ইহুদি বন্দিশিবির থেকে একের পর এক ইহুদি নর নারী শিশুকে টেনে হিঁচড়ে বের করে ট্রাকে তুলছে।সেদিন মোট 1261 জন ইহুদিকে গেস্টাপরা তুলে নিয়ে যায় কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে।

নাৎসি ট্রাকে বন্দি ইহুদিগণ

হাসপাতালের সামনে তখন এই দৃশ্য দেখে রাগে ফুসছেন তীব্র ফ্যাসিবাদ বিরোধী ড: অদ্রিয়ানো।বাইরে প্রবল গোলমাল শুনে হাসপাতালের ভিতরের লোকজন জমা হয়েছে হাসপাতালের খোলা প্রাঙ্গণে।প্রবল হৈ হট্টগোল এর সুযোগে কয়েকজন ইহুদি প্রাণ বাঁচাতে ট্রাক থেকে নেমে ভিড়ের মধ্যে মিশে ঢুকে পড়েছে হাসপাতালের ভিতরে। কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না অদ্রিয়ানো ও তার সহকর্মী গিউলিও সাল্লা। অবশেষে তারা সিদ্ধান্ত নিলেন , যে ভাবেই হোক হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া মানুষ গুলির প্রাণ বাঁচাবেন। তখন তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন হাসপাতালে র প্রধান চিকিৎসক জিওভানি বোরোমেও । তারা বেশকিছু মানুষকে লুকিয়ে লুকিয়ে ঢুকিয়ে নিলেন হাসপাতালের ভিতরে।

ভিত্তরিও ইমানুয়েল সাচেরদোতি

এইদিন যতজন ইহুদি পালিয়ে হাসপাতালে ঢুকলেন,সাময়িক ভাবে তাদের সকলকে একটি ওয়ার্ডের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হলেও বোরোমেও জানতেন নাৎসিদের চোখে ধুলো দিয়ে বেশিদিন এদের নিরাপদে রাখা যাবে না।

জিওভানি বোরোমেও

তখনই আগমন ঘটল এই অদ্ভুত মারনরোগ যার নাম ‘কে সিন্ড্রোম’। নাৎসিবাহিনীর হাত থেকে আশ্রিত দের বাঁচাতে এক আশ্চর্য পরিকল্পনা করলেন বোরোমেও। তিনি প্রচার করলেন একটি অতি সংক্রামক মারন রোগ নতুন করে ফিরে এসেছে। এর উপসর্গ আরো আশ্চর্যের – খিঁচুনি,স্মৃতি হারানো,প্রবল কাশি এবং শেষে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে মৃত্যু। এই হাসপাতালে ‘কে ওয়ার্ড’ এ যারা ভর্তি আছে ,তারা প্রত্যেকে এই কে সিন্ড্রোম নামক বিরল রোগাক্রান্ত।

অদ্রিয়ান ওসিসিনি

‘কে সিন্ড্রোম’ নামটির মধ্যে লুকিয়ে আছে এক তীব্র শ্লেষ ও বিদ্রুপ। ‘কে’ শব্দ টি এসেছিল নাৎসি সেনাপ্রধান কেসেলরিং এবং পুলিশ অধিকর্তা কেপলার এর নামের আদ্যক্ষর থেকে।এই দুই নরপিশাচ বহু ইহুদিকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল। তাই তাদের বিদ্রুপ করতেই এই রোগের এমন নামকরণ। প্রাণ বাঁচাতে যখন কোনো ইহুদি এই হাসপাতালে আশ্রয় নিত,তখন তাদের নামে ভুয়ো কাগজ পত্র তৈরি করে অসুখ হিসাবে লেখা হত কে সিন্ড্রোম। এই সময় পালিয়ে আসা সাধারণ ইহুদি দের পাশাপাশি ইতালির বহু ফ্যাসিবাদ বিরোধী স্বাধীনতাকামী বিশিষ্ট মানুষ হাসপাতাল ফাতেবেনেফ্রাতেল্লিতে আশ্রয় নেন।

কে ওয়ার্ড

এভাবেই চলতে থাকে সব কিছু। কিন্তু একদিন এক ডবল এজেন্ট এর মাধ্যমে খবর এল নাৎসিরা হাসপাতালে তল্লাশি চালাতে আসছে। দ্রুত হাসপাতালের বেসমেন্টে বসানো গোপন রেডিও ট্রান্সমিটার টিবার নদীর জলে ফেলে দেওয়া হলো।

যথা সময়ে নাৎসিবাহিনী এসে পুরো হাসপাতালে তল্লাশি চালিয়ে কিছু না পেয়ে এসে হাজির হলো কে ওয়ার্ডের সামনে। ওয়ার্ডের আশ্রিতদের আগেই সাবধান করে বলে দেওয়া হয়ে ছিল নাৎসিরা এলে তারা যেন ক্রমাগত কেশে যেতে থাকে,গলা দিয়ে বিকৃত আওয়াজ করতে থাকে। নাৎসিরা দরজার কাছে এলে ড: বোরোমেও শীতল গলায় তাদের বলেন ভিতরে যারা আছে , তারা সবাই বিরল অতি ছোঁয়াচে কে সিন্ড্রোম এ আক্রান্ত। একজনও ভিতরে ঢুকলে এই রোগ পুরো নাৎসি বাহিনীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে মড়ক ডেকে আনবে। ঘরের ভেতর থেকে নানান বিকৃত কণ্ঠস্বর , চিকিৎসকদের সতর্কবাণী -এই সবকিছু মিলিয়ে নাৎসিরা প্রবল আতঙ্কিত হয়ে ইঁদুরের মতো হাসপাতাল ত্যাগ করলো।

এরপর আর কোনোদিন মহামারীর কবলে পড়ার ভয়ে কে ওয়ার্ডের ধারেকাছে ঘেঁষেনি। সময় সুযোগ মতো হাসপাতাল থেকে আশ্রিত ইহুদি নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।

আর প্রবল প্রাণসংশয় এর মধ্যেও ইহুদিদের রক্ষার কাজ করে গিয়েছেন তিন অসম সাহসী চিকিৎসক- জিওভানি বোরোমেও, ভিত্তরিও ইমানুয়েল সাচেরদোতি এবং অদ্রিয়ান ওসিসিনি। যারা মানবতাকে সবার উপরে স্থান দিয়েছিলেন।

তিন মানবদরদী চিকিৎসক

কে সিন্ড্রোম বলে বাস্তবে কোনো রোগই ছিল না।পুরোটাই ছিলো তিন চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এর তরফ থেকে ছড়ানো গুজব,যার একমাত্র কারণ নাৎসিদের হাত থেকে ইহুদি মানুষ এর প্রাণ বাঁচানো। সেই প্রথম কোনো এক মহামারী বাঁচিয়ে দিয়েছিল বহু সাধারণ মানুষকে।

ইউরোপের কোলকাতাhttps://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-8577032642637015

কোলকাতা যখন ইউরোপে

আমরা বাঙালিরা বরাবরই বড়সড় ভোজন রসিক। সে মাছভাত , মাংস ভাত বা মায়ের হাতের রান্না থেকে 5স্টার হোটেলের নামিদামি খাবার হোক শেষ পাতে যদি একটু মিষ্টি মুখ না হলে আমাদের মনটা ঠিক ভরে ওঠে না। নতুন প্রজন্মের আগমন থেকে পুরোনো প্রজন্মের পরোলোক গমন সবকিছুতে মিষ্টি ব্যাপার টা কমন।

বাংলার মিষ্টি ভারত তথা সারা বিশ্বে জনপ্রিয়, শক্তিগড়ের ল্যাংচা, জয়নগরের মোয়া, নবদ্বীপের লালদই বা বাংলার রসগোল্লা এই সমস্ত মিষ্টি প্রত্যেক বাঙালির আবেগ।

ইউরোপের দেশ নরওয়ে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত , সাধারণত নরওয়ে দেশটির নাম শুনলেই আমাদের মনে একটি কথাই আসে যে দেশে পৃথিবীর সবচেয়ে দিন ও সবচেয়ে বড় রাত্রি দেখা যায় যেখানে। প্রবল ঠান্ডার এই দেশের মানুষের নেশা গুলির মধ্যে অন্যতম বই পড়া এবং মিষ্টি খাওয়া।

মিষ্টির প্রতি নির্ভেজাল প্রেম থাকার জন্য এই দেশ টিকে কোলকাতার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

‘কৃত্রিম সূর্য’ এর পর ‘কৃত্রিম চাঁদ’, আকাশে ‘মেড ইন চায়না’

কিছুমাস আগেই ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরি করে মহাকাশ গবেষণায় শোরগোল ফেলেছিল শি জিংপিং এর চীন।এবার চীন তৈরি করে ফেলল ‘কৃত্রিম চাঁদ’।

মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের ছাপ স্পষ্ট করতে প্রবল তৎপর চীন। কয়েক মাস আগে তারা বানিয়েছিল কৃত্রিম সূর্য, এবার তারা বানিয়ে ফেলেছে কৃত্রিম চাঁদ। তবে সেখানে মাধ্যাকর্ষণ নেই,রয়েছে চুম্বকীয় শক্তি। শক্তিশালী চৌম্বকীয় ভ্যাকুয়াম চেম্বার রয়েছে সেখানে।

দুই ফুট ব্যাসের এই নকল চাঁদে আসল চাঁদের মতো আবহাওয়া তৈরি করতেই এই ব্যবস্থা। নকল চাঁদে রয়েছে ধূলো, পাথরও যার মাধ্যমে আর্টিফিশিয়াল গ্রাভিটির লেভিটেশন কেমন হয়, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

চাঁদে মানুষের বসতি স্থাপন করা যায় কিনা,তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভাবনা চিন্তা শুরু করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।এর আগে নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের কাজও শুরু করে চীন। নকল চাঁদের এই পরীক্ষা সফল হলে তার ভিত্তিতেই চীন চাঁদে মানুষ পাঠানোর কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে।চাপ ও তাপমাত্রা পরীক্ষা করা যাবে এই নকল চাঁদে।

চেংদু শহরের মাথায় জ্বলজ্বল করবে নকল চাঁদ। চীনের লুনার রোভার চাংগায়ের পরবর্তী চন্দ্র মিশনে এটিকে পাঠানো হবে। 2019 ও 2020 সালে যথাক্রমে চাঙ্গাই – 4 ও চাঙ্গাই- 5 কে মহাকাশে পাঠিয়ে ছিল চীন।

চাঁদের মাটিতে মহাকাসচারী পাঠানোই পাখির চোখ চীনের। 2030 সালের মধ্যেই তা সম্পন্ন করতে চায় শি জিংপিং এর দেশ। সেই দিকে দৃষ্টি দিতেই এই নকল চাঁদের ভাবনা ও বাস্তবায়ন।

আধার সেবা কেন্দ্রে সাক্ষাতের সময় বুকিং

আজকাল সমস্ত কাজে আধার কার্ড প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে, সে ব্যাঙ্ক,পরিক্ষার ফর্ম বা রেলের টিকিট প্রতিটি ক্ষেত্রে আধার কার্ড আপনার প্রধান পরিচয় পত্র হিসেবে ব্যবহার হয়। ভারতবর্ষে দিনে দিনে যত আধার কার্ড তৈরি হয়েছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হয়েছে আধার কার্ডে ভুল, আর এই সমস্ত ভুল সংশোধন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কে প্রতিদিন নিত্যনতুন হয়রানির স্বীকার হতে হয়েছে। যার জন্য সাধারণ মানুষের টাকা ও সময় সমান ভাবে খরচ হলেও মেলেনি কোন পথ।

আধার কার্ড সংশোধন আমরা আমাদের হাতের মোবাইল থেকেও করতে পারি, যদি আধার কার্ডের সাথে আমাদের মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করা থাকে। আর যদি মোবাইল নম্বর লিঙ্ক না করা থাকে তাহলে আমাদের যেতে হবে নিকটবর্তী “আধার সেবা কেন্দ্রে” যার জন্য আমাদের বুকিং করতে হবে সাক্ষাতের সময়।

কেমন করে বুকিং করবেন তার বিবরণ দেওয়া হল

প্রথমে google আপনাকে ভারত সরকারের দ্বারা পরিচালিত আধার সেবা কেন্দ্রের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট WWW.UIDAI. GOV. IN খুলতে হবে

আপনি আপনার কন্টাক্ট নম্বর OTP এর মাধ্যমে ভেরিফাই করে নেবেন। এবং আপনার নিকটবর্তী আধার সেবা কেন্দ্র পছন্দ করতে পারবেন

আপনাকে বেছে নিতে হবে আপনি আধার কার্ডের কোন কোন বিষয় গুলি সংশোধন করতে চান এবং আপনার নিজস্ব পরিচয় সেই পেজে লিখবেন। আপনার যদি নিজস্ব কোন পরিচয় প্রমাণপত্র না থাকে তাহলে আপনাকে “documents verification “এর জায়গায় HOF( head of the family) অপশনটি বেছে নিতে হবে।

এরপর আপনার ঠিকানা পরিচয় এবং আপনার নিকটবর্তী আধার কেন্দ্র এই coloum গুলো আরও একবার পূরণ করতে হবে।

এরপর আপনার সামনে চলে আসবে একটি ক্যালেন্ডার যেখানে আপনি আপনার পছন্দ মত ডেট ঠিক করতে পারবেন

এরপর আপনার পরিচয় পত্র পুনরায় যাচাই করে submit করলেই আপনার কাছে confirmation মেসেজ চলে আসবে।

আধার কার্ড update এর খরচ

বাচ্চাদের কোভিড ভ্যাকসিনhttps://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-8577032642637015

বাচ্চাদের কোভিড ভ্যাকসিন নেওয়ার কার্য কারিতা, প্রয়োজনীয়তা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও তার সমাধান।

কার্য কারিতা

আমরা জানি কেন্দ্র সরকার বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কর্মসূচি ইতি মধ্যেই চালু করে দিয়েছে। ৩রা জানুয়ারি থেকে ১৪-১৫ বছর বয়সী বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে।

World Health Organization (WHO) covaxin কে অনুমোদন করেছে যে covaxin নিরাপদ ও কার্যকরী। আমাদের সরকার এও জানিয়েছেন যে ২০০৭ সালের আগে যাদের জন্ম তারা সকলেই covaxin এর দুটো ডোজ ই নিতে পারবে। বাচ্চাদের বাবা-মায়েরা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারেন।

বাচ্চাদের ভ্যাকসিন নেওয়া প্রয়োজন কেন

অনেক মা-বাবাদের মধ্যে একটি প্রশ্ন আসছে যে, আমাদের যেই বাচ্চাদের করোনার প্রথম এবং দ্বিতীয় ওয়েভে কোনো কিছুর প্রভাব পরেনি তাহলে সেই বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দেবে কেন ……

আমরা জানি বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বেশি বড়ো দের থেকে। ভারতবর্ষের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রায় ৫০% বাচ্চার রক্তে কোভিড অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে মানে তাদের সংক্রমণ হয়েছিল। সে সংক্রমণ হয়তো উপসর্গবিহীন নয়তো হালকা সংক্রমণ।

আবার কিছু কিছু বাচ্চার মধ্যে এই সংক্রমণ মারাত্মক ভাবে প্রভাব ফেলেছিল। ২-৩% বাচ্চাদের এই সংক্রমণ হয়েছিল যাকে বলে MIS-C (Multisystem Inflammatory Syndrome in Children) এর লক্ষন সরূপ বাচ্চাদের হালকা জ্জ্বর, rash, glandফুলে যাওয়া এমনকি ventilation পর্যন্ত ও পৌছেছিল।

◾️বাচ্চাদের মধ্যে যেহেতু সংক্রমণ উপসর্গবিহীন থাকছে সেহেতু তারা যখন বাড়ির বড়দের সংস্পর্শে আসছে অথবা কম immunity সম্পন্ন মানুষের কাছাকাছি আসছে বাচ্চাদের থেকে বড়োদের হওয়ার সুযোগ বেশি থাকছে এবং সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সুতরাং আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি কোভিড ভ্যাকসিন বাচ্চাদের এই মারাত্মক সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

◾️ভ্যাকসিন নিলে ভাইরাসের পরিব্যক্তি (Mutation) কম হবে।

◾️সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল বাচ্চারা প্রায় ২ বছর ধরে স্কুলে যাচ্ছে না ফলে বাচ্চাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে, এদের মানষিক বিকাশ কম হচ্ছে, একাকিত্ব বোধ বাড়ছে। এছাড়াও যেসব জায়গায় এখনও Android phone এর ব্যবহার কম সেই সব অঞ্চলের ছেলে-মেয়েরা কাজে নেমে গেছে কারোর কারোর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সকল পড়ুয়াদের স্কুল জীবনে ফেরাতে হবে তারজন্য ভ্যাকসিন নিতে হবে। ভ্যাকসিনের দ্বারা বাচ্চাদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের বাবা-মা রাও নিশ্চিন্ত হতে পারবে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আমারা অনেকেই জানি কোভিড ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কারোর কারোর হালকা জ্জ্বর, গায়ে-হাতে-পায়ে ব্যাথা এই ধরনের লক্ষন দেখা গেছে বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম নয়। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে সেরেও যাচ্ছে। খুবই কম ক্ষেত্রে বাচ্চাদের এলার্জি প্রতিক্রিয়া, বুকে ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি হচ্ছে এবং তা ডাক্তার দেখিয়ে তার পরামর্শ মতন চললে কমে যাচ্ছে।

বাচ্চাদের কোভিড ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি। WHO approved এবং Govt. বিচার করে নিরাপত্তা দেখই বাচ্চাদের কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। সুতরাং আপনারা আপনাদের বাচ্চাদের vaccination করিয়ে নিন

মহাকাশ স্টেশনের অভ্যন্তরে

পৃথিবীর উপরে মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন বা মহাকাশ স্টেশন। কেমন সেখানকার জীবনযাত্রা? কি হয় সেখানে? কি কি আছে মহাকাশ স্টেশনে? জেনে নেওয়া যাক এবার

মহাশূন্যে র পানে চেয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক রকেট।তার নিচ দিয়ে বেরোচ্ছে আগুন।গণনা চলছে টেন নাইন এইট সেভেন ….. থ্রি টু ওয়ান জিরো । সঙ্গে সঙ্গে চোখের নিমেষে মহাশূন্যে পারি দিল সেই রকেট,সঙ্গী এক মহাকাশযান।কয়েক পলকের মধ্যে সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে সেকেন্ডে 11.2 কিমি বেগ নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।এবার সে নিজেকে আলাদা করে নিল মহাকাশযান থেকে।রকেটের কাজ শেষ হলেও মহাকাশযান কিন্তু তার কাজে অবিচল।এরপর একসময় মহাকাশযান নিজেকে জুড়ে নিলো স্পেস স্টেশনে র সঙ্গে। মহাকাশযানের ভিতরে থাকা মহাকাশচারী রা চলে গেলেন স্পেস স্টেশনে। কয়েকমাস এটাই তাদের ঘরবাড়ি।মাটির পৃথিবী থেকে বহু দূরে কেমন চলে তাদের জীবন যাপন?

স্পেস স্টেশন:

স্পেস স্টেশন অনেকটা চাঁদের মতোই পৃথিবীকে প্রদক্ষিন করে চলেছে। মাঝে মাঝে পৃথিবী থেকে মহাকাশযান এ চেপে নভশচর রা যান এখানে।কিছুকাল থাকেন। চলে নানান ধরনের নিত্য নতুন গবেষণার কাজ।মহাকাশযান সম্পর্কিত নানা গবেষণাও চলে। আবার কোনোভাবে স্পেস স্টেশনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তার সমাধান করতে হয় তাঁদেরই। মহাজাগতিক ঘটনা কিভাবে পৃথিবীর উপর প্রভাব বিস্তার করে?বায়ুমণ্ডল ও মহাশূন্যে নিরন্তর ঘটে চলা নানা ধরনের ঘটনা যা অনেক সময় আমাদের চোখের আড়ালে থেকে যায়,সেগুলো নিয়েও গবেষণা চলে। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞান এর ইতিহাসে মহাকাশ স্টেশনে র ভূমিকা অপরিসীম।

পৃথিবী থেকে বিভিন্ন সময় যে মহাকাশযান গুলি স্পেস স্টেশনে যায় সেগুলিই মহাকাশযান এ থাকা বিজ্ঞানীদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার,জল সহ অন্যান্য জিনিস নিয়ে যায়।এছাড়া এই যান এ চেপেই মহাকাসচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসেন। আশ্চর্য তথ্য এই যে, এখনো পর্যন্ত 218 বার মহাকাশযান পৃথিবীত থেকে স্পেস স্টেশনে গেছে।

1971 সালে পৃথিবীর প্রথম স্পেস স্টেশনটি মহাকাশে পাঠায় রাশিয়া , যার নাম ছিল salute 1।এরপর পৃথিবীর উন্নত দেশগুলি বিভিন্ন সময় স্পেস স্টেশন মহাকাশে পৌঁছে দিয়েছে।

এখনো পর্যন্ত মহাকাশে পৌঁছে দেওয়া সবচেয়ে বড় স্পেস স্টেশনটি হল ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন। আমেরিকা,জাপান,রাশিয়া,কানাডা ও ইউরোপীয় মহাদেশের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুলির যৌথ উদ্যোগে এই স্পেস স্টেশনটি নির্মিত হয়েছে। ছোট ছোট অংশ এ ভাগ করে এটি মহাকাশে পাঠিয়ে সেখানে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।1998 সালে এর কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় 2011 সালে। এর ওজন প্রায় 425 টন।পৃথিবীর প্রায় 400 কিমি উপরে 28 হাজার কিমি/ঘন্টা গতিবেগ এ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে ISS।

পরবর্তী পর্বে বাকিটা….

এবার ‘টাটা’ IPL

2018 সাল থেকে টানা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের টাইটেল স্পনসর থাকার পর চীনা মোবাইল প্রস্তুত কারক সংস্থা vivo এবছর থেকেই বিদায় নিচ্ছে।

আজ IPL এর গভর্নিং কাউন্সিল এর বৈঠকের পর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ পটেল জানিয়েছেন , 2022 থেকে IPL এর নতুন টাইটেল স্পনসর হচ্ছে টাটা গ্রুপ।

2200 কোটি টাকায় 2018 থেকে চার বছরের জন্য Ipl এর টাইটেল স্পনসর এর জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় vivo। বছরে 440 কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল vivo র সঙ্গে। 2020 সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘর্ষের কারনে 2020 সালে vivo কে টাইটেল স্পনসর থেকে সরিয়ে ড্রিম ইলেভেন কে নিয়ে আসা হয়েছিল ।কিন্তু 2021 সালে vivo আবার ফিরে আসে। উল্লেখ্য 2022 IPL হতে চলেছে দশ দলের।

এবছর থেকে IPL এর নতুন টাইটেল স্পনসর হতে চলেছে ভারতীয় সংস্থা টাটা গ্রুপ। এবার VIVO IPL হতে চলেছে TATA IPL.

মানুষের দেহে শুকরের হৃৎপিণ্ড!

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিরল এক সাফল্যের সাক্ষী থাকলো বিশ্ব। এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটল আমেরিকার মেরিল্যান্ড হাসপাতালে।

সেখানে চিকিৎসাধীন এক সংকটজনক ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করা হলো শুকরের হৃৎপিণ্ড। গুরুতর অসুস্থ ওই ব্যক্তির দেহে তিনদিন আগে গত 7 ই জানুয়ারি হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তারপর থেকে রোগীর শরীরে কোনো সমস্যা হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে আজ জানানো হয়েছে। তবে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের আগে তাতে কিছু জিনগত পরিবর্তন করতে হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন , বিশ্বে প্রথম এই ধরনের সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই ঘটনা একটি নজির হিসেবে থেকে যাবে। ভবিষ্যতে কোনো সংকটজনক রোগীর ক্ষেত্রে অঙ্গ প্রতিস্থাপন এর সমস্যা মিটবে বলে চিকিৎসক দের আশা।

Pennies museum

লিঙ্গের যাদুঘর, যেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর লিঙ্গ বিশেষ উপায়ে রাখা আছে। সবচেয়ে বড়টির দৈর্ঘ্য 5.7ft.

লিঙ্গের যাদুঘর (pennies musium) শুনতে অবাক লাগছে?

হ্যা, এমনই একটি অদ্ভুত যাদুঘর আছে ICELAND দেশের HAFNORTORG শহরে। এই যাদুঘরটির নাম “THE ICELANDIC PHALLOLOGICAL MUSEUM“. এই যাদুঘরটি 1997 সালে SIGUROUR HJARTARSON দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়।

Hjartarson একদিন তার পুত্র GISLI কে মজা করে একটি ষাড়ের শুষ্ক পুরুষাঙ্গ দিয়েছিলেন, GISLIR উপহারটি খুব ভাললাগার ফলে সে সেই দেশের বিভিন্ন জীবের পুরুষাঙ্গ সংগ্রহ করতে শুরু করেন, সেখান থেকেই শুরু হয় এই অদ্ভুত সৃষ্টির বীজ বপন।

এই যাদুঘরটিতে কমপক্ষে 300 প্রজাতি প্রাণীর লিঙ্গ সংগ্রহ করা আছে এবং বহু প্রাণীর লিঙ্গের রেপ্লিকা আছে।

Collect from wikipedia

এইখানে সংগ্রহ লিঙ্গ গুলির মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় লিঙ্গ টি হল সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী “নিল তিমির(blue whale) ” যা প্রায় লম্বায় 5ফুট 7ইঞ্চি (167 cm) ওজনে প্রায় 70kg. এবং সবচেয়ে ছোট লিঙ্গটি হল HAMSTER প্রাণীর ,যা মাত্র 2mm লম্বা, এই প্রাণীর লিঙ্গ পরিদর্শনের জন্য বিশেষভাবে একটি আতস কাচের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই সংগ্রহশালাটি ICELAND এর পর্যটন শিল্পে একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর প্রায় 1লক্ষের কাছাকাছি মানুষ আসেন এইখানে। মূলত এই সংগ্রহশালাটি সারা বিশ্বের কাছে শিক্ষনীয় স্থান এবং যেই সমস্ত মানুষ PHOLLOLOGY নিয়ে পড়াশোনা করেন তাদের কাছে মন্দিরের ন্যায়।